فَكُلُواْ مِمَّا ذُكِرَ ٱسۡمُ ٱللَّهِ عَلَيۡهِ إِن كُنتُم بِـَٔايَٰتِهِۦ مُؤۡمِنِينَ

ফাকুলূমিম্মা-যুকিরছমুল্লা-হি ‘আলাইহি ইন কুনতুম বিআ-য়া-তিহী মু’মিনীন।উচ্চারণ

এখন যদি তোমরা আল্লাহর আয়াতসমূহ বিশ্বাস করে থাকো, তাহলে যে পশুর ওপর আল্লাহর নাম নেয়া হয়েছে তার গোশ্‌ত খাও। ৮৪ তাফহীমুল কুরআন

সুতরাং এমন সব (হালাল) পশু থেকে খাও, যাতে আল্লাহর নাম নেওয়া হয়েছে যদি তোমরা সত্যিই তার নিদর্শনাবলীতে ঈমান রাখ। #%৬১%#মুফতী তাকী উসমানী

অতএব যে জীবকে আল্লাহর নাম নিয়ে যবাহ করা হয়েছে তা তোমরা আহার কর, যদি তোমরা আল্লাহর বিধানের প্রতি ঈমান রাখ।মুজিবুর রহমান

অতঃপর যে জন্তুর উপর আল্লাহর নাম উচ্চারিত হয়, তা থেকে ভক্ষণ কর যদি তোমরা তাঁর বিধানসমূহে বিশ্বাসী হও।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তোমরা তাঁর বিধানে বিশ্বাসী হলে যাতে আল্লাহ্ র নাম নেওয়া হয়েছে তা হতে আহার কর; ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সুতরাং তোমরা আহার কর তা থেকে, যার উপর আল্লাহর নাম নেয়া হয়েছে, যদি তোমরা তাঁর আয়াতসমূহের ব্যাপারে বিশ্বাসী হও।আল-বায়ান

কাজেই যে পশু যবেহ করার সময় আল্লাহর নাম নেয়া হয়েছে তা তোমরা খাও যদি তাঁর নিদর্শনাবলীতে তোমরা বিশ্বাসী হয়ে থাক।তাইসিরুল

কাজেই আহার করো যার উপরে আল্লাহ্‌র নাম উল্লেখ করা হয়েছে, -- যদি তোমরা তাঁর নির্দেশসমূহে বিশ্বাসী হও।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৮৪

দুনিয়ার বেশীর ভাগ মানুষ নিজেদের ধারণা, কল্পনা ও আন্দাজ-অনুমানের ভিত্তিতে যেসব ভুল কর্মপন্থা অবলম্বন করেছে এবং যেগুলো ধর্মীয় বিধি-নিষেধের পর্যায়ভুক্ত হয়ে গেছে তার মধ্যে একটি হচ্ছে পানাহার সামগ্রী সম্পর্কিত। বিভিন্ন জাতির মধ্যে এ জাতীয় বিধি-নিষেধের প্রচলন রয়েছে। অনেক জিনিসকে লোকেরা নিজেরাই হালাল গণ্য করেছে। অথচ আল্লাহর বিধান অনুযায়ী সেগুলো হারাম। আবার অনেক জিনিসকে লোকেরা নিজেরাই হারাম করে নিয়েছে। অথচ আল্লাহ‌ সেগুলো হালাল করে দিয়েছেন। বিশেষ করে আল্লাহর নাম নিয়ে যেসব পশু যবেহ করা হবে সেগুলোকে হারাম ঠাওরানো হয়েছে এবং আল্লাহর নাম না নিয়ে যেগুলো যবেহ করা হবে সেগুলোকে একেবারেই হালাল মনে করা হয়েছে। এ ধরনের নিদারুণ অজ্ঞতাপ্রসূত দৃষ্টিভংগীর ওপর অতীতেও কোন কোন দল জোর দিয়েছিল এবং বর্তমানেও দুনিয়ার একদল লোক জোর দিয়ে চলছে। এরই প্রতিবাদে আল্লাহ‌ এখানে মুসলমানদেরকে বলছেন, যদি সত্যি তোমরা আল্লাহর ওপর ঈমান এনে থাকো এবং তাঁর বিধানসমূহ মেনে নিয়ে থাকো, তাহলে কাফের ও মুশরিকদের মধ্যে যেসব কুসংস্কার ও বিদ্বেষমূলক রীতি-প্রথার প্রচলন রয়েছে সেগুলো পরিহার করো, আল্লাহর বিধানের পরোয়া না করে মানুষ নিজেই যেসব বিধি-নিষেধের প্রাচীর তৈরি করেছে সেগুলো ভেঙ্গে ফেলো এবং আল্লাহ‌ যে জিনিস হারাম করেছেন কেবল তাকেই হারাম মনে করো আর আল্লাহ‌ যে জিনিস হালাল করেছেন কেবল তাকেই হালাল মনে করো।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

