ফামান আজলামুমিম্মানিফ তার-‘আলাল্লা-হি কাযিবান আও কাযযাবা বিআ-য়া-তিহী উলাইকা ইয়ানা-লুহুম নাসীবুহুম মিনাল কিতা-বি হাত্তাইযা-জাআতহুম রুছুলুনা-ইয়াতাওয়াফফাওনাহুম ক-লূআইনামা-কুনতুম তাদ‘ঊনা মিন দূ নিল্লা-হি ক-লূদাললূ‘আন্না-ওয়া শাহিদূ‘আলাআনফুছিহিম আন্নাহুম ক-নূক-ফিরীন।উচ্চারণ
একথা সুস্পষ্ট, যে ব্যক্তি ডাহা মিথ্যা কথা বানিয়ে আল্লাহর কথা হিসেবে প্রচার করে অথবা আল্লাহর সত্য আয়াতসমূহকে মিথ্যা বলে তার চেয়ে বড় জালেম আর কে হবে? এ ধরনের লোকেরা নিজেদের তকদীরের লিখন অনুযায়ী তাদের অংশ পেতে থাকবে, ২৯ অবশেষে সেই সময় উপস্থিত হবে যখন আমার পাঠানো ফেরেশতারা তাদের প্রাণ হরণ করার জন্য তাদের কাছে এসে যাবে। সে সময় তারা (ফেরেশতারা) তাদেরকে জিজ্ঞেস করবে, বলো, এখন তোমাদের সেই মাবুদরা কোথায়, যাদেরকে তোমরা ডাকতে, আল্লাহকে বাদ দিয়ে? তারা বলবে, “সবাই আমাদের কাছ থেকে অন্তর্হিত হয়ে গেছে” এবং তারা নিজেরাই নিজেদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে যে, বাস্তবিক পক্ষেই তারা সত্য অস্বীকারকারী ছিল। তাফহীমুল কুরআন
সুতরাং (বল), তার চেয়ে বড় জালেম আর কে হবে, যে আল্লাহ সম্বন্ধে মিথ্যা রচনা করে অথবা তার আয়াতসমূহ প্রত্যাখ্যান করে? এরূপ লোকদের ভাগ্যে (রিযকের) যতটুকু অংশ লেখা আছে, তা তাদের নিকট (দুনিয়ার জীবনে) পৌঁছবেই। #%২৩%# অবশেষে যখন আমার প্রেরিত ফিরিশতাগণ তাদের রূহ কবজ করার জন্য তাদের নিকট আসবে তখন তারা বলবে, তারা কোথায়, আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে তোমরা ডাকতে? তারা বলবে, তারা আমাদের থেকে অন্তর্হিত হয়েছে এবং তারা নিজেরা নিজেদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে যে, আমরা কাফের ছিলাম। মুফতী তাকী উসমানী
যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর মিথ্যা আরোপ করে এবং তাঁর নিদর্শনসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে সে অপেক্ষা বড় যালিম আর কে হতে পারে? তাদের ‘আমলনামায় লিখিত নির্ধারিত অংশ তাদের নিকট পৌঁছবেই, পরিশেষে যখন আমার প্রেরিত মালাক/ফেরেশতা তাদের প্রাণ হরণের জন্য তাদের নিকট পৌঁছবে, তখন তারা (ফেরেশতারা) জিজ্ঞেস করবেঃ আল্লাহকে বাদ দিয়ে যাদেরকে তোমরা ডাকতে তারা কোথায়? তখন তারা উত্তরে বলবেঃ আমাদের হতে তারা উধাও হয়ে গেছে। আর নিজেরাই স্বীকারোক্তি করবে যে, তারা কাফির বা সত্য প্রত্যাখ্যানকারী ছিল।মুজিবুর রহমান
অতঃপর ঐ ব্যক্তির চাইতে অধিক জালেম কে, যে আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করে অথবা তার নির্দেশাবলীকে মিথ্যা বলে? তারা তাদের গ্রন্থে লিখিত অংশ পেয়ে যাবে। এমন কি, যখন তাদের কাছে আমার প্রেরিত ফেরশতারা প্রাণ নেওয়ার জন্যে পৌছে, তখন তারা বলে; তারা কোথায় গেল, যাদের কে তোমরা আল্লাহ ব্যতীত আহবান করতে? তারা উত্তর দেবেঃ আমাদের কাছ থেকে উধাও হয়ে গেছে, তারা নিজেদের সম্পর্কে স্বীকার করবে যে, তারা অবশ্যই কাফের ছিল।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
