3 Answers

প্রাইজবন্ড আপনি যেকোন প্রাইভেট ব্যাংকে পাবেন।প্রাইজবন্ডকে এক প্রকার প্রাইমারী শেয়ারও বলা হয়। এটা লটারীর টিকেটের মত।আপনি 100 টাকা দিয়ে যদি একটি প্রাইজবন্ড কিনেন তাহলে জানুয়ারী, এপ্রিল, জুলাই, অক্টোবর এর 31 তারিখে লটারীর “ড্র” অনুষ্ঠিত হবে।আপনি “ড্র” এর ফলাফল দেখতে পারবেন পত্রিকায় অথবা বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েব সাইডে । আর যদি প্রাইজ বন্ডে পুরস্কার না পান, তবে যে কোন সময়ে প্রাইজ বন্ডের সমমূল্যের টাকা ব্যাংকের মাধ্যমে ভাঙ্গাতে পারবেন।


2926 views

প্রাইজ বন্ড হচ্ছে সরকারি খাতে এক বিশেষ বিনিয়োগ অথবা বিশেষ সঞ্চয়। প্রাইজবন্ডের অর্থমূল্য সবসময় একই থাকে। সবাই এটি কিনতে পারে। এটা পোষ্ট অফিস বা ব্যাংকে কিনতে পাওয়া যায়। আবার ওইখানেই বিক্রয় করা যায়।

2926 views

বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর কর্তৃক প্রবর্তিত এক প্রকার কাগুজে মুদ্রা। প্রাইজবন্ড অনেকটা লটারির মতো কিন্তু লটারি না। লটারি যেমন একবার ”ড্র” হয়ে গেলে সেটার আর মেয়াদ থাকেনা এবং লটারিটির মূল্যও থাকেনা অর্থাৎ লটারিতে না জিতলে পুরো টাকাটা লস। এদিকে প্রাইজবন্ড এর ”ড্র” হয়ে যাওয়ার পরও এর মেয়াদ শেষ হয়না। পরবর্তী ”ড্র” এর সময়ও এর মেয়াদ থাকে। অর্থাৎ প্রাইজবন্ড এর মেয়াদ শেষ হয়না। আর সবচেয়ে মজার বিষয় হল প্রাইজবন্ড এর কয়েকবার ”ড্র” হওয়ার পরও, চাইলে সেগুলো ভাঙ্গিয়ে আবার টাকা নিয়ে আসা যায়। তবে প্রাইজবন্ডের গ্রাহক কোন সুদ পাবেন না, এটি মুলত সরকারের প্রতি জনগণের একটি সুদ মুক্ত বিনিয়োগ।

 

সমাজের সব শ্রেণির মানুষের মধ্যে সঞ্চয় প্রবণতা বৃদ্ধির জন্য সরকার "জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর" এর মাধ্যমে সরাসরি জনগণের কাছ থেকে ঋণ সংগ্রহ করে প্রাইজবন্ড বিক্রয় করার মাধ্যমে এবং সরকার তা আবার কিনে নিয়ে সে ঋণ পরিশোধ করে। এ বন্ড ক্রয় করে গ্রাহক তার ব্যক্তিগত লাভের পাশাপাশি দেশ গড়ার কাজেও নিজেকে নিয়োজিত করতে পারে।

বন্ড কেনার দুই মাস পার হওয়ার পর প্রাইজবন্ড ”ড্র”র আওতায় আসে। ”ড্র” অনুষ্ঠানের দুই বছর পর্যন্ত পুরুস্কারের টাকা দাবি করা যায়। এর মধ্যে কেউ দাবি না করলে পুরুস্কারের অর্থ তামাদি হয়ে সরকারি কোষাগারে ফেরত যায়।

 

