وَإِذَا جَآءَتۡهُمۡ ءَايَةٞ قَالُواْ لَن نُّؤۡمِنَ حَتَّىٰ نُؤۡتَىٰ مِثۡلَ مَآ أُوتِيَ رُسُلُ ٱللَّهِۘ ٱللَّهُ أَعۡلَمُ حَيۡثُ يَجۡعَلُ رِسَالَتَهُۥۗ سَيُصِيبُ ٱلَّذِينَ أَجۡرَمُواْ صَغَارٌ عِندَ ٱللَّهِ وَعَذَابٞ شَدِيدُۢ بِمَا كَانُواْ يَمۡكُرُونَ

ওয়া ইযা-জাআতহুম আ-য়াতুন ক-লূলান নু’মিনা হাত্তা-নু’তা-মিছলা মা-ঊতিয়া রুছুলুল্লা-হ । আল্লা-হু আ‘লামুহাইছুইয়াজ‘আলুরিছা-লাতাহূ ছাইউসীবুল্লাযীনা আজরমূসাগা-রুন ‘ইনদাল্লা-হি ওয়া ‘আযা-বুন শাদীদুম বিমা-ক-নূইয়ামকুরূন।উচ্চারণ

তাদের সামনে কোন আয়াত এলে তারা বলে, “আল্লাহর রসূলদেরকে যে জিনিস দেয়া হয়েছে যতক্ষণ না তা আমাদের দেয়া হয় ততক্ষণ আমরা মানবো না।” ৯১ আল্লাহ নিজের রিসালাতের কাজ কাকে দিয়ে কিভাবে নেবেন তা তিনি নিজেই ভাল জানেন। এ অপরাধীরা নিজেদের প্রতারণা ও কূট কৌশলের অপরাধে আল্লাহর কাছে অচিরেই লাঞ্ছনা ও কঠিন আযাবের সম্মুখীন হবে। তাফহীমুল কুরআন

যখন তাদের (অর্থাৎ মক্কাবাসীদের) কাছে (কুরআনের) কোন আয়াত আসে, তখন বলে, আল্লাহর রাসূলগণকে যা দেওয়া হয়েছিল, সে রকম জিনিস আমাদেরকে যতক্ষণ পর্যন্ত না দেওয়া হবে, #%৬৫%# ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা কিছুতেই ঈমান আনব না। অথচ আল্লাহই ভালো জানেন, তিনি তাঁর রিসালাত কার উপর ন্যস্ত করবেন। যারা (এ জাতীয়) অন্যায় উক্তি করেছে, তাদেরকে তাদের ষড়যন্ত্রের প্রতিফল হিসেবে আল্লাহর কাছে (গিয়ে) লাঞ্ছনা ও কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে।মুফতী তাকী উসমানী

তাদের সামনে যখন কোন নিদর্শন আসে তখন তারা বলেঃ আল্লাহর রাসূলদেরকে যা কিছু দেয়া হয়েছিল, আমাদের অনুরূপ জিনিস না দেয়া পর্যন্ত আমরা ঈমান আনবনা। রিসালাতের দায়িত্ব কার উপর অর্পণ করতে হবে তা আল্লাহ ভালভাবেই জানেন। এই অপরাধী লোকেরা অতি সত্ত্বরই তাদের ষড়যন্ত্র ও প্রতারণার জন্য আল্লাহর নিকট লাঞ্ছনা ও কঠিন শাস্তি প্রাপ্ত হবে।মুজিবুর রহমান

