বিজ্ঞান কী আশির্বাদ?
5004 views

3 Answers

হ্যা, বিজ্ঞান আশির্বাদ, যতক্ষণ না তার অপব্যবহার বা অপপ্রয়োগ ঘটছে।

5004 views

বিজ্ঞান কি আমাদের জন্য আশির্বাদ নাকি অভিশাপ: আমরা মনে করি তথ্য প্রযুক্তিতে উন্নত হওয়া মানে আমরা অনেক উন্নত হয়ে গেছি । কিন্তু আমরা বুঝতে পারি না এই তথ্য প্রযুক্তি আমাকে কি দিচ্ছে, শান্তি দিচ্ছে নাকি ভোগ করতে শিখাচ্ছে নাকি অশান্তি দিচ্ছে । এই জগতের মানুষ বিজ্ঞান ব্যবহার করছে ঠিক আছে কিন্তু তার দ্বারা যদি সে শান্তি না পায় তাহলে বুঝতে হবে বিজ্ঞানকে আমরা ভুল পথে চালিত করছি । যেমন – আমাদের দূরে কোথায় যেতে সময় লাগছে তাই আমরা গাড়ি আবিষ্কার করেছি কিন্তু সেই গাড়ি চালানোর জন্য তেল পুড়তে হবে তাই আমরা তেলের সন্ধান করতে লাগলাম এমনকি আমরা বিভিন্ন দেশ থেকে তেল আমদানি করা শুরু করেছি, বড় বড় দেশগুলো তেলের জন্যে অনেক যুদ্ধ লাগিয়ে দিচ্ছে, এমনকি ভবিষ্যৎএ তেলের সংকটের কথা চিন্তা করে অন্য কিছুর করা চিন্তা করছে । তাছাড়া তেল পুড়িয়ে বাতাসে ধোয়া সৃষ্টি করে পরিবেশ দূষিত করছি । এই গাড়িতো চলবে মাঠে ঘাটে না তার জন্যে দরকার রাস্তার, আর তাই বিভিন্ন ধরনের রাস্তা তৈরি করছে । এখনতো ভারতে রাস্তা তৈরি করার জন্য জায়গা পাচ্ছে না । এবার রাস্তা তৈরি করা হলেও সমস্যা হচ্ছে দুই গাড়ির মুখোমুখি হয়ে দূর্ঘটনা ঘটে । যার কারনে প্রতি বছর অনেক মানুষ মারা যাচ্ছে । তাই এর জন্যে এখন আইন তৈরি করা হচ্ছে । তারপরেও আইন তৈরি করে রক্ষা হচ্ছে না । তারপর এত গাড়ি বেরে গেছে তার জন্যে এখন ট্রাফিক জ্যাম হচ্ছে ঘন্টার পর ঘন্টা । যেখানে মানুষের গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট হচ্ছে । গাড়ি আবিষ্কার হয়েছে তাড়াতাড়ি যাওয়ার জন্যে তার পরিবর্তে জ্যামে পরে আরো দেরী হচ্ছে । যা মানুষের এক চরম বিরক্তের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে । এর উপর আছে গাড়ির বিরক্তকর হর্ণ যা বর্তমানে শব্দ দূষণ হচ্ছে মারাত্বক আকারে । পরিশেষে বলা যায়, বিজ্ঞান আমাদের ভালোর জন্যে এসেছে কিন্তু তার পরিবর্তে দুঃখ দিচ্ছে বেশি কারন আমাদের তথ্যপ্রযুক্তি আমরা ভুল পথে লাগাচ্ছি যার কারনে আমরা কখনো শান্তি পাচ্ছি না । ভাল থাকতে পারছি না । তাই বিজ্ঞান এখন আশির্বাদের জায়গায় অভিশাপে পরিণত হচ্ছে ।

