1 Answers

গ্রীন হাউস ইফেক্ট বা প্রতিক্রিয়া বলতে অতিরিক্ত কার্বন-ডাই-অক্সাইড (CO2) নিঃসরণের ফলে পৃথিবীর দীর্ঘমেয়াদী উত্তপ্ত হওয়াকে বোঝায়। কার্বন-ডাই-অক্সাইড (CO2) গ্রীন হাউসের কাঁচের মতো কাজ করে।

কার্বন-ডাই-অক্সাইড (CO2) এর ধর্ম হল ক্ষুদ্র তরঙ্গ-দৈর্ঘ্যরে বিকিরণ এর ভেতর দিয়ে যেতে পারে কিন্তু দীর্ঘ তরঙ্গ-দৈর্ঘ্যরে বিকিরণ এর ভেতর দিয়ে যেতে পারে না। সূর্যের ক্ষুদ্র তরঙ্গ-দৈর্ঘ্যরে বিকিরণ কার্বন-ডাই-অক্সাইড (CO2) এর ভেতর দিয়ে পৃথিবীতে সহজে আসতে পারে না। পৃথিবী এই তাপ শোষণ করে পুনরায় তাপ নিঃসরণ করে। পুনঃনিসৃত দীর্ঘ তরঙ্গ-দৈর্ঘ্যরে বিকিরণ কার্বন-ডাই-অক্সাইড (CO2) এর ফাদঁকে ভেদ করতে পারে না। এতে তাপ আটকে পড়ে। ফলে গ্রীন হাউস সংঘটিত হয়ে পৃথিবীর উষ্ণায়ন ঘটায়।

পৃথিবীব্যাপী বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি বা বিশ্ব উষ্ণায়নের জন্য যে গ্যাস সমূহকে দায়ী করা হয় তাদেরকে গ্রীন হাউস গ্যাস বলা হয়। তাদের মধ্যে অন্যতম গ্যাসসমূহ হল :

  • কার্বন-ডাই-অক্সাইড (CO2)
  • মিথেন (CH4)
  • নাইট্রাস অক্সাইড (N2O)
  • সালফার হেক্সারাইড (SF3)
  • নাইট্রোজেন ট্রাই ফ্লুরাইড (NF3)
  • হাইড্রোফ্লুরো কার্বন (HFC)
  • পার ফ্লুরো কার্বন (PFC)
  • ক্লোরো ফ্লোরো কার্বন (CFC)এদের মধ্যে কার্বন-ডাই-অক্সাইড (CO2) বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে।পৃথিবীর বায়ুম-লের ষ্ট্রাটোস্ফিয়ারে ওজোন স্তর রয়েছে। যা পৃথিবীতে সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনী রশ্মি প্রবেশ করতে বাধা দেয় ও পুনরায় নিঃসৃত তাপ মহাশূন্যে ফিরে যেতে সহায়তা করে। কিন্তু গ্রীন হাউস গ্যাসসমূহের জন্য ওজোন স্তর ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে। পুনারায় নিঃসৃত তাপ মহাশূন্যে ফিরে যেতে সহায়তা করে। ফলে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
1983 views