1 Answers
বিজ্ঞানীরা বলছেন মহাকাশের শূন্যস্থানকে শূন্য বলা হলেও সেখানে আদতে নিরবচ্ছিন্ন শূন্যতা বিরাজ করে না। মহাশূন্যে থাকে গ্যাস আর ধূলিকণা, যাদের একত্রে আন্তঃনাক্ষত্রিক উপাদান (Interstellar Medium) বলে। এর শতকরা ৯৯ ভাগ গঠিত হয় গ্যাস দিয়ে। গ্যাসের শতকরা ৭৫ ভাগ হাইড্রোজেন আর ২৫ ভাগ হিলিয়াম। গ্যাসসমূহ চার্জ নিরপেক্ষ পরমাণু-অণু বা চার্জিত কণা (আয়ন বা ইলেকট্রন) উভয় হিসেবেই থাকে। এরা খুব হালকাভাবে ছড়ানো থাকে। এক ঘন সেন্টিমিটারে গ্যাসীয় মাধ্যমে গড়ে থাকে মাত্র একটি পরমাণু। সে তুলনায় পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের এক ঘন সেন্টিমিটারে প্রায় ত্রিশ কুইন্টিলিয়ন (৩×১০ˆ১৯ ) সংখ্যক অণু থাকে। আন্তঃনাক্ষত্রিক উপাদানগুলো যখন মহাকর্ষীয় সংবন্ধন (Gravitational Collapse)-এর মধ্য দিয়ে যায়, তখন নীহারিকা গঠিত হয়। মহাকর্ষীয় সংবন্ধন হচ্ছে এমন একটি অবস্থা, যখন আন্তঃনাক্ষত্রিক বস্তুগুলো নিজেদের আকর্ষণ বলের প্রভাবে পরস্পর একত্র হয়। এই প্রক্রিয়াতেই নক্ষত্র গঠিত হয়। আমাদের ছায়াপথের কালপুরুষ নীহারিকা এমনই একটি উদাহরণ। বেশিরভাগ নীহারিকাই অবিশ্বাস্য রকমের বড় হয়। এদের ব্যাস হয় কয়েক আলোক বর্ষ থেকে কয়েক হাজার আলোকবর্ষের সমান। আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে নীহারিকার ছবিও দেখা যায়। বর্ণিল সেসব ছবি দেখলে সৌন্দর্যে চোখ কপালে উঠে যায়। বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে থাকতে হয় নীহারিকার দিকে।