وَٱلَّذِينَ كَذَّبُواْ بِـَٔايَٰتِنَا صُمّٞ وَبُكۡمٞ فِي ٱلظُّلُمَٰتِۗ مَن يَشَإِ ٱللَّهُ يُضۡلِلۡهُ وَمَن يَشَأۡ يَجۡعَلۡهُ عَلَىٰ صِرَٰطٖ مُّسۡتَقِيمٖ

ওয়াল্লাযীনা কাযযাবূবিআ- ইয়া-তিনা-সুম্মুওঁ ওয়া বুকমন ফিজজু লুমা-তি মাইঁ ইয়াশাইল্লা-হু ইউদলিলহু ওয়া মাইঁ ইয়াশা’ ইয়াজ‘আলহু ‘আলা-সির-তিম মুছতাকীম।উচ্চারণ

কিন্তু যারা আমার নিদর্শনগুলোকে মিথ্যা বলে তারা বধির ও বোবা, তারা অন্ধকারে ডুবে আছে, ২৭ আল্লাহ যাকে চান বিপথগামী করেন আবার যাকে চান সত্য সরল পথে পরিচালিত করেন। ২৮ তাফহীমুল কুরআন

যারা আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করেছে, তারা অন্ধকারে (উদ্ভ্রান্ত থেকে) বধির ও মূক হয়ে গেছে। #%১৭%# আল্লাহ যাকে চান তাকে (তার হঠকারিতার কারণে) গোমরাহীতে নিক্ষেপ করেন আর যাকে চান তাকে সরল পথে স্থাপিত করেন।মুফতী তাকী উসমানী

আর যারা আমার নিদর্শনসমূহকে মিথ্যা মনে করে তারা অন্ধকারে নিমজ্জিত মূক ও বধির, আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা হিদায়াতের সরল সহজ পথের সন্ধান দেন।মুজিবুর রহমান

যারা আমার নিদর্শনসমূহকে মিথ্যা বলে, তারা অন্ধকারের মধ্যে মূক ও বধির। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা সরল পথে পরিচালিত করেন।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যারা আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করে তারা বধির ও মূক, অন্ধকারে রয়েছে। যাকে ইচ্ছা আল্লাহ্ বিপথগামী করেন আর যাকে ইচ্ছা তিনি সরল পথে স্থাপন করেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর যারা আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে, তারা বোবা ও বধির, অন্ধকারে রয়েছে। আল্লাহ যাকে চান, তাকে পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে চান তাকে সরল পথে অটল রাখেন।আল-বায়ান

যারা আমার আয়াতকে মিথ্যে জানে তারা বধির ও মুক। তারা আছে গভীর অন্ধকারে, আল্লাহ যাকে চান পথভ্রষ্ট করে দেন, আর যাকে চান সঠিক পথে স্থাপন করেন।তাইসিরুল

আর যারা আমাদের নির্দেশসমূহে মিথ্যারোপ করে তারা বধির ও বোবা, ঘোর অন্ধকারে। আল্লাহ্ যাকে ইচ্ছা করেন তাকে তিনি বিপথে যেতে দেন, আর যাকে ইচ্ছা করেন তাকে তিনি স্থাপন করেন সহজ-সঠিক পথের উপরে।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