জানুয়ারী ২০১৯ অনুযায়ী দেশে ৫৪ টি সিরিজের প্রাইজবন্ড চালু আছে, অর্থাৎ একই নম্বর ৫৪ টি সিরিজেই আছে এবং প্রতিটি সিরিজে ১০,০০০০০ (দশ লাখ) পিস করে প্রাইজবন্ড থাকে। সেজন্য প্রতিটি প্রাইজবন্ডের নাম্বার ০৭ (সাত) সংখ্যার এবং ১ম সংখ্যাটি অবশ্যই শূণ্য দিয়ে শুরু হয়। সেই হিসাবে দেশে মোট প্রাইজবন্ডের সংখ্যা হলো ৫ কোটি ৪০ লাখ পিস।

কিন্তু সত্যি কথা বলতে কি ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশে প্রাইজবন্ড চালু হবার পর থেকে তিনমাস পর পর নিয়মিতই ড্র অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দেশে বর্তমানে ৪ কোটি ৪০ লাখ পিস প্রাইজবন্ড রয়েছে। বছরে চার বার প্রাইজবন্ডের ড্র অনুষ্ঠিত হলেও যাদের কাছে প্রাইজবন্ড তারা ড্র’র রেজাল্ট মিলিয়ে দেখে না। এই মিলিয়ে না দেখার পেছনে কারন হলো সচেতনার অভার। বছরে কখন কখন যে ড্র হয় এই খবর তাদের কাছে থাকে না, বা থাকলেও ড্র’র রেজাল্ট সংগ্রহ করতে পারে না অথবা ড’র রেজাল্টের সাথে নিজের প্রাইজবন্ডের নাম্বার মিলিয়ে দেখা কষ্ঠসাধ্য তাই মিলিয়ে দেখে না। তাই অনেকেই তাদের প্রাইজবন্ডের সাথে ড্র’র রেজাল্ট মিলে যাওয়া সত্তেও নম্বর মিলিয়ে নিতে গাফিলতি করেন। ফলে কাক্সিক্ষতই পুরস্কারও মিলে না।

তাই আপনার কাছে প্রাইজ বন্ডে ইনভেষ্ট করার মতো প্রয়োজনীয় অর্থ ও মানষিকতা সবই আছে কিন্তু ড্র এর রেজাল্ট মিলানোর ঝামেলায় আপনি প্রাইজ বন্ড কেনায় উৎসাহ বোধ করেন না। গত কয়েক বছরে প্রাইজবন্ড ড্রয়ের পুরস্কার বিশ্লেষণে দেখা গেছে পুরস্কার দাবী করেন মাত্র ৫০% বিজয়ী, ফলে অবিলিকৃত পুরুস্কারের অর্থ সরকারের কোষাকারে ফেরত যায়। নিয়মিত প্রাইজবন্ডের ড্র অনুষ্ঠিত হলেও অনেকেই নম্বর মিলিয়ে নিতে গাফিলতি করেন। ফলে পুরস্কার থেকে বঞ্চিত হন তারা।

বর্তমান সরকারের ডিজিটাল স্রোতের সাথে তাল মিলিয়ে এবং সরকারের এই প্রাইজবন্ড পরিসেবাকে জনপ্রিয় করতে অথবা জনগনের মনে যে ভান্ত ধারনা আছে সেটা দুর করতে প্রাচুর্য্য.কম নিয়ে এসছে একটি ভলেন্টারী সেবা।

প্রাচুর্য্য.কম প্রাইজবন্ড মিলানোর সেই ঝামেলাকে অত্যন্ত সহজ ভাবে সমাধান করেছে। আপনার প্রাইজবন্ডের নাম্বার এই ওয়েবসাইটে দিয়ে রাখলে বিগত নতুন ড্র সহ বিগত দুই বছরের যে কোন ড্রয়ের ফলাফলের সাথে আপনার কোন নম্বর বিজয়ী হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তা আপনাকে এস.এম.এস ও ইমেইল এর মাধ্যমে তা জানিয়ে দিবে।

2926 views

Related Questions