فَوَسۡوَسَ لَهُمَا ٱلشَّيۡطَٰنُ لِيُبۡدِيَ لَهُمَا مَا وُۥرِيَ عَنۡهُمَا مِن سَوۡءَٰتِهِمَا وَقَالَ مَا نَهَىٰكُمَا رَبُّكُمَا عَنۡ هَٰذِهِ ٱلشَّجَرَةِ إِلَّآ أَن تَكُونَا مَلَكَيۡنِ أَوۡ تَكُونَا مِنَ ٱلۡخَٰلِدِينَ

ফাওয়াছওয়াছা লাহুমাশশাইতা-নু লিইউবদিয়া লাহুমা-মাঊরিয়া ‘আনহুমা-মিন ছাওআতিহিমা-ওয়া ক-লা মা-নাহা-কুমা-রব্বুকুমা ‘আন হা-যিহিশশাজারতি ইল্লাআন তাকূনামালাকাইনি আও তাকূনা-মিনাল খা-লিদীন।উচ্চারণ

তারপর তাদের লজ্জাস্থান, যা তাদের পরস্পর থেকে গোপন রাখা হয়েছিল, তাদের সামনে উন্মুক্ত করে দেবার জন্য শয়তান তাদেরকে কুমন্ত্রণা দিল। সে তাদেরকে বললোঃ “তোমাদের রব যে, তোমাদের এ গাছটির কাছে যেতে নিষেধ করেছেন তার পেছনে এছাড়া আর কোন কারণই নেই যে, পাছে তোমরা ফেরেশতা হয়ে যাও অথবা তোমরা চিরন্তন জীবনের অধিকারী হয়ে পড়ো।” তাফহীমুল কুরআন

অতঃপর (এই ঘটল যে,) শয়তান তাদের অন্তরে কুমন্ত্রণা দিল, যাতে তাদের লজ্জাস্থান, যা তাদের থেকে গোপন রাখা হয়েছিল, তাদের পরস্পরের সামনে প্রকাশ করতে পারে। সে বলতে লাগল, তোমাদের প্রতিপালক অন্য কোনও কারণে নয়; বরং কেবল এ কারণেই এই গাছ থেকে তোমাদেরকে বারণ করেছিলেন, পাছে তোমরা ফিরিশতা হয়ে যাও কিংবা তোমরা স্থায়ী জীবন লাভ কর। #%১০%#মুফতী তাকী উসমানী

অতঃপর তাদের লজ্জাস্থান যা পরস্পরের কাছে গোপন রাখা হয়েছিল তা প্রকাশ করার জন্য শাইতান তাদেরকে কুমন্ত্রণা দিল, সে বললঃ তোমাদের রাব্ব এই বৃক্ষের কাছে যেতে নিষেধ করেছেন, এর কারণ এ ছাড়া কিছুই নয় যে, তোমরা যেন মালাইকা/ফেরেশতা হয়ে না যাও, অথবা এখানে (এই জান্নাতে) চিরন্তন জীবন লাভ করতে না পার।মুজিবুর রহমান

অতঃপর শয়তান উভয়কে প্ররোচিত করল, যাতে তাদের অঙ্গ, যা তাদের কাছে গোপন ছিল, তাদের সামনে প্রকাশ করে দেয়। সে বললঃ তোমাদের পালনকর্তা তোমাদেরকে এ বৃক্ষ থেকে নিষেধ করেননি; তবে তা এ কারণে যে, তোমরা না আবার ফেরেশতা হয়ে যাও-কিংবা হয়ে যাও চিরকাল বসবাসকারী।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এবারে তাদের লজ্জাস্থান, যা তাদের নিকট গোপন রাখা হয়েছিল তা তাদের কাছে প্রকাশ করার জন্যে শয়তান তাদেরকে কুমন্ত্রণা দিল আর বলল, ‘পাছে তোমরা উভয়ে ফিরিশতা হয়ে যাও কিংবা তোমরা স্থায়ী হও এইজন্যেই তোমাদের প্রতিপালক এ বৃক্ষ সম্বন্ধে তোমাদেরকে নিষেধ করেছেন।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর শয়তান তাদেরকে প্ররোচনা দিল, যাতে সে তাদের জন্য প্রকাশ করে দেয় তাদের লজ্জাস্থান, যা তাদের থেকে গোপন করা হয়েছিল এবং সে বলল, ‘তোমাদের রব তোমাদেরকে কেবল এ জন্য এ গাছ থেকে নিষেধ করেছেন যে, (খেলে) তোমরা ফেরেশতা হয়ে যাবে অথবা তোমরা চিরস্থায়ীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে’।আল-বায়ান

অতঃপর শয়ত্বান তাদেরকে কুমন্ত্রণা দিল তাদের লজ্জাস্থান প্রকাশ করার জন্য যা তাদের পরস্পরের নিকট গোপন রাখা হয়েছিল; আর বলল, ‘তোমাদেরকে তোমাদের রবব এ গাছের নিকটবর্তী হতে যে নিষেধ করেছেন তার কারণ এছাড়া আর কিছুই নয় যে (নিকটবর্তী হলে) তোমরা দু’জন ফেরেশতা হয়ে যাবে কিংবা (জান্নাতে) স্থায়ী হয়ে যাবে।’তাইসিরুল

তারপর শয়তান তাদের কুমন্ত্রণা দিলে যেন সে তাদের কাছে প্রকাশ করতে পারে তাদের লজ্জার বিষয়ের যা তাদের কাছে গোপন ছিল, তাই সে বললে -- "তোমাদের প্রভু এই গাছের থেকে তোমাদের নিষেধ করেন নি এই জন্য ছাড়া যে তোমরা ফিরিশ্‌তা হয়ে যাবে কিংবা তোমরা হবে চিরজীবীদের অন্তর্ভুক্ত।"মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

বাহ্যত বোঝা যায়, সে গাছের একটা বৈশিষ্ট্য ছিল এই যে, তার ফল খেলে জান্নাতের পোশাক খুলে যেত এবং এ কথা ইবলীসের জানা ছিল। সুতরাং যখন হযরত আদম ও হাওয়া আলাইহিমাস সালাম সে ফল খেলেন, তখন তাদের শরীর থেকে জান্নাতী পোশাক খুলে গেল।

তাফসীরে জাকারিয়া

২০. তারপর তাদের লজ্জাস্থান, যা তাদের কাছে গোপন রাখা হয়েছিল তা তাদের কাছে প্রকাশ করার জন্য শয়তান তাদেরকে কুমন্ত্রণা দিল এবং বলল, পাছে তোমরা উভয়ে ফিরিশতা হয়ে যাও কিংবা তোমরা স্থায়ীদের অন্তর্ভুক্ত হও, এ জন্যেই তোমাদের রব এ গাছ থেকে তোমাদেরকে নিষেধ করেছেন।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(২০) অতঃপর তাদের লজ্জাস্থান, যা গোপন রাখা হয়েছিল তা প্রকাশ করার জন্য(1) শয়তান তাদের কুমন্ত্রণা দিল(2) এবং বলল, ‘পাছে তোমরা উভয়ে ফিরিশতা হয়ে যাও কিংবা তোমরা (জান্নাতে) চিরস্থায়ী হও, এ জন্যই তোমাদের প্রতিপালক এ বৃক্ষ সম্বন্ধে তোমাদেরকে নিষেধ করেছেন।’

(1) আদম ও হাওয়া (আলাইহিমাস সালাম)-কে এই ভ্রষ্ট করার পিছনে শয়তানের উদ্দেশ্য ছিল, তাদেরকে সেই জান্নাতী পোশাক থেকে বঞ্চিত করে লজ্জিত করা, যা তাদেরকে জান্নাতে পরার জন্য দেওয়া হয়েছিল। سَوْآتٌ হল سَوْءَةٌ (লজ্জাস্থান)এর বহুবচন। লজ্জাস্থানকে سَوْءَةٌ বলে এই জন্য আখ্যায়িত করা হয়েছে যে, তা প্রকাশ হয়ে পড়াকে খারাপ মনে করা হয়।

(2) وَسْوَسَةٌ এবং وِسْوَاسٌ হল, زَلْزَلَةٌ এবং زِلْزَالٌ এর ওজনে। অস্পষ্ট শব্দ এবং মনের কথাকে অসঅসা বলে। শয়তান অন্তরে যে নোংরা কথা ভরে (কুমন্ত্রণা দেয়) তাকেই ‘অসঅসা’ বলা হয়।