2 Answers
নেতাজী সুভাষচন্দ্র বোস ক্যানসার হাসপাতালের কর্ণধার এবং ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আশীষ মুখার্জী জানিয়েছেন, সফ্ট টিস্যু সার্কোমা এক বিশেষ ধরনের ক্যান্সার যা শরীরের বিশেষ কিছু টিস্যুতে জন্মায়। হাড়, মাংসপেশি, শরীরে জমে থাকা চর্বি, স্নায়ু, রক্তনালী, ফাইব্রোস টিস্যু অথবা ত্বকের গভীরে এই মারণ রোগের জন্ম হয়। বেশীরভাগ হাতে, পায়ে হতে পারে। আবার মাথায়, ঘাড়ে, শরীরের ভেতরে কোন অংগে, পেটের এই রোগের উৎপত্তি স্থান। সফ্ট টিস্যু সার্কোমা কোনও সাধারন ক্যান্সার নয়। সার্কোমা-র নাম যখন কোনও বিরল রোগের সঙ্গে মিলে যায় তখন বুঝতে হবে সেটা ম্যালিগন্যান্ট ক্যান্সার। প্রথম দিকে এটি একটি টিউমারের আকারেই থাকে, যার আয়তন ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়। এর ফলে আক্রান্তের শারীরিক যন্ত্রণাও বৃদ্ধি পেতে থাকে। সর্কোমা যদি হার্ট বা পাকস্থলীর কাছাকাছি হয় তবে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা দেখা দেয়। তলপেটে হলে পেট ব্যাথা সেই সঙ্গে পেটের পেশীতে টান পড়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয় এছাড়া সফ্ট টিস্যু সার্কোমা-য় আত্রান্ত হলে জ্বর, দুর্বলতা, রক্তবমি ইত্যাদি উপসর্গগুলিও দেখা যায়। সফ্ট টিস্যু সার্কোমা-র হওয়ার নির্দিষ্ট কোনও কারন নেই। তবে অনেকক্ষেত্রে জিনগত সম্পর্কিত ঘটনা দেখা গেছে। তবে স্পষ্টকরে একে জিনগত রোগ বলা যায় না। অনেকক্ষেত্রে আবার রেডিওথেরাপির সাইডএফেক্ট হিসেবে এই রোগে আত্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কম্পিউটেড টমোগ্রাফি, আলট্রাসাউন্ড, এমআরআই-এর সাহায্যে এই রোগ সনাক্ত করা যায়। এছাড়া বায়োপসির সাহায্যে টিউমারের টিস্যু পরীক্ষার ক্ষেত্রেও ক্যান্সারযুক্ত টিস্যু সনাক্ত করা যায়। সার্কোমা যদি অঙ্গপ্রতঙ্গে হয়ে থাতে তবে অস্ত্রোপচারের ফলে সেই অঙ্গহানির আশঙ্কা থাকে, তাই অনেক ক্ষেত্রেই অস্ত্রোপচার এড়িয়ে যান চিকিৎসকরা। অস্ত্রোপচারের সাহায্যে সার্কোমা আত্রান্ত টিউমার বাদ দেওয়ার আগে, রেডিয়েশনের আগে তার আকার ছোট করে নেওয়া হয়। সফ্ট টিস্যু সার্কোমার চিকিৎসার সিন্ধান্ত নেওয়া হয় রোগীর শারীরিক অবস্থা, টিউমারের আকার ও সফ্ট টিস্যু সার্কোমার ধরনের উপর ভিত্তি করে।
রাসায়নিক পরীক্ষাঃ রক্ত পরীক্ষা: রক্তরসে, LDH, প্রোটিন, ইলেক্ট্রোলাইট, ক্যালসিয়াম, অম্লতা এবং ক্ষারীয় ফসফাটেজ স্তর, এর জৈবরাসায়নিক নির্দেশক পরীক্ষণ এ রোগ নির্ণয়ে সহায়ক। ইমেজিং পরীক্ষা: ১। এক্সরে ফোটোগ্রাফ পরীক্ষা: এক্সরে ফটোগ্রাফ এর মাধ্যমে স্বচ্ছতা এবং সন্নিহিত হাড়ের সঙ্গে তার সম্পর্কের সুযোগ জানতে পারার জন্য সহায়ক। ২। সিটি বা MRI পরীক্ষা: স্ক্যানের মাধ্যমে সফট টিস্যুর বা মারাত্মক টিউমারের ভর অনুসন্ধান এবং এর পার্শ্ববর্তী কাঠামোর সঙ্গে সম্পর্ক নির্ধারণ করতে এই পরীক্ষা করা হয়। ৩। আলট্রা সনিক ইমেজিং পরীক্ষা: এই পরীক্ষা টিউমারের টিস্যুর ভিতরে তিউমারের ভলিউম পরিসীমা, খামের সীমা এবং ম্যালিগন্যান্ট তফাৎটা খুঁটিয়ে পরীক্ষা করতে ব্যবহার করা হয়। ৪। হাড় স্ক্যানে এবং দেহকলার মারাত্মক টিউমার সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করতে এটি করা হয়। ৫। Arteriography পরীক্ষা: মার্জিনাল অবস্থা নির্দেশ করতে এটি করা হয়। প্যাথলজিক পরীক্ষাঃ 1. Cytological পরীক্ষা: ① tumors ফেটে গেলে বের হয়ে আসা সফট টিস্যু থেকে মলা বা চাঁছনি অর্জন পদ্ধতি থেকে কোষ নিয়ে ক্যান্সার নিশ্চিতকরণের জন্য আণুবীক্ষণিক পরীক্ষা পরিচালনায় ব্যবহার করা হয় ; ②দেহকলার মারাত্মক টিউমার দ্বারা ঘটিত ascites জন্য বুকের নরম টিস্যু নেয়া হয় , এটা তাত্ক্ষনিক অপকেন্দ্র অধঃক্ষেপণ জন্য মাত্র-প্রাপ্ত তাজা specimens ব্যবহার করে পর্যবেক্ষন করা হয়; ③ মলা পরীক্ষা তুলনামূলকভাবে বড় এবং গভীর। এই tumor রেডিয়েশন অথবা কেমোথেরাপি দ্বারা চিকিৎসা করা হয় । ২। বায়োপ্সিঃ রোগনির্ণয়ের বা পরীক্ষার জন্য জীবদেহ থেকে কোষকলা কেটে বা চেঁচে নেওয়া হলে তা পরীক্ষণ করা হয় এই পদ্ধতিতে, সাধারনত সার্জারি কর্ম সম্পাদন করার জন্য গৃহীত হয় টিস্যুগুলো । অস্ত্রোপচার এবং একই সময়ে রোগনির্ণয়ের বা পরীক্ষার জন্য জীবদেহ থেকে কোষকলা কেটে বা চেঁচে নেওয়া হতে পারে ।