وَقَالُواْ قُلُوبُنَا غُلۡفُۢۚ بَل لَّعَنَهُمُ ٱللَّهُ بِكُفۡرِهِمۡ فَقَلِيلٗا مَّا يُؤۡمِنُونَ

ওয়া ক-লূকূলূবুনা-গুলফুন বাল্লা‘আনাহুমুল্লা-হু বিকুফরিহিম ফাকালীলাম মা-ইউমিনূন।উচ্চারণ

তারা বলে, আমাদের হৃদয় সুরক্ষিত। ৯৪ না, আসলে তাদের কুফরীর কারণে তাদের ওপর আল্লাহর অভিশাপ বর্ষিত হয়েছে, তাই তারা খুব কমই ঈমান এনে থাকে। তাফহীমুল কুরআন

আর এসব লোক বলে, আমাদের অন্তর আচ্ছাদনের ভেতর। #%৬৫%# কখনও নয়; বরং তাদের কুফরীর কারণে আল্লাহ তাদের প্রতি অভিসম্পাত করেছেন। এ কারণে তারা অল্পই ঈমান আনে। #%৬৬%#মুফতী তাকী উসমানী

এবং তারা বলে, আমাদের হৃদয় আবৃত; এবং তাদের অবিশ্বাসের জন্য আল্লাহ তাদেরকে অভিসম্পাত করেছেন - যেহেতু তারা অতি অল্পই বিশ্বাস করে।মুজিবুর রহমান

তারা বলে, আমাদের হৃদয় অর্ধাবৃত। এবং তাদের কুফরের কারণে আল্লাহ অভিসম্পাত করেছেন। ফলে তারা অল্পই ঈমান আনে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তারা বলেছিল, ‘আমাদের হৃদয় আচ্ছাদিত’, বরং কুফরীর জন্যে আল্লাহ্ তাদেরকে লা‘নত করেছেন। সুতরাং তাদের অল্পসংখ্যকই ঈমান আনে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর তারা বলল, আমাদের অন্তরসমূহ আচ্ছাদিত; বরং তাদের কুফরীর কারণে আল্লাহ তাদেরকে লা‘নত করেছেন। অতঃপর তারা খুব কমই ঈমান আনে।আল-বায়ান

তারা দাবী করেছিল যে, ‘আমাদের হৃদয় আচ্ছাদিত’, বরং কুফরী করার কারণে আল্লাহ তাদেরকে অভিসম্পাত করেছেন, অতএব তাদের অল্প সংখ্যকই ঈমান আনে।তাইসিরুল

আর তারা বলে -- “আমাদের হৃদয় হলো গেলাফ!” না, আল্লাহ্ তাদের বঞ্চিত করেছেন তাদের অবিশ্বাসের জন্য। তাই যৎসামান্যই যা তারা বিশ্বাস করে।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৯৪

অর্থাৎ আমাদের আকীদা-বিশ্বাস ও চিন্তা এতই পাকাপোক্ত যে, তোমরা যাই কিছু বল না কেন আমাদের মনে তোমাদের কথা কোন রকম প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না। যেসব হঠধর্মী লোকের মন-মস্তিষ্ক অজ্ঞতা ও মূর্খতার বিদ্বেষে আচ্ছন্ন থাকে তারাই এ ধরনের কথা বলে। তারা একে মজবুত বিশ্বাস নাম দিয়ে নিজেদের একটি গুণ বলে গণ্য করে। অথচ এটা মানুষের গুণ নয়, দোষ। নিজের উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া আকীদা-বিশ্বাস ও চিন্তার গলদ ও মিথ্যা বলিষ্ঠ যুক্তির মাধ্যমে প্রমাণিত হবার পরও তার ওপর অবিচল থাকার চাইতে বড় দোষ মানুষের আর কি হতে পারে?

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

তাদের এ বাক্যের এক ব্যাখ্যা এমনও হতে পারে যে, এর দ্বারা তাদের উদ্দেশ্য ছিল অহমিকা প্রকাশ। তারা বলতে চাইত, তাদের অন্তরের উপর এক ধরনের নিরোধ-আবরণ আছে, যদ্দরুণ কোনও গলত কথা তাদের অন্তরে পৌঁছাতে পারে না। আবার এমন ব্যাখ্যাও হতে পারে যে, এর দ্বারা তারা মুসলিমদেরকে নিজেদের থেকে নিরাশ করতে চাইত। এ উদ্দেশ্যে তারা ঠাট্টা করে বলত, তোমরা মনে করে নাও আমাদের অন্তরে গিলাফ লাগানো আছে। কাজেই তোমরা আমাদেরকে ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার ফিকির করো না।

তাফসীরে জাকারিয়া

৮৮. আর তারা বলেছিল, ‘আমাদের অন্তরসমূহ আচ্ছাদিত’, বরং তাদের কুফরীর কারণে আল্লাহ তাদেরকে লা'নত করেছেন। সুতরাং তাদের কম সংখ্যকই ঈমান আনে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

৮৮। তারা বলেছিল, আমাদের হৃদয় আচ্ছাদিত। (1) বরং (কুফরী) সত্য প্রত্যাখ্যানের জন্য আল্লাহ তাদেরকে অভিশাপ দিয়েছেন। সুতরাং তাদের অল্প সংখ্যকই বিশ্বাস করে (ঈমান আনে)। (2)

(1) অর্থাৎ, হে মুহাম্মাদ! আমাদের উপর তোমার কথার কোনই প্রভাব পড়বে না। যেমন, অন্যত্র আছে,

{وَقَالُوا قُلُوبُنَا فِي أَكِنَّةٍ مِمَّا تَدْعُونَا إِلَيْهِ} অর্থাৎ, তারা বলে, তুমি যার প্রতি আমাদেরকে আহবান করছ, সে বিষয়ে আমাদের অন্তর আবরণে আচ্ছাদিত।’’ (সূরা হা-মীম সিজদা ৫ আয়াত)

(2) অন্তরে কথার প্রভাব সৃষ্টি না হওয়াটা কোন গর্বের ব্যাপার নয়, বরং এটা অভিশপ্ত হওয়ার নিদর্শন। অতএব তাদের ঈমান অতি অল্প (যা আল্লাহর নিকট গ্রহণীয় নয়) অথবা তাদের মধ্যে ঈমান আনার মত লোক খুব কম সংখ্যকই হবে।