যে ব্যক্তি আল্লাহ্ সম্বন্ধে মিথ্যা রচনা করে কিংবা তাঁর নিদর্শনকে অস্বীকার করে তার অপেক্ষা বড় জালিম আর কে ? তাদের জন্যে যে হিস্সা লিপিবদ্ধ আছে তা তাদের নিকট পৌঁছবে। যতক্ষণ না আমার ফেরেশতাগণ জান কবজের জন্যে তাদের নিকট আসবে ও জিজ্ঞাসা করবে, ‘আল্লাহ্ ছাড়া যাদেরকে তোমরা ডাকতে তারা কোথায়?’ তারা বলবে, ‘তারা আমাদের নিকট হতে অন্তর্হিত হয়েছে’ এবং তারা স্বীকার করবে যে, তারা কাফির ছিল। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
সুতরাং তার চেয়ে কে অধিক যালিম, যে আল্লাহর উপর মিথ্যা অপবাদ রটায় কিংবা তাঁর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করে। তাদের ভাগ্যে লিখিত অংশ তাদের কাছে পৌঁছবে। অবশেষে যখন আমার ফেরেশতারা তাদের নিকট আসবে তাদের জান কবজ করতে, তখন তারা বলবে, ‘কোথায় তারা, আল্লাহ ছাড়া যাদেরকে তোমরা ডাকতে’? তারা বলবে, ‘তারা আমাদের থেকে হারিয়ে গিয়েছে’ এবং তারা নিজদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে যে, নিশ্চয় তারা ছিল কাফির।আল-বায়ান
তাত্থেকে বড় যালিম আর কে আছে যে আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যে রচনা করে অথবা তাঁর আয়াতগুলোকে অস্বীকার করে? কিতাবে লিখিত (দুনিয়াতে তাদের জন্য) নির্দিষ্ট অংশ তাদের কাছে পৌঁছবে, যে পর্যন্ত না আমার প্রেরিত ফেরেশতা তাদের জান কব্য করার জন্য তাদের কাছে আসবে। তারা (অর্থাৎ ফেরেশতারা) জিজ্ঞেস করবে, ‘আল্লাহ ছাড়া যাদেরকে তোমরা আহবান করতে তারা কোথায়’? তারা বলবে, ‘তারা আমাদের থেকে উধাও হয়ে গেছে’ আর তারা নিজেদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিবে যে তারা কাফির ছিল।তাইসিরুল
অতএব তার চাইতে কে বেশী অন্যায়কারী যে আল্লাহ্ সন্বন্ধে মিথ্যা রচনা করে অথবা তাঁর নির্দেশাবলী প্রত্যাখ্যান করে? এরাই, -- এদের কাছে পৌঁছুবে কিতাব থেকে তাদের ভাগ। শেষ পর্যন্ত যখন আমাদের দূতরা তাদের কাছে আসবে তখন তারা তাদের মৃত্যু ঘটাবে, তারা বলবে -- "কোথায় আছে তারা যাদের তোমরা আহ্বান করতে আল্লাহ্কে ছেড়ে দিয়ে?" তারা বলবে -- "তারা আমাদের থেকে চলে গেছে । আর তারা নিজেদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে যে তারা নিঃসন্দেহ অবিশ্বাসী ছিল।মাওলানা জহুরুল হক
২৯
অর্থাৎ দুনিয়ায় যতদিন তাদের অবকাশের মেয়াদ নির্ধারিত থাকবে ততদিন তারা এখানে থাকবে এবং যে ধরনের ভাল বা মন্দ জীবন যাপন করার কথা তাদের নসীবে লেখা থাকবে, সেই ধরনের জীবন তারা যাপন করবে।