যখন তাদের কাছে কোন আয়াত পৌঁছে, তখন বলে, আমরা কখনই মানব না যে, পর্যন্ত না আমরাও তা প্রদত্ত হই, যা আল্লাহর রসূলগণ প্রদত্ত হয়েছেন। আল্লাহ এ বিষয়ে সুপারিজ্ঞাত যে, কোথায় স্বীয় পয়গাম প্রেরণ করতে হবে। যারা অপরাধ করছে, তারা অতিসত্বর আল্লাহর কাছে পৌছে লাঞ্ছনা ও কঠোর শাস্তি পাবে, তাদের চক্রান্তের কারণে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যখন তাদের নিকট কোন নিদর্শন আসে তারা তখন বলে, ‘আল্লাহ্ র রাসূলগণকে যা দেওয়া হয়েছিল আমাদেরকেও তা না দেওয়া পর্যন্ত আমরা কখনও বিশ্বাস করব না।’ আল্লাহ্ তাঁর রিসালাতের দায়িত্ব কার ওপর অর্পণ করবেন তা তিনিই ভাল জানেন। যারা অপরাধ করেছে, চক্রান্তের জন্যে আল্লাহ্ র নিকট হতে লাঞ্ছনা ও কঠোর শাস্তি তাদের ওপর আপতিত হবেই। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর যখন তাদের নিকট কোন নিদর্শন আসে, তারা বলে, আমরা কখনই ঈমান আনব না, যতক্ষণ না আল্লাহর রাসূলদেরকে যা দেয়া হয়েছে আমাদেরকে তার অনুরূপ দেয়া হয়। আল্লাহ ভালো জানেন, তিনি কোথায় তাঁর রিসালাত অর্পণ করবেন। যারা অপরাধ করেছে, অচিরেই তাদেরকে আক্রান্ত করবে আল্লাহর নিকট লাঞ্ছনা ও কঠোর আযাব, কারণ তারা চক্রান্ত করত।আল-বায়ান

যখন তাদের কাছে কোন নিদর্শন আসে তখন তারা বলে, ‘আমরা কক্ষনো বিশ্বাস করব না যতক্ষণ না আমাদেরকে তা দেয়া হয় যা আল্লাহর রসূলগণকে দেয়া হয়েছিল। (নির্বোধেরা এ আবদার করলেও) আল্লাহ খুব ভালভাবেই জানেন তাঁর রিসালাতের দায়িত্ব কোথায় দিতে হবে, অপরাধীরা শীঘ্রই তাদের চক্রান্তের প্রতিফল হিসেবে আল্লাহর পক্ষ হতে লাঞ্ছনা ও কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হবে।তাইসিরুল

আর যখন তাদের কাছে কোনো নিদর্শন আসে, তারা বলে -- "আমরা কখনো বিশ্বাস করবো না যে পর্যন্ত না আল্লাহ্‌র রসূলদের যা দেয়া হয়েছে তার অনুরূপ কিছু আমাদেরও দেওয়া হয়।" আল্লাহ্‌ই ভালো জানেন কোথায় তাঁর প্রত্যাদেশের ভারার্পণ করবেন। যারা অপরাধ করে চলে তাদের উপরে শীঘ্রই ঘটবে আল্লাহ্‌র তরফ থেকে লাঞ্ছনা এবং কঠোর শাস্তি -- তারা যা চক্রান্ত করে চলেছে সেজন্য।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৯১

অর্থাৎ রসূলদের কাছে ফেরেশতা এসেছে এবং তারা আল্লাহর পয়গাম এনেছে, রসূলদের এ দাবী আমরা মানি না। যতক্ষন ফেরেশতারা সরাসরি আমাদের কাছে না আসে এবং “এটি আল্লাহর বাণী” একথা সরাসরি আমাদের না বলে ততক্ষণ আমরা ঈমান আনতে পারি না।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

অর্থাৎ নবীগণের প্রতি যেমন ওহী নাযিল করা হয়েছিল যতক্ষণ পর্যন্ত তেমনি ওহী আমাদের উপর নাযিল না করা হবে এবং তাদেরকে যেমন মুজিযা দেওয়া হয়েছিল সে রকম মুজিযা যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদেরকে না দেওয়া হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা ঈমান আনব না। সারকথা এই যে, তাদের দাবী ছিল, তাদের প্রত্যেককে পরিপূর্ণ নবুওয়াত দান করতে হবে। এ কারণেই আল্লাহ তাআলা এর উত্তর দিয়েছেন যে, নবুওয়াত কাকে দান করা হবে তা আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন।

