শেয়ার মার্কেট সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাচ্ছি?
2 Answers
প্রাইমারি শেয়ারঃ
বাজারে কোনো কম্পানি প্রথমে প্রাইমারি শেয়ারের মাধ্যমে প্রবেশ করে। অর্থাৎ নতুন কোনো কম্পানিকে বাজারে অন্তর্ভুক্ত হতে হলে তাকে প্রথমে প্রাইমারি শেয়ার ছাড়তে হবে। শোনা যায় সবাই বলে প্রাইমারি শেয়ারে কোন লস নাই। সেকেন্ডারি শেয়ারে প্রচুর রিস্ক। এরকম কথা তারা কেন বলে আসুন জেনে নেই। প্রতিটি কম্পানির শেয়ারের একটা ফেস ভ্যালু থাকে। কম্পানি যখন তার শেয়ারটি মার্কেটে ছাড়তে চায় তখন সে ফেস ভ্যালুর সাথে প্রিমিয়াম যোগ করে একটি নির্দিষ্ট টাকায় শেয়ারটি অফার করে। এসইসি যদি অনুমোদন দেয় তবে তারা তাদের শেয়ার কেনার জন্য দরখাস্ত আহ্বান করে। যাকে আমরা IPO/আইপিও বা ইনিশিয়াল পাবলিক অফার বা প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বলে থাকি।
ধরা যাক কোনো কম্পানির ফেস ভ্যালু ১০ টাকা এবং তারা ৫ টাকা প্রিমিয়ামসহ শেয়ারের দাম নির্ধারণ করল ১৫ টাকা। এখন আপনি যদি ওই শেয়ার IPO এর মাধ্যমে পেয়ে থাকেন তবে আপনার প্রতি শেয়ারে দাম পরে ১৫ টাকা। আপনি এখন ইচ্ছা করলে এই শেয়ার সেকেন্ডারি মার্কেটে বিক্রি করতে পারবেন। সাধারণত দেখা যায় প্রাইমারি শেয়ারের যে দাম তার তুলনায় সেকেন্ডারি মার্কেটে এর দাম বেশি হয়ে থাকে। আপনার শেয়ারটি যদি সেকেন্ডারি মার্কেটে ২৫ টাকায় ওপেন হয় তবে আপনি তখন বিক্রি করলে প্রতি শেয়ারে ১০ টাকা লাভ পেয়ে যাবেন। আপনি যদি মনে করেন এই কম্পানি সামনে আরও ভালো করবে তবে প্রাইমারিতে প্রাপ্ত শেয়ার আপনি অনেক দিন ধরেও রাখতে পারেন পরবর্তীকালে বেশি দামে বিক্রির জন্য। আবার ধরুন আপনি যে কম্পানির প্রাইমারি শেয়ার কিনতে চাচ্ছেন তার প্রিমিয়াম অনেক বেশি। তাহলে সেকেন্ডারি মার্কেটে আপনি যে দামে শেয়ার কিনেছেন তার তুলনায় দাম কমেও ওপেন হতে পারে। তাই প্রাইমারি শেয়ার মানেই লাভ না মনে করে কম্পানিটি কী দামে শেয়ার ছাড়ছে এবং কম্পানির আয় কেমন অর্থাৎ কম্পানিটি ভালো কি না তা যাচাই করে কিনুন।
সেকেন্ডারি শেয়ারঃ
প্রাইমারি শেয়ার যখন কেউ বিক্রি করে দেয় তখন তা সেকেন্ডারি শেয়ারে পরিণত হয়। সেকেন্ডারি শেয়ার বাজারে ব্যবসা করতে হলে আপনার শেয়ার মার্কেট সম্পর্কে ভালো জ্ঞান থাকতে হবে। অর্থাৎ, আপনাকে ব্যবসা করার জন্য ফান্ডামেন্টাল প্লাস টেকনিক্যাল এনালাইসিস সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে। এ ধারণা অর্জন করতে পারলে শেয়ার ব্যবসায় আপনি ভালো লাভ করতে পারবেন।
শেয়ার কি:
