স্মার্ট NID কার্ড?
2 Answers
স্মার্টকার্ডের আকৃতি পূর্বের কাগজের তৈরি লেমিনেটিং বিদ্যমান জাতীয় পরিচয় পত্রের মতোই। তবে জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে স্মার্ট কার্ডের বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে। প্লাস্টিক ও পলিমারের মিশ্রণে তৈরি করা হয়েছে স্মার্টকার্ড। ফলে কার্ডটি মজবুত ও দীর্ঘস্থায়ী হবে যা প্রায় ১০ বছর নষ্ট হবে না। স্মার্টকার্ডে রয়েছে একটি চিপ, যা মেশিনের সাহায্যে রিড করা যাবে। সেখানে নাগরিকের সব তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। স্মার্ট কার্ডের ডিজাইনে বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীকগুলো ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধ, জাতীয় পাখি, শাপলা ফুল, চা বাগান, স্মৃতিসৌধ ইত্যাদি। যেসব তথ্য থাকবে এই কার্ডে স্মার্টকার্ডে প্রত্যেক নাগরিকের বিস্তারিত তথ্য থাকবে। এগুলো হলো ব্যক্তির নাম, বাবার নাম, মায়ের নাম, পেশা, স্থায়ী ঠিকানা, বর্তমান ঠিকানা, বয়স, বৈবাহিক অবস্থা, জন্মতারিখ, রক্তের গ্রুপ, জন্ম নিবন্ধন সনদ, লিঙ্গ, জন্মস্থান, শিক্ষাগত যোগ্যতা, দৃশ্যমান শনাক্তকরণ চিহ্ন, ধর্ম। জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) স্মার্টকার্ডে থাকবে ১০ আঙুলের ছাপ ও চোখের মণির ছবি। এছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স, পাসপোর্ট নম্বর, আয়কর সনদ নম্বর, টেলিফোন ও মোবাইল নম্বর, মা-বাবার জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, স্বামী বা স্ত্রীর নাম ও পরিচয়পত্র নম্বর (থাকলে) এবং মা- বাবা, স্বামী বা স্ত্রী মৃত হলে সে- সংক্রান্ত তথ্য, অসামর্থ্য বা প্রতিবন্ধী হলে সেই তথ্যও উল্লেখ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আগের জাতীয় পরিচয় পত্রে বিবাহিত নারীদের ক্ষেত্রে পিতার নাম ব্যবহারের সুবিধা ছিলো না। এবার তা যুক্ত করা হয়েছে। নারীরা স্বামীর নামের পরিবর্তে চাইলে বাবার নাম যুক্তের সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। স্মার্টকার্ড যে কাজে লাগবে জাতীয় পরিচয়পত্র যে কাজ লাগতো সেই কাজগুলো করা যাবে স্মার্টকার্ডে। মূলত ২২ ধরনের সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র কাজে লাগবে। স্মার্টকার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স করা ও নবায়ন, ট্রেড লাইসেন্স করা, পাসপোর্ট করা ও নবায়ন, যানবাহন রেজিস্ট্রেশন, চাকরির আবেদন, বিমা স্কিমে অংশগ্রহণ, স্থাবর সম্পত্তি ক্রয়- বিক্রয়, বিয়ে ও তালাক রেজিস্ট্রেশন, ব্যাংক হিসাব খোলা, নির্বাচনে ভোটার শনাক্তকরণ, শেয়ার আবেদন ও বিও হিসাব খোলাসহ আরও নানা কাজে লাগবে।
২০টিরও বেশি নাগরিক সেবায় উন্নতমানের এই স্মার্ট কার্ডটি ব্যবহারের করা যাবে।
উল্লেখযোগ্য সুবিধা সমুহের মধ্যে রয়েছে-
১। আয়করুনদাতা শনাক্তকরুনণ,
২। ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রাপ্তি ও নবায়ন,
৩। পাসপোর্ট প্রাপ্তি ও নবায়ন,
৪। চাকরির জন্য আবেদন,
৫। স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি কেনাবেচা,
৬। ব্যাংক হিসাব খোলা ও ঋণকিস্তি,
৭। সরকারি বিভিন্ন ভাতা উত্তোলন,
৮। সরকারি ভর্তুকি-সহায়তা,
৯। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি,
১০। বিমানবন্দরে ই-গেট (আসা-যাওয়া) সুবিধা,
১১। শেয়ার আবেদন-বিও একাউন্ট খোলা,
১২। ট্রেডলাইসেন্স প্রাপ্তি
১৩। বিবাহ-তালাক রেজিস্ট্রেশন,
১৪। গ্যাস-পানি-বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়া,
১৫। মোবাইল-টেলিফোন সংযোগ নেওয়া,
১৬। বিভিন্ন ধরনের ই-টিকেটিং,
১৭। সিকিউরড ওয়েব লগ ইন,
১৮। ই-ফরম পূরণে নাগরিকের সঠিক ভাবে সংযোজন,
১৯। নির্ভুল তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংযোজন
২০। যানবাহন রেজিস্ট্রেশন সহ আরও অনেক নাগরিক সুবিধা আপনি উপভোগ করতে পারবেন।