1 Answers

রমজান শব্দটি এসেছে রমজ শব্দ থেকে রমজ শব্দের অর্থ হল জালিয়ে দেয়া, দগ্ধ করা রমজানের রোজা মানুষের মনের কলুষ কালিমা পুড়িয়ে নষ্ট করে দিয়ে মনকে নির্মল ও পবিত্র করে তোলে। পাপ রাশিকে সম্পূর্ন রূপে দগ্ধ করে মানুষেকে করে তোলে পূন্যবান। রোজা একটি ফারসী শব্দ আরবী ভাষায় রোজাকে সিয়াম বলা হয়। সিয়াম শব্দের বহু বচন হল সাত্তম এখানে উল্লেখ্য যে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থাকা ও সংযম পালন ইসলামে রোজা বা সিয়াম নামে অভিহিত হয়। দুঃখ জনক হলেও সত্য যে একথা অনেকেই জানে না যে সকাল-সন্ধ্যা পর্যন্ত ুধার্ত ও পিপাসার্ত থাকার মানেই রোজা নয়। এই গুলি সিয়াম সাধনার বাহ্যিক অনুষ্ঠান মাত্র। শুধু মাত্র খাদ্য ও পানীয় পরিহার করা এবাদত বলে ইসলামে বিবেচিত হতে পারে না। এই ইবাদতের জন্য প্রয়োজন তাকওয়া, যাতে করে মানুষ মোত্তাকী ও পরহেজগার হইতে পারে। এই তাকওয়াই হচ্ছে সিয়ামের সার বস্তু, রোজার আসল কথা। হযরত উমর (রাঃ) কাব আল আহবার (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করেন, তাকওয়া কি? উত্তরে কা’ব (রাঃ) জিজ্ঞাসা করেন, আপনি কি কখন ও কষ্টাকাকির্ন পথে চলেছেন? তখন কি পন্থা অবলম্বন করেন? হযরত উমর (রাঃ) বলেন, আমি সতর্ক হয়ে কাপড় গুটিয়ে চলেছি। কা’ব (রাঃ) বলেন ইহাই তাকওয়া। পৃথিবীতে চারিদিকে পাপ পংকিলতার কাটা ছড়ানো হয়েছে তা থেকে সর্তক ভাবে নিজেকে বাচিয়ে চলার নাম হল তাকওয়া, তাকওয়ার গুনে বিভূষিত ব্যক্তিকে বলা হয় মোক্তাকি হযরত মুহাম্মদ (সঃ) দ্বার্থহীন ভাষায় উল্লেখ করেন যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা বা অন্যায় কাজ কর্ম পরিত্যাগ করিবে না, তাহার শুধুমাত্র খানা-পিনা পরিত্যাগ করায় আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই। এ ধরনের হতভাগ্য রোজাদারদের প্রসঙ্গে তিনি ঘোষনা করেছেন ‘‘ অনেক রোজাদার এমন আছো যাদের ভাগ্যে ুধাও পিপাসা ছাড়া অন্য কিছু জোটেনা। তেমনি রাত্রিতে এবাদত কারী এমন অনেক মানুষ আছে যারা রাত্রি জাগরন ব্যতিত আর কিছুই লাভকরতে পারে না। এই হাদিস দুটি থেকে সহজেই প্রতিয়মান হয় যে, ুধাও পিপাসা প্রকৃত এবাদতের অবলম্বন মাত্র। কিন্তু প্রকৃত এবাদত ‘তাকওয়া’ মাধ্যমে নিজের নফ্সকে দম্ম করার আন্তরিক প্রয়াসের মাধ্যমেই সাধিত হয়ে থাকে। যে ব্যক্তি সর্বাস্ত করনে এ প্রয়াস গ্রহন করে না তার রোজা রাখার কোন স্বার্থকতা নেই। ৬১০ খৃষ্টাব্দে রমজান মাসে কোরআন মাজিদ নাজিলের সূচনা হয় এবং বিভিন্ন প্রোপটে খন্ডে খন্ডে নাজিল হতে থাকে। হযরত মুহাম্মদ (সঃ) ১২ বছর পর আল্লাহর নির্দেশে মদিনায় হিজরত করে এসে, সেখানে একটা নগর রাষ্টের পত্তন করেন। মসজিদে নববী স্থাপন করেন। রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য মদিনার অধিবাসী সব