যারা কেবল অনুমান ভিত্তিক ধর্মের অনুসরণ করে, এতক্ষণ তাদের সম্পর্কে আলোচনা চলছিল। তারা তাদের সে সব পথভ্রষ্টতার কারণেই আল্লাহ তাআলার হালাল কৃত বস্তুকে হারাম বলত এবং আল্লাহ তাআলা যে জিনিসকে হারাম করেছেন তাকে হালাল মনে করত। এমনকি একবার কতিপয় কাফের মুসলিমদের প্রতি প্রশ্ন তুলেছিল যে, যে পশুকে আল্লাহ তাআলা হত্যা করেন, অর্থাৎ যা স্বাভাবিকভাবে মারা যায়, তোমরা তাকে মৃত ও হারাম সাব্যস্ত করে থাক; আর যে পশুকে তোমরা নিজেরা হত্যা কর তাকে হালাল মনে কর। তারই উত্তরে এ আয়াত নাযিল হয়েছে। এর সারমর্ম এই যে, হালাল ও হারাম করার এখতিয়ার সম্পূর্ণ আল্লাহর হাতে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, যে পশু আল্লাহর নামে যবাহ করা হয় তা খাওয়া হালাল; আর যে পশু যবাহ ছাড়াই মারা যায় কিংবা যা যবাহ করার সময় আল্লাহর নাম নেওয়া হয় না তা হারাম। যারা আল্লাহর আয়াতে বিশ্বাস রাখে, আল্লাহর এ ফায়সালার পর তাদের পক্ষে নিজেদের মনগড়া ধ্যান-ধারণার ভিত্তিতে কোন কিছুকে হালাল বা হারাম সাব্যস্ত করা সাজে না। চিন্তা করার বিষয় হচ্ছে যে, কাফেরদের উপরে বর্ণিত প্রশ্নের উত্তরে এই যুক্তিও পেশ করা যেত যে, যে পশুকে যথারীতি যবাহ করা হয়, তার রক্ত ভালোভাবে বের হয়ে যায়। পক্ষান্তরে যে পশু এমনিতেই মারা যায়, তার রক্ত তার শরীরেই থেকে যায়, ফলে তার গোশত নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু আল্লাহ তাআলা এর তাৎপর্য বর্ণনা করেননি; বরং কেবল এতটুকু বলেই ক্ষান্ত হয়েছেন যে, যা-কিছু হারাম তা আল্লাহ নিজেই জানিয়ে দিয়েছেন। কাজেই তাঁর বিধানাবলীর বিপরীতে নিজের কাল্পনিক ঘোড়া হাঁকানো কোন মুমিনের কাজ হতে পারে না। এভাবে আল্লাহ তাআলা পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, যদিও আল্লাহ তাআলার প্রতিটি হুকুমের মধ্যে কোনও না কোনও তাৎপর্য নিহিত রয়েছে, কিন্তু নিজ আনুগত্যকে সেই তাৎপর্য বোঝার উপর মওকুফ রাখা মুসলিম ব্যক্তির কাজ নয়। তার কর্তব্য আল্লাহ তাআলার কোনও আদেশ এসে গেলে বিনা বাক্যে তা পালন করে যাওয়া, তাতে সে আদেশের তাৎপর্য বুঝে আসুক বা নাই আসুক।

তাফসীরে জাকারিয়া

১১৮. সুতরাং তোমরা তার আয়াতসমূহে ঈমানদার হলে, যাতে আল্লাহ্‌র নাম নেয়া হয়েছে তা থেকে খাও;

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(১১৮) তোমরা যদি তাঁর আয়াতসমূহে বিশ্বাসী হও, তাহলে যার যবেহকালে আল্লাহর নাম নেওয়া হয়েছে, তা ভক্ষণ কর।(1)

(1) অর্থাৎ, যে পশুকে শিকার অথবা যবেহ বা নহর করার সময় আল্লাহর নাম নেওয়া হয়, তা খাও; যদি তা এমন পশু হয় যা খাওয়া বৈধ। এর অর্থ হল, যে পশুকে শিকার অথবা যবেহ বা নহর করার সময় ইচ্ছাকৃতভাবে আল্লাহর নাম নেওয়া হয় না, তা হালাল ও বৈধ নয়। তবে যবেহ করার সময় যবেহকারী আল্লাহর নাম নিয়েছে, না নেয়নি --এই সন্দেহজনক ব্যাপারটা এ থেকে স্বতন্ত্র। এ ব্যাপারে বিধান হল, আল্লাহর নাম নিয়ে তা খাও। হাদীসে আছে কিছু লোক রসূল (সাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেন, একদল লোক আমাদের কাছে গোশত নিয়ে আসে (এ থেকে বুঝানো হয়েছে এমন মরুবাসীদেরকে, যারা নতুন নতুন ইসলাম গ্রহণ করেছিল এবং সম্পূর্ণরূপে ইসলামী জ্ঞান লাভ করতে পারে নি।) আমরা জানি না যে, তারা (যবেহকালে) আল্লাহর নাম নিয়েছে, না নেয়নি? তখন তিনি বললেন, سَمُّوْا عَلَيْهِ أَنْتُمْ وَكُلُوْا )) অর্থাৎ, তোমরা আল্লাহর নাম নিয়ে তা খাও। (বুখারী) অর্থাৎ, সন্দেহজনক অবস্থায় এর অনুমতি আছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে, সর্বপ্রকার পশুর গোশত ‘বিসমিল্লাহ’ পড়ে নিলেই হালাল হয়ে যাবে। এ থেকে ঊর্ধ্বপক্ষে কেবল এতটাই প্রমাণিত হয় যে, মুসলিমদের বাজার ও দোকানে যে গোশত পাওয়া যায়, তা হালাল। হ্যাঁ, যদি কেউ উক্ত সন্দেহ ও দ্বিধায় পতিত হয়, তবে সে খাওয়ার সময় ‘বিসমিল্লাহ’ পড়ে নেবে।