1 Answers
এর পিছনে দুটি বিশেষ কারন থাকে। প্রথমত প্রজননের জন্য অভিযোজনিক স্বভাব, এটা আপনার দৈহিক বাসনা। দ্বিতীয়ত মানসিক প্রশান্তি ও মুক্তি, যা কিনা আপনার আত্মিক বাসনা।
বয়ঃসন্ধির পরপরই আপনার হরমোন এসব আকর্ষণ সৃষ্টি করা শুরু করে। আমরা মনে করি এটা ভালোবাসা, কিন্তু সত্যিকার অর্থে এটি Lust বা কামবাসনা। এ কারনেই লক্ষ্য করলে দেখা যায় অনেকে গভীর প্রেমের পর বিয়ে করে বেশিদিন সুখি থাকছেননা, কারন তারা যেটাকে প্রেম আর প্রেমের আকর্ষণ ভেবেছিলেন তা শুধুই ছিলো মেটার অফ হেভিং সেক্স, একজন আরেকজনের দায়িত্ববহনের জন্য নয়। আপনার বর্তমান প্রেমটিও হয়তো এরকম, কিন্তু মস্তিষ্ক তা সঠিকভাবে বুঝতে দিচ্ছেনা। প্রত্যেক প্রাণীর মাঝেই নিজ প্রজাতিকে বাচিয়ে রাখার চরম অভিযোজনিক ইচ্ছা কাজ করে, এই Lust তারই প্রতিরুপ। আপনার মনে Lust জেগে উঠলেও আপনি বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকৃষ্ট হবেন আর শারীরিক সম্পর্কের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের সৃষ্টি করবেন।

আরেকটি বিষয় হলো মানসিক মুক্তি বা ননিরাপত্তা পাওয়ার বাসনা। Psychologists প্রদত্ত থিওরি অনুযায়ী আমরা আমাদের প্রাথমিক কেয়ারটেকারদের (সাধারণত পিতামাতা) প্রতি খুবই আকৃষ্ট থাকি কারণ তারা ছোটবেলা থেকেই আপনার দেখাশোনা ও নিরাপত্তা দিয়ে আসছেন। এই আকর্ষণটি বড় হবার সাথে বিপরীত লিঙ্গের প্রতি ডাইভার্ট হয়। এসময় বিষয়টা এরকম হয় যে আপনার অবচেতন মস্তিষ্ক শিশুকালে ফিরে যায় আর এমন কাউকে খোঁজে যে আপনার বাবা মায়ের মত আপনাকে সঙ্গ দিতে পারবে। এজন্যই দেখা যায় আপনার বাবা রাগি হলে আপনি রাগি মানুষদের প্রেমে পড়ার সম্ভাবনা থাকে অথবা মা খুব প্রটেকটিভ হলে সেরকম মানুষদেরই ভালো লাগবে। এই সময় অবচেতন মস্তিষ্ক ওরকম কাউকে আপনার বাবা মায়ের মত গুরুত্বপূর্ণ আর পরিচিত হিসেবে ধরে নেয়, যার ফলে তার অনুপস্থিতিতে আপনার মন খারাপ হয়ে যায়, সঠিকভাবে বললে আপনার মস্তিষ্ক তখন নিরাপত্তাহীণতায় ভোগে। তবে সবসময় আমাদের অবচেতন মস্তিষ্ক উপযুক্ত সঙ্গি খুঁজে নিতে ব্যার্থ হয়, এর পিছনে অপরিপক্বতা ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা প্রভাব বিস্তার করে।
.