তাফসীরে জাকারিয়া

১২৪. আর যখন তাদের কাছে কোন নিদর্শন আসে তখন তারা বলে, আল্লাহর রাসূলগণকে যা দেয়া হয়েছিল আমাদেরকেও তার অনুরূপ না দেয়া পর্যন্ত আমরা কখনো ঈমান আনব না। আল্লাহ তার রিসালাত কোথায় অর্পণ করবেন তা তিনিই ভাল জানেন। যারা অপরাধ করেছে, তাদের চক্রান্তের কারণে আল্লাহর কাছে(১) লাঞ্ছনা ও কঠোর শাস্তি অচিরেই তাদের উপর আপতিত হবে।(২)

(১) ‘আল্লাহর কাছে’ -এর এক অর্থ এই যে, তারা নিজেদেরকে সম্মানিত ভাবলেও আল্লাহর নিকট তারা সম্মানিত নয়। অথবা কেয়ামতের দিন যখন তারা আল্লাহর সামনে উপস্থিত হবে, তখন অপমানিত ও লাঞ্ছিত অবস্থায় উপস্থিত হবে। অতঃপর তাদেরকে কঠোর শাস্তি দেয়া হবে। দ্বিতীয় আরেকটি অর্থ এই যে, এখানে অর্থ হবে, ‘আল্লাহর কাছ থেকে’ অর্থাৎ বর্তমানে বাহ্যতঃ তারা সর্দার ও সম্মানিত হলেও আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদেরকে তীব্র অপমান ও লাঞ্ছনা স্পর্শ করবে। এমনটি দুনিয়াতেও হতে পারে এবং আখেরাতেও। (কুরতুবী)

যেমন, নবীগণের শক্রদের ব্যাপারে জগতের ইতিহাসে এরূপ হতে দেখা গেছে। অর্থাৎ তাদের শক্ররা পরিণামে দুনিয়াতেও লাঞ্ছিত হয়েছে। আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বড় বড় শক্র, যারা নিজেরা সম্মানী বলে খুব আস্ফালন করত, তারা একে একে ইসলাম গ্রহণ করে নিয়েছে, না হয় অপমানিত ও লাঞ্ছিত অবস্থায় ধ্বংস হয়ে গেছে। আবু জাহল, আবু লাহাব প্রমূখ কুরাইশ সর্দারদের অবস্থা বিশ্ববাসীর চোখের সামনে ফুটে উঠেছে।

(২) অর্থ এই যে, সত্যের যেসব শত্রু আজ স্বগোত্রে সর্দার ও বড় লোক খেতাবে ভূষিত, অতিসত্বর তাদের বড়ত্ব ও সম্মান ধুলায় লুন্ঠিত হবে। (কুরতুবী) আল্লাহর কাছে তারা তীব্র অপমান ও লাঞ্ছনা ভোগ করবে এবং কঠোর শাস্তিতে পতিত হবে। যা তাদের বর্তমান অহংকারেরই যথাযথ শাস্তি। (সা'দী)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(১২৪) আর যখন তাদের নিকট কোন নিদর্শন আসে, তখন তারা বলে, ‘আল্লাহর রসূলগণকে যা দেওয়া হয়েছিল, আমাদেরকে তা না দেওয়া পর্যন্ত আমরা কখনোও বিশ্বাস করব না।’(1) রসূলের পদ বা দায়িত্ব আল্লাহ কার উপর অর্পণ করবেন, তা তিনিই ভাল জানেন।(2) যারা অপরাধ করেছে, তাদের চক্রান্তের কারণে আল্লাহর নিকট হতে তাদের উপর লাঞ্ছনা ও কঠোর শাস্তি আপতিত হবে।

(1) অর্থাৎ, তাদের কাছেও ফিরিশতা অহী আনয়ন করুন এবং তাদের মাথাতেও নবুঅত ও রিসালাতের মুকুট পরানো হোক।

(2) অর্থাৎ, কাকে নবী বানানো যাবে, এ সিদ্ধান্ত (মানুষের হাতে নেই; বরং তা আছে) একমাত্র আল্লাহর হাতে। তিনিই সকল বিষয়ের হিকমত ও কল্যাণ সম্বন্ধে অবগত। আর তিনিই ভালো জানেন এ মহান পদের যোগ্যতম ব্যক্তি কে? মক্কার কোন চৌধুরী, জননেতা, নাকি আব্দুল্লাহ ও আমিনার অনাথ সন্তান?