ওয়া ইযা-লাকুল্লাযীনা আ-মানূ ক-লুআ-মান্না- ওয়াইযা-খালা-বা‘দুহুম ইলা-বা‘দিন ক-লূ আতুহাদ্দিছূনাহুম বিমা- ফাতাহাল্লা-হু ‘আলাইকুম লিইউহাজ্জূকুম বিহী ‘ইনদারব্বিকুম আফালা-তা‘কিলূন।উচ্চারণ
(মুহাম্মাদ রসূলুল্লাহর ওপর) যারা ঈমান এনেছে তাদের সাথে সাক্ষাত হলে বলে, আমরাও তাঁকে মানি। আবার যখন পরস্পরের সাথে নিরিবিলিতে কথা হয় তখন বলে, তোমরা কি বুদ্ধিভ্রষ্ট হয়ে গেলে? এদেরকে তোমরা এমন সব কথা বলে দিচ্ছো যা আল্লাহ তোমাদের কাছে প্রকাশ করে দিয়েছেন, ফলে এরা তোমাদের রবের কাছে তোমাদের মোকাবিলায় তোমাদের একথাকে প্রমাণ হিসেবে পেশ করবে? ৮৮ তাফহীমুল কুরআন
যখন এরা তাদের (সেই মুসলিমদের) সাথে মিলিত হয়, যারা আগেই ঈমান এনেছে, তখন (মুখে) বলে দেয়, আমরা (-ও) ঈমান এনেছি। আবার এরা যখন নিভৃতে একে অন্যের সাথে মিলিত হয়, তখন (পরস্পরে একে অন্যকে) বলে, তোমরা কি তাদেরকে (মুসলিমদেরকে) সেই সব কথা বলে দিচ্ছ, যা আল্লাহ তোমাদের কাছে প্রকাশ করেছেন? তবে তো তারা (মুসলিমগণ) তোমাদের প্রতিপালকের কাছে গিয়ে সেগুলোকে তোমাদের বিরুদ্ধে প্রমাণরূপে পেশ করবে! #%৬০%# তোমাদের কি এতটুকু বুদ্ধিও নেই?মুফতী তাকী উসমানী
যখন তারা মু’মিনদের সাথে মিলিত হয় তখন বলেঃ আমরা ঈমান এনেছি; আর যখন তাদের কেহ কারও (ইয়াহুদীর) নিকট গোপনে যায় তখন তারা বলেঃ তোমরা কি মুসলিমদেরকে এমন কথা বলে দাও যা আল্লাহ তোমাদের নিকট প্রকাশ করেছেন? পরিণামে তারা তোমাদেরকে তর্কে পরাজিত করবে (এই বলে) যে, এ বিষয়টি রবের নিকট হতে তোমাদের কিতাবে রয়েছে, তোমরা কি বুঝনা?মুজিবুর রহমান
যখন তারা মুসলমানদের সাথে মিলিত হয়, তখন বলেঃ আমরা মুসলমান হয়েছি। আর যখন পরস্পরের সাথে নিভৃতে অবস্থান করে, তখন বলে, পালনকর্তা তোমাদের জন্যে যা প্রকাশ করেছেন, তা কি তাদের কাছে বলে দিচ্ছ? তাহলে যে তারা এ নিয়ে পালকর্তার সামনে তোমাদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করবে। তোমরা কি তা উপলব্ধি কর না?মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
তারা যখন মু’মিনদের সংস্পর্শে আসে তখন বলে, ‘আমরা ঈমান এনেছি’, আবার যখন তারা নিভৃতে একে অন্যের সঙ্গে মিলিত হয় তখন বলে, ‘আল্লাহ্ তোমাদের কাছে যা ব্যক্ত করেছেন তোমরা কি তা তাদেরকে বলে দাও ? এ দিয়ে তারা তোমাদের প্রতিপালকের সামনে তোমাদের বিরুদ্ধে যুক্তি পেশ করবে; তোমরা কি অনুধাবন কর না ?’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর যখন তারা মুমিনদের সাথে সাক্ষাৎ করে তখন বলে, ‘আমরা ঈমান এনেছি’। আর যখন একে অপরের সাথে একান্তে মিলিত হয় তখন বলে, ‘তোমরা কি তাদের সাথে সে কথা আলোচনা কর, যা আল্লাহ তোমাদের উপর উম্মুক্ত করেছেন, যাতে তারা এর মাধ্যমে তোমাদের রবের নিকট তোমাদের বিরুদ্ধে দলীল পেশ করবে? তবে কি তোমরা বুঝ না’?আল-বায়ান
