وَحَآجَّهُۥ قَوۡمُهُۥۚ قَالَ أَتُحَـٰٓجُّوٓنِّي فِي ٱللَّهِ وَقَدۡ هَدَىٰنِۚ وَلَآ أَخَافُ مَا تُشۡرِكُونَ بِهِۦٓ إِلَّآ أَن يَشَآءَ رَبِّي شَيۡـٔٗاۚ وَسِعَ رَبِّي كُلَّ شَيۡءٍ عِلۡمًاۚ أَفَلَا تَتَذَكَّرُونَ

ওয়াহাজ্জাহূকাওমুহূ ক-লা আতুহাজ্জুূন্নী ফিল্লা-হি ওয়াকাদ হাদা-নি ওয়া লাআখা-ফুমা-তুশরিকূনা বিহীইল্লাআইঁ ইয়াশাআ রববী শাইআওঁ ওয়াছি‘আ রববী কুল্লা-শাইয়িন ‘ইলমান আফালা-তাতাযাক্কারূনা ।উচ্চারণ

তাঁর সম্প্রদায় তাঁর সাথে বিতর্কে লিপ্ত হলো। তাতে সে তাঁর সম্প্রদায়কে বললোঃ তোমরা কি আল্লাহর ব্যাপারে আমার সাথে বিতর্ক করছো? অথচ তিনি আমাকে সত্য-সরল পথ দেখিয়ে দিয়েছেন এবং তোমরা যাদেরকে তাঁর সাথে শরীক করছো তাদেরকে আমি ভয় করি না, তবে আমার রব যদি কিছু চান তাহলে অবশ্যি তা হতে পারে। আমার রবের জ্ঞান সকল জিনিসের ওপর পরিব্যাপ্ত। এরপরও কি তোমাদের চেতনার উদয় হবে না? ৫৪ তাফহীমুল কুরআন

এবং (তারপর এই ঘটল যে,) তার সম্প্রদায় তার সাথে হুজ্জত শুরু করে দিল। #%৩৫%# ইবরাহীম (তাদেরকে) বলল, তোমরা কি আল্লাহ সম্পর্কে আমার সঙ্গে হুজ্জত করছ, অথচ তিনি আমাকে হিদায়াত দান করেছেন? তোমরা যে সকল জিনিসকে (আল্লাহর) শরীক সাব্যস্ত করছ, (তারা আমার কোন ক্ষতি সাধন করার ক্ষমতা রাখে না। তাই) আমি তাদেরকে ভয় করি না। অবশ্য আমার প্রতিপালক যদি (আমার) কোন (ক্ষতি সাধন) করতে চান (তবে সর্বাবস্থায়ই তা সাধিত হবে)। আমার প্রতিপালকের জ্ঞান সবকিছু পরিবেষ্টন করে রেখেছে। এতদসত্ত্বেও কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না?মুফতী তাকী উসমানী

আর তার জাতির লোকেরা তার সাথে ঝগড়া করতে থাকলে সে তাদেরকে বললঃ তোমরা কি আল্লাহর ব্যাপারে আমার সাথে ঝগড়া করছো? অথচ তিনি আমাকে সঠিক পথের সন্ধান দিয়েছেন! তোমরা আল্লাহর সাথে যা কিছু শরীক করছো আমি ওদের ভয় করিনা, তবে যদি আমার রাব্ব কিছু চান। প্রতিটি বস্তু সম্পর্কে আমার রবের জ্ঞান খুবই ব্যাপক, এর পরেও কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবেনা?মুজিবুর রহমান

