۞يَوۡمَ يَجۡمَعُ ٱللَّهُ ٱلرُّسُلَ فَيَقُولُ مَاذَآ أُجِبۡتُمۡۖ قَالُواْ لَا عِلۡمَ لَنَآۖ إِنَّكَ أَنتَ عَلَّـٰمُ ٱلۡغُيُوبِ

ইয়াওমা ইয়াজমা‘উল্লা-হুর রুছুলা ফাইয়াকূলুমা-যাউজিবতুম ক-লূলা-‘ইলমা লানা- ইন্নাকা আনতা ‘আল্লা-মুল গুয়ূব।উচ্চারণ

যেদিন ১২২ আল্লাহ সমস্ত রসূলকে একত্র করে জিজ্ঞেস করবেন, তোমাদের কী জবাব দেয়া হয়েছে? ১২৩ তারা আরয করবে, আমরা কিছুই জানিনা, ১২৪ গোপন সত্যসমূহের জ্ঞান একমাত্র আপনারই আছে। তাফহীমুল কুরআন

(সেই দিনকে স্মরণ কর), যে দিন আল্লাহ রাসূলগণকে একত্র করবেন এবং বলবেন, তোমাদেরকে কী জবাব দেওয়া হয়েছিল? তারা বলবে, আমাদের কিছু জানা নেই। যাবতীয় গুপ্ত বিষয়ের পরিপূর্ণ জ্ঞান তো আপনারই কাছে। #%৮৩%#মুফতী তাকী উসমানী

যে দিন আল্লাহ সমস্ত রাসূলদেরকে সমবেত করবেন, অতঃপর বলবেনঃ তোমরা (উম্মাতদের নিকট থেকে) কি উত্তর পেয়েছিলে? তারা বলবেঃ (তাদের অন্তরের কথা) আমাদের কিছুই জানা নেই; নিশ্চয়ই আপনি সমস্ত গোপনীয় বিষয়ে সম্পূর্ণ জ্ঞাত।মুজিবুর রহমান

যেদিন আল্লাহ সব পয়গম্বরকে একত্রিত করবেন, অতঃপর বলবেন তোমরা কি উত্তর পেয়েছিলে? তাঁরা বলবেনঃ আমরা অবগত নই, আপনিই অদৃশ্য বিষয়ে মহাজ্ঞানী।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

স্মরণ কর, যে দিন আল্লাহ্ রাসূলগণকে একত্র করবেন আর জিজ্ঞাসা করবেন, ‘তোমরা কী উত্তর পেয়েছিলে ?’ তারা বলবে, ‘এ বিষয়ে আমাদের কোন জ্ঞানই নেই; তুমিই তো অদৃশ্য সম্বন্ধে সম্যক পরিজ্ঞাত।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন

(স্মরণ কর) যেদিন আল্লাহ রাসূলগণকে একত্র করবেন, অতঃপর বলবেন, ‘তোমাদেরকে কী জবাব দেয়া হয়েছিল’? তারা বলবে, ‘আমাদের কোন ইলম নেই, নিশ্চয় আপনি গায়েবী বিষয়সমূহের সর্বজ্ঞানী’।আল-বায়ান

আল্লাহ যে দিন রসূলগণকে একত্রিত করবেন; অতঃপর বলবেন, তোমাদেরকে কী জবাব দেয়া হয়েছিল। তারা বলবে, আমরা কিছুই জানি না, তুমিই সকল গোপন তত্ত্ব জান।তাইসিরুল

যেদিন আল্লাহ্ রসূলগণকে একত্রিত করবেন, তারপর বলবেন -- "তোমাদের কী জবাব দেয়া হয়েছিল?" তাঁরা বলবেন -- "আমাদের কিছু জানা নেই, নিঃসন্দেহ তুমিই অদৃশ্য সন্বন্ধে পরিজ্ঞাত।"মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

১২২

অর্থাৎ কিয়ামতের দিন।

১২৩

অর্থাৎ দুনিয়াবাসীকে তোমরা যে ইসলামের দাওয়াত দিয়েছিলে তারা তার কী জবাব দিয়েছে?

১২৪

অর্থাৎ আমাদের জীবনে আমরা যে সীমাবদ্ধ বাহ্যিক জবাবটুকু পেয়েছি বলে অনুভব করেছি কেবলমাত্র সেটুকুই আমরা জানি। আর আসলে আমাদের দাওয়াতের কোথায় কি প্রতিক্রিয়া হয়েছে এবং কোন আকৃতিতে তার আত্মপ্রকাশ ঘটেছে তার সঠিক ও নির্ভুল জ্ঞান একমাত্র আপনার ছাড়া আর কারোর পক্ষে লাভ করা সম্ভবপর নয়।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

