2 Answers

হ্যা। কুরবানি এবং আকিকা একসাথে দেওয়া যাবে। তবে নিজ নিজ বন্টনরীতি বজায় রাখতে হবে।

2951 views

আক্বীকা সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ, কোরবানী ও আক্বিকা দুটি ভিন্ন ইবাদত। কোরবানীর সাথে আক্বিকাকে এক করার কোন সুযোগ নেই। রাসুল (সাঃ) আক্বিকা সপ্তম দিনে করবার নির্দেশ দিয়েছেন। আর আক্বিকা হল সন্তানের নিরাপত্তা টীকা। এর মাধ্যমে সন্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। এখন ধরুন একটি বাচ্চার জন্ম হল কোরবানী ঈদের ১০ মাস আগে। যদি কোরবানীর সাথে তার আক্বিকা একসাথে করতে হয় তবে এই দশ মাস বাচ্চা নিরাপত্তাহীন থাকবে। রাসুল(সাঃ) ছেলের জন্য দুটি ও মেয়ের জন্য একটি ছাগল আক্বিকার নির্দেশ দেন। কিন্তু কোরবানীর পশুর সাথে অংশীদারে আক্বিকা দেয়ার কোন বিধান শরীয়তে নেই। কোন কোন আলেম বলেছেন এভাবে আক্বিকা আদায় জায়েজ, কিন্তু তাদের কাছে কোন শক্ত দলীল নেই,সেটা কিয়াছি ফতোয়া, আক্বিকার সকল নিয়ম হাদীসে পরিষ্কার বর্ণীত থাকা সত্তেও আমরা ঐ নিয়মে না করে মানুষের বানানো নিয়মে কেন করবো? তাই সকলের কাছে অনুরোধ কোরবানীর সাথে আক্বিকা একসাথে দিবেন না। কেননা, এতে করে সুন্নাতের অনুসরণ তো হয়ই না বরং আক্বিকার শুদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন থাকে। দেখুন এ বিষয়ে হাদীস কি বলেঃ ﻋَﻦْ ﺃُﻡِّ ﻛُﺮْﺯٍ ﺍﻟْﻜَﻌْﺒِﻴَّﺔِ ﻗَﺎﻟَﺖْ ﺳَﻤِﻌْﺖُ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ -ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ- ﻳَﻘُﻮﻝُ ‏« ﻋَﻦِ ﺍﻟْﻐُﻼَﻡِ ﺷَﺎﺗَﺎﻥِ ﻣُﻜَﺎﻓِﺌَﺘَﺎﻥِ ﻭَﻋَﻦِ ﺍﻟْﺠَﺎﺭِﻳَﺔِ ﺷَﺎﺓٌ উম্মে কুরযিল কা’বিয়্যাহ রাঃ বলেন-আমি রাসূল সাঃ কে বলতে শুনেছি যে, ছেলের জন্য দু’টি একইমানের বকরী ও মেয়ের পক্ষ থেকে একটি বকরী [আক্বিকা দিবে]। {সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-২৮৩৬, সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং-১৫১৩, সুনানে দারেমী, হাদীস নং-১৯৬৬, সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-৫৩১৩, মুসনাদে আবী ইয়ালা, হাদীস নং-৪৬৪৮, মুসনাদে ইসহাক বিন রাহহুয়া, হাদীস নং-১২৯০} ﻋﻦ ﺃﻡ ﻛﺮﺯ ﻗﺎﻟﺖ ﻗﺎﻟﺖ ﺍﻣﺮﺃﺓ ﻣﻦ ﺃﻫﻞ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﺮﺣﻤﻦ ﺑﻦ ﺃﺑﻲ ﺑﻜﺮ ﺇﻥ ﻭﻟﺪﺕ ﺍﻣﺮﺃﺓ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﺮﺣﻤﻦ ﻏﻼﻣﺎ ﻧﺤﺮﻧﺎ ﻋﻨﻪ ﺟﺰﻭﺭﺍ ﻓﻘﺎﻟﺖ ﻋﺎﺋﺸﺔ : ﻻ ﺑﻞ ﺍﻟﺴﻨﺔ ﻋﻦ ﺍﻟﻐﻼﻡ ﺷﺎﺗﺎﻥ ﻣﻜﺎﻓﺌﺘﺎﻥ ﻭﻋﻦ ﺍﻟﺠﺎﺭﻳﺔ ﺷﺎﺓ ﻳﻄﺒﺦ ﺟﺪﻭﻻ ﻭﻻ ﻳﻜﺴﺮ ﻟﻬﺎ ﻋﻈﻢ ﻓﻴﺄﻛﻞ ﻭﻳﻄﻌﻢ ﻭﻳﺘﺼﺪﻕ ﻳﻔﻌﻞ ﺫﻟﻚ ﻓﻲ ﺍﻟﻴﻮﻡ ﺍﻟﺴﺎﺑﻊ ﻓﺈﻥ ﻟﻢ ﻳﻔﻌﻞ ﻓﻔﻲ ﺃﺭﺑﻊ ﻋﺸﺮﺓ ﻓﺈﻥ ﻟﻢ ﻳﻔﻌﻞ ﻓﻔﻲ ﺇﺣﺪﻯ ﻭﻋﺸﺮﻳﻦ হযরত উম্মে কুরজ বলেন, আব্দুর রহমান বিন আবী বকরের পরিবারের এক মহিলা বলেন, আব্দুর রহমানের স্ত্রী ছেলে সন্তান প্রসব করে, তখন আমরা তার পক্ষ থেকে একটি ভেড়া জবাই করেছি। তখন হযরত আয়শা রাঃ বললেন- এমনটি, বরং পদ্ধতি হল-ছেলের পক্ষ থেকে দু’টি সমান পর্যায়ের বকরী আর মেয়ের পক্ষ থেকে একটি বকরী দিবে [আক্বিকা]। তারপর এটিকে রান্না করবে, হাড্ডি কে ভাঙবেনা, তারপর তা নিজে খাবে, অন্যকে খাওয়াবে, এবং দান করবে। একাজগুলো করবে সপ্তম দিন, সেদিন সক্ষম না হলে চৌদ্দতম দিন, সেদিনও সক্ষম না হলে একুশতম দিন করবে আক্বিকা। [মুসনাদে ইসহাক বিন রাহহুয়া, হাদীস নং-১২৯২} একুশ তম দিনে ও যদি কেউ আক্বীকা দিতে সক্ষম না হয় তাহলে যে কোন দিন দেয়া যায়। আক্বীকার চামড়া বিক্রি করা বৈধ নয়, ছদকা করে দিতে হয়। ﻋﻦ ﺟﻌﻔﺮ ﺑﻦ ﻣﺤﻤﺪ ﻋﻦ ﺃﺑﻴﻪ ﺃﻧﻪ ﻗﺎﻝ ﻭﺯﻧﺖ ﻓﺎﻃﻤﺔ ﺑﻨﺖ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺷﻌﺮ ﺣﺴﻦ ﻭﺣﺴﻴﻦ ﻭﺯﻳﻨﺐ ﻭﺃﻡ ﻛﻠﺜﻮﻡ ﻓﺘﺼﺪﻗﺖ ﺑﺰﻧﺔ ﺫﻟﻚ ﻓﻀﺔ হযরত যাফর বিন মুহাম্মদ তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তার পিতা বলেছেন-হযরত ফাতেমা বিনতে রাসূল সাঃ হাসান, হুসাইন, জয়নব ও উম্মে কুলসুমের চুল ওজন করে সে পরিমাণ রোপা সদকা করে দিয়েছেন। {মুয়াত্তা মালিক, হাদীস নং-১৮৩৯, শুয়াবুল ঈমান, হাদীস নং-৮২৬২, সুনানে বায়হাকী কুবরা, হাদীস নং-১৯০৭ এর পরে ও কি কোরবানীর সাথে আক্বিকা করবেন? হাদীসে এতো সুন্দর আক্বিকার বিধান থাকার পরেও কেন ইন্ডিয়া বাংলাদেশে জনৈক আলেমের কিয়াছি ফতোয়া প্রচার করা হয় বুঝে আসেনা, যে আমল রাসুল, সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ি তাবে তবেয়ি, কারো যুগে হয়নি এবং আজ পর্যন্ত সকল আরব দেশে হচ্ছেনা অর্থাৎ কোরবানীর সাথে আক্বীকা সেটা আমরা করতে যাবো কোন দূখেঃ? মোট কথাঃ আক্বিকা করবো সন্তানের জন্মের সপ্তম দিনে ছেলে হলে দুইটি এক বছর বয়ষ্ক চাগল বা ভেড়া আর মেয়ে হলে একটি চাগল বা ভেড়া জবাই করে নিজে খাবো আত্মীয় স্বজন ও মিসকিন দের কেও খাওয়াবো এবং সন্তানের ভাল নাম রাখবো। হে আল্লাহ তুমি আমাদের তোমার দ্বীনের সহীহ এলম দান করূূন - আমীন।

2951 views

Related Questions

Bulk sms কীঁ?
1 Answers 2872 Views