ওয়াজ মাহফিলের শুরুটা কোথা থেকে?
1 Answers
ওয়াজ অর্থ উপদেশ, নসিহত, বক্তব্য। যিনি ওয়াজ করেন তাকে ওয়ায়েজ বা বক্তা বলে। বর্তমানে নানা নামে ওয়াজ মাহফিল হয়ে থাকে। যেমন- তফসীর, মীলাদ সীরাত, র্দস, মাহফিল ইত্যাদি। এসবই ইসলাম সম্মত। জুমার খুতবা এবং আলোচনাও ওয়াজ রুপে গণ্য। আরাফাত মাঠে হাজিদের উদ্দেশ্যে প্রদত্ত খুতবাও ওয়াজ। মহানবী বিদায় হজ্বের ভাষণ মানব ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ ওয়াজ রুপে স্বীকৃত। ওয়াজ বোঝাতে যিকির, তাযকির, খুতবা, বয়ান, ইত্যাদি শব্দ ও ব্যবহার হয়। ইসলামকে পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান রুপে বিশ্লেষণ করে মানুষকে সে পথে আহ্বান করার নাম ‘ওয়াজ’। পবিত্র কুরআন এর একটি নামও কিন্তু ‘‘ওয়াজ’’। কুরআন হতে উত্তম ওয়াজ আর কি হতে পারে? কারণ কুরআন হচ্ছে সব সমস্যার একমাত্র সমাধান জ্ঞানের কেন্দ্র। ওয়াজের একটি অর্থ প্রর্কৃত সত্যকে ‘‘স্মরণ করিয়ে দেয়া’’। আল্লাহ তায়ালা ‘‘মাওয়িজা’’ বা ওয়াজ ও উপদেশ দিয়ে মানুষদের আল্লাহর পথে ডাকতে বলেছেন। ‘‘হে নবী ! তুমি তোমার প্রভূর পথে (মানুষদের) প্রজ্ঞা ও সদুপাদেশ দ্বারা আহবান করো। (কুরআন-নহল) আল্লাহ কুরআন কে ‘‘মানবজাতির জন্য বয়ান ও খোদা ভীরুদের জন্য ওয়াজ’’ বলেছেন। হযরত আলী (রাঃ) বলেন ‘‘আমি রাসূল (সঃ) কে বলতে শুনেছি, যে কুরআন হতে কথা বলে সে সত্য বলে, যে কুরআন মেনে চলে সে তার প্রতিদান পাবে, যে কুরআন মত বিচার করে সে ন্যায় বিচারই করে। যে কুরআনের দিকে ডাকে, সে সত্য পথেই ডাকে’’(তিরমিযী)। অর্থাৎ কুরআনই আলোর পথ, সকল প্রশ্নের উত্তর ও আল্লাহ প্রদত্ত প্রধান সংবিধান ও ‘‘ওয়াজ’’। ওয়াজ হল-কুরআনের প্রচার প্রসার ও প্রতিষ্ঠায় দেশ জাতি গঠনে বক্তব্য প্রদান করা। সুতরাং বলা যায় সৃষ্টির শুরু থেকে দীনের দাওয়াত দিতেই ওয়াজ এর উৎপত্তি।