কুরআন মাজীদের এটা এক বিশেষ রীতি যে, সে যখন বিধি-বিধান বর্ণনা করে, তখন তার অনুসরণে উদ্বুদ্ধ ও আখেরাতের চিন্তা জাগ্রত করার লক্ষ্যে আখেরাতের কোনও বিষয়ও উল্লেখ করে দেয় কিংবা পূর্ববর্তী জাতিসমূহের আনুগত্য বা অবাধ্যতার বিষয়টা তুলে ধরে। সুতরাং এ স্থলেও ওসিয়ত সম্পর্কিত উল্লিখিত বিধানাবলী বর্ণনা করার পর এবার আখেরাতের কিছু দৃশ্য তুলে ধরা হচ্ছে। আর একটু আগেই যেহেতু খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ভ্রান্ত আকীদা-বিশ্বাস সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে, তাই আখেরাতে খোদ ঈসা আলাইহিস সালামের সঙ্গে আল্লাহ তা‘আলার যে কথোপকথন হবে বিশেষভাবে তা এস্থলে উল্লেখ করা হচ্ছে। প্রথম আয়াতে সমস্ত নবীকে লক্ষ্য করে আল্লাহ তা‘আলার একটি প্রশ্নের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি তাদেরকে প্রশ্ন করবেন, তাদের উম্মতগণ তাদের দাওয়াতের কী জবাব দিয়েছিল? এর উত্তরে তারা যে নিজেদের অজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তার অর্থ হল, আমরা দুনিয়ায় তো তাদের বাহ্য অবস্থার ভিত্তিতে ফায়সালা করতে আদিষ্ট ছিলাম। সুতরাং কেউ নিজের ঈমানের দাবী করলে আমরা তাকে মুমিন গণ্য করতাম। কিন্তু তাদের অন্তরে কী ছিল, তা জানার কোনও উপায় আমাদের ছিল না। আজ তো ফায়সালা হবে অন্তরের অবস্থা অনুযায়ী। কাজেই আজ আমরা কারও সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারব না। কেননা অন্তরের গুপ্ত অবস্থা সম্পর্কে কেবল আপনিই অবগত। অবশ্য নবীগণের থেকে যখন মানুষের বাহ্যিক কার্যকলাপ সম্পর্কে সাক্ষ্য চাওয়া হবে, তখন তারা সে সম্পর্কে সাক্ষ্য প্রদান করবেন, যা সূরা নিসা (৪ : ১৪), সূরা নাহল (১ ৬ : ৮৯) ইত্যাদিতে বর্ণিত হয়েছে।

তাফসীরে জাকারিয়া

১০৯. স্মরণ করুন, যেদিন আল্লাহ রাসূলগণকে একত্র করবেন এবং জিজ্ঞেস করবেন, আপনারা কি উত্তর পেয়েছিলেন? তারা বলবেন, এ বিষয়ে আমাদের কোন জ্ঞানই নেই; আপনিইতো গায়েব সম্বন্ধে সবচেয়ে ভাল জানেন।(১)

(১) অর্থাৎ কেয়ামতে পৃথিবীর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত জন্মগ্রহণকারী সব মানুষ একটি উন্মুক্ত মাঠে উপস্থিত হবে। সবাই সে সুবিশাল ময়দানে উপস্থিত হবে এবং সবার কাছ থেকে তাদের সারা জীবনের কাজকর্মের হিসাব নেয়া হবে। কিন্তু আয়াতে বিশেষভাবে নবী-রাসূলগণের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছেঃ “ঐ দিনটি বাস্তবিকই স্মরণীয়, যেদিন আল্লাহ্ তা'আলা সব নবী-রাসূলকে হিসাবের জন্য একত্রিত করবেন।” উদ্দেশ্য এই যে, একত্রিত সবাইকে করা হবে, কিন্তু সর্ব প্রথম প্রশ্ন নবী-রাসূলগণকেই করা হবে যাতে সমগ্র সৃষ্টজগত দেখতে পায় যে, আজ হিসাব ও প্রশ্ন থেকে কেউ বাদ পড়বে না। নবী-রাসূলগণকে যে প্রশ্ন করা হবে, তা এই, আপনারা যখন নিজ নিজ উম্মতকে আল্লাহ তা'আলা ও তার সত্য দ্বীনের দিকে আহবান করেছিলেন, তখন তারা আপনাদেরকে কি উত্তর দিয়েছিল?