এখানে পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে যে, দুনিয়ায় রিযক দেওয়ার জন্য আল্লাহ তাআলা মুমিন ও কাফেরের মধ্যে কোনও প্রভেদ করেননি। বরং প্রত্যেকের জন্য রিযকের একটা অংশ নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন, যা সর্বাবস্থায়ই তার কাছে পৌঁছবে, সে ঘোরতর কাফেরই হোক না কেন। সুতরাং দুনিয়ায় যদি কারও জীবিকার প্রাচুর্য লাভ হয়, তবে সে যেন মনে না করে, তার কর্মপন্থা আল্লাহ তাআলার পছন্দ, যেমন ওই কাফেরগণ মনে করছে। যখন মৃত্যু এসে উপস্থিত হবে, তখনই তারা প্রকৃত সত্য টের পাবে।
৩৭. সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহ সম্বন্ধে মিথ্যা রটনা করে কিংবা তার আয়াতসমূহে মিথ্যারোপ করে তার চেয়ে বড় যালিম আর কে? তাদের জন্য যে অংশ লেখা আছে তা তাদের কাছে পৌছবে।(১)। অবশেষে যখন আমাদের ফিরিশতাগণ তাদের জান কবজের জন্য তাদের কাছে আসবে, তখন তারা জিজ্ঞেস করবে, আল্লাহ্ ছাড়া যাদেরকে তোমরা ডাকতে(২) তারা কোথায়? তারা বলবে, তারা আমাদের কাছ থেকে উধাও হয়েছে এবং তারা নিজেদের বিপক্ষে সাক্ষ্য দেবে যে, নিশ্চয় তারা কাফের ছিল।
(১) অর্থাৎ তাদের শাস্তির যে পরিমাণ লেখা আছে তা তাদের কাছে পৌছবেই। (তাবারী) কাতাদা বলেন, দুনিয়াতে তারা যে আমল করেছে সেটার ফলাফল আখেরাতে তাদের কাছে পৌছবেই। (আত-তাফসীরুস সহীহ)
(২) অর্থাৎ আল্লাহকে বাদ দিয়ে যাদেরকে তোমরা ডাকতে, যাদের তোমরা ইবাদত করতে এখন তারা কোথায়? তারা কি তোমাদেরকে এখন সাহায্য করতে পারে না? তারা কি তোমাদেরকে এ বিপদ থেকে উদ্ধার করতে পারে না? তখন তারা স্বীকার করবে যে, আল্লাহ ছাড়া যাদেরকে তারা আহবান করত, যাদের ইবাদত করত, তারা সবাই তাদের কাছ থেকে হারিয়ে গেছে। এভাবে তারা তাদের নিজেদের বিপক্ষে সাক্ষী দিল যে, তারা মুশরিক ছিল, তাওহীদবাদী ছিল না। (মুয়াসসার)
(৩৭) যে ব্যক্তি আল্লাহ সম্বন্ধে মিথ্যা রচনা করে, কিংবা তাঁর নিদর্শনসমূহকে মিথ্যা মনে করে, তার অপেক্ষা বড় অত্যাচারী আর কে? তাদের ভাগ্যলিপিতে লিখিত নির্ধারিত অংশ তাদের নিকট পৌঁছবে।(1) পরিশেষে যখন আমার প্রেরিত (ফিরিশতা)রা প্রাণ হরণের জন্য তাদের নিকট আসবে ও জিজ্ঞাসা করবে, ‘আল্লাহ ছাড়া যাদেরকে তোমরা ডাকতে তারা কোথায়?’ তারা বলবে, ‘তারা উধাও হয়েছে।’ এবং তারা স্বীকার করবে যে, তারা অবিশ্বাসী ছিল।
(1) এর বিভিন্ন অর্থ বর্ণনা করা হয়েছে। একটি অর্থ আমল, রুযী এবং বয়স করা হয়েছে। অর্থাৎ, তাদের ভাগ্যে যে রুযী নির্ধারিত আছে তা পরিপূর্ণ করে নেওয়ার এবং যত বয়স নির্ধারিত আছে তা সম্পূর্ণ করার পর অবশেষে মৃত্যু বরণ করতেই হবে। প্রায় এই অর্থেরই আয়াত এটাও, {إِنَّ الَّذِينَ يَفْتَرُونَ عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ لا يُفْلِحُونَ، مَتَاعٌ فِي الدُّنْيَا ثُمَّ إِلَيْنَا مَرْجِعُهُمْ} অর্থাৎ, তুমি বলে দাও, যারা আল্লাহর উপর মিথ্যা রচনা করে, তারা সফলকাম হবে না। (ওদের জন্য) দুনিয়ায় কিছু সুখ-সম্ভোগ রয়েছে। তারপর আমারই দিকে তাদেরকে ফিরে আসতে হবে। (সূরা ইউনুসঃ ৬৯-৭০)