وَقَالُواْ هَٰذِهِۦٓ أَنۡعَٰمٞ وَحَرۡثٌ حِجۡرٞ لَّا يَطۡعَمُهَآ إِلَّا مَن نَّشَآءُ بِزَعۡمِهِمۡ وَأَنۡعَٰمٌ حُرِّمَتۡ ظُهُورُهَا وَأَنۡعَٰمٞ لَّا يَذۡكُرُونَ ٱسۡمَ ٱللَّهِ عَلَيۡهَا ٱفۡتِرَآءً عَلَيۡهِۚ سَيَجۡزِيهِم بِمَا كَانُواْ يَفۡتَرُونَ

ওয়া ক-লূহা-যিহীআন‘আ-মুওঁ ওয়া হারছুন হিজরুল লা-ইয়াত‘আমুহা-ইল্লামান নাশাউ বিঝা‘মিহিম ওয়া আন‘আ-মুন হুররিমাত জুহূরুহা-ওয়া আন‘আ-মুল লাইয়াযকুরূনাছমাল্লা-হি ‘আলাইহাফতিরআন ‘আলাইহি ছাইয়াজঝীহিম বিমা-ক-নূ ইয়াফতারূন।উচ্চারণ

তারা বলে, এ পশু ও এ ক্ষেত-খামার সুরক্ষিত। এগুলো একমাত্র তারাই খেতে পারে যাদেরকে আমরা খাওয়াতে চাই। অথচ এ বিধি-নিষেধ তাদের মনগড়া। ১১১ তারপর কিছু পশুর পিঠে চড়া ও তাদের পিঠে মাল বহন করা হারাম করে দেয়া হয়েছে আবার কিছু পশুর ওপর তারা আল্লাহর নাম নেয় না। ১১২ আর এসব কিছু আল্লাহ‌ সম্পর্কে তাদের মিথ্যা রটনা। ১১৩ শীঘ্রই আল্লাহ‌ তাদেরকে এ মিথ্যা রটনার প্রতিফল দেবেন। তাফহীমুল কুরআন

তারা বলে, এই সব গবাদি পশু ও শস্যতে নিষেধাজ্ঞা আরোপিত আছে। তাদের ধারণা এই যে, আমরা যাদেরকে ইচ্ছা করব তারা ছাড়া অন্য কেউ এসব খেতে পারবে না #%৭৭%# এবং কতক গবাদি পশু এমন, যাদের পিঠকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে #%৭৮%# এবং কিছু পশু এমন, যার যবাহকালে আল্লাহর নাম নেয় না (এসবই তারা করে) তাঁর (অর্থাৎ আল্লাহর) প্রতি মিথ্যারোপ করে। #%৭৯%# তারা যে মিথ্যাচার করছে, আল্লাহ শীঘ্রই তার প্রতিফল তাদেরকে দেবেন।মুফতী তাকী উসমানী

আর তারা বলে থাকেঃ এই সব নির্দিষ্ট পশু ও ক্ষেতের ফসল সুরক্ষিত, কেহই তা আহার করতে পারবেনা, তবে যাদেরকে আমরা অনুমতি দিব (তারাই আহার করতে পারবে), আর (তারা বলে) এই বিশেষ পশুগুলির উপর আরোহণ করা ও ভার বহন নিষেধ করে দেয়া হয়েছে। আর কতকগুলি বিশেষ পশু রয়েছে যেগুলিকে যবাহ করার সময় তারা আল্লাহর নাম উচ্চারণ করেনা, শুধু আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করার উদ্দেশে। আল্লাহ এসব মিথ্যা আরোপের প্রতিফল অতি সত্ত্বরই দান করবেন।মুজিবুর রহমান

