أُوْلَـٰٓئِكَ ٱلَّذِينَ ءَاتَيۡنَٰهُمُ ٱلۡكِتَٰبَ وَٱلۡحُكۡمَ وَٱلنُّبُوَّةَۚ فَإِن يَكۡفُرۡ بِهَا هَـٰٓؤُلَآءِ فَقَدۡ وَكَّلۡنَا بِهَا قَوۡمٗا لَّيۡسُواْ بِهَا بِكَٰفِرِينَ

উলাইকাল্লাযীনা আ-তাইনা-হুমুল কিতা-বা ওয়ালা হুকমা ওয়াননুবুওওয়াতা ফাইয় ইয়াকফুর বিহা-হাউলাই ফাকাদওয়াক্কালনা-বিহা-কাওমাল লাইছূবিহা-বিক-ফিরীন।উচ্চারণ

তাদেরকে আমি কিতাব, হুকুম ও নবুওয়াত দান করেছিলাম। ৫৭ এখন যদি এরা তা মানতে অস্বীকার করে তাহলে (কোন পরোয়া নেই) আমি অন্য এমন কিছু লোকের হাতে এ নিয়ামত সোপর্দ করে দিয়েছি যারা এগুলো অস্বীকার করে না। ৫৮ তাফহীমুল কুরআন

তারা ছিল এমন লোক, যাদেরকে আমি কিতাব, হিকমত ও নবুওয়াত দান করেছিলাম। #%৩৭%# সুতরাং এসব লোক (মক্কার মুশরিকগণ) যদি এটা (নবুওয়াত) প্রত্যাখ্যান করে, তবে (তার কোনও পরওয়া করো না। কেননা) এর (অনুসরণের) জন্য আমি এমন লোক নির্দিষ্ট করেছি, যারা এর অস্বীকারকারী নয়। #%৩৮%#মুফতী তাকী উসমানী

এরা ছিল সেই লোক, যাদেরকে আমি কিতাব, শাসনভার ও নবুওয়াত দান করেছি। সুতরাং যদি এরা তোমার নবুওয়াতকে অস্বীকার করে তাহলে তাদের স্থলে আমি এমন এক জাতিকে নিয়োগ করব, যারা ওটা অস্বীকার করেনা।মুজিবুর রহমান

তাদেরকেই আমি গ্রন্থ, শরীয়ত ও নবুয়ত দান করেছি। অতএব, যদি এরা আপনার নবুয়ত অস্বীকার করে, তবে এর জন্যে এমন সম্প্রদায় নির্দিষ্ট করেছি, যারা এতে অবিশ্বাসী হবে না।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আমি ওদেরকে কিতাব, কর্তৃত্ব ও নবূওয়াত দান করেছি, এরপর যদি এরা এইগুলিকে প্রত্যাখ্যানও করে তবে আমি তো এমন এক সম্প্রদায়ের প্রতি এগুলির ভার অর্পণ করেছি যারা এগুলি প্রত্যাখ্যান করবে না। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এরাই তারা, যাদেরকে আমি দান করেছি কিতাব, হুকুম ও নবুওয়াত। অতএব যদি তারা এর সাথে কুফরী করে, তবে আমি এগুলোর তত্ত্বাবধায়ক এমন কওমকে করেছি, যারা এর ব্যাপারে কাফির নয়।আল-বায়ান

এরা তারাই যাদেরকে আমি কিতাব, হিকমাত ও নবুওত দান করেছিলাম, এখন যদি তারা (অর্থাৎ বিধর্মীরা) এগুলোকে মেনে নিতে অস্বীকার করে তাহলে আমি এগুলোর ভার এমন সম্প্রদায়ের কাছে সোপর্দ করেছি যারা (অর্থাৎ মু’মিনরা) এগুলোর অস্বীকারকারী হবে না।তাইসিরুল

এরাঁই তাঁরা যাঁদের আমরা দিয়েছিলাম কিতাব, আর কর্তৃত্ব, আর নবুওৎ; কাজেই এরা যদি এ-সবে অবিশ্বাস পোষণ করে তবে আমরা নিশ্চয়ই এর তত্ত্বাবধানের ভার দিয়েছি এমন এক সম্প্রদায়ের উপরে যারা এতে অবিশ্বাসী হবে না।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৫৭

