ক-লা ইন্নাহূ, ইয়াকূলুইন্নাহা-বাকারতুল্লা- যালূলুন তুছীরুল আরদা ওয়ালা-তাছকিল হারছা মুছাল্লামাতুল লা-শিয়াতা ফীহা- ক-লুল আ-না জি’তা বিলহাক্কি ফাযাবাহুহা-ওয়ামা-ক-দূইয়াফ‘আলূন।উচ্চারণ
মূসা জবাব দিল আল্লাহ বলছেন, সেটি এমন একটি গাভী যাকে কোন কাজে নিযুক্ত করা হয়না, জমি চাষ বা ক্ষেতে পানি সেচ কোনটিই করে না, সুস্থ-সবল ও নিখুঁত। একথায় তারা বলে উঠলো, হ্যাঁ,, এবার তুমি ঠিক সন্ধান দিয়েছো। অতঃপর তারা তাকে যবেহ করলো, অন্যথায় তারা এমনটি করতো বলে মনে হচ্ছিল না। ৮৪ তাফহীমুল কুরআন
মূসা বলল, আল্লাহ বলছেন, সেটি এমন গাভী, যা জমি কর্ষণে ব্যবহৃত নয় এবং যা ক্ষেতে পানিও দেয় না। সম্পূর্ণ সুস্থ, যাতে কোনও দাগ নেই। তারা বলল, হ্যাঁ এবার আপনি যথাযথ দিশা নিয়ে এসেছেন। অতঃপর তারা সেটি যবাহ করল, যদিও মনে হচ্ছিল না তারা তা করতে পারবে। #%৫৭%#মুফতী তাকী উসমানী
সে বলেছিলঃ নিশ্চয়ই তিনি বলেছেন যে, অবশ্যই সেই গরু সুস্থকায়, নিখুঁত, ওটা চাষাবাদের কাজে লাগানো হয়নি এবং ক্ষেতে পানি সেচনেও নিযুক্ত হয়নি। তারা বলেছিলঃ এক্ষণে তুমি সত্য এনেছ, অতঃপর তারা ওটা যবাহ করল যা তাদের করার ইচ্ছা ছিলনা।মুজিবুর রহমান
তারা বলল, এবার সঠিক তথ্য এনেছ। অতঃপর তারা সেটা জবাই করল, অথচ জবাই করবে বলে মনে হচ্ছিল না।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
মূসা বলল, ‘তিনি বলছেন, এটা এমন এক গরু যা জমি চাষে ও ক্ষেতে পানি সেচের জন্যে ব্যবহৃত হয় নাই-সুস্থ নিখুঁত।’ তারা বলল, ‘এখন তুমি সত্য এনেছ।’ যদিও তারা যবেহ করতে উদ্যত ছিল না, তবুও তারা ওটাকে যবেহ করল।ইসলামিক ফাউন্ডেশন
সে বলল, ‘নিশ্চয় তিনি বলছেন, ‘নিশ্চয় তা এমন গাভী, যা ব্যবহৃত হয়নি জমি চাষ করায় আর না ক্ষেতে পানি দেয়ায়। সুস্থ যাতে কোন খুঁত নেই’। তারা বলল, ‘এখন তুমি সত্য নিয়ে এসেছ’। অতঃপর তারা তা যবেহ করল অথচ তারা তা করার ছিল না।আল-বায়ান
মূসা বলল, ‘তিনি বলছেন, তা এমন এক গরু যা জমি চাষে ও ক্ষেতে পানি সেচের জন্য ব্যবহৃত হয়নি বরং সুস্থ ও নিখুঁত’। তারা বলল, ‘এখন তুমি সত্য প্রকাশ করেছ’। তারা তাকে যবহ করল যদিও তাদের জন্য সেটা প্রায় অসম্ভব ছিল।তাইসিরুল
তিনি বললেন, “নিঃসন্দেহ তিনি বলছেন, সেটি নিশ্চয়ই এমন বাছুর যাকে জোয়ালে জোতা হয় নি জমি চাষ করতে, বা ক্ষেতে পানিও দেয় না, সহি-সালামত, যার মধ্যে কোন খুতঁ নেই।” তারা বললে -- “এবার তুমি পুরোপুরি সত্য নিয়ে এসেছো।” সুতরাং তারা তাকে কুরবানি করল, আর দেখালো না যে তারা করল।মাওলানা জহুরুল হক
৮৪
