وَجَعَلُواْ لِلَّهِ شُرَكَآءَ ٱلۡجِنَّ وَخَلَقَهُمۡۖ وَخَرَقُواْ لَهُۥ بَنِينَ وَبَنَٰتِۭ بِغَيۡرِ عِلۡمٖۚ سُبۡحَٰنَهُۥ وَتَعَٰلَىٰ عَمَّا يَصِفُونَ

ওয়া জা‘আলূলিল্লা-হি শুরকাআল জিন্না ওয়া খালাকাহুম ওয়া খারকূলাহূবানীনা ওয়াবানা-তিম বিগাইরি ‘ইলমিন ছুবহা-নাহূতা‘আ-লা-‘আম্মা-ইয়াসিফূন।উচ্চারণ

এসব সত্ত্বেও লোকেরা জ্বিনদেরকে আল্লাহর সাথে শরীক করলো, ৬৭ অথচ তিনি তাদের সৃষ্টিকর্তা। আর তারা না জেনে বুঝে তাঁর জন্য পুত্র ও কন্যা তৈরী করে ফেললো, ৬৮ অথচ এরা যেসব কথা বলে তা থেকে তিনি পবিত্র এবং তার উর্ধ্বে। তাফহীমুল কুরআন

লোকে জিনদেরকে আল্লাহর শরীক সাব্যস্ত করেছে, #%৪৮%# অথচ আল্লাহই তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং তারা অজ্ঞতাবশত তাঁর জন্য পুত্র-কন্যা গড়ে নিয়েছে, #%৪৯%# অথচ তারা (আল্লাহর সম্পর্কে) যা-কিছু বলে, তিনি তা থেকে পবিত্র ও বহু ঊর্ধ্বে।মুফতী তাকী উসমানী

আর এই (অজ্ঞ) লোকেরা জিনদেরকে আল্লাহর শরীক বানিয়ে নিয়েছে, অথচ আল্লাহই ঐগুলিকে সৃষ্টি করেছেন, আর না জেনে না বুঝে তারা তাঁর জন্য পুত্র কন্যা রচনা করে; তিনি মহিমান্বিত (পবিত্র), এদের আরোপিত বিশেষণগুলি হতে বহু উর্ধ্বে তিনি।মুজিবুর রহমান

তারা জিনদেরকে আল্লাহর অংশীদার স্থির করে; অথচ তাদেরকে তিনিই সৃস্টি করেছেন। তারা অজ্ঞতাবশতঃ আল্লাহর জন্যে পুত্র ও কন্যা সাব্যস্ত করে নিয়েছে। তিনি পবিত্র ও সমুন্নত, তাদের বর্ননা থেকে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তারা জিনকে আল্লাহ্ র শরীক করে, অথচ তিনিই এদেরকে সৃষ্টি করেছেন আর তারা অজ্ঞতাবশত আল্লাহ্ র প্রতি পুত্র-কন্যা আরোপ করে; তিনি পবিত্র- মহিমান্বিত! আর এরা যা বলে তিনি তার ঊর্ধ্বে।ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর তারা জিনকে আল্লাহর জন্য শরীক সাব্যস্ত করেছে, অথচ তিনি তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন। আর তারা অজ্ঞতাবশত মনগড়াভাবে নির্ধারণ করেছে তার জন্য পুত্র ও কন্যা সন্তান। তিনি পবিত্র মহান এবং তারা যা বিবরণ দেয় তা থেকে ঊর্ধ্বে।আল-বায়ান

তারা জ্বীনকে আল্লাহর অংশীদার স্থির করে অথচ তাদেরকে তিনিই সৃষ্টি করেছেন, তারা না জেনে না বুঝে আল্লাহর জন্য পুত্র-কন্যা স্থির করে, তাদের এসব কথা হতে তিনি পবিত্র ও মহান।তাইসিরুল

তথাপি তারা আল্লাহ্‌র সঙ্গে শরিক করে জিনকে, যদিও তিনিই ওদের সৃষ্টি করেছেন, আর তারা কোনো জ্ঞান ছাড়াই তাঁতে আরোপ করে পুত্র ও কন্যাদের। তাঁরই সব মহিমা! আর তারা যা আরোপ করে সে-সব থেকে তিনি বহু ঊর্ধ্বে।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৬৭

অর্থাৎ তারা নিজেদের কল্পনা ও আন্দাজ অনুমানের সাহায্যে এ সিদ্ধান্ত করে বসেছে যে, এ বিশ্ব-জাহান পরিচালনা এবং মানুষের ভাগ্যের ভাঙ্গা গড়ায় আল্লাহর সাথে আরো অনেক গোপন সত্তার শরীকানা আছে। তাদের মধ্যে কেউ বৃষ্টির দেবতা, কেউ ফসল উৎপাদনের দেবতা, কেউ ধন-দৌলতের দেবী, কেউ রোগের দেবী এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে এ ধরনের আরো বিভিন্ন দেব-দেবী বিরাজ করছে। ভূত, প্রেত, শয়তান, রাক্ষস ও দেব-দেবী সম্পর্কিত এ ধরনের নানান অর্থহীন বিশ্বাস দুনিয়ার বিভিন্ন মুশরিক জাতির মধ্যে গড়ে উঠেছে।

৬৮

আবরের মূর্খ লোকরা ফেরেশতাদেরকে বলতো আল্লাহর মেয়ে। এভাবে দুনিয়ার অন্যান্য মুশরিক জাতিরাও আল্লাহর বংশধারা চালিয়ে দিয়েছে। তারপর কল্পনার সাহায্যে তারা দেব-দেবীদের একটি পূর্ণাঙ্গ বংশ তালিকা তৈরী করে ফেলেছে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

জিন দ্বারা শয়তান বোঝানো হয়েছে। এর দ্বারা সেই সকল লোকের আকীদার প্রতি ইশারা করা হয়েছে, যারা বলত, সকল উপকারী জীব-জন্তু তো আল্লাহ তাআলা সৃষ্টি করেছেন, কিন্তু সাপ, বিচ্ছু ও অন্যান্য ক্ষতিকর প্রাণী বরং সমস্ত মন্দ জিনিস শয়তানের সৃষ্টি; সেই তাদের স্রষ্টা। তারা তো বাহ্যত এসব মন্দ জিনিসের সৃষ্টিকার্য হতে আল্লাহ তাআলাকে মুক্ত ঘোষণা করল, কিন্তু এতটুকু বুঝতে পারল না যে, যেই শয়তান সর্বাপেক্ষা ক্ষতিকর জিনিস তাকেও তো আল্লাহ তাআলাই সৃষ্টি করেছেন। মন্দ জিনিস যদি শয়তানের সৃষ্টি হয়, তবে খোদ যে শয়তান সর্বাপেক্ষা মন্দ, তাকে কে সৃষ্টি করল? তাছাড়া আপাতদৃষ্টিতে যে সকল জিনিসকে আমরা মন্দ মনে করছি, তার সৃজনের মধ্যেও আল্লাহ তাআলার বহু হিকমত ও রহস্য নিহিত আছে। কাজেই তার সৃজনকে মন্দ বলা যেতে পারে না। মহাকবি ইকবাল বলেন, نهيں هے چيز نكمى كوئى زمانے ميں كوئى برا نهيں قدرت كےكا ر خانے ميں ‘কোন বস্তুই কোনও কালে নিরর্থক নয়, স্রষ্টার কারখানায় কোনও জিনিসই মন্দ নয়।’

তাফসীরে জাকারিয়া

১০০. আর তারা জিনকে আল্লাহর সাথে শরীক সাব্যস্ত করে, অথচ তিনিই এদেরকে সৃষ্টি করেছেন। আর তারা অজ্ঞতাবশত আল্লাহর প্রতি পুত্রকন্যা আরোপ করে; তিনি পবিত্র- মহিমান্বিত! এবং তারা যা বলে তিনি তার ঊর্ধ্বে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(১০০) তারা জ্বিনকে আল্লাহর অংশী স্থাপন করে, অথচ তিনিই ওদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং ওরা অজ্ঞানতাবশতঃ আল্লাহর প্রতি পুত্র-কন্যা আরোপ করে। তিনি মহিমার্নিত এবং ওরা যা বলে, তিনি তার ঊর্ধ্বে।