পাসপোর্ট করার নিয়মাবলী?
বিদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের জন্য পাসপোর্ট আবশ্যকীয়। আমি পাসপোর্ট করার নিয়মাবলী সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নই। কীভাবে পাসপোর্ট তৈরি করতে হবে? কত খরচ পড়বে এবং কত দিন লাগবে? সবিস্তার জানালে উপকৃত হবো।
2 Answers
পাসপোর্ট দুভাবে করতে পারবেন।অনলাইনে নিজে আবেদনের মাধ্যমে এবং এজেন্সির মাধ্যমে।
অনলাইনে পাসপোর্ট করার নিয়মঃ
১ম ধাপ :
অনলাইনে পাসপোর্ট করতে হলে প্রথমে সোনালী ব্যাংক বা নির্ধারিত ব্যাংকে টাকা জমা দিতে হবে। কেননা অনলাইনে ফর্ম পূরণ করার সময় টাকা জমা দেওয়ার তারিখ এবং জমা দানের রিসিটের নম্বর উল্লেখ করার প্রয়োজন হয়। তাই ফর্ম পূরণের আগে টাকা জমা দিতে হবে।রেগুলার ফি ৩০০০ টাকা এবং জরুরি পাসপোর্ট করতে হলে তার ফি ৬০০০ টাকা। রেগুলার ফিতে পাসপোর্ট পেতে সময় লাগবে ১ মাস। জরুরিভিত্তিতে করতে চাইল ১৫ দিনের মত সময় লাগবে।
সোনালী ব্যাংক ছাড়াও আরো পাঁচটি ব্যাংকে পাসপোর্টের টাকা টাকা জমা দেয়া যাবে। এ পাঁচটি ব্যাংক হলো ঢাকা ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, প্রিমিয়ার ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক ও ট্রাস্ট ব্যাংক। নতুন পাঁচটি ব্যাংকের যেকোনো শাখায় অর্থ জমা দেয়া যাবে। এসব ব্যাংকে অনলাইনে ক্রেডিট কার্ড ও মোবাইলের মাধ্যমেও পাসপোর্টের ফি পরিশোধ করা যাবে।
২য় ধাপ :
– এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। খুব মনোযোগ দিয়ে অনলাইনের ফর্ম পূরণ করতে হবে। যেন কোনো ভুল ক্রুটি না হয়। অনলাইনে ফর্মপূরণের জন্য প্রথমে পাসপোর্ট অফিসের এ সাইটে যেতে হবে। এখানে ক্লিক করুন
– তারপর “I have read the above information and the relevant guidance notes” টিক চিহ্ন দিয়ে “continue to online enrollment” এ ক্লিক করতে হবে।
– আপনার নাম ও ব্যক্তিগত তথ্যাদি- যেমন: আপনার নাম, পিতা-মাতার নাম।এই নাম গুলো যেন শিক্ষাগত সার্টিফিকেট কিংবা জাতীয় পরিচয়পত্রের মতো একই হয়। কোনো তথ্য ভুল হলে পাসপোর্টে হতে সমস্যা হবে।
– মেইল অ্যাড্রেস ও মোবাইল নম্বার দেওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই যেটি ব্যবহৃত হচ্ছে সেটি দেওয়া উচিত।
– টাকা জমা দেওয়ার তারিখ এবং রিসিট নম্বর দিতে হবে। পার্সপোট টাইপ দিতে হবে “ordinary”। যে অংশগুলো লাল স্টার মার্ক দেওয়া রয়েছে, সেগুলো অবশ্যই পূরণ করতে হবে।
– Delivery Type অংশে ৩০ দিনের জন্য হলে Regular এবং ১৫ দিনের জন্য হলে Express সিলেক্ট করতে হবে।