5004 views

জানা এই কৌতুকটা নিছক হাসির জন্য নয়, শিক্ষনীয়। স্বল্পমূল্যে অথবাবিনামূল্যে প্রযুক্তিপণ্য শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিলেই যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন পূর্ণ হবে, দেশের উন্নতি হবে, ব্যাপক পরিবর্তন আসবে এমনটি আগাম ভেবে রাখা ভুল। প্রথমেই প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। কিভাবে প্রযুক্তির ছোঁয়ায় পরিবর্তন আনা সম্ভব সে বিষয়গুলো প্রকাশসহ সচেতনতা বৃদ্ধিতে সবাইকে আন্তরিকতার সাথে এগিয়ে আসতে হবে। অশ্লীল, কুরুচিপূর্ণ, অপ্রয়োজনীয় সাইটগুলো বন্ধ করে দিতে হবে। অপব্যবহার রোধে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। প্রযুক্তি তরুণ প্রজন্মকেযেভাবে আকৃষ্ট করেছে- অভিভাবক মহলে এ চিত্রটা কিন্তু ভিন্ন। উন্নত দেশের বয়স্ক ব্যক্তিরা শেষ বয়সে এসেও প্রযুক্তির ব্যবহার শিখতে সময় ব্যয় করছে, সেখানে আমাদের দেশে উল্টোচিত্র। সন্তানরা মা-বাবার কাছে থেকেই শিক্ষা গ্রহণ করে। জমানো প্রশ্নগুলোর উত্তর পেতে চায়। প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও ঠিক তেমনি। প্রযুক্তি সম্পর্কিত প্রশ্নের উত্তর ও সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতিটি অভিভাবকের উচিত প্রযুক্তি সম্পর্কিত জ্ঞানার্জন করা। সন্তানকে কম্পিউটার বা ল্যাপটপ কিনে দিলাম, এগিয়ে যাবার সিঁড়ি তৈরী করে দিলাম-এমন ভেবে দায়িত্ব শেষ বলে হাত গুটিয়ে বসে থাকলে চলবে না। দায়িত্ব শেষ নয়, শুরু। সঠিক পথ দেখিয়ে দিতে হবে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে জ্ঞানার্জনের পথ বাতলে দিতে হবে, আগ্রহ জন্মাতে হবে। নইলে- প্রযুক্তি আশির্বাদ নয় অভিশাপ হয়ে দেখা দেবে। এক্ষেত্রে প্রতিটি সচেতন অভিভাবকদেরও প্রযুক্তির সংস্পর্শে আসতে হবে। সন্তান কি করছে, কোন সাইট ভিজিট করছে, কম্পিউটারকে বিনোদনের মাধ্যম না জ্ঞানার্জনের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করছে, কত সময় ধরে কম্পিউটার ব্যবহার করছে ইত্যাদি বিষয় গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। দিনের পর দিন নতুন নতুন ওয়েবসাইট তৈরী হচ্ছে। মেধা খরচ করে তৈরী করা সাইটগুলোতে শিক্ষা, চিকিৎসা, বিজ্ঞান, বিনোদন, ইতিহাস ইত্যাদি বিষয় স্থান পাচ্ছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে প্রযুক্তি পণ্য স্বল্পমূল্যে বিতরণের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সাথে সম্পৃক্ত শিক্ষনীয় ওয়েবসাইটও তৈরী করতে হবে। অভিভাবকদের সচেতন করতে হবে। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লাইব্রেরীর পাশাপাশি কম্পিউটার ল্যাবে রক্ষিত কম্পিউটারের তথ্য ভান্ডার বিখ্যাত বইয়েরই-বুক দিয়ে ই-বুক লাইব্রেরী গড়ে তুলতে হবে। সরকারী, বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দেবার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণকৃত বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যের ল্যাপটপগুলোতে প্রয়োজনীয় প্রোগ্রামগুলোই দিতে হবে।শিক্ষার্থীরা যাতে ইচ্ছেমত বা অপ্রয়োজনীয় প্রোগ্রাম ইনস্টল করতে বা রিমুভ করতে না পারে সে ব্যবস্থা নিতে হবে। ইন্টারনেট ব্যবহার করার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট কিন্তু পড়াশোনার সাথে সম্পৃক্ত প্রয়োজনীয় সাইটগুলোর ঠিকানা ব্যতীত অন্য কোন সাইটে প্রবেশ করতে যেন না পারে সে বিষয়টিও ভাবতে হবে। প্রকৃত অর্থে এমন নিরাপত্তা বলয় তৈরী করা উচিত যাতে করে শিক্ষার্থীরা পথভ্রষ্ট, অমনোযোগী না হয়, এতে করে শিক্ষাক্ষেত্রে অনেকাংশেই প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ করা সম্ভব হবে।সাম্প্রতিক সময়ে ঘটমান প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে “ প্রযুক্তি: আশির্বাদ না অভিশাপ ” এ বিতর্কে না যেয়ে প্রযুক্তি দেশ ও জাতির জন্য আশীর্বাদ হয়ে ধরা দিবে, প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম এর ছোঁয়ায় আলোকিত হবে-এই প্রত্যাশা আমাদের সকলের।

5004 views

Related Questions