তারা বলেঃ এসব চতুষ্পদ জন্তু ও শস্যক্ষেত্র নিষিদ্ধ। আমরা যাকে ইচছা করি, সে ছাড়া এগুলো কেউ খেতে পারবে না, তাদের ধারণা অনুসারে। আর কিছুসংখ্যক চতুষ্পদ জন্তুর পিঠে আরোহন হারাম করা হয়েছে এবং কিছু সংখ্যক চতুষ্পদ জন্তুর উপর তারা ভ্রান্ত ধারনা বশতঃ আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে না, তাদের মনগড়া বুলির কারণে, অচিরেই তিনি তাদের কে শাস্তি দিবেন।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তারা তাদের ধারণা অনুসারে বলে, ‘এসব গবাদিপশু ও শস্যক্ষেত্র নিষিদ্ধ ; আমরা যাকে ইচ্ছা করি সে ব্যতীত কেউ এইসব আহার করতে পারবে না’, এবং কতক গবাদিপশুর পৃষ্ঠে আরোহণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং কতক পশু যবেহ্ করার সময় তারা আল্লাহ্ র নাম নেয় না। এ সমস্তই তারা আল্লাহ্ সম্বন্ধে মিথ্যা রচনার উদ্দেশ্যে বলে ; তাদের এ মিথ্যা রচনার প্রতিফল তিনি অবশ্যই তাদেরকে দিবেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর তারা তাদের ধারণা অনুসারে বলে, ‘এই চতুষ্পদ জন্তুগুলো ও শস্য নিষিদ্ধ। আমরা যাকে চাই, সে ছাড়া কেউ তা খাবে না’ এবং কিছু চতুষ্পদ জন্তু, যার পিঠে চড়া হারাম করা হয়েছে, আর কিছু চতুষ্পদ জন্তু রয়েছে যার উপর তারা আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে না, আল্লাহর উপর মিথ্যা অপবাদস্বরূপ। তারা যে মিথ্যা বানায়, তার কারণে তাদেরকে অচিরেই তিনি প্রতিফল দেবেন।আল-বায়ান

তারা তাদের ধারণা অনুসারে বলে, এই এই গবাদি পশু ও ফসল সুরক্ষিত। আমরা যার জন্য ইচ্ছে করব সে ছাড়া কেউ এগুলো খেতে পারবে না। এ সব তাদের কল্পিত। কতক গবাদি পশুর পিঠে চড়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে, কতক গবাদি পশু যবহ করার সময় তারা আল্লাহর নাম নেয় না, (এসব বাধা-নিষেধ) আল্লাহর প্রতি মিথ্যে রচনা স্বরূপ করে থাকে। এসব মিথ্যে রচনার প্রতিফল তিনি শীঘ্রই তাদেরকে প্রদান করবেন।তাইসিরুল

আর তারা বলে -- "এইসব গবাদি-পশু ও শস্যক্ষেত্র নিষিদ্ধ, কেউ এইসব খেতে পারবে না আমরা যাদের ইচ্ছা করি তারা ব্যতীত", -- তাদের ধারণানুযায়ী, এবং কতক পশু যাদের পিঠ নিষেধ করা হয়েছে, আর গবাদি-পশু যাদের উপরে তারা আল্লাহ্‌র নাম স্মরণ করে না, -- এ-সব তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা উদ্ভাবন। তিনি অচিরেই তাদের প্রতিফল দেবেন তারা যা উদ্ভাবন করে থাকে তার জন্য।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

১১১

আরববাসীদের রীতি ছিল, তারা কোন কোন পশু বা কোন কোন ক্ষেতের উৎপন্ন ফসল এভাবে মানত করতোঃ এটি অমুক মন্দির, অমুক আস্তানা বা অমুক হযরতের নযরানা। এ নযরানা সবাই খেতে পারতো না। বরং এর সম্পর্কিত একটি বিস্তারিত বিধান তাদের কাছে ছিল। এ বিধান অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের লোকের জন্য বিভিন্ন নযরানা নির্দিষ্ট ছিল। তাদের এ কাজটিকে আল্লাহ কেবল মুশরিকী কাজ বলেই ক্ষান্ত হননি বরং এ ব্যাপারেও তাদেরকে সতর্ক করে দিয়েছেন যে, এটি তাদের একটি মনগড়া বিধান। অর্থাৎ যে আল্লাহর প্রদত্ত রিযিকের মধ্যে এ নযরানাগুলো নির্দিষ্ট করা হয় এবং মানত মানা হয় তিনি এ নযরানা দেবার ও মানত মানার হুকুম দেননি এবং তিনি এগুলো ব্যবহার করার ওপর এ ধরনের কোন বিধি-নিষেধও আরোপ করেননি। এসব কিছুই এ অহংকারী ও বিদ্রোহী বান্দাদের মনগড়া রচনা।

১১২

হাদীস থেকে জানা যায়, আরববাসীরা কিছু কিছু বিশেষ নযরানা ও মানতের পশুর ওপর আল্লাহর নাম উচ্চারণ করা জায়েয মনে করতো না। এ পশুগুলোর পিঠে চড়ে হজ্জ করাই নিষিদ্ধ ছিল। কারণ হজ্জের জন্য লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইকা বলতে হতো। অনুরূপভাবে এগুলোর পিঠে সওয়ার হবার সময় এদের দুধ দোয়ার সময়, যবেহ করার সময় অথবা এদের গোশ্‌ত খাওয়ার সময় আল্লাহর নাম যাতে উচ্চারিত না হয় তার ব্যবস্থা করা হতো।