এখানে নবীদেরকে তিনটি জিনিস দেবার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এক, কিতাব অর্থাৎ আল্লাহর হেদায়াতনামা। দুই, হুকুম অর্থাৎ এ হেদায়াতনামার সঠিক জ্ঞান, তার মুলনীতিগুলোকে জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ও বিভিন্ন ব্যাপারে প্রয়োগ করার যোগ্যতা এবং বিভিন্ন জীবন সমস্যার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তকর মত প্রতিষ্ঠিত করার আল্লাহ্‌ প্রদত্ত ক্ষমতা। তিন, নবুওয়াত অর্থাৎ তিনি এ হেদায়াতনামা অনুযায়ী আল্লাহর সৃষ্টিকে পথ দেখাতে পারেন এমন একটি দায়িত্বশীল পদ ও মর্যাদা।

৫৮

এর অর্থ হচ্ছে, এ কাফের ও মুশরিকরা যদি আল্লাহর হেদায়াত ও পথ-নির্দেশনা গ্রহণ করতে অস্বীকার করে তাহলে করুক। আমি ঈমানদারদের এমন একটি দল সৃষ্টি করে দিয়েছি যারা এ নিয়ামতের যথার্থ কদর করে ও মর্যাদা দেয়।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

আরব মুশরিকগণ নবুয়াত ও রিসালাতকে অস্বীকার করত, তাদের জবাবে হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম ও তার আওলাদের মধ্যে যারা নবুওয়াত লাভ করেছিলেন তাদের বরাত দেওয়া হয়েছে। হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামকে তো আরবের পৌত্তলিকগণও স্বীকার করত। তাদেরকে বলা হচ্ছে, তিনি যদি নবী হতে পারেন এবং তাঁর বংশধরদের মধ্যে যদি নবুওয়াতের ধারা চালু থাকতে পারে, তবে নবুওয়াত কোনও জিনিসই নয়’ এরূপ মন্তব্য করা কিভাবে বৈধ হতে পারে? এবং কি করেই বা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে রাসূল বানিয়ে পাঠানোটা আপত্তির বিষয় হতে পারে, বিশেষত যখন তার নবুওয়াতের দলীল-প্রমাণ দিবালোকের মত সুস্পষ্ট হয়ে গেছে?

তাফসীরে জাকারিয়া

৮৯. এরাই তারা, যাদেরকে আমরা কিতাব, কর্তৃত্ব ও নবুওয়াত দান করেছি, অতঃপর যদি তারা এগুলোর সাথে কুফরী করে, তবে আমরা এমন এক সম্প্রদায়কে এগুলোর ভার দিয়েছি যারা এগুলোর সাথে কাফির নয়।(১)

(১) অর্থাৎ কিছুসংখ্যক সম্বোধিত ব্যক্তি যদি আপনার কথা অমান্য করে এবং পূর্ববর্তী সমস্ত নবীগণের নির্দেশ বর্ণনা করা সত্বেও অস্বীকারই করতে থাকে, তবে আপনি দুঃখিত হবেন না। কেননা, আপনার নবুওয়াত স্বীকার করার জন্য আমি একটি বিরাট জাতি স্থির করে রেখেছি। তারা অবিশ্বাস করবে না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আমলে বিদ্যমান মুহাজির ও আনসার এবং কেয়ামত পর্যন্ত আগমনকারী সমস্ত মুসলিম এ জাতির অন্তর্ভুক্ত। (আইসারুত তাফসীর) এ আয়াত তাদের সবার জন্য গর্বের সামগ্রী। কেননা, এ আয়াতে আল্লাহ্ তাআলা প্রশংসার স্থলে তাদের উল্লেখ করেছেন।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৮৯) এদেরকেই আমি কিতাব, প্রজ্ঞা ও নবুঅত প্রদান করেছি, অতঃপর যদি ওরা (কাফেররা) এগুলিকে অস্বীকার করে,(1) তাহলে আমি তো এমন এক সম্প্রদায় নির্ধারিত করে দিয়েছি, যারা এগুলি অস্বীকার করবে না। (2)

(1) এ থেকে লক্ষ্য হল, রসূল (সাঃ)-এর বিরোধী মুশরিক ও কাফেরগণ।

(2) এ থেকে লক্ষ্য হল, মুহাজির ও আনসার সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত আগত ঈমানদারগণ।