فَلَنَقُصَّنَّ عَلَيۡهِم بِعِلۡمٖۖ وَمَا كُنَّا غَآئِبِينَ

ফালানাকুসসান্না ‘আলাইহিম বি‘ইলমিওঁ ওয়ামা-কুন্না-গাইবীন।উচ্চারণ

তারপর আমি নিজেই পূর্ণ জ্ঞান সহকারে সমুদয় কার্যবিবরণী তাদের সামনে পেশ করবো। আমি তো আর সেখানে অনুপস্থিত ছিলাম না! তাফহীমুল কুরআন

অতঃপর আমি স্বয়ং তাদের সামনে নিজ জ্ঞানের ভিত্তিতে (যাবতীয় ঘটনা) বর্ণনা করব। (কেননা) আমি তো (সে সব ঘটনাকালে) অনুপস্থিত ছিলাম না। মুফতী তাকী উসমানী

তখন আমি তাদের সমস্ত বিবরণ অকপটে প্রকাশ করে দিব, যেহেতু আমি পূর্ণরূপে জ্ঞাত আছি, আর আমিতো কোন কালে বেখবর ছিলামনা।মুজিবুর রহমান

অতঃপর আমি স্বজ্ঞানে তাদের কাছে অবস্থা বর্ণনা করব। বস্তুতঃ আমি অনুপস্থিত তো ছিলাম না।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তারপর তাদের নিকট পূর্ণ জ্ঞানের সঙ্গে তাদের কার্যাবলী বিবৃত করবই, আর আমি তো অনুপস্থিত ছিলাম না। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর অবশ্যই আমি তাদের নিকট জ্ঞানের ভিত্তিতে বর্ণনা করব। আর আমি তো অনুপস্থিত ছিলাম না।আল-বায়ান

অতঃপর পরিপূর্ণ জ্ঞানের ভিত্তিতে তাদের নিকট তাদের সমস্ত কাহিনী অবশ্যই জানিয়ে দেব, কেননা আমি তো মোটেই অনুপস্থিত ছিলাম না।তাইসিরুল

তখন আমরা নিশ্চয়ই তাদের কাছে বর্ণনা করবো জ্ঞানের সাথে, আর আমরা তো অনুপস্থিত ছিলাম না।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

অর্থাৎ তারা প্রকাশ্যে ও গোপনে ক্ষুদ্র-বৃহৎ যা কিছু বলে ও করে, তার কিছুই আমার অগোচরে থাকে না। সর্বাবস্থায়ই আমি তাদের কাছে হাজির থাকি এবং সবকিছু প্রত্যক্ষ করি। আমার নিযুক্ত ফিরিশতাগণও সব কিছু লিপিবদ্ধ করে রাখছে। কিয়ামতের দিন আমি তা তাদেরকে যথাযথভাবে অবহিত করব এবং তাদের সামনে রেজিস্ট্রার খুলে দেব। সেদিন তারা তা দেখে হতভম্ব হয়ে যাবে। সুতরাং তারা হুঁশিয়ার হয়ে যাক। -অনুবাদক

তাফসীরে জাকারিয়া

৭. অতঃপর অবশ্যই আমরা তাদের কাছে পূর্ণ জ্ঞানের সাথে তাদের কাজগুলো বিবৃত করব, আর আমরা তো অনুপস্থিত ছিলাম না।(১)

(১) আল্লাহ তা'আলা এ আয়াতে বলছেন যে, তিনি তার বান্দারা ছোট, বড়, গুরুত্বপূর্ণ, গুরুত্বহীন যা করত বা বলত সবকিছু সম্পর্কে কিয়ামতের মাঠে বিস্তারিত জানাবেন। তিনি বেখবর নন। বরং তিনি চোখের খিয়ানত ও অন্তরের গোপন ভেদ সম্পর্কেও অবগত। আল্লাহ বলেন, “তার অজানায় একটি পাতাও পড়ে না। মাটির অন্ধকারে এমন কোন শস্যকণাও অংকুরিত হয় না বা রসযুক্ত কিংবা শুষ্ক এমন কোন বস্তু নেই যা সুস্পষ্ট কিতাবে নেই (সূরা আল-আনআম: ৫৯) (ইবন কাসীর) সুতরাং আল্লাহ হাশরের মাঠে তাদেরকে যা জানাবেন তা জ্ঞানের ভিত্তিতেই জানাবেন। দুনিয়াতে যা কিছুই ঘটেছে সবই তার জ্ঞানের মধ্যে রয়েছে। সবকিছু তিনি জানার পরও তাঁর ফেরেশতাদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন। অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, “আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে, আসমানসমূহ ও যমীনে যা কিছু আছে আল্লাহ তা জানেন? তিন ব্যক্তির মধ্যে এমন কোন গোপন পরামর্শ হয় না যাতে চতুর্থ জন হিসেবে তিনি উপস্থিত থাকেন না এবং পাঁচ ব্যক্তির মধ্যেও হয় না যাতে ষষ্ট জন হিসেবে তিনি উপস্থিত থাকেন না।

তারা এর চেয়ে কম হোক বা বেশী হোক তিনি তো তাদের সংগেই আছেন তারা যেখানেই থাকুক না কেন। তারপর তারা যা করে, তিনি তাদেরকে কিয়ামতের দিন তা জানিয়ে দেবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব কিছু সম্পর্কে সম্যক অবগত। (সূরা আল-মুজাদালাহ: ৭) অন্যত্র বলেন, “তিনি জানেন যা যমীনে প্রবেশ করে এবং যা তা থেকে নির্গত হয় আর যা আসমান থেকে নাযিল হয় এবং যা কিছু তাতে উত্থিত হয়। (সূরা সাবা: ২) আরও বলেন, “তিনি জানেন যা কিছু যমীনে প্রবেশ করে ও যা কিছু তা থেকে বের হয় এবং আসমান হতে যা কিছু নামে ও আসমানে যা কিছু উত্থিত হয়। তোমরা যেখানেই থাক না কেন—তিনি (জ্ঞানে) তোমাদের সংগে আছেন।” (সূরা আল-হাদীদ: ৪) আরও বলেন, “আর আপনি যে অবস্থাতেই থাকুন না কেন এবং আপনি সে সম্পর্কে কুরআন থেকে যা-ই তিলাওয়াত করেন এবং তোমরা যে কাজই কর না কেন, আমরা তোমাদের সাক্ষী থাকি- যখন তোমরা তাতে প্রবৃত্ত হও। আর আসমানসমূহ ও যমীনের অণু পরিমাণও আপনার রবের দৃষ্টির বাইরে নয় এবং তার চেয়ে ক্ষুদ্রতর বা বৃহত্তর কিছুই নেই যা সুস্পষ্ট কিতাবে নেই। (সূরা ইউনুস: ৬১) (আদওয়াউল বায়ান)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৭) তারপর অবশ্যই আমি তাদের নিকট সজ্ঞানে তাদের কার্যাবলী বিবৃত করব।(1) আর আমি তো অনুপস্থিত ছিলাম না।

(1) যেহেতু আমি প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য প্রত্যেক বিষয়ের খবর রাখি, তাই (উম্মত ও পয়গম্বর) উভয়ের সামনেই সমস্ত ব্যাপার বিবৃত করব এবং তারা যা যা করেছিল, তা সবই তাদের সামনে পেশ করে দেব।