فَقُلۡنَا ٱضۡرِبُوهُ بِبَعۡضِهَاۚ كَذَٰلِكَ يُحۡيِ ٱللَّهُ ٱلۡمَوۡتَىٰ وَيُرِيكُمۡ ءَايَٰتِهِۦ لَعَلَّكُمۡ تَعۡقِلُونَ

ফাকুলনাদরিবূহু ব্বিা‘দিহা- কাযা-লিকা ইউহইল্লা-হুল মাওতা- ওয়া ইউরীকুম আ-য়া-তিহী লা‘আল্লাকুম তা‘কিলূন।উচ্চারণ

সে সময় আমরা হুকুম দিলাম, নিহতের লাশকে তার একটি অংশ দিয়ে আঘাত করো। দেখো এভাবে আল্লাহ‌ মৃতদের জীবন দান করেন এবং তোমাদেরকে নিজের নিশানী দেখান, যাতে তোমরা অনুধাবন করতে পারো। ৮৫ তাফহীমুল কুরআন

অতঃপর আমি বললাম, তাকে (নিহতকে) তার (গাভীর) একটা অংশ দ্বারা আঘাত কর। #%৫৮%# এভাবেই আল্লাহ মৃতদেরকে জীবিত করেন এবং তোমাদেরকে নিজ (কুদরতের) নিদর্শনাবলী দেখান, যাতে তোমরা বুঝতে পার।মুফতী তাকী উসমানী

অতঃপর আমি বলেছিলামঃ ওর এক খন্ড দ্বারা তাকে আঘাত কর, এই রূপে আল্লাহ মৃতকে জীবিত করেন এবং স্বীয় নিদর্শনসমূহ প্রদর্শন করেন যাতে তোমরা হৃদয়ঙ্গম কর।মুজিবুর রহমান

অতঃপর আমি বললামঃ গরুর একটি খন্ড দ্বারা মৃতকে আঘাত কর। এভাবে আল্লাহ মৃতকে জীবিত করেন এবং তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শণ সমূহ প্রদর্শন করেন-যাতে তোমরা চিন্তা কর।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আমি বললাম, ‘এর কোন অংশ দিয়ে এটাকে আঘাত কর।’ এইভাবে আল্লাহ্ মৃতকে জীবিত করেন এবং তাঁর নিদর্শন তোমাদেরকে দেখিয়ে থাকেন, যাতে তোমরা অনুধাবন করতে পার। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর আমি বললাম, ‘তোমরা তাকে আঘাত কর গাভীটির (গোশতের) কিছু অংশ দিয়ে। এভাবে আল্লাহ জীবিত করেন মৃতদেরকে। আর তিনি তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শনসমূহ দেখান, যাতে তোমরা বুঝ।আল-বায়ান

আমি বললাম, ‘তার (অর্থাৎ যবহকৃত গরুর) কোন অংশ দ্বারা একে আঘাত কর’। এভাবে আল্লাহ মৃতকে জীবন দান করেন, আর তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শন দেখিয়ে থাকেন যাতে তোমরা জ্ঞানলাভ করতে পার।তাইসিরুল

সুতরাং আমরা বললাম -- “তুলনা করো তাঁকে এর কিছু অংশের সাথে।” এইভাবে আল্লাহ্ মৃতবৎকে জীবন দান করেন। আর তিনি তোমাদের দেখাচ্ছেন তাঁর নিদর্শন সমূহ যাতে তোমরা বুঝতে পার।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৮৫

এখানে সুস্পষ্টভাবে বুঝা যাচ্ছে, হত্যাকারীর সন্ধান বলে দেয়ার জন্য নিহত ব্যক্তির লাশের মধ্যে পুনরায় কিছুক্ষণের জন্য প্রাণস্পন্দন ফিরিয়ে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু এজন্য যে কৌশল অবলম্বন করা হয়েছিল অর্থাৎ মৃত ব্যক্তির লাশকে তার একটি অংশ দিয়ে আঘাত করার যে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল তার মধ্যে কিছুটা অস্পষ্টতা রয়ে গেছে বলে মনে হচ্ছে। তবুও এর ব্যাখ্যায় প্রাচীনতম তাফসীরকারগণ যা বলেছেন তাকেই এর নিকটতম অর্থ ধরা যায়। অর্থাৎ আগে যে গাভী যবেহ করা নির্দেশ দেয়া হয়েছিল তারই গোশ্ত দিয়ে নিহত ব্যক্তির লাশের গায়ে আঘাত করতে বলা হয়েছিল। এভাবে এক ঢিলে দুই পাখি মারা গেলো। প্রথমত আল্লাহর কুদরাত ও অসীম ক্ষমতার একটি প্রমাণ তাদের সামনে তুলে ধরা হলো। দ্বিতীয়ত গরুর পবিত্রতা, শ্রেষ্ঠত্ব ও তাকে উপাস্য হবার যোগ্যতার ওপরও একটি শক্তিশালী আঘাত হানা হলো। এই তথাকথিত উপাস্যটি যদি সামান্যতম ক্ষমতারও অধিকারী হতো তাহলে তাকে যবেহ করার কারণে একটি মহাবিপদ ও দুর্যোগ ঘনিয়ে আসতো। কিন্তু বিপরীত পক্ষে আমরা দেখছি তা মানুষের কল্যাণে লেগেছে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

ঐতিহাসিক বর্ণনাসমূহে প্রকাশ যে, বনী ইসরাঈলের এক ব্যক্তি মীরাছের লোভে তার ভাইকে হত্যা করল এবং তার লাশ সড়কের উপর ফেলে রাখল। তারপর ঘাতক নিজেই হযরত মূসা আলাইহিস সালামের কাছে গিয়ে মোকদ্দমা দায়ের করল এবং ঘাতককে গ্রেপ্তার করে শাস্তি দেওয়ার দাবী জানাল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে হযরত মূসা আলাইহিস সালাম আল্লাহ তাআলার নির্দেশে তাদেরকে একটি গাভী যবাহ করতে বললেন, যেমন আয়াতে বিবৃত হয়েছে। গাভীটি যবাহ করা হলে তিনি বললেন, এর একটা অঙ্গ দ্বারা লাশকে আঘাত কর। তাহলে সে জীবিত হয়ে তার খুনীর নাম বলে দেবে। সুতরাং তাই হল এবং এভাবে খুনীর মুখোশ খুলে গেল ও তাকে গ্রেফতার করা হল। তাকে খুঁজে বের করার এই যে পন্থা অবলম্বন করা হল, এর একটা ফায়দা তো এই যে, এর ফলে খুনীর ছল-চাতুরি করার পথ বন্ধ হয়ে গেল। দ্বিতীয়ত আল্লাহ তাআলা যে মৃতকে জীবিত করার ক্ষমতা রাখেন, তার একটি বাস্তব নমুনা দেখিয়ে সেই সকল লোকের মুখ বন্ধ করে দেওয়া হল, যারা মৃত্যুর পর পুনর্জীবনকে অসম্ভব মনে করছিল। সম্ভবত এ ঘটনার পর থেকেই বনী ইসরাঈলের মধ্যে এই রীতি চালু হয়েছে যে, যদি কেউ নিহত হয় এবং তার হত্যাকারীর সন্ধান পাওয়া না যায়, তবে একটি গাভী যবাহ করে তার রক্তে হাত ধোয়া হয় এবং কসম করা হয় যে, আমরা তাকে হত্যা করিনি। বাইবেলের দ্বিতীয় বিবরণে (১২:১-৮) এর উল্লেখ রয়েছে।

তাফসীরে জাকারিয়া

৭৩. অতঃপর আমরা বললাম, এর কোন অংশ দিয়ে তাকে আঘাত কর”। এমনিভাবে আল্লাহ মৃতকে জীবিত করেন এবং তোমাদেরকে দেখিয়ে থাকেন তার নিদর্শন যাতে তোমরা অনুধাবন করতে পার।(১)

১. শানকীতী বলেন, এ আয়াত থেকে জানা গেল যে, বনী ইসরাইলের মৃত ব্যক্তিকে জীবিত করতে সক্ষম হওয়ার অর্থই জন্মের পরে পুনরুত্থানের প্রমাণ সাব্যস্ত হওয়া। কেননা, যিনি একজনকে মৃত্যুর পরে জীবিত করতে সমর্থ, তিনি অবশ্যই সমস্ত জীবকে মৃত্যুর পর জীবিত করতে সক্ষম। অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, “তোমাদের সবার সৃষ্টি ও পুনরুত্থান একটি প্রাণীর সৃষ্টি ও পুনরুত্থানেরই অনুরূপ।” (সূরা লুকমান: ২৮)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

৭৩। অতঃপর আমি বললাম, এটির (গাভীটির) কোন অংশ দ্বারা ওকে (মৃত ব্যক্তিকে) আঘাত কর। এভাবে আল্লাহ মৃতকে জীবিত করেন এবং তাঁর নিদর্শন তোমাদের দেখিয়ে থাকেন; যাতে তোমরা বুঝতে পার। (1)

(1) উক্ত মৃত ব্যক্তিকে জীবিত করে মহান আল্লাহ কিয়ামতের দিন মানুষকে পুনরায় জীবিত করার স্বীয় ক্ষমতার প্রমাণ পেশ করছেন। কিয়ামতের দিন মৃতদেরকে পুনর্জীবিত করার ব্যাপারটা কিয়ামত অস্বীকারকারীদের নিকট সব সময় বিস্ময় ও আশ্চর্যের কারণ হয়ে রয়েছে। আর এই জন্যই মহান আল্লাহ এই বিষয়টাকে ক্বুরআনের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্নভাবে বর্ণনা করেছেন। সূরা বাক্বারাতেই মহান আল্লাহ এর পাঁচটি দৃষ্টান্ত পেশ করেছেন। প্রথম দৃষ্টান্ত {ثُمَّ بَعَثْنَاكُمْ مِنْ بَعْدِ مَوْتِكُمْ} ৫৬নং আয়াতে উল্লেখ হয়েছে। দ্বিতীয় দৃষ্টান্ত এই ঘটনা। তৃতীয় দৃষ্টান্ত দ্বিতীয় পারায় {مُوتُوا ثُمَّ أَحْيَاهُمْ} ২৪৩নং আয়াতে উল্লেখ হয়েছে। চতুর্থ দৃষ্টান্ত {فَأَمَاتَهُ اللَّهُ مِائَةَ عَامٍ ثُمَّ بَعَثَهُ} ২৫৯নং আয়াতে উল্লেখ হয়েছে। আর পঞ্চম দৃষ্টান্ত এর পরের আয়াতে ইবরাহীম (আঃ)-এর চারটি পাখী সংক্রান্ত ব্যাপারে উল্লিখিত হয়েছে।