শেয়ার হচ্ছে কম্পানির মালিকানার অংশ। অবশ্য পুঁজিরও অংশ বটে। এ শেয়ার কেনাবেচা করা যায়।এখানে বিনিয়োগ করে দুই ভাবে লাভবান হওয়া যায়। একটি হচ্ছে ওঠানামার কারণ, অপরটি হচ্ছে কম্পানির বন্টিত মুনাফার অংশ, যা লভ্যাংশ বা ডিভিডেন্ড হিসেবে দেয়া হয়
শেয়ার বাজার কি:-
শেয়ার বাজার হচ্ছে কোন কম্পানির মালিকানার অংশ। কোন কোম্পানির মূলধনকে ছোট ছোট কতকগুলো অংশে ভাগ করা হয় এবং সে যতটুকু অংশ ক্রয় করে তাকে সেই অংশের মালিক বা শেয়ার হোল্ডার বলে। অতএব, যে সব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান শূলধন সঙগ্রহ ও বিতরণে নিয়জিত রয়েছে বা শেয়ারের মালিকানা ক্রয় বিক্রয়ে নিয়োজিত তাদের সমন্ময়ে পুজিবাজার বা শেয়ার বাজার গঠিত। সিকিউরিটি মার্কেটকে ব্যাপক অর্থে পুজিবাজারও বলা হয়। শেয়ার বাজারে সরকারী ও বেসরকারী এবং বিভিন্ন প্রাইভেট লিমিটেড কম্পানির শেয়ার- এর লেনদেন হয়ে থাকেশেয়ার বাজার ও মুদ্রা বাজারের মধ্যে পার্থক্য: মূলধন বাজার বা শেয়ার বাজার ও মুদ্রা বাজারের মধ্যে যে পার্থক্যটি বিদ্যমান সেটি হল সময় পরিধীর পার্থক্য। মুদ্রা বাজার হচ্ছে সল্পকালের বাজার, সেখানে খুবই অল্প সময়ের জন্য লেনদেন হয়। যেমন: ইন্টার ব্যাংক মানি মর্কেট এ বাজারের সুদ বা লাভ নির্ভর করে মুদ্রার চাহিদা ও সরবরাহের ওপর। এখানে অনূর্ধ এক বছরের জন্য পুজি সরবরাহ বরা হয়্। শেয়ার বাজার বা পুজি বাজারে বিনিয়োগ হবে বেশ কিছু সময়ের জন্য। বিনিয়োগ করে কম্পানির শেয়ার ক্রয় করা হয় এবং কোম্পনি লাভ করলে বছর বছর “ডিভিডেন্ড” দেবে, বোনাস শেয়ার দেবে। এক বাজারে ঝুকি বিষয়টি বেশি থাকে। ঝুকি উঠা-নামা করে থাকে শেয়ারের বাজার দরের উত্থান-পতন থেকে। এখানে ৫বছর বা তদূর্ধ্ব মেয়াদের জন্য পূজি সরবারহ করা হয়ে থাকে।
কিভাবে শেয়ার বাজার বিনিয়োগ করতে হবে:-
যে কোন বিনিয়োগ কারী বিশেষত ক্ষুদ্র বিনিযোগ কারিদের কোন কম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করার পূর্বে প্রথমত বাজারে তালিকা ভুক্ত কোম্পানির আর্থিক হিসাব বিবরণীতে উল্লেখিত তথ্য সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দিতে হবে।দ্বিতীয়ত, শেয়ার বাজার সম্পর্কিত কিছু টার্মস্ বা বিষয় যেমন ইপিএস, ডিডভডেন্ড বা লভ্যাংশ,ডিডভডেন্ড ইয়েল্ড, প্রাইস আরণিং র্যাশিও, নিট অ্যাসেট ভ্যালূ ইত্যাদি সম্পর্কে জানতে হবে।
এই লিংকে বিস্তারিত ভাবে উল্ল্যেখ আছে কিভাবে শুরু করবেন ও বিনিয়োগ এর লাভ ও বিপরীত
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy