ওয়া মান খাফফাত মাওআ-ঝীনুহূফাউলাইকাল্লাযীনা খাছিরূআনফুছাহুম বিমা-ক-নূ বিআ-য়া-তিনা-ইয়াজলিমূন।উচ্চারণ
যাদের পাল্লা ভারী হবে তারাই হবে সফলকাম এবং যাদের পাল্লা হালকা হবে তারা নিজেরাই হবে নিজেদের ক্ষতি সাধনকারী। ৯ কারণ তারা আমার আয়াতের সাথে জালেম সুলভ আচরণ চালিয়ে গিয়েছিল। তাফহীমুল কুরআন
আর যাদের পাল্লা হালকা হবে, তারাই তো সেই সব লোক, যারা আমার আয়াতসমূহের ব্যাপারে সীমালংঘন করে নিজেদেরকেই ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। মুফতী তাকী উসমানী
আর যাদের পাল্লা হালকা হবে, তারা হবে সেই সব লোক যারা নিজেদের ধ্বংস ও ক্ষতি নিজেরাই করেছে। কেননা তারা আমার নিদর্শনসমূহকে (আয়াত) প্রত্যাখ্যান করত।মুজিবুর রহমান
এবং যাদের পাল্লা হাল্কা হবে, তারাই এমন হবে, যারা নিজেদের ক্ষতি করেছে। কেননা, তারা আমার আয়াত সমূহ অস্বীকার করতো।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
আর যাদের পাল্লা হালকা হবে তারাই নিজেদের ক্ষতি করেছে, যেহেতু তারা আমার নিদর্শনসমূহকে প্রত্যাখ্যান করত। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর যাদের পাল্লা হালকা হবে, তারাই হবে সেই সব লোক, যারা নিজদেরকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। কারণ তারা আমার আয়াতসমূহের প্রতি (অস্বীকার করার মাধ্যমে) যুলম করত।আল-বায়ান
যাদের পাল্লা হালকা হবে তারা হল যারা নিজেদেরকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, কারণ তারা আমার নিদর্শনসমূহকে প্রত্যাখ্যান করেছিল।তাইসিরুল
আর যার পাল্লা হাল্কা হবে এরাই তবে তারা যারা তাদের আত্মার ক্ষতি সাধন করেছে, কেননা তারা আমাদের নির্দেশাবলীর প্রতি অন্যায় করেছিল।মাওলানা জহুরুল হক
৯
এ বিষয়টিকে এভাবে বিশ্লেষণ করা যেতে পারে যে, মানুষের জীবনের সমগ্র কার্যাবলী দু’টি অংশে বিভক্ত হবে। একটি ইতিবাচক বা সৎ কাজ এবং অন্যটি নেতিবাচক বা অসৎ কাজ। ইতিবাচক অংশের অন্তর্ভুক্ত হবে সত্যকে জানা ও মেনে নেয়া এবং সত্যের অনুসরণ করে সত্যের খাতিরে কাজ করা। আখেরাতে একমাত্র এটিই হবে ওজনদার, ভারী ও মূল্যবান। অন্যদিকে সত্য থেকে গাফিল হয়ে অথবা সত্য থেকে বিচ্যূত হয়ে মানুষ নিজের নফস-প্রবৃত্তি বা অন্য মানুষের ও শয়তানের অনুসরণ করে অসত্য পথে যা কিছুই করে, তা সবই নেতিবাচক অংশে স্থান লাভ করবে। আর এ নেতিবাচক অংশটি কেবল যে, মূল্যহীনই হবে তাই নয় বরং এটি মানুষের ইতিবাচক অংশের মর্যাদাও কমিয়ে দেবে।
কাজেই মানুষের জীবনের সমুদয় কার্যাবলীর ভাল অংশ যদি তার মন্দ অংশের ওপর বিজয় লাভ করে এবং ক্ষতিপূরণ হিসেবে অনেক কিছু দেবার পরও তার হিসেবে কিছু না কিছু অবশিষ্ট থাকে, তবেই আখেরাতে তার সাফল্য লাভ করা সম্ভব। আর যে ব্যক্তির জীবনের মন্দ কাজ সমস্ত ভাল কাজকে মূল্যহীন করে দেবে তার অবস্থা হবে সেই দেউলিয়া ব্যবসায়ীর মত যার সমুদয় পুঁজি ক্ষতিপূরণ ও দাবী পূরণ করতে করতেই শেষ হয়ে যায় এবং এরপরও কিছু কিছু দাবী তার জিম্মায় অনাদায়ী থেকে যায়।
আমল ওজন করার অর্থ কেউ বলেছেন আমলনামা ওজন করা। কেউ বলেন, কিয়ামতের দিন আমলকে বস্তুর রূপ দান করা হবে, তারপর তা ওজন করা হবে। কারও মতে ওজন করা হবে আমলকারী ব্যক্তিকে। কিন্তু এতসব ব্যাখ্যার আশ্রয় নেওয়ার কোন প্রয়োজন নেই। কেননা খোদ আমলকেই যদি ওজন করা হয়, তাতে আশ্চর্যের কি আছে? আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে যখন শীত, তাপ, বাতাস ও শব্দকে পর্যন্ত পরিমাপ করা যাচ্ছে, তখন আহকামুল-হাকিমীনের আদালতে আমলের পরিমাপ করাটা তো কোন ব্যাপারই নয়। যিনি হও বললে সব হয়ে যায় এবং যার ‘হও’-এর কল্যাণে সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম সৃষ্টি থেকে মহাস্থূল মহাজগত পর্যন্ত অস্তিত্ব লাভ করেছে, তার সকাশে কঠিন ও অসম্ভব বলতে কিছু নেই। -অনুবাদক
৯. আর যাদের পাল্লা হালকা হবে, তারাই সে সব লোক, যারা নিজেদের ক্ষতি করেছে(১), যেহেতু তারা আমাদের আয়াতসমূহের প্রতি যুলুম করত।
(১) এখানে ক্ষতি বলতে কি তা বলা হয়নি। অন্য আয়াতে সেটা স্পষ্ট করে দেয়া হয়েছে। আল্লাহ বলেন, “আর যার পাল্লাসমূহ হালকা হবে, তার স্থান হবে ‘হা-ওয়িয়াহ’, আর আপনাকে কিসে জানাবে সেটা কী? অত্যন্ত উত্তপ্ত আগুন।” (সূরা আল-কারি'আহ: ৮–১১) আরও বলেন, “আর যাদের পাল্লা হালকা হবে তারাই নিজেদের ক্ষতি করেছে; তারা জাহান্নামে স্থায়ী হবে। আগুন তাদের মুখমণ্ডল দগ্ধ করবে এবং তারা সেখানে থাকবে বীভৎস চেহারায়। (সূরা আল-মুমিনুন: ১০৩–১০৪)
(৯) আর যাদের ওজন হালকা হবে, তারাই নিজেদের ক্ষতি করেছে, যেহেতু তারা আমার নিদর্শনাবলীকে প্রত্যাখ্যান করত। (1)
(1) এই আয়াতসমূহে আমলসমূহ ওজন করার বিষয় বর্ণনা করা হয়েছে। আর এটা হবে কিয়ামতের দিন। কুরআন কারীমের বিভিন্ন স্থানে এবং বহু হাদীসেও এ কথা আলোচিত হয়েছে। যার অর্থ হল, ওজন করার যন্ত্র (দাঁড়িপাল্লা) দ্বারা আমলসমূহ ওজন করা হবে। সুতরাং যার নেকীর পাল্লা ভারী হবে, সে সফলকাম হবে। আর যার পাপের পাল্লা ভারী হবে, সে হবে অসফল। কিন্তু আমলসমূহ তো বিমূর্ত অশরীরী বস্তু যার বাহ্যিক কোন আকার ও ওজন নেই, অতএব তা কিভাবে ওজন করা হবে? এ ব্যাপারে একটি মত হল, মহান আল্লাহ কিয়ামতের দিন সেগুলোকে বাহ্যিক রূপ দান করবেন, অতঃপর সেগুলোর ওজন হবে। দ্বিতীয় মত হল, যে দপ্তর ও খাতাসমূহে আমলসমূহ লিপিবদ্ধ করা হয়, সেগুলোকে ওজন করা হবে। তৃতীয় মত হল, স্বয়ং আমলকারীকে ওজন করা হবে। এই তিনটি মত পোষণকারীদের কাছে স্ব স্ব মতের সমর্থনে অনেক সহীহ হাদীস ও আষার (সাহাবীদের উক্তিসমূহ) বিদ্যমান রয়েছে। এই জন্যই ইমাম ইবনে কাসীর বলেন, তিনটি মতই সঠিক হতে পারে। হতে পারে কখনো আমল, কখনো আমলনামা এবং কখনো আমলকারীকে ওজন করা হবে। (দলীলের জন্য দ্রষ্টব্যঃ তাফসীর ইবনে কাসীর) যাই হোক, দাঁড়িপাল্লা ও আমল ওজন করার ব্যাপারটা কুরআন ও হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। এটা অস্বীকার অথবা তার অপব্যাখ্যা করা ভ্রষ্টতা। আর বর্তমানে তো এটাকে অস্বীকার করার মোটেই কোন অবকাশ নেই। কেননা, এখন তো ওজন হয় না, এমন জিনিসও ওজন করা হচ্ছে।