'ঢাকা' শব্দের উৎপত্তি সম্পর্কে?
3 Answers
*#আপনি এখানে বা লিংকটি দেখুন।আশা করি উত্তর পাবেন। *#নিম্নে লিংকটি দেওয়া হলোঃ https://bn.m.wikipedia.org/wiki/ঢাকার_ইতিহাস *#এখান থেকেই আপনি সকলকিছু বিস্তারিত জানতে পারবেন।
কলহন রচিত ‘রাজতরঙ্গিনী’তে ‘ঢাক্কা’ শব্দের উল্লেখ আছে। ঢাক্কা অর্থ নৌ আক্রমণ প্রতিরোধের দুর্গ বা পাহারা-চৌকি। বাংলার প্রাচীন রাজধানী বিক্রমপুর ও সোনারগাঁও-এর তুলনায় ঢাকা উচ্চভূমি ছিল এবং তা পাহারা-চৌকি হিসেবে ব্যবহৃত হতো। ইসলাম খানের আগে থেকেই ঢাকায় মুগলদের নৌ-দুর্গ ছিল। কাজেই ঢাক্কা থেকে ঢাকা নামের উৎপত্তি সম্পর্কে কেউ কেউ যুক্তি দেখিয়েছেন। এই লেখকগণ তাঁদের বক্তব্যের সপক্ষে আরেকটি অতিরিক্ত যুক্তি খুঁজে পান প্রাকৃত ভাষায় প্রচলিত ‘ঢাকা ভাষা’ নামের মধ্যে।
১৫৫০ সালে জোয়াও ডি ব্যারোজ (Joao De Barros)-এর মানচিত্রে ঢাকার অবস্থান স্পষ্ট নির্দেশিত হয়েছে।
আইন-ই-আকবরীতে ঢাকার উল্লেখ পাওয়া যায় ‘ঢাকা বাজু’ হিসাবে। আকবরনামায় ‘ঢাকা বাজু’কে ‘সরকার বাজুহা’র অধীন একটি পরগণারূপে দেখানো হয়েছে। ‘আইন-ই-আকবরী’ রচনাকালে বাংলা ১৯টি সরকারে বিভক্ত ছিল। একেকটি সরকার কয়েকটি মহাল বা পরগনায় বিভক্ত ছিল। ‘আইন-ই-আকবরীতে’ সরকার বাজুহা ও সরকার সোনারগাঁও-এর পরিচয় জানা যায়। ‘আইন-ই-আকবরী’ রচিত হওয়ার পর এক শ’ বছরের বেশী সময় এই সরকারগুলো প্রশাসনিক একক হিসেবে বিদ্যমান ছিল।
ভাটি বাংলায় স্বাধীন বারো ভূইয়াদের বিরুদ্ধে সম্রাট আকবরের সেনাপতিদের অভিযান পরিচালনার জন্য ঢাকা বাজু ছিল ১৫৮৩ থেকে ১৬০৫ সাল পর্যন্ত একটি থানা বা দুর্গ। প্রফেসর আব্দুল করিমের মতে, মুগলদের একটি সামরিক গ্যারিসন নিয়ে তখনই ঢাকা একটি শহররূপে বেড়ে উঠছিল।
মুনশী রহমান আলী তায়েশ ১৯১০ সালে লেখা তার বইতে ঢাকা শহরের নামকরণের ব্যাপারে দু’টি পুরনো জনশ্রুতি উল্লেখ করেছেন ঃ
এক. ইসলাম খান শহর প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে এখানে এসে দেখেন যে, নদীর তীরে কিছু কৃষক এক ধরনের বন্য গাছের জঙ্গল কাটছে। তিনি তাদের কাছে এ জায়গার নাম জিজ্ঞাসা করেন। তারা মনে করেন যে, সম্ভবত ওই গাছের নাম জিজ্ঞাসা করছেন। তারা উত্তর দেন ‘ঢাক-কা’ অর্থাৎ ঢাকের গাছ (Butea Frondosa)। ইসলাম খান মনে করলেন যে, এ জায়গার নামই ঢাকা। তাই এ নাম লিখে নেন। পরে এ জায়গা ঢাকা নামে প্রসিদ্ধি লাভ করে।
দুই. ইসলাম খান শহরের উপযোগী মনে করে সাথিদের নিয়ে এখানে অবতরণ করেন। তখন নদীতীরে কিছু হিন্দু লোক ঢাক বাজিয়ে পুজা করছিল। ইসলাম খান শহরের সীমানা নির্দিষ্ট করার জন্য লোক পাঠিয়ে ঢাকীকে নিজের দিকে ডেকে আনেন। শহরের দক্ষিণ সীমানায় নদীতীরে দাঁড় করিয়ে ঢাক বাজাতে আদেশ করেন। পতাকা নিয়ে তিনজন লোক গেল পুবে, পশ্চিমে ও উত্তরে। ঢাকের শব্দ যে স্থানে পৌঁছে সেখানে তারা পতাকা পুঁতে দেয়। এ জায়গা তখন ছিল একেবারে মাঠ। তাই অনেক দূর পর্যন্ত ঢাকের আওয়াজ পৌঁছে এবং মাঝখানের জায়গার নাম রাখা হয় ঢাকা অর্থাৎ ঢাকের শব্দ শুনে সীমানা নির্ধারিত হওয়ায় শহরের নামে ঢাকা হলো।
কেউ কেউ অতি উৎসাহী হয়ে বলতে চেয়েছেন যে, ‘ঢাকা-ঈশ্বরী’ বা ঢাকেশ্বরী মন্দির থেকে ঢাকা। এন কে ভট্টশালীর মতে, ঢাকেশ্বরী থেকে ঢাকাÑ এটা একেবারে বেহুদা কথা। ইসলাম খানের সময় ঢাকের বাদ্য থেকে ঢাকা নামকরণ করার অনুমানও ধোপে টিকে না। কারণ, সুবাদার ইসলাম খান (১৬০৮-১৬১৩) ঢাকায় সুবা বাংলার রাজধানী স্থাপন করে মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীরের নাম অনুসারে ঢাকার নামকরণ করেন জাহাঙ্গীরনগর।
জাহাঙ্গীরনগর নামকরণের পরেও ঢাকা নামটি জনপ্রিয় থেকে যায়। মির্জা নাথন ‘বাহরিস্তান-ই-গায়েবী’ গ্রন্থে জাহাঙ্গীরনগর ও ঢাকা নাম দু’টি পাশাপাশি ব্যবহার করেছেন। পরবর্তীকালে ফার্সি ভাষায় রচিত কালানুক্রমিক ঘটনাপঞ্জি এবং মোগল দরবারের বিবরণী থেকে জানা যায়, মোগলরা প্রশাসনিক পরিমলে জাহাঙ্গীরনগর নামই ব্যবহার করতেন এর বাইরে সাধারণভাবে ঢাকা নামের ব্যবহার চালু ছিল। বিভিন্ন বিদেশী পরিব্রাজক এবং ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্মচারীরা তাঁদের দাপ্তরিক কাগজপত্রে ঢাকা নামই ব্যবহার করতেন।