وَكَذَٰلِكَ نُوَلِّي بَعۡضَ ٱلظَّـٰلِمِينَ بَعۡضَۢا بِمَا كَانُواْ يَكۡسِبُونَ

ওয়া কাযা-লিকা নুওয়াললী বা‘দাজ্জা-লিমীনা বা‘দাম বিমা-ক-নূইয়াকছিবূন।উচ্চারণ

দেখো এভাবে আমি (আখেরাতে) জালেমদেরকে পরস্পরের সাথী বানিয়ে দেবো (দুনিয়ায় তারা এক সাথে মিলে) যা কিছু উপার্জন করেছিল তার কারণে। ৯৭ তাফহীমুল কুরআন

এভাবেই আমি জালেমদের কতককে কতকের উপর তাদের কৃতকর্মের কারণে আধিপত্য দান করে থাকি। #%৬৮%#মুফতী তাকী উসমানী

এমনিভাবেই আমি যালিমদেরকে (কাফিরদেরকে) তাদের কৃতকর্মের ফলে পরস্পরকে পরস্পরের উপর প্রভাবশালী ও কর্তৃত্বশালী বানিয়ে দিব।মুজিবুর রহমান

এমনিভাবে আমি পাপীদেরকে একে অপরের সাথে যুক্ত করে দেব তাদের কাজকর্মের কারণে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এইভাবে ওদের কৃতকর্মের জন্যে আমি জালিমদের একদলকে অন্যদলের বন্ধু করে থাকি।ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর এভাবেই আমি যালিমদের কতককে কতকের বন্ধু বানিয়ে দেই, তারা যা অর্জন করত সে কারণে।আল-বায়ান

এভাবেই আমি (পরকালে) যালিমদেরকে পরস্পরের সঙ্গী বানিয়ে দেব সেই উপার্জনের বিনিময়ে যা তারা (দুনিয়াতে পরস্পরে এক সঙ্গে মিলে) করছিল।তাইসিরুল

আর এইভাবে আমরা কোনো-কোনো অন্যায়কারীদের অন্যদের সহায় হতে দিই যা তারা অর্জন করে থাকে সেজন্য।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৯৭

অর্থাৎ যেভাবে দুনিয়ায় গোনাহ ও অসৎকাজ করার ব্যাপারে তারা পরস্পরের শরীক ছিল ঠিক তেমনি আখেরাতেও শাস্তি পাওয়ার ব্যাপারে তারা পরস্পরের শরীক হবে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

অর্থাৎ কাফেরদের উপর তাদের জেদ ও হঠকারিতার কারণে যেমন শয়তানদেরকে আধিপত্য দেওয়া হয়েছে, যারা তাদেরকে বিপথে চালাতে তৎপর থাকে, তেমনিভাবে জালেমদের দুষ্কর্মের কারণে আমি তাদের উপর অন্য জালেমদেরকে আধিপত্য দিয়ে থাকি। সুতরাং এক হাদীসে আছে, যখন কোনও দেশের মানুষ ব্যাপকভাবে মন্দ কাজে লিপ্ত হয়ে পড়ে, তখন তাদের উপর জালেম শাসক চাপিয়ে দেওয়া হয়। অপর এক হাদীসে আছে, কোনও ব্যক্তি কোনও জালেমকে তার জুলুমের কাজে সাহায্য করলে আল্লাহ তাআলা ওই জালেমকেই সেই সাহায্যকারীর উপর চাপিয়ে দেন। (ইবনে কাসীর) এ আয়াতের আরও এক তরজমা করা সম্ভব। তা এই যে, ‘এভাবেই আমি জালেমদের কতককে কতকের সঙ্গী বানিয়ে দেব’। এ হিসেবে আয়াতের মতলব হবে এই যে, শয়তানগণও জালেম এবং তাদের অনুসারীগণও। সুতরাং আখিরাতেও আমি তাদের একজনকে অন্যজনের সাথী বানিয়ে দেব। বহু মুফাসসির আয়াতের এ ব্যাখ্যাই করেছেন।

তাফসীরে জাকারিয়া

১২৯. আর এভাবেই আমরা যালিমদের কতককে কতকের বন্ধু বানিয়ে দেই, তারা যা অর্জন করত তার কারণে।(১)

