2 Answers

খ্রীস্টপূর্ব ৪৫০-৫০০ বছর সময়কালে পারফিউমের আবির্ভাব ঘটে। তবে সেটা বনেদী লোকজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল এবং পারফিউমের ধরনও ছিল ভিন্ন। শুধু ফুলের নির্যাস গ্রহণ এবং ঘরকে সুরভিত করার লৰ্যে সুগন্ধি ফুল দিয়ে ঘর সাজানো ইত্যাদি পারফিউম উদ্ভবের জানান দেয়। নিজেকে সুরভিত রাখার উদ্দেশ্যেই পারফিউমের উদ্ভব। নবম খ্রিস্টাব্দে আরবীয় কেমিস্ট আল কিন্দাস পারফিউমের ওপর একটি বই বের করেন। বইটির নাম 'বুক অব দ্য কেমিস্ট্রি অব পারফিউম এ্যান্ড ডিসটিলেশনস।' ধারণা করা হয়, এই বইটিই পারফিউম সংক্রানত্ম প্রথম বই। পরবতর্ীতে বিখ্যাত মুসলিম চিকিৎসক ইবনে সিনা সুগন্ধির আধুনিক রূপদান করেন। তিনি সর্বপ্রথম গোলাপের নির্যাসের ওপর পরীৰা চালান এবং সফল হন। এর পর থেকেই বিভিন্ন ধরনের ফুল, গাছের ছাল-বাকলের নির্যাস থেকে সুগন্ধি প্রস্তুত হতে থাকে। দ্বাদশ শতাব্দীতে এসে সুগন্ধি বোতলজাত এবং বাজারজাত হতে থাকে। বর্তমান সময়ে সুগন্ধির ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। হাতের নাগালেই পাওয়া যাচ্ছে এসব প্রসাধনী। প্রযুক্তির উৎকর্ষের ছোঁয়া লেগেছে পারফিউমে। ঋতু এবং আবহাওয়াভেদে প্রস্তুত হচ্ছে পারফিউম। তবে উষ্ণ আবহাওয়া সংবলিত দেশে পারফিউমের প্রচলন বেশি। কারণ গরমে ঘামের দুর্গন্ধ ঢাকতেই পারফিউম ব্যবহার করা হয়। তবে সব ঋতুতেই পারফিউমের চাহিদা রয়েছে সব দেশে। পারফিউম মূলত দু'টি ভাগে বিভক্ত। একটি হচ্ছে সরাসরি শরীরে ব্যবহার উপযোগী এবং আরেকটি হচ্ছে পোশাকে ব্যবহার উপযোগী পারফিউম। তবে দুটোই ঘামের উৎকট গন্ধ দূরীকরণে সাহায্য করে। যে কারণে দিন দিন পারফিউম ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়েই চলছে

2950 views Answered

স্মরণকালের শুরু থেকেই মানুষ সুগন্ধি ব্যাবহার করে আসছে নিজেদের শরীরের গন্ধ লুকাতে,মানুষের ভিন্ন ভিন্ন রসায়নের জন্য মানুষভেদে একই সুগন্ধি ভিন্ন ভিন্ন সৌরভ ছড়ায়।পারফিউম শব্দটি এসেছে লাটিন শব্দ পার (মধ্য দিয়ে) আর ফুমফুম (ধোয়া) থেকে। প্রাচীন যুগে সুগন্ধি তৈরী হত গাছ গাছড়ার ছাল, বাকল পেষন ও সিদ্ধ করে পরবর্তীতে এটা বিভিন্ন নির্যাসের সাথে তেল ও এলকোহলের বিভিন্ন মাত্রায় মিশ্রনের ফলে তৈরী হয়ে থাকে। সুগন্ধির ইতিহাসও বহু পুরানো। প্রাচীন কালে যখন কাঠে কাঠে ঠুকে আগুন জালানো হতো তখন থেকেই সুগন্ধি কাঠের আবিস্কার। মিশরীয় ইতিহাসে পাওয়া যায়- তারাই প্রথম সুগন্ধি নিজেদের ব্যাবহারের জন্য শুরু করে প্রথম দিকে শুধু মাত্র ধর্মযাজকরাই সুগন্ধি ব্যাব হার করত । এমনকি সুগন্ধি তাদের উপসানালয়তেই তৈরী হত ।ধীরে ধীরে তা রাজা ও রাজপরিবারের দখলে চলে আসে।মিশরীয়রা মমি তৈরীর সময় বিভিন্ন জাতীয় সুগন্ধি মশলা ব্যাবহার করতো কিন্তু সুগন্ধি জল বা পারফিউম খুব পবিত্র আত্মার সাথেই দেয়া হত। ১৯৯২ সালে যখন তুতেনকখামেনের মমি আবিষ্কার হয় তখন সেখানে সুগন্ধি রাখার পাত্রও পাওয়া যায়। গ্রীস পরবর্তীতে মিশরীয় সুগন্ধি গুলোকে আরও উন্নত করে ।তার পরে রোমানরাও সুগন্ধি নিয়ে মেতে উঠে।তারা শুধু ধর্মীয় ব্যাপারই না বরং নিজেদের ঘর বাড়ীর দেয়াল ও মেঝেতেও সুগন্ধি ব্যাব হার করত ।রাজ প্রাসাদের কোন নিমন্ত্রনে চলত সুগন্ধি মিশ্রিত পানির ফোয়ারা। সুগন্ধি তৈরীর কাচামাল হলো এসেনসিয়াল ওয়েল যা বিভিন্ন ফুল, পাতা, মূল, বাকল, ছাল, কাঠ,ফল থেকে পাওয়া যায় আর বিভিন্ন প্রানী যেমন হরিন বিড়াল, হায়েনা, স্পার্ম তিমির চর্বি থেকেও পাওয়া যায়।এই এসেনসিয়াল ওয়েলের সাথে পানি বা এলকোহল মিশিয়ে মাত্রা কম বেশী করে বিভিন্ন রকমের সুগন্ধি তৈরী হয়। সুগন্ধির মোট তিনটি নোট থাকে (মানে ব্যাবহারের সময়ের সাথে সাথে গন্ধ পরিবর্তন হবার তিনটি পর্যায় থাকে )। টপ নোট বা নোটস ডি টেট- ইটা ব্যাবহারের সাথে সাথে যা সুগন্ধি ছড়ায় তাকে বলা হয়। আমরা সাধারনত সুগন্ধি কেনার সময় টপ নোট টা দেখেই কিনি।এটা সাধারনত ঝাঝালো লেবুর গন্ধযুক্ত হয়। সেন্ট্রাল বা হার্ট নোট- এটা সাধারনত টপ নোট সম্পূর্ন উবে গেলে পাওয়া যায়। এবং অনেকক্ষন ধরে আমাদের শরীরে থাকে ও টপ নোটের ঝাঝালো গন্ধটিকে স্হিমিত করে। সাধারনত ফুলের বা তৈরীর মূল উপাদানের গন্ধ সমৃদ্ধ হয়। বেস নোট বা নোট ডি ফন্ড- এটা অনেক দিন যাবৎ থাকতে পারে। বাকীটা কমেন্টে আছে

2950 views Answered

Next steps