3 Answers
বাণিজ্য হল পণ্য বা সেবা অথবা উভয়ের আদান প্রদানকে বুঝায়। একে ব্যবসাও বলা হয়। শিল্পে উৎপাদিত কোনো পণ্য বা সেবা সরাসরি গুদাম থেকে ভোক্তার হতে পৌঁছায় না। এজন্য গুদামজাতকরণ, পরিবহন থেকে শুরু করে নানা ধাপ পেড়োতে হয়, আর ভোক্তার কাছে পণ্য পৌঁছানোর এইসকল কার্যাবলিকে বাণিজ্য বলে।
কাকে বলে বাণিজ্য? মানুষের প্রয়োজনের তাগিদেই ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রচলন। ট্রান্সকম ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপক মো. জাহিদ হোসাইন জানান, ব্যবসা-বাণিজ্য বলতে সেই অর্থনৈতিক কর্মকান্ডকে বোঝায়, যাতে সরাসরি একটি অঞ্চলের সঙ্গে দুরবর্তী অন্য একটি অঞ্চলের পণ্য আদান-প্রদান করা হয়। প্রাচীনকালে শুধু পণ্যের বিনিময় চালু ছিল। মুদ্রা উদ্ভাবনের পর থেকেই বাণিজ্য বলতে পণ্য ও মুদ্রার বিনিময়কেই বোঝায়। বাণিজ্য আবার দুই ধরনের। একটি হলো অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য, অপরটি আন্তর্জাতিক বা বৈদেশিক বাণিজ্য। যখন একই দেশের দুটি অঞ্চলের মধ্যে পণ্যের বিনিময় হয়, তখন তাকে অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য বলে। আবার যখন দুই বা ততোধিক দেশের মধ্যে পণ্যের বিনিময় হয়, তখন তাকে বলে বৈদেশিক বাণিজ্য। বর্তমান সময়ে অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যের মতোই সহজ হয়ে গেছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য। বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত হতে চাইলে সবার আগে প্রয়োজন হবে ট্রেড লাইসেন্স। বৈদেশিক বাণিজ্য বৈদেশিক বাণিজ্যে সাধারণত দেশের উদ্বৃত্ত কৃষি ও শিল্পজাত দ্রব্য বিশ্বের অন্যান্য দেশে রপ্তানি এবং দেশের চাহিদা অনুসারে বাইরের দেশ থেকে কোনো পণ্য আমদানি করা হয়। ভারত, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, ইতালি, ফ্রান্স, সুইডেন, রাশিয়া, জার্মানি, ইন্দোনেশিয়া, নেপাল, মিয়ানমার, থাইল্যান্ডসহ প্রায় ৪০টি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক চুক্তি আছে। এসব দেশে আপনি বৈদেশিক বাণিজ্য করতে পারেন। বর্তমানে ছোট-বড় আমদানি ও রপ্তানিকারকদের বাণিজ্যের সুযোগ তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে। আর আগের তুলনায় অনেক সহজ হয়ে গেছে বৈদেশিক বাণিজ্য। মো. জাহিদ হোসাইন বলেন, এখন আর দেশের বাইরে গিয়ে বাণিজ্য করতে হচ্ছে না, দেশে বসেই বৈদেশিক বাণিজ্য করা যাচ্ছে। এতে আর্থিক লেনদেন হচ্ছে ব্যাংকের মাধ্যমে। রপ্তানি বাণিজ্য রপ্তানি বাণিজ্যে দেশের কোনো পণ্য বিদেশে সরবরাহ করা হয়। বাংলাদেশের রপ্তানি দ্রব্যের সবচেয়ে বড় বাজার যুক্তরাজ্য। এ ছাড়া ভারত, জাপান, চীন, মিয়ানমার, মালয়েশিয়া প্রভৃতি দেশেও রপ্তানি বাণিজ্যের প্রচলন আছে। হংকং, দক্ষিণ আফ্রিকা, মিসর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, হল্যান্ড, পোল্যান্ড প্রভৃতি দেশও বাংলাদেশি পণ্যের গ্রাহক। বাংলাদেশের রপ্তানি দ্রব্যের সিংহভাগই কৃষিজাত দ্রব্য। আপনি পাট, চামড়া, চা, তামাক, চিংড়িসহ সব ধরনের কৃষিজ পণ্য বিদেশে রপ্তানি করতে পারেন। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের বিশ্ববাজারে বেশ চাহিদা আছে। এ ছাড়া ওষুধও দেশের বাইরে রপ্তানি হচ্ছে। ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প, পাটজাত পণ্য, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, কাগজ, রেয়ন, হার্ডবোর্ড−এসব শিল্পজাত দ্রব্যও বিদেশে রপ্তানি করতে পারেন। রপ্তানি করতে চাইলে যা করতে হবে বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো সুত্রে জানা যায়, রপ্তানিকারক হতে চাইলে প্রথমে আমদানি-রপ্তানি নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে নিবন্ধন করতে হবে। রপ্তানি নিবন্ধন সনদপত্র পেতে ট্রেড লাইসেন্স ও আনুষঙ্গিক কাগজপত্রসহ আবেদন করতে হবে। সনদপত্র পাওয়ার পর কাছের রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন। প্রতিষ্ঠানটি বিদেশি উৎসাহী ক্রেতাদের তালিকা সরবরাহ, পণ্যের বিদেশের বাজার অনুসন্ধান, বিদেশের বাজারে পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক মূল্য সরবরাহ, ব্যবসাসংক্রান্ত বিদেশভ্রমণের সুযোগ করে দেওয়াসহ বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা করে থাকে। রপ্তানি করতে চাইলে পণ্যের বিবরণ, রপ্তানিমূল্য প্রভৃতি তথ্যসহ স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব সরাসরি আগ্রহী ক্রেতাদের কাছে পাঠাতে হবে। তবে পণ্য রপ্তানির সময় চুক্তি করে নিতে হবে। আর পণ্য শিপমেন্টের আগে রপ্তানি চুক্তির অনুলিপি, ঋণপত্রের অনুলিপি, রপ্তানি ফরম, ইনভয়েস, প্যাকিং লিস্ট, পরিবহন বিল, রপ্তানির বিল প্রভৃতি দাখিল করতে হবে। এ ছাড়া পণ্যভেদে বিভিন্ন সনদেরও প্রয়োজন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই সরকারের ‘রপ্তানি নীতি ২০০৬-’০৯ মেনে চলতে হবে।
উঃ ব্যবসায় বা শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামাল উৎপাদকের নিকট পৌঁছানো কিংবা শিল্পে উৎপাদিত পণ্য বা সেবা সামগ্রী ভোক্তাদের নিকট পৌঁছানোর সকল কার্যাবলিকে বাণিজ্য বলে ৷
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy