أَوَمَن كَانَ مَيۡتٗا فَأَحۡيَيۡنَٰهُ وَجَعَلۡنَا لَهُۥ نُورٗا يَمۡشِي بِهِۦ فِي ٱلنَّاسِ كَمَن مَّثَلُهُۥ فِي ٱلظُّلُمَٰتِ لَيۡسَ بِخَارِجٖ مِّنۡهَاۚ كَذَٰلِكَ زُيِّنَ لِلۡكَٰفِرِينَ مَا كَانُواْ يَعۡمَلُونَ

আওয়া মান ক-না মাইতান ফাআহইয়াইনা-হু ওয়া জা‘আলনা-লাহূনূরইঁ ইয়ামশী বিহী ফিন্না-ছি কামাম মাছালুহূফিজজু লুমা-তি লাইছা বিখা-রিজিম মিনহা- কাযা-লিকা ঝুইয়িনা লিলক-ফিরীনা মা-ক-নূইয়া‘মালূন।উচ্চারণ

যে ব্যক্তি প্রথমে মৃত ছিল, পরে আমি তাকে জীবন দিয়েছি ৮৮ এবং তাকে এমন আলো দিয়েছি যার উজ্জ্বল আভায় সে মানুষের মধ্যে জীবন পথে চলতে পারে, সে কি এমন ব্যক্তির মতো হতে পারে, যে অন্ধকারের বুকে পড়ে আছে এবং কোনক্রমেই সেখানে বের হয় না? ৮৯ তাফহীমুল কুরআন

একটু বল তো, যে ব্যক্তি ছিল মৃত, অতঃপর আমি তাকে জীবন দিয়েছি এবং তার জন্য এক আলোর ব্যবস্থা করেছি, যার সাহায্যে সে মানুষের মধ্যে চলাফেরা করে, #%৬৩%# সে কি ওই ব্যক্তির মত হতে পারে, যার অবস্থা এই যে, সে অন্ধকার দ্বারা পরিবেষ্টিত, যা থেকে সে কখনও বের হতে পারবে না? এভাবেই কাফেরদের দৃষ্টিতে তাদের কৃতকর্মকে আকর্ষণীয় করে তোলা হয়েছে। মুফতী তাকী উসমানী

এমন ব্যক্তি-যে ছিল প্রাণহীন, অতঃপর তাকে আমি জীবন দান করি এবং তার জন্য আমি এমন আলোকের ব্যবস্থা করে দিই, যার সাহায্যে সে জনগণের মধ্যে চলাফিরা করতে থাকে, সে কি এমন কোন লোকের মত হতে পারে যে ডুবে আছে অন্ধকারে এবং তা হতে বের হওয়ার পথ পাচ্ছেনা? এ রূপেই কাফিরদের জন্য তাদের কার্যকলাপ মনোমুগ্ধকর করে দেয়া হয়েছে।মুজিবুর রহমান

আর যে মৃত ছিল অতঃপর আমি তাকে জীবিত করেছি এবং তাকে এমন একটি আলো দিয়েছি, যা নিয়ে সে মানুষের মধ্যে চলাফেরা করে। সে কি ঐ ব্যক্তির সমতুল্য হতে পারে, যে অন্ধকারে রয়েছে-সেখান থেকে বের হতে পারছে না? এমনিভাবে কাফেরদের দৃষ্টিতে তাদের কাজকর্মকে সুশোভিত করে দেয়া হয়েছে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যে ব্যক্তি মৃত ছিল, যাকে আমি পরে জীবিত করেছি আর যাকে মানুষের মধ্যে চলার জন্যে আলোক দিয়েছি সেই ব্যক্তি কি ঐ ব্যক্তির ন্যায়, যে অন্ধকারে রয়েছে আর সেই স্থান হতে বের হওয়ার নয় ? এইরূপে কাফিরদের দৃষ্টিতে তাদের কৃতকর্ম শোভন করে দেওয়া হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যে ছিল মৃত, অতঃপর আমি তাকে জীবন দিয়েছি এবং তার জন্য নির্ধারণ করেছি আলো, যার মাধ্যমে সে মানুষের মধ্যে চলে, সে কি তার মত যে ঘোর অন্ধকারে রয়েছে, যেখান থেকে সে বের হতে পারে না? এভাবেই কাফিরদের জন্য তাদের কৃতকর্ম সুশোভিত করা হয়।আল-বায়ান

যে ব্যক্তি মৃত ছিল, তাকে আমি জীবিত করলাম, তার জন্য আলোর ব্যবস্থা করলাম যার সাহায্যে সে মানুষের মাঝে চলাফেরা করে, সে কি তার মত যে অন্ধকারে নিমজ্জিত, যাত্থেকে সে কক্ষনো বেরিয়ে আসতে পারবে না। এটা এজন্য যে, কাফিররা যা করছে তা তাদের জন্য চাকচিক্যময় করে দেয়া হয়েছে।তাইসিরুল

