2 Answers
তাবলীগী জামাতের শুরু ১৯২৬ সালে উত্তর ভারতের মেওয়াত নামক এলাকা থেকে। তাবলীগী জামাতের ধারণা,লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ও কর্মপদ্ধতি রচনা করেন মাওলানা মুহাম্মদ ইলিয়াস। ইনি ছিলেন উত্তর ভারতের শাহরানপুরের মাযহারুল উলুম মাদ্রাসার শিক্ষক। তিনি ধর্মীয় শিক্ষা লাভ করেন দেওবন্দ মাদ্রাসায়। এদিক দিয়ে বলা যায়,তাবলীগী জামাত হলো দেওবন্দী আন্দোলনের একটি শাখা। ঔপনিবেশিক ব্রিটিশের হাতে রাজনৈতিক ক্ষমতা হারানোর পর মুসলমানগণ শুধু শক্তিহীনই হয়নি,ধর্মীয়,সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক ভাবে প্রাণহীনও হয়ে পড়ে। লোপ পায় তাদের আত্মবিশ্বাস;চেপে বসে নিদারুন হতাশা,বিভক্তি ও বিশৃঙ্খলা। অপর দিকে প্রাণশক্তির নবজোয়ার শুরু হয় হিন্দুদের মাঝে। ব্রিটিশ শাসকদের পার্টনার রূপে তারা শাসকশক্তির কাছাকাছি পৌঁছার সুয়োগ পায়,ফলে শিক্ষা,অর্থনীতি,রাজনীতি ও প্রশাসনে তারা দ্রুত এগিয়ে যায়। পায় নবশক্তি। হিন্দুরা তখন এতটাই আত্মবিশ্বাসী হয়ে পড়ে যে তাদের মাঝে প্রবলতর হয় মুসলমানদেরকে হিন্দু ধর্মে ফিরিয়ে নেওয়ার আগ্রহ। সে লক্ষ্যে হিন্দুদের মাঝে “শুদ্ধি” ও “সংগঠন” নামে দুটি আন্দোলন শুরু হয়। বিশেষ করে সেসব এলাকায় যেখানে ইসলামের শিক্ষা এবং সংস্কৃতি ততটা মজবুত ভিত্তি গড়ে তুলতে পারিনি। শুদ্ধি আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল ভারতীয়দের মাঝে হিন্দু ধর্মের পূণর্জাগরন এবং যারা অহিন্দু -বিশেষ করে যারা হিন্দুধর্ম থেকে ইসলাম কবুল করেছে তাদেরকে পুনরায় হিন্দু ধর্মে ফিরিয়ে আনা। আর “সংগঠন” আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল হিন্দুদের মাঝে আত্মবিশ্বাস,আত্মশক্তি ও আভ্যন্তরীন বন্ধনকে আরো মজবুত করা। সে সময় ভারতের নানা অঞ্চলে এমন অনেক মুসলিম সম্প্রদায়ের বসবাস ছিল যারা হিন্দু ধর্ম থেকে ইসলাম ধর্মে প্রবেশ করেছিল বটে কিন্তু ইসলামের বুনিয়াদী শিক্ষা লাভের তেমন সুযোগ তাদের জীবনে ঘটেনি,বরং হিন্দু ধর্ম ও সংস্কৃতির অনেক প্রথাই তাদের মাঝে রয়ে গিয়েছিল। মেওয়াতে মিওয়ো নামক এক রাজপুত সম্প্রদায় ছিল যাদের অনেকেই মুসলমান হয়েছিল। কিন্তু শুদ্ধি আন্দোলনের ফলে তাদের অনেকেই আবার হিন্দুধর্মে ফিরে যায়। এতে হিন্দুদের মাঝে আরো বেশী বেশী মুসলমানদের হিন্দু বানানোর ইচ্ছাটি আরো প্রকটতর হয়। মুসলমানদের জন্য এ ছিল বিপদজনক অবস্থা। সে সাথে চলছিল ইংরেজ পাদ্রীদের ব্যাপক তৎপরতা। ইংরেজদের হাতে রাজ্য হারানোর পর এবার ঘনিয়ে আসে ধর্ম হারানোর ভয়। হিন্দু ও খৃষ্টান হওয়া থেকে মুসলমানদের বাঁচানোর তাগিদেই মাওলানা মুহাম্মদ ইলিয়াস ১৯২৬ সালে হজ থেকে ফিরে আসার পর “তাহরিকে ঈমান” নামে এক আন্দোলন শুরু করেন। তবে কিছুদিনের মধ্যে তিনি সে আন্দোলনকে মেওয়াত থেকে দিল্লির নিযামুদ্দীন এলাকায় স্থানান্তর করেন। তখন থেকে আজও দিল্লিই তাবলীগী জামাতের প্রাণকেন্দ্র। শুরুতে তাদের শ্লোগান ছিল,“আ্যায় মুসলমান, মুসলমান বনো” অর্থঃ “হে মুসলমানেরা মুসলমান হও”। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তাবলীগী জামাতের প্রসার ঘটে অতি দ্রুত,মাত্র ১৫ বছর পর ১৯৪১ সালের নভেম্বরে এজতেমায় যোগ দেয় ২৫ হাজারের বেশী লোক। সে সময়ের প্রেক্ষাপটে এ সংখ্যা ছিল অতি বিশাল। বর্তমানে তাবলীগী জামাতের কাজ বিশ্বের ১০০টিরও বেশী দেশে। ঢাকার বিশ্ব এজতেমাতে তিরিশ লাখের বেশী লোকের জমায়েত হয়। লক্ষ লক্ষ লোকের এজতেমা হয় ভারত,পাকিস্তান,মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের নানা দেশে।
বিশ্বময় নিজেরা ইসলাম ছড়িয়েছে বলে সাহাবীদের অবদানকে অসীকার করে প্রতারনা করছে তাব্লিগ
মনে রাখতে হবে ইলিয়াসের জন্মের আগেই ৫৭ টি মুসলিম দেশ ছিল। ৭০০ খ্রিস্টাব্দের আগেই মুসলমানরা পশ্চিমে স্পেন, মরক্কো ও পূবে ভারতের রাজস্থান পযন্ত দখল করেছিল। নেটে আব্বাসীয় খেলাফত লিখে সাচ দিলেই পাবেন। পরে জীবিকার সন্ধানে স্কলারশিপ নিয়ে বিদেশ যাওয়ায় সেখানে মুসলিম বেড়ে যায়।
১৪০০ বছর ধরেই মুসলিমরা অধিক সন্তান নিয়ে আসছে। ফলে ১৪০০ বছরে মুসলিম জ্যমেতিক হারে বেড়ে যায়।আজকের অধিক মুসলমান সাহাবিদের ও পরে খেলাফতের অবদান। অথচ তাব্লিগ বলছে বিশ্বময় ইসলাম ছড়িয়ে পড়ছে তাব্লিগের কল্যানে। সাহাবীদের অবদানকে নিজেদের বলে চালাচ্চে।