যখন তারা মু’মিনদের সংস্পর্শে আসে তখন বলে, ‘আমরা বিশ্বাস স্থাপন করেছি’। আবার যখন তারা নিভৃতে একে অন্যের সঙ্গে মিলিত হয় তখন বলে, ‘আল্লাহ তোমাদের কাছে যা (তাওরাতে) ব্যক্ত করেছেন [মুহাম্মাদ (সা.) সম্পর্কে] তোমরা কি তা তাদেরকে বলে দাও যাতে এর দ্বারা তারা তোমাদের প্রতিপালকের সম্মুখে তোমাদের বিরুদ্ধে যুক্তি পেশ করবে? তোমরা কি বুঝ না’?তাইসিরুল
আর যারা ঈমান এনেছে তাদের সাথে যখন তারা মোলাকাত করে তখন বলে -- “আমরা ঈমান এনেছি।” আর যখন তাদের লোকেরা একে অন্যের সাথে নিরিবিলি হয় তখন বলে -- “আল্লাহ্ তোমাদের কাছে যা প্রকাশ করেছেন তা কি তোমরা ওদের জানিয়ে দিচ্ছ, যাতে ওরা এ-সবের সাহায্যে তোমাদের প্রভুর সামনে তোমাদের সাথে বিতর্ক করে? তোমরা কি তবে বুঝতে পারছ না?”মাওলানা জহুরুল হক
৮৮
অর্থাৎ তারা পারস্পরিক আলাপ আলোচনায় বলতো, এই নবী সম্পর্কে তাওরাত ও অন্যান্য আসমানী গ্রন্থসমূহে যেসব ভবিষ্যদ্বাণী উল্লিখিত হয়েছে অথবা আমাদের পবিত্র কিতাবসমূহে আমাদের বর্তমান মনোভাব ও কর্মনীতিকে অভিযুক্ত করার মতো যে সমস্ত আয়াত ও শিক্ষা রয়েছে, সেগুলো মুসলমানদের সামনে বিবৃত করো না। অন্যথায় তারা আল্লাহর সামনে এগুলোকে তোমাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসেবে পেশ করবে। আল্লাহ সম্পর্কে নাদান ইহুদিদের বিশ্বাস এভাবেই বিকৃত হয়ে গিয়েছিল। অর্থাৎ তারা যেন মনে করতো, দুনিয়ায় যদি তারা আল্লাহর কিতাবকে বিকৃত করে ও সত্য গোপন করে তাহলে এজন্য আখেরাতে তাদের বিরুদ্ধে কোন মামলা চলবে না। তাই পরবর্তী প্রাসঙ্গিক বাক্যে তাদেরকে এই বলে সতর্ক করা হয়েছে যে, তোমরা কি আল্লাহকে বেখবর মনে করো?
তাওরাতে শেষ নবী সম্পর্কে যে সব ভবিষ্যদ্বাণীর উল্লেখ ছিল তার প্রত্যেকটা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে হুবহু মিলে যেত। মুসলিমদের সামনে নিজেকে মুসলিমরূপে পরিচয় দিত- এমন কোনও কোনও মুনাফিক ইয়াহুদী সে সব ভবিষ্যদ্বাণী মুসলিমদেরকে শোনাত। এ কারণে অন্যান্য ইয়াহুদীরা তাদেরকে নিভৃতে তিরস্কার করত। বলত, মুসলিমগণ এসব ভবিষ্যদ্বাণী জেনে ফেললে কিয়ামতের দিন এগুলোকে আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করবে। আর তখন আমাদের কাছে কোনও জবাব থাকবে না। বলাবাহুল্য, এটা ছিল তাদের চরম নির্বুদ্ধিতা। কেননা মুসলিমদের থেকে এসব ভবিষ্যদ্বাণী গোপন করতে পারলেও আল্লাহ তাআলার থেকে তো তা গোপন করা সম্ভব ছিল না।
৭৬. আর তারা যখন মুমিনদের সাথে সাক্ষাত করে তখন বলে, আমরা ঈমান এনেছি। আবার যখন তারা গোপনে একে অন্যের সাথে মিলিত হয় তখন বলে, তোমরা কি তাদেরকে তা বলে দাও, যা আল্লাহ তোমাদের কাছে উন্মুক্ত করে দিয়েছেন(১); যাতে তারা এর মাধ্যমে তোমাদের রব-এর নিকট তোমাদের বিরুদ্ধে দলীল পেশ করবে? তবে তোমরা কি বুঝ না?(২)
১. এখানে ‘যা আল্লাহ তোমাদের কাছে উন্মুক্ত করে দিয়েছেন’ বলে কি বোঝানো হয়েছে তা নিয়ে কয়েকটি অভিমত রয়েছে। ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, এর দ্বারা উদ্দেশ্য মুমিনদের সাথে ইয়াহুদীদের সাক্ষাৎ হলে তারা মুমিনদের বলত আমরা বিশ্বাস করি যে, তোমাদের সাথী আল্লাহর রাসূল। তবে তিনি শুধু তোমাদের প্রতি প্রেরিত হয়েছেন, আমাদের প্রতি নয়। আবার শুধু তারা নিজেরা একত্রিত হলে একদল আরেক দলকে বলত- সাবধান! আরবদের কাছে তাও প্রকাশ করো না। কারণ, এর আগে তোমরা এই মুহাম্মদের সাহায্যে তাদের উপর বিজয়ী হওয়ার কথা বলতে। এখন সে-ই তো তাদের মধ্য থেকে আবির্ভূত হয়েছে। (ইবনে কাসীর)
২. অর্থাৎ তারা পারস্পরিক আলাপ-আলোচনায় বলত, এ নবী সম্পর্কে তাওরাত ও অন্যান্য আসমানী গ্রন্থসমূহে যেসব ভবিষ্যদ্বাণী উল্লেখিত হয়েছে অথবা আমাদের পবিত্র কিতাবসমূহে আমাদের বর্তমান মনোভাব ও কর্মনীতিকে অভিযুক্ত করার মত যে সমস্ত আয়াত ও শিক্ষা রয়েছে, সেগুলো মুসলিমদের সামনে বিবৃত করো না। অন্যথায় তারা আল্লাহর সামনে এগুলোকে তোমাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসেবে পেশ করবে। আল্লাহ সম্পর্কে অজ্ঞ-মূর্খ ইয়াহুদীদের বিশ্বাস এভাবে বিকৃত হয়ে গিয়েছিল। তারা যেন মনে করত, দুনিয়ায় যদি তারা আল্লাহর কিতাবকে বিকৃত করে ও সত্য গোপন করে তাহলে এজন্য আখেরাতে তাদের বিরুদ্ধে কোন মামলা চলবে না। তাই পরবর্তী বাক্যে বলা হয়েছে, তোমরা কি আল্লাহকে বেখবর মনে কর? (ইবনে কাসীর)
৭৬। আর তারা যখন মু’মিন (বিশ্বাসী)দের সংস্পর্শে আসে তখন বলে, ‘আমরা ঈমান এনেছি (বিশ্বাস করেছি)’,(1) আবার যখন তারা নিভৃতে (নিজ দলে) একে অন্যের সাথে মিলিত হয়, তখন বলে, ‘আল্লাহ তোমাদের জন্য যা ব্যক্ত করেছেন তোমরা কেন তা তাদের নিকট বলে দিচ্ছ? তারা (মুসলিমরা) যে তোমাদের প্রভুর সামনে তোমাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ দাঁড় করাবে তোমরা কি তা বুঝতে পারছ না?’
(1) এখানে কিছু ইয়াহুদী মুনাফিকদের মুনাফিকী কার্যকলাপের পর্দা উন্মোচন করা হচ্ছে। এরা মুসলিমদের মাঝে এসে ঈমানের কথা প্রকাশ করত, কিন্তু আপোসে যখন একত্রিত হত, তখন একে অপরকে এই বলে তিরস্কার করত যে, তোমরা মুসলিমদেরকে নিজেদের কিতাবের এমন কথাগুলো কেন বল, যার দ্বারা রসূলের সত্যতা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়ে যায়। এইভাবে তোমরা নিজেরাই এমন হুজ্জত তাদের হাতে তুলে দিচ্ছ যে, তারা তা তোমাদের বিরুদ্ধে আল্লাহর সামনে পেশ করবে।