2 Answers
ডি ব্রগলী ভাবলেন যদি আলো, যাকে আমরা এতদিন তরঙ্গ ভাবতাম, সেটা কণার মত আচরণ করে, তাহলে যেটাকে আমরা এতদিন কণা ভেবেছি সেটাও হয়ত কিছুটা তরঙ্গের মত কাজ করতে পারে। তিনি এই চিন্তা মাথায় রেখে হাইড্রজেন পরমাণুর ভিতরে ইলেক্টনকে অনেক সুন্দর ভাবে ব্যাখা করতে পেরেছিলেন। তখনও বিজ্ঞানীরা এই ধারণার গুরুত্ত্ব বুঝতে পারেননি। এরপর ইলেক্ট্রন এর তরঙ্গ ধর্ম দেখার জন্য ইলেক্ট্রন (আসলে বিটা রশ্মি) দিয়ে ইয়ং এর দ্বি চির পরীক্ষাটি করা হল। ইলেক্ট্রন যে মেশিনগান এর বুলেটের মত একটি কণা, সে বিষয়ে তো কারোই সন্দেহ নাই। ইলেক্ট্রন তো সাধারণ পদার্থের একটি উপাদান, তার উপর এর ভর আছে। তাহলে বলাই যায় যে ইলেক্ট্রন দিয়ে ইয়ং এর দ্বি চির পরীক্ষা করা আর মেশিনগান দিয়ে করা একই কথা। কিন্তু এ পরীক্ষা করে দেখা গেল যে পর্দার অন্য পাশে ইলেক্ট্রন ডোরাকাটা প্যাটার্ণ সৃষ্টি করছে। এমনকি যখন ইলেক্ট্রন গান থেকে মাত্র একটা একটা করে ইলেক্ট্রন ফায়ার করা হল তখনও একই প্যাটার্ণ দেখা গেল। কেউ যদি সেই গর্তয়ালা দেয়ালের মধ্য দিয়ে একটি মেশিন গান নিয়ে একটা একটা করে গুলি করে তাহলে সে নিশ্চ্য় অন্য পাশে দেখবে না যে গুলি গুলা প্যাটার্ণ সৃষ্টি করছে। কিন্তু ইলেক্ট্রন নিয়ে পরীক্ষা করে বিজ্ঞানীরা হুবুহু সেটাই দেখলেন, তারা দেখলেন যে ইলেক্ট্রনও আলোর মত প্যাটার্ণ সৃষ্টি করে। এই ডোরাকাটা দাগের পুরুত্ব দেখে কোন তরঙ্গের তরঙ্গদৈর্ঘ্য বলে দেওয়া যায়। বিজ্ঞানীরা হিসেব করে দেখলেন যে এই তরঙ্গদৈর্ঘ্য ডি ব্রগলীর হিসাবের সাথে মিলে যায়। ডি ব্রগলী এই তরঙ্গের নাম দিলেন matter wave বা পদার্থ তরঙ্গ। তার মতে সব বস্তুই এক প্রকার তরঙ্গ। সব বস্তুই তরঙ্গের মত আচরণ করে। তার মতে তরঙ্গ ও কণা অভিন্ন নয়, একই জ়িনিষ। কিন্তু আমাদের আশেপাশের দৈনিক সকল বস্তুর আকার এবং ভর এত বেশি যে তাদের তরঙ্গের আচরণ দেখা বা বুঝা সম্ভব না।
পরমাণুর মৌলিক কণিকা ইলেক্ট্রন।পূর্বে ইলেক্ট্রনকে শুধু মাত্র কণা ধর্ম বিশিষ্ট বলে মনে করা হতো।১৯২৪ সালে ডি ব্রগলি প্রস্তাব করেন ইলেক্ট্রনের ধর্মের পাশাপাশি তরঙ্গ ধর্মও আছে।তার এই আবিষ্কারের প্রমাণ স্বরুপ একটি পরীক্ষা করা হয়।দ্বিচীর পরীক্ষার মতো এই পরীক্ষায় দুটি ইলেক্ট্রন এর ধারা ব্যবহার করা হয়।এই পরীক্ষায় ও দেখা যায় আলো ও অন্ধকার এর একটি পরিষ্কার ব্যান্ড।ব্রগলির এই পরীক্ষাটি কোয়ান্টাম মেকানিক্স এর সাথেও সঙ্গতি পূর্ণ।এই আবিষ্কার পরমাণুর গঠনের সাথে কোয়ান্টাম তত্ত্বের সম্পর্ক স্থাপিত করে নতুন দিগন্ত উন্মুক্ত করে।তাই বিজ্ঞানীদের বিচারে সর্বকালের সুন্দরতম experiment.