২৭

অর্থাৎ তোমরা যদি নিছক তামাশা দেখার জন্য নয় বরং এ নবী যে বিষয়ের দিকে আহবান জানাচ্ছেন তা সত্য কিনা যথার্থই তা জানার জন্য নিদর্শন দেখতে চাও, তাহলে ভালোভাবে লক্ষ্য করে দেখো, তোমাদের চারদিকে অসংখ্য নিদর্শন ছড়িয়ে আছে। পৃথিবীর বুকে বিচরণশীল প্রাণীকুল এবং শূন্যে উড়ে চলা পাখিদের কোন একটি শ্রেণীকে নিয়ে তাদের জীবন সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করো। দেখো, কীভাবে তাদেরকে অবস্থা ও পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তাদের আকৃতি নির্মাণ করা হয়েছে। কীভাবে তাদের জীবিকা দানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কীভাবে তাদের জন্য ভাগ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তারা তার সীমানা পেরিয়ে এগিয়ে যেতেও পারে না, পিছিয়ে আসতেও পারে না। কীভাবে তাদের এক একটি প্রাণীকে এবং এক একটি ছোট ছোট কীট-পতংগকেও তার নিজের স্থানে সংরক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও পথপ্রদর্শন করা হচ্ছে। কীভাবে একটি নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী তার থেকে কাজ আদায় করে নেয়া হচ্ছে। কীভাবে তাকে একটি নিয়ম-শৃংখলার আওতাধীন করে রাখা হয়েছে। কীভাবে তার জন্ম, মৃত্যু ও বংশ বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা যথা নিয়মে চলছে। আল্লাহর অসংখ্য নিদর্শনের মধ্য থেকে যদি কেবলমাত্র এ একটি নিদর্শন সম্পর্কে চিন্তা ভাবনা করো তাহলে তোমরা জানতে পারবে যে, আল্লাহর একত্ব এবং তাঁর গুণাবলীর যে ধারণা এ নবী তোমাদের সামনে পেশ করছেন এবং সে ধারণা অনুযায়ী দুনিয়ায় জীবনযাপন করার জন্য যে কর্মনীতি অবলম্বন করার দিকে তোমাদের আহবান জানাচ্ছেন, তা-ই যথার্থ ও প্রকৃত সত্য। কিন্তু তোমরা নিজেদের চোখ মেলে এগুলো দেখও না আর কেউ বুঝাতে এলে তার কথা মেনেও নাও না। তোমরা তো মুখ গুঁজে পড়ে আছো মূর্খতার নিকষ অন্ধকারে। অথচ তোমরা চাইছো আল্লাহর বিস্ময়কর ক্ষমতার তেলেসমাতি দেখিয়ে তোমাদের মন মাতিয়ে রাখা হোক।

২৮

আল্লাহর বিপথগামী করার অর্থ হচ্ছে একজন মূর্খতা ও অজ্ঞতাপ্রিয় ব্যক্তিকে আল্লাহর নিদর্শনসমূহ অধ্যয়ন করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা। আর একজন পক্ষপাতদুষ্ট, বিদ্বেষী ও সত্যবিরোধী জ্ঞানান্বেষী কখনো আল্লাহর নিদর্শন পর্যবেক্ষণ করলেও সত্যের পক্ষে পৌঁছার নিশানীগুলো তার দৃষ্টির অগোচরে থেকে যাবে এবং বিভ্রান্তির অক্টোপাসে জড়িয়ে ফেলার মতো জিনিসগুলো তাকে সত্য থেকে দূরে টেনে নিয়ে যেতে থাকবে। অপরদিকে আল্লাহর হেদায়াত তথা সত্য-সরল পথে পরিচালিত করার অর্থ হচ্ছে এই যে, একজন সত্যান্বেষী ব্যক্তি জ্ঞানের উপকরণসমূহ থেকে লাভবান হবার সুযোগ লাভ করে এবং আল্লাহর নিদর্শনগুলোর মধ্যে সত্যের লক্ষ্যে পৌঁছার নিশানী গুলো লাভ করে যেতে থাকে। এ তিনটি অবস্থার অসংখ্য দৃষ্টান্ত আজকাল প্রায়ই আমাদের সামনে এসে থাকে। এমন বহু লোক আছে যাদের সামনে পৃথিবীর বস্তুনিচয় ও প্রাণীকূলের মধ্যে তাদের জন্য আল্লাহর অসংখ্য নিদর্শন ছড়িয়ে রয়েছে কিন্তু তারা জন্তু-জানোয়ারের মতো সেগুলো দেখে থাকে এবং সেখান থেকে কোন শিক্ষা গ্রহণ করে না। বহু লোক প্রাণীবিদ্যা (Zoology), উদ্ভিদ বিদ্যা (Botany), জীববিদ্যা (Biology), ভূতত্ব (Geology), মহাকাশ বিদ্যা (Astronomy), শরীর বিজ্ঞান (physiology), শবব্যবচ্ছেদ বিদ্যা(Anatomy) এবং বিজ্ঞানের আরো বিভিন্ন শাখা প্রশাখায় ব্যাপক অধ্যয়ন করেন, ইতিহাস, প্রত্নতত্ব ও সমাজ বিজ্ঞানে গবেষণা করেন এবং এমন সব নির্দশন তাদের সামনে আসে যেগুলো হৃদয়কে ঈমানের আলোয় ভরে দেয়। কিন্তু যেহেতু তারা বিদ্বেষ ও পক্ষপাতদুষ্ট মানসিকতা নিয়ে অধ্যয়নের সূচনা করেন এবং তাদের সামনে বৈষয়িক লাভ ছাড়া আর কিছুই থাকে না, তাই এ অধ্যয়ন ও পর্যবেক্ষণকালে তারা সত্যের দোরগোড়ায় পৌঁছাবার মতো কোন নিদর্শন পায় না। বরং তাদের সামনে যে নিদর্শনটিই উপস্থিত হয় সেটিই তাদের নাস্তিকতা, আল্লাহ‌ বিমুখতা, বস্তুবাদিতা ও প্রকৃতিবাদিতার দিকে টেনে নিয়ে যায়। তাদের মোকাবিলায় এমন লোকের সংখ্যাও একেবারে নগণ্য নয় যারা সচেতন বুদ্ধি বিবেকের সাথে চোখ মেলে বিশ্ব প্রকৃতির এ সুবিশাল কর্মক্ষেত্র পর্যবেক্ষণ করেন এবং বলে ওঠেনঃ

“সচেতন দৃষ্টি সমুখে গাছের প্রতিটি সবুজ পাতা
একেকটি গ্রন্থ যেন স্রষ্টা-সন্ধানের এনেছে বারতা।”

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

অর্থাৎ তারা স্বেচ্ছায় গোমরাহী অবলম্বন করে সত্য শোনা ও বলার যোগ্যতাই খতম করে ফেলেছে। প্রকাশ থকে যে, এ তরজমা করা হয়েছে فى الطلمات কে صم وبكم -এর حال (অবস্থা নির্দেশক) ধরে নিয়ে, যাকে আল্লামা আলুসী (রহ.) প্রাধান্য দিয়েছেন। (এর আরেক অর্থ হতে পারে, ‘তারা বধির ও মূক, অন্ধকারে দিশাহারা। -অনুবাদক)

তাফসীরে জাকারিয়া

৩৯. আর যারা আমাদের আয়াতসমূহে মিথ্যারোপ করে, তারা বধির ও বোবা, অন্ধকারে রয়েছে।(১)। যাকে ইচ্ছে আল্লাহ বিপথগামী করেন এবং যাকে ইচ্ছে তিনি সরল পথে স্থাপন করেন।

(১) কাতাদা বলেন, এটি কাফেরদের জন্য দেয়া উদাহরণ, তারা অন্ধ ও বধির। তারা হেদায়াতের পথ দেখে না। হেদায়াত থেকে উপকৃত হতে পারে না। হক থেকে তারা বধির। এমন অন্ধকারে তারা অবস্থান করছে যে, সেখান থেকে বের হওয়ার কোন পথ খুঁজে পাচ্ছে না। (তাবারী)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৩৯) যারা আমার আয়াতকে মিথ্যা বলে, তারা অন্ধকারে নিমজ্জিত বধির ও মূক। যাকে ইচ্ছা আল্লাহ বিপথগামী করেন এবং যাকে ইচ্ছা তিনি সরল পথে স্থাপন করেন। (1)

(1) আল্লাহর আয়াতসমূহকে মিথ্যাজ্ঞানকারীরা যেহেতু নিজেদের কান দিয়ে সত্য কথা শুনে না এবং নিজেদের জবান দিয়ে সত্য কথা বলে না, সেহেতু তারা হল ঐ রকমই, যে রকম হল বোবা ও বধির। এ ছাড়াও এরা কুফরী ও ভ্রষ্টতার অন্ধকারে নিমজ্জিত। তাই তাদের দৃষ্টিতে কোন এমন জিনিস পড়ে না, যাতে তাদের সংশোধন সাধিত হতে পারে। তাদের যাবতীয় বোধশক্তি লোপ পেয়ে গেছে। সেগুলো দিয়ে কোন অবস্থাতেই তারা উপকৃত হতে পারে না। অতঃপর বলেছেন, সমস্ত এখতিয়ার আল্লাহর হাতে। তিনি যাকে চান ভ্রষ্ট করেন এবং যাকে চান হিদায়াতের পথ ধরিয়ে দেন। তবে তাঁর এই ফায়সালা যে এমনিই কোন বিচার-বিবেচনা ছাড়া হয় তা নয়, বরং সম্পূর্ণ সুবিচারের দাবীসমূহের ভিত্তিতে তা হয়। পথভ্রষ্ট তাকেই করেন, যে ভ্রষ্টতায় ফাঁসতে চায় এবং তা থেকে বের হওয়ার না সে প্রচেষ্টা করে, আর না সে বের হওয়াকে পছন্দ করে। (আরো দেখুন, সূরা বাক্বারা ২৬নং আয়াতের টীকা)