সম্প্রদায়কে ঐকমতো এনে একটি শাসনতন্ত্রও প্রনয়ন করেন। অর্থনৈতিক বিধানও প্রদান করেন যাকাত বিধান নাজিল হলো অর্থাৎ একটা আদর্শ কল্যান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলো। হিজরতের দ্বিতীয় বর্ষের ১৫ সাবান কিবলা পরিবর্তন করে মক্কা মুকাররমা মসজিদুল হারামের দিকে মুখ করে সালাত আদায়ের বিধান হলো। এবং নাযিল হল সিয়াম বিধান। পবিত্র কুরআনের সূরা বাকারার ১৮৫ নং আয়াতে বলা হয়েছে। ‘‘রমজান মাস এতে নাযিল হয়েছে মানুষের জন্য হেদায়াত এবং সৎ পথের স্পষ্ট নিদর্শন ও সত্য ও অসত্যের মধ্যে পার্থক্য কারী আল কুরআন। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা এই মাস প্রত্যক্ষ করবে তারা যেন এতে সিয়াম পালন করে। ২য় হিজরীর পহেলা রমাদান মোতাবিক ৬২৪ খৃষ্টাব্দের পহেলা মার্চ আল্লাহর বিধান অনুযায়ী প্রিয় নবী (সাঃ) ও সাহাবায়ে কিরাম (রাঃ) সর্ব প্রথম রমদানের সিয়াম পালন করা শুরু করেন। এরই আগের দিন অর্থাৎ সাবান মাসের শেষ দিনে তিনি সাহাবায়ে কিরামের সমাবেশে এক দীর্ঘ খুতবা দেন। সেই খুতবায় তিনি বলেন ‘‘হে মানুষ তোমাদের উপর ছায়া বিস্তার করেছে এক মহান প্রাচুর্য মাস, এই মাসেই রয়েছে হাজার মাসের চেয়েও উক্তম এক রজনী। এই মাসের সিয়াম কেই আল্লাহ ফরজ করে দিয়েছেন। এর রাতে দন্ডায়মান হওয়াতে (তারাবীর সালাত আদায়ে) রয়েছে সওয়াব। যে ব্যক্তি আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্য এ মাসে একটি নফল কাজ করবে, সে অন্য মাসে একটি ফরজ আদায় করার যে সওয়াব তা পাবে। আর যে ব্যক্তি এই মাসে একটি ফরজ আদায় করবে সে অন্য মাসের সক্তরটি ফরজ আদায়ের সমান সওয়াব লাভ করবে। এইটা হচ্ছে ধৈর্যের মাস আর ধৈর্যের প্রতিদান হচ্ছে জান্নাত। এইটা হচ্ছে সহমর্মিতার মাস, আর এইটা হচ্ছে এমন একটি মাস যাতে মোমিনের রিযিক বাড়ীয়ে দেওয়া হয়। যে ব্যক্তি কোন রোজাদারকে ইফতার করাবে, সেই ব্যক্তির জন্য গুনাহ মাফ পাবার, এবং দোজখের আগুন থেকে মুক্তি পাবার কারন হয়ে যাবে। এছাড়া তার সওয়াব হবে সেই সায়েমের সমান কিন্তু সেই সায়েমের সওয়াব একটুও কমবে না। সাহাবায়ে কেরাম বললেন ইয়া রাসুলুল্লাহ (সঃ) আমাদের মধ্যে অনেকেই রোজাদারদের ইফতার করানোর সামর্থ নেই। হযরত রাসুল (সঃ) বললেন পেটভরে খাওয়ানো হবে এমনটা তো নয়। এক চুম্বক দুধ অথবা এক টুকরো খেজুর কিংবা এক ঢোক পানি দ্বারা ইফতার করালেই আল্লাহ তায়ালা তাকে সওয়াব দান করবে। আর যে ব্যক্তি কোন সায়িমকে তৃপ্তি সহকারে খাওয়াবে আল্লাহ তায়ালা তাকে আমার হাউদ (হাউজে কাউছার) থেকে পানি পান করাবেন। যার ফলে সে জান্নাত দাখিল হওয়ার আগ পর্যন্ত পানি পিপাসা হবে না। এ মাসে যার প্রথমাংশ রহমাতের, মধ্যাংশ মাগফিরাতের এবং শেষাংশ দোজখের আগুন থেকে মুক্তির। আর যে ব্যক্তি এ মাসে অধিনস্তদের কাজের ভার লাগব করে দেবে আল্লাহ তায়ালা তাকে মা করে দেবেন। এবং দোজখ থেকে তাকে নাজাত করে দেবেন। দ্বিতীয় হিজরীর মাহে রমাদানে প্রথম সিয়াম পালিত হয়, আর সেই রমাদানের ১৭ তারিখে মোতাবিক ৬২৪ খৃষ্টাব্দে ১৭ ই মার্চ শুক্রবার মদিনা মনওয়ারা থেকে ৮০ মাইল দনি পশ্চিমে অবস্থিত বদর প্রান্তরে সংগঠিত হয় যে যুদ্ধ সেটাই বদর যুদ্ধ নামে পরিচিত। এই যুদ্ধে মাত্র ৩১৩ জন সাহাবী নিয়ে প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এর নেতৃত্বে কাফির, মুশরিক, বাহীনির প্রায় এক হাজার সৈন্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে বিজয় লাভ করেন। এই যুদ্ধে ইসলামের সুদৃড় প্রসারী বিজয়ের ধারা নির্মান করে দেয়। ৬৩০ খৃষ্টাব্দের রমজান মাসেই ফতেহ মক্কা বা মক্কা বিজয় সাধিত হয়েছিল। এই প্রসঙ্গেঁ সুরা বনি ইসরাইলের ৮১ আয়াতে ইরশাদ হয়, “জায়াল হংক্ক ওয়াজাহাকাল বাতিল ইন্নাল বাতিলা কানা জাহুকা” সত্য সমাগত এবং মিথ্যা দুরীভূত, নিশ্চয়ই মিথ্যা দূর হয়। হযরত মোহাম্মদ (সঃ) বলেন যখন মাহে রমাদানের প্রথম রাত আসে, তখন একজন আহব্বান কারী এই বলে আহব্বান করেন ‘‘হে কল্যান কামী অগ্রসর হও। হে মন্দান্বেষী থামো। (তিরমিজি শরীফ) আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন রোজা আমার জন্য আমিই এর পুরস্কার-দেব। কারন বান্দাতো তার যৌন ুধা এবং দৈহিক ুধা একমাত্র আমার জন্যই পরিহার করে। এই মাসের শ্রেষ্টত্বের আর একটি হচ্ছে এই মাসের শবে কদরেই কাল্লামুল্লাহে শরীফ নাজিল হয়, এই রাত্রি হাজার মাস হইতে উক্তম। মহানবী (সঃ) বলেছেন, রোজাদার দুটি সন্তুষ্টি উপভোগ করবে, আর তার মধ্যে একটি দৈাহিক ইফতারের সময় আরেকটি পরকালে আল্লাহর সহিত দিদার লাভের সময় উপভোগ করবে। নবী করিম (সঃ) উল্লেখ করেছেন রোজা ঢাল স্বরূপ যখন রোজা এসে উপস্থিত হয় তখন তোমরা অশ্লিল ভাষা এবং উচ্চ স্বরে চিৎকার করা থেকে বিরত থাকবে। রাইয়াল নামক দরজা দিয়ে রোজাদার মোমেনকে বেহেশতে প্রবেশ করানোহবে। এ মাসের রোজা কোটি কোটি মুসলমানের একই সঙ্গে সারভাই ভাল ট্রেনিং এর মত। আর এতে এসে যায় নিয়ম শৃংখলা কষ্ট সহিঞ্চুতা ধার্মিকতা পরোপকার সৎ চিন্তা সৎ জীবন যাপন। স্বাস্থ্য বিধি পালন বাড়তি মেদ-হ্রাস ইত্যাদি। এ মাসে মুসলমানেরা যাকাত ফিতরা দান খয়রাত করে। রোজা না করাতে বা ক্রটিতে কাফফারার অর্থদেয় গরীরদের। এই হল গরীরে পে অর্থ নৈতিক এজেন্ডা রমজান মাসের। যাকাতই দরিদ্র দূর করতে সম এনজিওদের গলাকাটা সুদী মহাজনী ব্যবসায় নয়। সমস্ত মুসলিম জাহানের পাপরাশিকে বিদগ্ধ ও ভম্মীভূত করার জন্য এই রমজান মাসের সীয়াম সাধনাই হোক আল্লাহ পাকের কাছে একমাত্র উছিলা। আল্লাহ পাক মুসলিম বিশ্বকে এর তাৎপর্য ও গুরুত্ব উপলদ্ধি করার তৌফিক দান করুন। এটাই আমাদের একান্ত কামনা ও প্রত্যাশা।

2714 views

Related Questions