তারা আপনাদের বর্ণিত নির্দেশাবলী পালন করেছিল, না অস্বীকার ও বিরোধিতা করেছিল। এ প্রশ্নের উত্তরে তারা বলবেনঃ “তাদের ঈমান ও কাজকর্ম সম্পর্কে আমাদের জানা নেই। আপনিই স্বয়ং যাবতীয় অদৃশ্য বিষয়ে মহাজ্ঞানী”। ইমাম তাবারী বলেন, তারা আদব রক্ষার্থে বলবেন যে, আপনি ভাল জানেন। অথবা, তারা সেদিনের কঠিন অবস্থা বিবেচনায় জওয়াব দেয়ার চেয়ে আল্লাহর উপরই তার জওয়াবের ভার ছেড়ে দিবেন। অথবা তারা এটা এজন্যে বলবেন যে, বাস্তবিকই আল্লাহ্ তা'আলা সবচেয়ে ভাল জানেন। নবীদের দাওয়াতে কে কেমন সাড়া দিয়েছিল তা আল্লাহ তা'আলার চেয়ে কেউ ভাল জানে না। (ইবন কাসীর)

সারকথা এই যে, আলোচ্য আয়াতে কেয়ামতের ভয়াবহ দৃশ্যের একটি ঝলক সম্মুখে উপস্থাপিত করা হয়েছে। হিসাব-নিকাশের কাঠগড়ায় আল্লাহ তা'আলার সর্বাধিক ঘনিষ্ঠ ও প্রিয় রাসূলগণ কম্পিত বদনে উপস্থিত হবেন। সুতরাং অন্যদের যে কি অবস্থা হবে, তা সহজেই অনুমেয়। তাই এখন থেকেই সে ভয়াবহ দিনের চিন্তা করা উচিত এবং জীবনকে এ হিসাব-নিকাশের প্রস্তুতিতে নিয়োজিত করা কর্তব্য। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ হাশরের ময়দানে কোন ব্যক্তির পদযুগল ততক্ষণ পর্যন্ত সামনে অগ্রসর হতে পারবে না, যতক্ষণ না তার কাছ থেকে পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর নেয়া হয়।

প্রথম এই যে, সে জীবনের সুদীর্ঘ ও প্রচুর সংখ্যক দিবারাত্রকে কি কাজে ব্যয় করেছে? দ্বিতীয় এই যে, বিশেষভাবে কর্মক্ষম যৌবনকালকে সে কিভাবে অতিবাহিত করেছে? তৃতীয় এই যে, সে অর্থকড়ি কোন (হালাল কিংবা হারাম) পথে উপার্জন করেছে? চতুর্থ এই যে, অর্থকড়িতে সে কোন (জায়েয কিংবা নাজায়েয) কাজে ব্যয় করেছে? পঞ্চম এই যে, নিজ ইলম অনুযায়ী সে কি আমল করেছে? (তিরমিযীঃ ২৪১৭)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(১০৯) (স্মরণ কর,) যেদিন আল্লাহ রসূলগণকে একত্র করবেন, অতঃপর বলবেন, তোমরা (উম্মতের নিকট থেকে) কি জওয়াব পেয়েছিলে? তারা বলবে, আমাদের কোন জ্ঞান নেই,(1) নিশ্চয় তুমি অদৃশ্য সম্বন্ধে পরিজ্ঞাত।

(1) নবী-রসূলগণের সাথে তাঁদের সম্প্রদায় ভালো ও মন্দ যে ব্যবহার প্রদর্শন করেছে তার জ্ঞান তো তাঁদের অবশ্যই থাকবে। কিন্তু কিয়ামতের ভয়াবহতা দেখে এবং আল্লাহর ভয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত হওয়ার কারণে ঐ অজ্ঞতা প্রকাশ করবেন। অথবা ঐ অজ্ঞতার সম্পর্ক তাঁদের মৃত্যুর পরবর্তী অবস্থার সাথে হবে। (অর্থাৎ, তাঁদের মৃত্যুর পর তাঁদের উম্মতরা কি করেছেন, সে জ্ঞান তাঁদের নেই।) বলা বাহুল্য, অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞান সম্পূর্ণরূপে একমাত্র আল্লাহর নিকটই আছে। এই জন্য তাঁরা বলবেন, অদৃশ্য সম্পর্কে সম্যক অবগত একমাত্র তুমিই; আমরা নই। এখান থেকে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, নবী ও রসূলগণ গায়েব জানতেন না। ‘আলেমুল গায়ব’ একমাত্র মহান আল্লাহর সত্তা। পক্ষান্তরে নবী ও রসূলগণ যা কিছুই জানতেন, প্রথমতঃ তার সম্পর্ক সেই জ্ঞানের সাথে হত, যা রেসালতের দায়িত্ব সম্পাদন করার জন্য জরুরী ছিল। দ্বিতীয়তঃ সে জ্ঞান অহীর মাধ্যমে তাঁরা অবগত হতেন। সুতরাং ‘আলেমুল গায়ব’ তিনিই, যিনি নিজে নিজেই বিনা কোন মাধ্যমে প্রত্যেক জিনিস সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রাখেন, অন্যের বলে দেওয়ার কারণে অথবা কোন মাধ্যম দিয়ে নয়। যেহেতু যিনি অন্যের জানানোর পর বা কোন মাধ্যম দ্বারা কোন জিনিস সম্পর্কে অবগত হন, তাঁকে ‘আলেমুল গায়ব’ বলা হয় না। অতএব মুসলিমের উচিত, এ সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করা এবং উদাসীনদের দলভুক্ত না হওয়া।