১১৩

অর্থাৎ এ নিয়মগুলো আল্লাহ‌ নির্ধারিত নয়। কিন্তু এগুলো আল্লাহ‌ নির্ধারিত করে দিয়েছেন এ মনে করেই তারা এগুলো মেনে চলছে। কিন্তু এ ধরনের কথা মনে করার স্বপক্ষে তাদের কাছে আল্লাহর হুকুমের কোন প্রমাণ নেই বরং কেবল বাপ-দাদাদের থেকে এমনটি চলে আসছে, এ সনদই আছে তাদের কাছে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

এটা আরেকটি রসমের বর্ণনা। তারা তাদের মনগড়া দেবতাদের খুশী করার জন্য বিশেষ কোনও ফসল বা পশুর ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করত যে, তা কেউ ভোগ করতে পারবে না। অবশ্য তারা যাকে ইচ্ছা সেই নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখত।

তাফসীরে জাকারিয়া

১৩৮. আর তারা তাদের ধারণা অনুযায়ী বলে, এসব গবাদি পশু ও শস্যক্ষেত্র নিষিদ্ধ; আমরা যাকে ইচ্ছে করি সে ছাড়া কেউ এসব খেতে পারবে না; এবং কিছু সংখ্যক গবাদি পশুর পিঠে আরোহণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং কিছু সংখ্যক পশু যবেহ্ করার সময় তারা আল্লাহর নাম নেয় না। এ সবকিছুই তারা আল্লাহ সম্বন্ধে মিথ্যা রটনার উদ্দেশ্যে বলে; তাদের এ মিথ্যা রটনার প্রতিফল তিনি অচিরেই তাদেরকে দেবেন।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(১৩৮) আর তারা তাদের ধারণা অনুসারে বলে, ‘এ সব গবাদি পশু ও শস্যক্ষেত্র নিষিদ্ধ; আমরা যাকে ইচ্ছা করি সে ব্যতীত কেউ এই সব আহার করতে পারে না,(1) কতক গবাদি পশু রয়েছে যাদের পৃষ্ঠে আরোহণ করা নিষিদ্ধ’(2) এবং কিছু পশু আছে যাদের যবেহ করার সময় তারা আল্লাহর নাম নেয় না।(3) এ সমস্তই তারা আল্লাহ সম্বন্ধে মিথ্যা রচনার উদ্দেশ্যে বলে। তাদের মিথ্যা রচনার প্রতিফল তিনি শীঘ্রই তাদেরকে দেবেন।

(1) এই আয়াতে তাদের জাহেলী বিধান এবং বাতিল ধর্মের আরো তিনটি চিত্র বর্ণনা করা হয়েছে। حِجْرٌ (অর্থঃ নিষেধ) যদিও ক্রিয়া বিশেষ্য কিন্তু তা ব্যবহার হয়েছে مَحْجُوْرٌ (নিষিদ্ধ) কর্মকারকের অর্থে। এটা হল প্রথম চিত্র; এই পশু অথবা অমুক জমির ফসল ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। এটা কেবল সেই খেতে পারবে, যাকে আমরা অনুমতি দেব। আর এই অনুমতি মূর্তিদের খাদেম এবং পুরোহিত-পান্ডাদের জন্যই দেওয়া হত।

(2) এটা হল দ্বিতীয় চিত্র। তারা বিভিন্ন প্রকারের পশুকে তাদের মূর্তিদের নামে উৎসর্গ করে স্বাধীন ছেড়ে দিত। তাদের দ্বারা তারা বোঝা বহন অথবা সওয়ারীর কাজ নিত না। যেমন, বাহীরাহ, সায়েবাহ ইত্যাদির বিশ্লেষণ পূর্বে উল্লিখিত হয়েছে।

(3) এটা হল তৃতীয় চিত্র। তারা যবেহ করার সময় নিজেদের মূর্তিদের নাম নিত, আল্লাহর নাম নিত না। কেউ কেউ এর অর্থ এই বলেছেন যে, এই পশুগুলোর উপর সওয়ার হয়ে তারা হজ্জে যেত না। যাই হোক, এই সমস্ত রকম বিধান ছিল তাদের নিজস্ব মনগড়া, কিন্তু তারা আল্লাহর উপর মিথ্যারোপ করত। অর্থাৎ, এই ধারণা প্রকাশ করত যে, তারা আল্লাহরই নির্দেশে এ সব কিছু করছে।