1 Answers

দুই সাহাবি হজরত মুগিস রা. এবং হজরত বারিরা রা. সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী ছিলেন। বিয়ের সময় হজরত বারিরা ছিলেন আরেকজনের দাসী। হজরত বারিরা রা. এর মনিব হয়তো তার অমতেই তাকে বিয়ে দিয়েছিলেন হজরত মুগিস রা. এর কাছে। বারিরা ছিলেন অত্যন্ত রূপসী। কিন্তু তার স্বামী মুগিস রা. এর গঠন-আকৃতি সুন্দর ছিল না। এরপরের কথা। উম্মুল মোমিনিন হজরত আয়েশা রা. এ দাসীকে কিনে আজাদ করে দিলেন। হজরত বারিরা যখন স্বাধীন হয়ে গেলেন, তখন ইসলামি শরিয়তের বিধানানুসারে তার বিয়েটি টিকিয়ে রাখার কিংবা ভেঙে দেওয়ার এখতিয়ার লাভ করলেন। এ এখতিয়ারের ভিত্তিতে তিনি তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক ভেঙে দেন। হজরত মুগিস রা. অনেক অনুনয়-কান্নাকাটি করেও বারিরার মন গলাতে পারেননি। অবশেষে রাসুলুল্লাহ সা. কে বললেন আপনি আমার জন্য সুপারিশ করুন। রাসুলুল্লাহ সা. হজরত বারিরা রা. কে তার সিদ্ধান্তটি প্রত্যাহার করতে সুপারিশ করলেন, তুমি যদি তাকে আবার গ্রহণ করে নিতে! সে যে তোমার সন্তানের বাবা! সদ্যমুক্তি পাওয়া এ নারী রাসুলুল্লাহ সা. কে প্রত্যুত্তরে যা বলেছিলেন, তাতেই তিনি ইতিহাস হয়ে থাকতে পারেন। তিনি বলেছিলেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! আপনি আমাকে এর আদেশ করছেন? (আপনার আদেশ যদি হয়, তাহলে আমার জন্য তা শিরোধার্য। আমার মতের সঙ্গে তা মিলুক আর না-ই মিলুক, আমি আপনার আদেশই মেনে নেব। কিন্তু যদি আদেশ না হয়, তাহলে ভিন্ন কথা)। রাসুলুল্লাহ সা. বললেন আমি শুধুই একজন সুপারিশকারী। (অর্থাৎ এটা তোমার প্রতি আমার আদেশ নয়, পরামর্শ ও অনুরোধ)। তখন হজরত বারিরা রা. বললেন, তাই যদি হয়, তাহলে তার কাছে আমার কোনো প্রয়োজন নেই। অর্থাৎ তাকে আবার গ্রহণ করে নেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়।
পরের ঘটনা:
মুগিস রা. এর সাথে বারিরা রা. এর আর বিবাহ হয় নি। সে অন্য একজনকে বিবাহ করে।

সূত্র: সুনানে আবু দাউদ, হা. ২২৩৩; সুনানে নাসাঈ, হা. ৫৪১৭; ফাতহুলবারী, ইবনু হাজার: ৮/৪৬৯
3004 views Answered

Related Questions

Next steps