– সম্পূর্ণ ফর্মটি পূরণ হলে পুনরায় এটি চেক করতে হবে। সব তথ্য টিক আছে কি না, তা যাচাই করে পরবর্তী ধাপে যেতে হবে।
– সবশেষে পূরণ করা ফর্মটি সাবমিট করতে হবে। সফলভাবে সাবমিট করা হলে পূরণ করা ফর্মের একটি পিডিএফ কপি যে ই-মেইল আইডি দিয়ে ফর্ম পূরণ করা হয়েছে, সেখানে চলে আসবে।
৩য় ধাপ :
– এবার মেইলে আসা পিডিএফ কপির ২ কপি কালার প্রিন্ট করতে হবে। এতে আবেদনকারীর স্বাক্ষর করার স্থনে সই করতে হবে।
– নিজের চার কপি ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি এবং পাসপোর্ট ফর্ম নিয়ে পরিচিত কোনো প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তার কাছ থেকে সত্যায়িত করে নিতে হবে। পরিচিত কাউকে দিয়ে সত্যায়ন করালে ভাল। কারণ ওই কর্মকর্তার নাম, যোগাযোগ ও ফোন নম্বার এবং জাতীয় পরিচয় পত্রের নম্বর ফর্মে লিখতে হয়।
৪র্থ ধাপ :
– সত্যায়িত ছবি এবং ব্যাংকের রিসিট আঠা দিয়ে ফর্মের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত কপিটিও প্রিন্ট করা ফর্মটির সঙ্গে যুক্ত করে দিতে হবে।
– যদি ছাত্র হিসাবে আবেদন করলে অবশ্যই স্টুডেন্ট আইডি কার্ডের ফটোকপি সত্যয়িত করে ফর্মের সঙ্গে যুক্ত করতে দিতে হবে।
– এসব ধাপ শেষ করলে ফর্মটি জমা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত।
৫ম ধাপ :
– অনলাইনে ফর্ম পূরণের জন্য ১৫ দিনের মধ্যে ফর্মের প্রিন্ট কপি, সত্যায়িত ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং স্টুডেন্ট আইডি কার্ডের ফটোকপি নিয়ে যেতে হবে পাসপোর্ট অফিসে।
– এরপর নির্দিষ্ট রুমে গিয়ে সিরিয়াল আসলে ছবি তোলার জন্য ডাক পড়বে। ছবি তোলার পর ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিতে হবে।
– এবার পাসপোর্ট রিসিভের একটা রিসিট দেওয়া হবে। পুলিশ ভেরিফিকেশন সাপেক্ষে, রিসিট পাওয়ার একমাস বা ১৫ দিনের মধ্যেই আপনি পাসপোর্ট পাবেন।
পাসপোর্ট সংগ্রহ:
কর্তৃপক্ষের দেয়া তারিখে পাসপোর্ট সংগ্রহ করা যাবে। তবে, এই সময়ের মধ্যে অবশ্যই পুলিশ ভেরিফিকেশন শেষ হতে হবে। পাসপোর্ট দেবার আগে ডিবি পুলিশ বর্তমান এবং স্থায়ী ঠিকানায় ভেরিফিকেশন করে। আর পুলিশের রিপোর্ট প্রদানের পরই পাসপোর্ট পাওয়া যায়।
এ পদ্ধতিতে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ভুল হবার সম্ভাবনা থাকে এবং পুলিশ ভেরিফিকেশনে সমস্যা হতে পারে।
এজেন্সির মাধ্যমেঃ
এজেন্সির মাধ্যমে পাসপোর্ট বানাতে সুবিধা হলো উপরের সকল কাজ পুলিশ ভেরিফিকেশন সহ তারা করিয়ে দিবে।আপনাকে শুধু পাসপোর্টের আবেদন পত্র জমা দিয়ে ছবি আর ফিংগার দিয়ে আসতে হবে আর নির্ধারিত সময়ে পাসপোর্ট টি সংগ্রহ করতে হবে।এই পদ্ধতিতে টাকা কিছুটা বেশি লাগবে।যেমন আপনি যদি ৭ দিনের মধ্যে পাসপোর্ট পেতে চান তবে সাড়ে ৯ হাজার,১৫ এর মধ্যে পেতে চাইলে সাড়ে ৭ হাজার আর ১ মাসের মধ্যে হলে সাড়ে ৫ হাজার টাকা লাগবে।(এজেন্সিভেদে টাকার পরিমাণ সামান্য কম বেশি হতে পারে।)
