3 Answers

কয়লা, পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস পোড়ানোর ফলে বায়ুতে কার্বন ডাই-অক্সাইড বৃদ্ধি পায়। তা ছাড়া কয়লা পোড়ানোর ফলে এতে মিশে থাকা সালফার পুড়ে বায়ুতে সালফারের অক্সাইড উৎপন্ন হয়। সালফারের অক্সাইড বৃষ্টির পানিতে মিশে বৃষ্টির পানিকে এসিডযুক্ত করে, এই এসিডযুক্ত বৃষ্টিকেই এসিড বৃষ্টি বলা হয়। এসিডযুক্ত বৃষ্টি সব জীবের জন্য ক্ষতিকর।

14751 views

এসিড রেইন বা এসিড বৃষ্টি একটি সাধারণ এবং জনপ্রিয় বিষয়।শুধুমাত্র বৃষ্টির পানির pH পরিমাপ করেই বুঝা যাবেনা সেটি এসিড রেইন কিনা ? বা কেন বৃষ্টি এসিডিক বা ক্ষারীয়? এটা নিশ্চিৎ যে এসিড রেইন পরিবেশের উপর বিরুপ প্রভাব বিস্তার করে। বায়ুমন্ডল থেকে রাসায়নিক পদার্থ কঠিন,তরল ও বায়বীয় তিন অবস্থায়ই ভূ-পৃষ্ঠের গাছপালা ,মাটি, হ্রদ, সমুদ্র এবং মানবদেহে প্রবেশ করে । কয়েকভাবে বায়ুমন্ডল থেকে পানি আলাদা হয় বা বেরিয়ে যায় । জলীয়বাষ্প হালকা হয়ে অনেক উপরে উঠে যায়, ঠান্ডা হয় এবং বৃষ্টি আকারে ভূ-পৃষ্ঠে পতিত হয়; মেঘের কিছু জলবিন্দু বেশি ঠান্ডা হয়ে কঠিন বরফে পরিণত হয়ে শিলাপাত ঘটায়;আবার কিছু অংশ কঠিন ও তরলের সমন্বয়ে শিলাবৃষ্টি আকারে ভূ-পৃষ্ঠে নেমে আসে। এসিডরেইন হওয়ার জন্য প্রাকৃতিক ও অপ্রাকৃতিক উৎস থেকে রাসায়নিক পদার্থ জলবায়ু মন্ডলে প্রবেশ, রাসায়নিক পদার্থের পরিবহনও রাসায়নিক পরিবর্তনের মাধ্যমে রাসায়নিক পদার্থ জলবায়ুমন্ডলে প্রবেশ ও জলবায়ুমন্ডল থেকে রাসায়নিক পদার্থের দূরীভূত করনের বিষয়গুলো বিবেচ্য।

14751 views

এসিড বৃষ্টিঃ বৃষ্টির পানিতে অধিক মাত্রায় এসিডের উপস্থিতিকেই সাধারণ অর্থে এসিড বৃষ্টি বলে। এসিড বলতে এখানে মূলত নাইট্রিক এবং সালফিউরিক এসিডকেই বোঝানো হয়ে থাকে। বিভিন্ন কল-কারখানা ও গাড়ি থেকে নির্গত ক্ষতিকর নানা রাসায়নিক পদার্থের ফলে বায়ু দূষণ হওয়ায় এসিড বৃষ্টির মূল কারণ। প্রাণিজগৎসহ পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব রয়েছে এসিড বৃষ্টির। আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত বা বজ্রপাতের মতো প্রাকৃতিক কারণেও এসিড বৃষ্টি হতে পারে। তবে তা একেবারে সীমিত পরিসরে। এসিড বৃষ্টির জন্য মূলত দায়ী মানুষই। কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস, তেলের মতো জীবাশ্ম জ্বালানির দহনের ফলে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে সালফার ডাই-অঙ্াইড ও নাইট্রোজেন অঙ্াইড ছড়িয়ে পড়ে। এ গ্যাস দুটি বায়ুমণ্ডলে মিশে সালফিউরিক এসিড, অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট, নাইট্রিক এসিড উৎপাদনে সক্ষম এমন বিভিন্ন গ্যাস-পানি এবং অঙ্েিজনের সঙ্গে বিক্রিয়া শুরু করে। এরপর এসব এসিড বাতাসের কারণে অনেক দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে বৃষ্টি, তুষারপাত বা কুয়াশার রূপ নিয়ে পৃথিবীতে ফিরে আসে। এসিড বৃষ্টির জন্য দায়ী গ্যাসগুলো বায়ুমণ্ডলে ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে শিল্পবিপ্লবের সময়ে। ১৮৫২ সালে যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারে প্রথম এসিড বৃষ্টি ও বায়ু দূষণের মধ্যে একটা সম্পর্ক খুঁজে পান স্কটিশ রসায়নবিদ রবার্ট স্মিথ। প্রথম দিকে এ ব্যাপারটিকে খুব একটা গুরুত্ব দেওয়া হতো না। অনেক পরে ১৯৬০ সালের দিক থেকে এটি গুরুত্ব পেতে শুরু করে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, কানাডার দক্ষিণ- পূর্বাঞ্চল এবং ইউরোপের বেশির ভাগ অঞ্চলেই এসিড বৃষ্টি পরিলক্ষিত হয়। এ ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার কিছু অংশ, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা ও ভারতের দক্ষিণাঞ্চলও ভবিষ্যতে এসিড বৃষ্টির ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এসিড বৃষ্টির কারণে সবচেয়ে বেশি বনাঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইউরোপের পূর্বাঞ্চলে। এ বৃষ্টির কারণে জার্মানি এবং পোল্যান্ডের প্রায় অর্ধেক বনাঞ্চলই ক্ষতির শিকার হয়েছে।

14751 views

Related Questions