1 Answers
আল্লামা শফির জন্ম ১৯৩০ সালে, চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া থানার পাখিয়ারটিলা গ্রামে। ২০ বছর বয়সে (১৯৫১ সালে) তিনি ভর্তি হন উপমহাদেশের সর্বোচ্চ দ্বীন শিক্ষার প্রতিষ্ঠান ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ-এ। ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে ‘ইংরেজ খেদাও’ আন্দোলনে আলেমদের কাছে দূর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল এ মাদ্রাসা। ওই সময় তিনি ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নেতা আল্লামা সাইয়্যেদ হুসাইন আহমাদ মাদানীর (রহ.) হাতে বায়াত গ্রহণ করেন। অল্প সময়েই তিনি খেলাফতপ্রাপ্ত হন। ১৯৮৬ সালে হাটহাজারীর দারুল উলুম মইনুল ইসলাম মাদরাসার মহাপরিচালকের দায়িত্ব নেন তিনি। এ মাদ্রাসা উপমহাদেশে ‘দ্বিতীয় দেওবন্দ’ (উপমহাদেশে ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দের পরই এই মাদ্রাসাকে মূল্যায়ন করা হয়) হিসেবে পরিচিত। অনসৈলামিক কর্মকাণ্ড প্রতিহত, ইসলামী দাওয়াত ও প্রচারণার জন্য অরাজনৈতিক সংগঠন ‘হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ’ গঠন করেন ‘শায়খুল ইসলাম’ (ইসলামের নেতা) খ্যাত আল্লামা শফি। অনেক আগে থেকেই ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে সংগঠনটির নেতারা আন্দোলন করে আসছেন। ৩ বছর আগে সরকারের নারীনীতি, শিক্ষানীতি, সংবিধানের ‘আল্লাহর ওপর আস্থা’ পুন:স্থাপন নিয়ে তারা আন্দোলন করেছে। সরকার আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাস দেয়, তৎকালীন সময়ে এমন খবরও প্রকাশিত হয়। ভারতে বাবরী মসজিদ ধ্বংস, ফারাক্কা বাঁধ, তাসলিমা নাসরীন, সরকারের ফতোয়া বিরোধী আইনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে আন্দোলনে আল্লামা শফি ছিলেন প্রথম সারিতে। ওই সময় মরহুম শায়খুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক-সহ (খেলাফত মজলিসের প্রতিষ্ঠাতা) শীর্ষস্থানীয় আলেমদের নেতৃত্বে বিভিন্ন ইসলামী সংগঠনও একযোগে আন্দোলন করে। গত বিএনপি সরকারের আমলেও কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণা, জামায়াতের প্রতিষ্টাতা মওদুদীর মতবাদের সব প্রকাশনা বন্ধসহ বিভিন্ন ইস্যুতে হেফাজতে ইসলাম আন্দোলন করেছে। অন্যান্য ইসলামী সংগঠনও এসব আন্দোলনে শরিক হয়। বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে মওদুদীবাদ বিরোধী বিভিন্ন বয়ানও দেন আল্লামা শফি। শুধু তা-ই নয়, তার মাদ্রাসার অনেক আলেম মওদুদীবাদ বিরোধী অনেক বইও লিখেছেন।