(১) আয়াতে نُوَلِّي শব্দটির আভিধানিক দিক দিয়ে দুটি অর্থ হতে পারে। মুফাসসিরীন সাহাবা ও তাবেয়ীগণের কাছ থেকে উভয় প্রকার অর্থই বর্ণিত আছে। (এক) শাসক হিসেবে চাপিয়ে দেয়া, বন্ধু বানিয়ে দেয়া। যারা তাদেরকে তাদের কর্মের কারণে পথভ্রষ্টতার দিকে চালিত করবে। আব্দুল্লাহ ইবন যুবায়ের রাদিয়াল্লাহু আনহুমা, ইবন যায়েদ, মালেক ইবনে দীনার রাহিমাহুমুল্লাহ প্রমূখ মুফাসসিরীন থেকে এ অর্থের দিক দিয়ে আয়াতের তাফসীর এরূপ বর্ণিত আছে যে, আল্লাহ তা'আলা একজন যালিমকে অপর যালিমের উপর শাসক হিসেবে চাপিয়ে দেন এবং এভাবে এক কে অপরের হাতে শাস্তি দেন। তাদের অপরাধের কারণে আল্লাহ তা'আলা তাদের উপর এমন কাউকে বসাবেন, এমন কাউকে সাথে জুড়ে দেবেন যারা তাদেরকে হক পথে চলা থেকে দূরে রাখবে, হক পথের প্রতি ঘৃণা ছড়াবে। খারাপ কাজের প্রতি উৎসাহ দেবে।

এভাবেই মানুষের মধ্যে যখন ফাসাদ ও যুলমের আধিক্য হয়, আর আল্লাহর ফরয আদায়ে মানুষের মধ্যে গাফিলতি সৃষ্টি হয় তখনই আল্লাহ্ তা'আলা মানুষের উপর তাদের গোনাহের শাস্তিস্বরূপ এমন কাউকে বসিয়ে দেন যারা তাদেরকে কঠোর শাস্তি প্রদান করবে। (বাগভী; ইবন কাসীর; সা’দী) (দুই) আয়াতে বর্ণিত نُوَلِّي শব্দের আরেক অর্থ হচ্ছে, পরস্পরকে যুক্ত করে দেয়া ও নিকটবর্তী করে দেয়া। সায়ীদ ইবনে যুবায়ের, কাতাদাহ রাহিমাহুমাল্লাহ প্রমূখ মুফাসসিরগণ প্রথমোক্ত অর্থে আয়াতের উদ্দেশ্য এরূপ ব্যক্ত করেছেন যে, কেয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলার কাছে মানুষের দল বিভিন্ন বংশ, দেশ কিংবা ভাষার ভিত্তিতে হবে না; বরং কর্ম ও চরিত্রের ভিত্তিতে হবে। আল্লাহর আনুগত্যশীল মুসলিম যেখানেই থাকবে, সে মুসলিমদের সাথী হবে, তাদের বংশ, দেশ, ভাষা, বর্ণ ও জীবনযাপন পদ্ধতিতে যতই দূরত্ব ও পার্থক্য থেকে থাকুক না কেন। এরপর মুসলিমদের মধ্যেও সৎ ও দ্বীনী লোকেরা সৎ ও দ্বীনী লোকদের সাথে থাকবে এবং পাপী ও কুকর্মীদেরকে পাপী ও কুকর্মীদের সাথে যুক্ত করে দেয়া হবে। (বাগভী; ইবন কাসীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(১২৯) এরূপে আমি যালেমদের কৃতকর্মের ফলে তাদের এক দলকে অন্য দলের উপর প্রবল করে থাকি।(1)

(1) نُوَلّي এর একাধিক অর্থ বর্ণিত হয়েছে; অর্থাৎ, যেভাবে আমি মানুষ ও জ্বিনদেরকে একে অপরের সঙ্গী ও সাহায্যকারী বানিয়েছি, (যেমন, পূর্বের আয়াতে উল্লিখিত হয়েছে) অনুরূপ আচরণ আমি অত্যাচারীদের সাথেও করি। অথবা একজন যালেমকে অপর যালেমের উপর (প্রবল করে) চাপিয়ে দিই। আর এইভাবে একজন অত্যাচারী অপর অত্যাচারীকে ধ্বংস করে এবং এক যালিমের প্রতিশোধ অপর যালিম দ্বারা নিয়ে নিই। অথবা জাহান্নামে ওদেরকে এক অপরের কাছাকাছি রাখব।