তাঁর সাথে তার সম্প্রদায় বিতর্ক করল। সে বললঃ তোমরা কি আমার সাথে আল্লাহর একত্ববাদ সম্পর্কে বিতর্ক করছ; অথচ তিনি আমাকে পথ প্রদর্শন করেছেন। তোমরা যাদেরকে শরীক কর, আমি তাদেরকে ভয় করি না তবে আমার পালকর্তাই যদি কোন কষ্ট দিতে চান। আমার পালনকর্তাই প্রত্যেক বস্তুকে স্বীয় জ্ঞান দ্বারা বেষ্টন করে আছেন। তোমরা কি চিন্তা কর না ?মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তার সম্প্রদায় তার সঙ্গে বিতর্কে লিপ্ত হল। সে বলল, ‘তোমরা কি আল্লাহ্ সম্বন্ধে আমার সঙ্গে বিতর্কে লিপ্ত হবে ? তিনি তো আমাকে সৎপথে পরিচালিত করেছেন। আমার প্রতিপালক অন্যবিধ ইচ্ছা না করলে তোমরা যাকে তাঁর শরীক কর তাকে আমি ভয় করি না, সব কিছুই আমার প্রতিপালকের জ্ঞানায়ত্ত, তবে কি তোমরা অনুধাবন করবে না ? ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর তার কওম তার সাথে বাদানুবাদ করল। সে বলল, তোমরা কি বাদানুবাদ করছ আমার সাথে আল্লাহর ব্যাপারে, অথচ তিনি আমাকে হিদায়াত দিয়েছেন? তোমরা তাঁর সাথে যা শরীক কর, আমি তাকে ভয় করি না, তবে আমার রব যদি কিছু করতে চান। আমার রব ইলম দ্বারা সব কিছু পরিব্যাপ্ত করে আছেন। অতঃপর তোমরা কি উপদেশ গ্রহণ করবে না’?আল-বায়ান

তার জাতি তার সাথে বাদানুবাদ করল। সে বলল, তোমরা আল্লাহর ব্যাপারে আমার সাথে বাদানুবাদ করছ অথচ তিনি আমাকে সৎপথ দেখিয়েছেন। তোমরা যাদেরকে তার অংশীদার স্থির কর আমি তাদেরকে ভয় করি না। অবশ্য আল্লাহ যদি কিছু ইচ্ছে করেন (তবে সে কথা আলাদা)। প্রতিটি বস্তু সম্পর্কে আমার প্রতিপালকের জ্ঞান পরিব্যাপ্ত, তোমরা কি তা বুঝবে না?তাইসিরুল

আর তাঁর লোকেরা তাঁর সঙ্গে হুজ্জৎ শুরু করল। তিনি বললেন -- "তোমরা কি আমার সঙ্গে আল্লাহ্ সন্বন্ধে হুজ্জৎ করছো, অথচ তিনি আমাকে নিশ্চয়ই সৎপথ দেখিয়েছেন? আর আমি তাদের একটুও ভয় করি না যাদের তোমরা তাঁর সাথে শরিক করেছ, যদি না আমার প্রভু অন্যবিধ ইচ্ছা করেন। আমার প্রভু সব-কিছুর উপরেই জ্ঞানে আধিপত্য রাখেন। তবু কি তোমরা অনুধাবন করবে না?মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৫৪

কুরআনের মূল আয়াতে ‘তাযাক্কুর’ শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। এর সঠিক অর্থ হচ্ছে, যে ব্যক্তি গাফলতি ও ভুলের মধ্যে ডুবে ছিল তার হঠাৎ গাফলতি থেকে জেগে ওঠে যে জিনিস থেকে গাফেল হয়ে ছিল তার স্মরণ করা। তাই আমি أَفَلَا تَتَذَكَّرُونَএর অনুবাদ করেছিঃ “এরপরও কি তোমাদের চেতনার উদয় হবে না” হযরত ইবরাহীমের বক্তব্যের অর্থ হচ্ছে, তোমরা যা কিছু করছো তোমাদের আসল ও যথার্থ রব সে সম্পর্কে মোটেই অনবহিত নন। তিনি সব জিনিসের বিস্তারিত জ্ঞান রাখেন। কাজেই এ সত্য অবগত হয়েও কি তোমরা সচেতন হবে না?

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

পূর্বাপর অবস্থা দ্বারা বোঝা যায়, হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের সম্প্রদায় তার সাথে বিতর্কে লিপ্ত হয়ে দু’টি কথা বলেছিল। (এক) আমরা যুগ-যুগ ধরে আমাদের বাপ-দাদাদেরকে প্রতিমা ও নক্ষত্রের পূজা করতে দেখছি। তাদের সকলকে পথভ্রষ্ট মনে করার সাধ্য আমাদের নেই। হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম প্রথম বাক্যে এর উত্তর দিয়েছেন যে, ওই বাপ-দাদাদের কাছে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে কোন ওহী আসেনি। অথচ আমার কাছে উপরে বর্ণিত যুক্তি-প্রমাণ ছাড়া আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে ওহীও এসেছে। সুতরাং আল্লাহ প্রদত্ত হিদায়াতের পর শিরককে কিভাবে সঠিক বলে স্বীকার করতে পারি? (দুই) তাঁর সম্প্রদায় সম্ভবত বলেছিল, তুমি যদি আমাদের প্রতিমাসমূহ ও নক্ষত্রদের ঈশ্বরত্ব অস্বীকার কর, তবে তারা তোমাকে ধ্বংস করে দেবে। এর উত্তরে তিনি বলেন, আমি ওসব ভিত্তিহীন দেবতাদের ভয় করি না। কারণ কারও কোন ক্ষতি করার ক্ষমতাই ওদের নেই। বরং ভয় তো তোমাদেরই করা উচিত। কেননা তোমরা ওইসব ভিত্তিহীন দেবতাদেরকে আল্লাহ তাআলার শরীক সাব্যস্ত করে মহা অপরাধ করছ। এজন্য তোমাদেরকে কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হবে। কাউকে শাস্তিদান ও কারও ক্ষতিসাধনের পূর্ণ ক্ষমতা আল্লাহ তা‘আলারই আছে, অন্য কারও নয়। যারা তাঁর তাওহীদে বিশ্বাস করে, তিনি তাদেরকে স্বস্তি ও নিরাপত্তা দান করেন। কাজেই তাঁর পক্ষ হতে তাদের অনিষ্টের কোন ভয় নেই।

তাফসীরে জাকারিয়া

৮০. আর তার সম্প্রদায় তার সাথে বিতর্কে লিপ্ত হল। তিনি বললেন, তোমরা কি আল্লাহ্‌ সম্বন্ধে আমার সাথে বিতর্কে লিপ্ত হচ্ছো? অথচ তিনি আমাকে হিদায়াত দিয়েছেন। আমার রব অন্য কোন ইচ্ছে না করলে তোমরা যাকে তাঁর শরীক কর তাকে আমি ভয় করি না, আমার রব জ্ঞান দ্বারা সবকিছু পরিব্যাপ্ত করে আছেন, তবে কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না?

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৮০) তার সম্প্রদায় তার সাথে বিতর্কে লিপ্ত হল।(1) সে বলল, ‘তোমরা কি আল্লাহ সম্বন্ধে আমার সঙ্গে বিতর্কে লিপ্ত হবে? তিনি তো আমাকে সৎপথে পরিচালিত করেছেন। আমার প্রতিপালক অন্যবিধ ইচ্ছা না করলে, তোমরা যাকে তাঁর অংশী কর, তাকে আমি ভয় করি না। সবকিছুই আমার প্রতিপালকের জ্ঞানায়ত্ত। তবে কি তোমরা অনুধাবন কর না?

(1) জাতিরা যখন তাওহীদের এ ওয়ায-নসীহত শুনলো যাতে তাদের বাতিল উপাস্যগুলোর খন্ডনও ছিল, তখন তারাও তাদের প্রমাণাদি পেশ করতে আরম্ভ করল। আর এ থেকে জানা যায় যে, মুশরিকরাও তাদের শিরকের উপর কোন কোন দলীল বানিয়ে রাখত। বর্তমানেও এ জিনিস লক্ষ্য করা যায়। শিরকীয় আকীদা পোষণকারী যত দল আছে, সকলেই তাদের জনতাকে সন্তুষ্ট করা ও রাখার জন্য এমন ‘অবলম্বন’ খুঁজে রেখেছে, যাকে তারা ‘দলীল’ মনে করে অথবা যার মাধ্যমে কমসে-কম মিথ্যার জালে বন্দী জনগণকে ঐ জালেই ফাঁসিয়ে রাখা সম্ভব হয়।