তাদের প্রতিবেশী জাতিরা গরুকে শ্রেষ্ঠ ও পবিত্র মনে করতো এবং গরু পূজা করতো আর প্রতিবেশীদের থেকে এ রোগ তাদের মধ্যেও সংক্রমিত হয়, তাই তাদেরকে গরু যবেহ করার হুকুম দেয়া হয়। তাদের ঈমানের পরীক্ষা এভাবেই হওয়া সম্ভবপর ছিল। এখন যদি তারা যথার্থই আল্লাহকে ছাড়া আর কাউকে মাবুদ বলে স্বীকার না করে তাহলে এ আকীদা গ্রহণ করার পূর্বে যেসব ঠাকুর-দেবতার মূর্তিকে তারা মাবুদ মনে করে আসছিল তাদেরকে নিজের হাতে ভেঙে ফেলতে হবে। এটা অনেক বড় পরীক্ষা ছিল। তাদের দিলের মধ্যে ঈমান পুরোপুরি বাসা বাঁধতে পারেনি, তাই তারা টালবাহানা করতে থাকে এবং বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করতে থাক। কিন্তু যতই বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করতে থাকে ততই তারা নিজেরা ঘেরাও হয়ে যেতে থাকে। অবশেষে সেকালে যে বিশেষ ধরনের সোনালী গাভীর পূজা করা হতো তার প্রতি প্রায় অংগুলি নির্দেশ করে তাকেই যবেহ করতে বলা হলো। বাইবেলেও এই ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। তবে বনী ইসরাঈলরা এ নির্দেশটি উপেক্ষা করার জন্য কোন্ ধরনের টালবাহানা করেছিল, তা সেখানে বলা হয়নি। (গণনা পুস্তক, ১৯ অধ্যায়, ১-১০ শ্লোক)।
অর্থাৎ প্রথমে যখন তাদেরকে গাভী যবাহ করার হুকুম দেওয়া হয়েছিল, তখন বিশেষ কোনও গাভীর কথা বলা হয়নি। কাজেই তখন যে-কোনও একটা গাভী যবাহ করলেই হুকুম পালন হয়ে যেত, কিন্তু তারা অহেতুক খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করে দিল। পরিণামে আল্লাহ তাআলাও নিত্য-নতুন শর্ত আরোপ করতে থাকলেন। শেষ পর্যন্ত সেসব শর্ত মোতাবেক গাভী খুঁজে পাওয়াই কঠিন হয়ে গেল। এক পর্যায়ে উপলব্ধি করা যাচ্ছিল তারা বুঝি এমন গাভী তালাশ করে যবাহ করতে সক্ষমই হবে না। এ ঘটনার ভেতর শিক্ষা দেওয়া হয়েছে যে, অহেতুক অপ্রয়োজনীয় অনুসন্ধানের পেছনে পড়া ঠিক নয়। যে বিষয় যতটুকু সাদামাটা হয়, তাকে সেরূপ সাদামাটাভাবেই আমল করা উচিত।
৭১. মূসা বললেন, তিনি বলেছেন, সেটা এমন এক গাভী যা জমি চাষে ও ক্ষেতে পানি সেচের জন্য ব্যবহৃত হয়নি, সুস্থ ও নিখুঁত। তারা বলল, ‘এখন তুমি সত্য নিয়ে এসেছ। অবশেষে তারা সেটাকে যবেহ করল, যদিও তারা তা করতে প্রস্তুত ছিল না।
৭১। মূসা বলল, তিনি বলছেন, ‘এ এমন একটি গাভী যা জমির চাষে ও ক্ষেতে পানি সেচের জন্য ব্যবহূত হয়নি -- সুস্থ নিখুঁত।’ তারা বলল, ‘এখন তুমি সঠিক বর্ণনা এনেছ।’ অতঃপর তারা তা যবেহ করল, অথচ যবেহ করতে পারবে বলে মনে হচ্ছিল না। (1)
(1) তাদেরকে এই নির্দেশই দেওয়া হয়েছিল যে, তারা একটি গাভী যবেহ করবে। তারা যে কোন একটি গাভী যবেহ করলেই আল্লাহর আদেশ পালন হয়ে যেত। কিন্তু তারা আল্লাহর নির্দেশের উপর সোজাসুজি আমল করার পরিবর্তে খুঁটিনাটির পিছনে পড়ে বিভিন্ন রকমের প্রশ্ন করতে শুরু করে দিল। ফলে আল্লাহ তাআলাও তাদের সে কাজকে পর্যায়ক্রমে তাদের জন্য কঠিন করে দিলেন। আর এই জন্যই দ্বীনের (খুঁটিনাটির) ব্যাপারে গভীরভাবে অনুসন্ধান চালাতে ও কঠিনতা অবলম্বন করতে নিষেধ করা হয়েছে। (প্রকাশ যে, এই গাভী যবেহর ঘটনার উল্লেখের ফলেই এই সূরার নাম 'বাক্বারাহ' রাখা হয়েছে।)