অনলাইনে পাসপোর্টের ফর্ম পূরণ করে পাসপোর্ট অফিসে ফর্ম জমা দিয়ে ছবি তুলতে সময় লাগে মাত্র ৩০ মিনিট, তাও কাউকে কোনো ঘুষ দিতে হবে না। আর দালালকেও ধরতে হবে না। শুধু অনলাইনে আবেদন করে আর পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে ছবি তুলে হাতের ছাপ দিয়ে আসুন। দেশে ও দেশের বাইরে ইন্টারনেট থেকে এই আবেদন করা যাবে। পাসপোর্ট করতে গেলে অনেক প্রকার ভোগান্তীতে পড়তে হয়।
পাসপোর্ট অফিসে গেলেই দেখা যাচ্ছে পাসপোর্ট প্রত্যাশী কয়েক শ লোক দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। সব সময় দেখা যায় সারা দিন দাঁড়িয়ে থেকেও আবেদন ফরম জমা দিতে পারছেন না। কোনো প্রকার ঝামেলা ছাড়াই কয়েক দিনের মধ্যে পাসপোর্ট হাতে পাবেন। আসুন আমরা জেনে নেই কিভাবে অনলাইনে পাসপোর্ট করা যায়।
১ম ধাপঃ
অন-লাইনে আবেদন করতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইনে ফর্মটি ফিলআপ করুন এবং প্রিন্টআউট নিন।
২য় ধাপঃ
পাসপোর্ট এর ফর্মটি, আপনার ন্যাশনাল আইডি এবং পূর্ববর্তী পাসপোর্ট এর ফটোকপি (যদি থাকে) সত্যায়িত করে পাসপোর্ট অফিসে চলে যান।
৩য় ধাপঃ
পাসপোর্ট অফিসের পাশে সোনালী ব্যঙ্কটিতে জরুরী পাসপোর্ট করতে চাইলে ৬০০০ টাকা আর সাধারনভাবে করতে চাইলে ৩০০০ টাকা জমা দিন। রশিদটি আঠা দিয়ে ফর্মের উপর সংযোজন করুন।
৪র্থ ধাপঃ
এবার পাসপোর্ট অফিসে সরাসরি ফর্ম টি ভেরিফাই করিয়ে নিন। তারা আপনার ফর্ম এর উপর সই করে একটি সিরিয়াল নম্বর লিখে দিবে।
৫ম ধাপঃ
এবার সরাসরি চলে যান উপ কমিশনারের রুমে এবং তাকে দিয়ে ফর্ম টি ভেরিফাই করিয়ে নিন। এখানে থেকে ভেরিফিকেসন করার পর পাঠিয়ে দিবে পাশের রুমের কাউন্টারে ছবি তুলতে।
৬ষ্ঠ ধাপঃ
ছবি তুলতে সোজা কাউন্টারে গিয়ে আপনার ফর্মটি জমা দিন। সেখানে অফিসার আপনার ছবি তুলবে, আঙ্গুলের ছাপ ও স্বাক্ষর নিবে এবং তারপর আপনাকে রশিদ ধরিয়ে দিবে। সেটা ভালো মত চেক করে রুম থেকে বেরিয়ে আসুন।
ব্যাস… আপনার ফর্ম জমা দেয়া শেষ। যেদিন পাসপোর্ট দেয়ার ডেট, সেদিন পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে রশিদ দেখিয়ে পাসপোর্ট সংগ্রহ করুন।
মনে রাখবেনঃ
অবশ্যই বাসা থেকে সত্যায়িত করে নিয়ে যাবেন।
NID এর সত্যায়িত ফটোকপি এবং পুরানো পাসপোর্টের (যদি থাকে) ফটোকপি নিয়ে যাবেন। সাদা কাপড় পরে ছবি তোলা যাবে না
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy