ওয়া মিনাল আন‘আ-মি হামূলাতাওঁ ওয়া ফারশান কূলূমিম্মা-রঝাকাকুমুল্লা-হু ওয়ালাতাত্তাবি‘ঊ খুতুওয়া-তিশশাইতা-নি ইন্নাহূলাকুম ‘আদুওউম মুবীন।উচ্চারণ
আবার তিনিই গবাদী পশুর মধ্যে এমন পশুও সৃষ্টি করেছেন, যাদের সাহায্যে যাত্রী ও ভারবহনের কাজ নেয়া হয় এবং যাদেরকে খাদ্য ও বিছানার কাজেও ব্যবহার করা হয়। ১১৭ খাও এ জিনিসগুলো থেকে, যা আল্লাহ তোমাদের দান করেছেন এবং শয়তানের অনুসরণ করো না, কারণ সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। ১১৮ তাফহীমুল কুরআন
তিনি গবাদি পশুর মধ্যে কতক (সৃষ্টি করেছেন), ভারবাহীরূপে এবং কতককে মাটির সাথে। #%৮৪%# আল্লাহ তোমাদেরকে যে রিযক দিয়েছেন, তা থেকে খাও এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। নিশ্চয়ই, সে তোমাদের এক প্রকাশ্য শত্রু। মুফতী তাকী উসমানী
আর চতুস্পদ জন্তুগুলির মধ্যে কতকগুলি (উঁচু আকৃতির) ভারবাহী রয়েছে; আর কতকগুলি রয়েছে ছোট আকৃতির, গোশত খাওয়ার ও চামড়া দ্বারা বিছানা বানানোর যোগ্য। আল্লাহ যা কিছু দান করেছেন তোমরা তা আহার কর, আর শাইতানের পদাঙ্ক অনুসরণ করনা, নিঃসন্দেহে সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।মুজিবুর রহমান
তিনি সৃষ্টি করেছেন চতুষ্পদ জন্তুর মধ্যে বোঝা বহনকারীকে এবং খর্বাকৃতিকে। আল্লাহ তোমাদেরকে যা কিছু দিয়েছেন, তা থেকে খাও এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
গবাদিপশুর মধ্যে কতক ভারবাহী ও কতক ক্ষুদ্রাকার পশু সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ্ যা রিযিকরূপে তোমাদেরকে দিয়েছেন তা হতে আহার কর আর শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ কর না; সে তো তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর চতুষ্পদ জন্তু থেকে (কিছুকে সৃষ্টি করেছেন) বোঝা বহনকারী ও ক্ষুদ্রাকৃতির। তোমরা আহার কর তা থেকে, যা আল্লাহ তোমাদেরকে রিয্ক দিয়েছেন এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। নিশ্চয় সে তোমাদের জন্য স্পষ্ট শত্রু।আল-বায়ান
গবাদি পশুর মধ্যে কতক আছে ভারবাহী আর কতক আছে গোশত ও আচ্ছাদনের সামগ্রী দানকারী, আল্লাহ তোমাদেরকে যে রিয্ক্ব দিয়েছেন তাত্থেকে ভক্ষণ কর আর শায়ত্বনের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না, সে তোমাদের খোলাখুলি দুশমন।তাইসিরুল
আর গবাদি-পশুদের মধ্যে কতকগুলো ভার বহনের জন্য আর কিছু ক্ষুদ্রাকার। আল্লাহ্ তোমাদের যা খাদ্যবস্তু দিয়েছেন সে- সব থেকে আহার করো, আর শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। নিঃসন্দেহ তোমাদের জন্য সে হচ্ছে প্রকাশ্য শত্রু ।মাওলানা জহুরুল হক
১১৭
মূল আয়াতে فَرْشً শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। এক ধরনের পশুকে ফর্শ বলা হয়েছে। এ অর্থে যে, তারা আকারে ছোট এবং যমীনের সাথে মিশে চলাফেরা করে। অথবা তাদেরকে এজন্য ফরশ বলা হয়েছে যে, যবেহ করার সময় তাদেরকে যমীনের ওপর শোয়ানো হয়। অথবা তাদের চামড়া ও লোম থেকে ফরশ্ বা বিছানা বানানো হয় তাই তাদেরকে ফরশ বলা হয়েছে।
১১৮