যিনি ছিলেন মৃত, তারপর তাঁকে আমরা জীবন্ত করলাম, আর তাঁর জন্য তৈরি করলাম আলো যার সাহায্যে তিনি মানুষদের মধ্যে চলাফেরা করেন, -- তিনি কি তার মতো যার তুলনা হচ্ছে এমন এক লোক যে থাকে অন্ধকারে যা থেকে তার বেরুনোর পথ নেই? এইভাবে অবিশ্বাসীদের জন্য আমরা চিত্তাকর্ষক করে থাকি যা তারা করতে থাকে।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৮৮

এখানে মৃত্যু বলা হয়েছে অজ্ঞতা, মূর্খতা ও চেতনাবিহীন অবস্থাকে। আর জীবন বলতে জ্ঞান, উপলব্ধি ও প্রকৃত সত্যকে চিনতে পারার অবস্থাকে বুঝানো হয়েছে। যে ব্যক্তির মধ্যে ভুল ও নির্ভুলের পার্থক্যবোধ নেই এবং যার সত্য-সরল পথের স্বরূপ জানা নেই, জীব বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে সে জীবন সম্পন্ন হলেও প্রকৃত সত্যের বিচারে সে মনুষ্য পদবাচ্য নয়। সে অবশ্যি জীবন্ত প্রাণী কিন্তু জীবন্ত মানুষ নয়। জীবন্ত মানুষ একমাত্র তাকেই বলা যাবে যে সত্য-মিথ্যা, ভাল-মন্দ, ন্যায়-অন্যায় ও ভুল-নির্ভুলের চেতনা রাখে।

৮৯

অর্থাৎ যে মানুষটি মানবিক চেতনা লাভ করেছে এবং জ্ঞানের উজ্জ্বল আলোয় বাঁকা পথগুলোর মাঝখানে পড়ে থাকা সত্যের সোজা রাজপথটি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে, তার ব্যাপারে কেমন করে আশা করা যেতে পারে যে, সে এমনসব চেতনাবিহীন লোকদের মতো দুনিয়ায় জীবন যাপন করবে, যারা অজ্ঞতা ও মূর্খতার অন্ধকারে পথ হারা হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে?

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

এখানে আলো দ্বারা ইসলামের আলো বোঝানো হয়েছে। ‘মানুষের মধ্যে চলাফেরা করে’ বলে ইশারা করা হয়েছে যে, ‘মানুষ দুনিয়ার কাজ-কর্ম ছেড়ে-ছুঁড়ে দিয়ে এবং লোকের সঙ্গে মেলামেশা বাদ দিয়ে এক কোণায় ইবাদত-বন্দেগীতে বসে থাকবে’ এটা ইসলামের শিক্ষা নয়। ইসলামের দাবী তো এই যে, সে মানব সাধারণের একজন হয়েই থাকবে, তাদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাজ-কর্ম করবে এবং তাদের হক আদায় করবে; কিন্তু সে যেখানেই যাবে ইসলামের আলো সঙ্গে নিয়ে যাবে অর্থাৎ এ সবকিছুই করবে ইসলামী বিধান অনুযায়ী।

তাফসীরে জাকারিয়া

১২২. যে ব্যক্তি মৃত ছিল, যাকে আমরা পরে জীবিত করেছি এবং যাকে মানুষের মধ্যে চলার জন্য আলোক দিয়েছি, সে ব্যক্তি কি ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে অন্ধকারে রয়েছে এবং সেখান থেকে আর বের হবার নয়? এভাবেই কাফেরদের জন্য তাদের কাজগুলোকে শোভন করে দেয়া হয়েছে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(১২২) যে ব্যক্তি মৃত ছিল, যাকে আমি পরে জীবিত করেছি এবং যাকে মানুষের মধ্যে চলার জন্য আলোক দিয়েছি সেই ব্যক্তি কি ঐ ব্যক্তির মত, যে অন্ধকারে রয়েছে এবং সে স্থান হতে বের হবার নয়?(1) এরূপে অবিশ্বাসীদের দৃষ্টিতে তাদের কৃতকর্মকে শোভন করে রাখা হয়েছে।

(1) এই আয়াতে মহান আল্লাহ অবিশ্বাসী কাফেরকে মৃত এবং বিশ্বাসী মু’মিনকে জীবিত গণ্য করেছেন। কারণ, কাফের কুফরী ও ভ্রষ্টতার এমন অন্ধকারে ঘুরপাক খায়, যেখান হতে সে বের হতে পারে না, যার নিশ্চিত ফল ধ্বংস ও বিনাশ। পক্ষান্তরে মু’মিনের অন্তরকে আল্লাহ তাআলা ঈমান দ্বারা জীবিত করে দেন। যার ফলে জীবনের চলার পথ তার জন্য আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে যায় এবং সে ঈমান ও হিদায়াতের পথে চলতে থাকে। যার সুনিশ্চিত ফল হল, সফলতা ও কৃতকার্যতা। এটা ঐ বিষয়ই যা সূরা বাক্বারাহ ২৫৭, হূদ ২৪, ফাত্বির ১৯-২২নং আয়াগুলোতে বর্ণনা করা হয়েছে।