ফাদাল্লা- হুমা-বিগুরূরিন ফালাম্মা-যা-কাশশাজারতা বাদাত লাহুমা-ছাওআ-তুহুমাওয়া তাফিক-ইয়াখসিফা-নি ‘আলাইহিমা-মিওঁ ওয়া রকিল জান্নাতি ওয়া না-দাহুমা-রব্বুহুমা-আলাম আনহাকুমা-‘আন তিলকুমাশশাজারতি ওয়া আকুল্লাকুমা ইন্নাশশাইতা-না লাকুমা-‘আদুওউম মুবীন।উচ্চারণ
এভাবে প্রতারণা করে সে তাদের দু'জনকে ধীরে ধীরে নিজের পথে নিয়ে এলো। অবশেষে যখন তারা সেই গাছের ফল আস্বাদন করলো, তাদের লজ্জা স্থান পরস্পরের সামনে খুলে গেলো এবং তারা নিজেদের শরীর ঢাকতে লাগলো জান্নাতের পাতা দিয়ে। তখন তাদের রব তাদেরকে ডেকে বললোঃ “আমি কি তোমাদের এ গাছটির কাছে যেতে নিষেধ করিনি এবং তোমাদের বলিনি যে, শয়তান তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু?” তাফহীমুল কুরআন
এভাবে সে উভয়কে ধোঁকা দিয়ে নিচে নামিয়ে দিল। #%১১%# সুতরাং যখন তারা সে গাছের স্বাদ গ্রহণ করল, তখন তাদের উভয়ের লজ্জাস্থান উভয়ের কাছে প্রকাশ হয়ে গেল। অনন্তর তারা জান্নাতের কিছু পাতা (জোড়া দিয়ে) নিজেদের শরীরে জড়াতে লাগল। #%১২%# তখন তাদের প্রতিপালক তাদেরকে ডেকে বললেন, আমি কি তোমাদেরকে এ গাছ থেকে বারণ করিনি এবং তোমাদেরকে বলিনি, শয়তান তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু?মুফতী তাকী উসমানী
অতঃপর সে (শাইতান) তাদের উভয়কে বিভ্রান্ত করল। যখন তারা সেই নিষিদ্ধ গাছের ফলের স্বাদ গ্রহণ করল তখন তাদের লজ্জাস্থান তাদের কাছে প্রকাশ হয়ে পড়ল এবং তারা বাগানের বৃক্ষপত্র দ্বারা নিজেদেরকে আবৃত করতে লাগল। তাদের রাব্ব তাদেরকে সম্বোধন করে বললেনঃ আমি কি এই বৃক্ষ সম্পর্কে তোমাদেরকে নিষেধ করিনি এবং বলিনি যে, শাইতান তোমাদের প্রকাশ্য শক্র?মুজিবুর রহমান
অতঃপর প্রতারণাপূর্বক তাদেরকে সম্মত করে ফেলল। অনন্তর যখন তারা বৃক্ষ আস্বাদন করল, তখন তাদের লজ্জাস্থান তাদের সামনে খুলে গেল এবং তারা নিজের উপর বেহেশতের পাতা জড়াতে লাগল। তাদের প্রতিপালক তাদেরকে ডেকে বললেনঃ আমি কি তোমাদেরকে এ বৃক্ষ থেকে নিষেধ করিনি এবং বলিনি যে, শয়তান তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
এভাবে সে তাদেরকে প্রবঞ্চনা দিয়ে অধঃপতিত করল। তারপর যখন তারা সেই বৃক্ষ-ফলের আস্বাদ গ্রহণ করল, তখন তাদের লজ্জাস্থান তাদের নিকট প্রকাশ হয়ে পড়ল এবং তারা জান্নাতের পাতা দিয়ে নিজেদেরকে আবৃত করতে লাগল। তখন তাদের প্রতিপালক তাদেরকে সম্বোধন করে বললেন, ‘আমি কি তোমাদেরকে এ বৃক্ষের নিকটবর্তী হতে বারণ করি নাই আর আমি কি তোমাদেরকে বলি নাই যে, শয়তান তো তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু ?’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
অতঃপর সে তাদেরকে প্রতারণার মাধ্যমে পদস্খলিত করল। তাই তারা যখন গাছটির ফল আস্বাদন করল, তাদের সামনে তাদের লজ্জাস্থান প্রকাশিত হয়ে গেল। আর তারা জান্নাতের পাতা দিয়ে নিজদেরকে ঢাকতে লাগল এবং তাদের রব তাদেরকে ডাকলেন যে, ‘আমি কি তোমাদেরকে ঐ গাছটি থেকে নিষেধ করিনি এবং তোমাদেরকে বলিনি যে নিশ্চয় শয়তান তোমাদের জন্য স্পষ্ট শত্রু’?আল-বায়ান
এভাবে সে ধোঁকা দিয়ে তাদের অধঃপতন ঘটিয়ে দিল। যখন তারা গাছের ফলের স্বাদ নিল, তখন তাদের গোপনীয় স্থান পরস্পরের নিকট প্রকাশিত হয়ে গেল, তারা জান্নাতের পাতা দিয়ে নিজেদেরকে ঢাকতে লাগল। তখন তাদের প্রতিপালক তাদেরকে ডেকে বললেন, ‘আমি কি তোমাদেরকে এ গাছের কাছে যেতে নিষেধ করিনি আর বলিনি- শয়ত্বান হচ্ছে তোমাদের উভয়ের খোলাখুলি দুশমন?’তাইসিরুল
এভাবে সে তাদের বিপথে চালালো প্রতারণার দ্বারা, অতঃপর তারা যখন বৃক্ষের আস্বাদ গ্রহণ করলো, তখন তাদের লজ্জা তাদের কাছে প্রকাশ পেলো, আর তারা তাদের আবৃত করতে লাগলো সেই বাগানের পাতা দিয়ে। আর তাদের প্রভু তাদের ডেকে বললেন -- "আমি কি তোমাদের নিষেধ করি নি ঐ বৃক্ষ সন্বন্ধে, আর তোমাদের তো আমি বলেইছি যে শয়তান তোমাদের জন্য প্রকাশ্য শত্রু?"মাওলানা জহুরুল হক
নিচে নামানোর এক অর্থ হতে পারে, তারা আনুগত্যের যে উচ্চ স্তরে ছিলেন, তা থেকে নিচে নামিয়ে দিল। আর এ অর্থও হতে পারে যে, তাদেরকে জান্নাত থেকে দুনিয়ায় নামিয়ে দিল।
২২. অতঃপর সে তাদেরকে প্রবঞ্চনার দ্বার অধঃপতিত করল। এরপর যখন তার সে গাছের ফল খেল, তখন তাদের লজ্জাস্থান তাদের কাছে প্রকাশ হয়ে পড়ল এবং তারা জান্নাতের পাতা দিয়ে নিজেদেরকে আবৃত করতে লাগল। তখন তাদের রব তাদেরকে ডেকে বললেন, আমি কি তোমাদেরকে এ গাছ থেকে নিষেধ করিনি এবং আমি কি তোমাদেরকে বলিনি যে, নিশ্চয় শয়তান তোমাদের উভয়ের প্রকাশ্য শত্রু।
(২২) এভাবে সে তাদেরকে ধোঁকা দিয়ে নিচে নামিয়ে দিল।(1) অতঃপর যখন তারা সেই বৃক্ষের আস্বাদ গ্রহণ করল, তখন তাদের লজ্জাস্থান তাদের নিকট প্রকাশ হয়ে পড়ল এবং তারা উদ্যানের পত্র দ্বারা নিজেদেরকে আবৃত করতে লাগল।(2) তখন তাদের প্রতিপালক তাদেরকে সম্বোধন করে বললেন, ‘আমি কি তোমাদেরকে এ বৃক্ষ সম্বন্ধে সাবধান করিনি এবং শয়তান যে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু, তা আমি কি তোমাদেরকে বলিনি?’(3)
(1) تَدْلِيَةٌ এবং إِدْلاَءٌ এর অর্থ হল, কোন জিনিসকে উপর থেকে নীচে ছেড়ে দেওয়া। অর্থাৎ, শয়তান তাঁদেরকে সুউচ্চ স্থান থেকে নামিয়ে নিষিদ্ধ গাছের ফল খাওয়া পর্যন্ত নিয়ে এল।
(2) এ হল সেই অবাধ্যাচরণের প্রতিক্রিয়া, যা আদম ও হাওয়া (আলাইহিমাস সালাম) দ্বারা অজানা ও অনিচ্ছা সত্ত্বেও হয়ে যায় এবং লজ্জায় তাঁরা উভয়েই জান্নাতের কিছু পাতা একে অপরের সাথে জোড়া দিয়ে নিজেদের লজ্জাস্থান ঢাকতে শুরু করেন। অহাব ইবনে মুনাব্বিহ বলেন, এর পূর্বে তাঁরা আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে এমন এক নূরানী (জ্যোতির) পোশাক পেয়েছিলেন, যা যদিও দৃষ্টিগোচর হত না, তবুও অপরের দৃষ্টি থেকে লজ্জাস্থান আবৃত রাখত। (ইবনে কাসীর)
(3) অর্থাৎ, এই সতর্কবাণী সত্ত্বেও তোমরা শয়তানের কুমন্ত্রণার শিকার হয়ে গেলে। এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, শয়তানের জাল এত সুন্দর এবং চিত্তাকর্ষক যে, তা থেকে বাঁচার জন্য বড় প্রচেষ্টা ও মেহনত করা এবং সব সময় তার ব্যাপারে সতর্ক ও হুঁশিয়ার থাকার প্রয়োজন হয়।