বক্তব্য বিষয়টির ধারাবাহিক বর্ণনার প্রতি দৃষ্টিপাত করলে জানা যায়, এখানে মহান আল্লাহ তিনটি কথা হৃদয়ঙ্গম করাতে চান। এক, তোমরা এই যে, বাগান, ক্ষেত-খামার ও গবাদি পশু লাভ করেছো, এগুলো সবই আল্লাহর দান। এ দানে অন্য কারোর কোন অংশ নেই। তাই এ দানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ব্যাপারেও কারোর কোন অংশ থাকতে পারে না। দুই, এগুলো যেহেতু আল্লাহর দান তাই এগুলোর ব্যবহারের ক্ষেত্রেও আল্লাহর বিধানের আনুগত্য করতে হবে। এগুলো ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিজের পক্ষ থেকে কোন সীমা নির্ধারণ করে দেবার অধিকার কারোর নেই। আল্লাহ ছাড়া অন্য কারোর নির্ধারিত রীতি ও নিয়মের অনুসরণ করা এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য কারোর সামনে অনুগ্রহের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের উদ্দেশ্যে নযরানা পেশ করাই সীমা অতিক্রম করার নামান্তর এবং এটিই শয়তানের অনুসৃতি। তিন, এসব জিনিস আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন মানুষের পানাহার ও ব্যবহার করার জন্য। এগুলোকে অযথা নিজের জন্য হারাম করে নেবার উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করা হয়নি। নিজেদের আন্দাজ-অনুমান ও কুসংস্কারেরর ভিত্তিতে লোকেরা আল্লাহর দেয়া রিযিক এবং তাঁর প্রদত্ত বিভিন্ন জিনিসের ব্যবহারের ওপর যেসব বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে সেগুলো সবই আল্লাহর উদ্দেশ্য বিরোধী।
‘মাটির সাথে মিশে থাকে’ বলে বোঝানো হয়েছে যে, তা খুব ক্ষুদ্রাকৃতির, যেমন ভেড়া ও ছাগল। এর অপর অর্থ এমনও হতে পারে যে, তার চামড়া মাটিতে বিছানো হয়ে থাকে। (বা তার পশম দ্বারা বিছানা তৈরি করা হয়। এর আরেক অর্থ, যে পশুকে যবাহ করার জন্য মাটিতে বিছানো অর্থাৎ শোওয়ানো হয়। -অনুবাদক)
১৪২. আর গবাদি পশুর মধ্যে কিছু সংখ্যক ভারবাহী ও কিছু সংখ্যক ক্ষুদ্রাকার পশু সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ যা রিযিকরূপে তোমাদেরকে দিয়েছেন তা থেকে খাও এবং শয়তানের পদাংক অনুসরণ করো না; সে তো তোমাদের প্রকাশ্য শক্র;
(১৪২) আর (সৃষ্টি করেছেন) গবাদি পশুর মধ্যে কিছু ভারবাহী ও কিছু ক্ষুদ্রাকার পশু।(1) আল্লাহ যা জীবিকারূপে তোমাদেরকে দান করেছেন, তা আহার কর(2) এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না।(3) নিশ্চয় সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।
(1) حُمُوْلَةٌ (ভারবাহী, বোঝা বহনকারী) বলতে উট, বলদ এবং গাধা ও খচ্চর ইত্যাদিকে বুঝানো হয়েছে। যা বাহন ও বোঝা বহনের কাজে আসে। আর فَرْشًا খর্বাকৃতির জীব-জন্তু। যেমন, ছাগল-ভেড়া ইত্যাদি। যার দুধ তোমরা পান কর এবং তার গোশত খাও।
(2) অর্থাৎ, ফল, ফসলাদি এবং চতুষ্পদ জীব-জন্তুর মধ্য থেকে। এগুলোকে আল্লাহই সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের জন্য সেগুলোকে আহার্য বানিয়েছেন।
(3) যেভাবে মুশরিকরা তার (শয়তানের) অনুসরণ করেছিল এবং হালাল পশুগুলোকেও নিজেদের উপর হারাম করে নিয়েছিল। অর্থাৎ, আল্লাহর হালাল করা জিনিসকে হারাম করা এবং তাঁর হারাম করা জিনিসকে হালাল করা, আসলে শয়তানের আনুগত্য করা।