কুল্লা-ইয়াছতাবীল খাবীছুওয়াত্তাইয়িবুওয়ালাও আ‘জাবাকা কাছরতুল খাবীছি ফাত্তাকুল্লা-হা ইয়াঊলিল আলবা-বি লা‘আল্লাকুম তুফলিহূন।উচ্চারণ
হে নবী! এদেরকে বলে দাও, পবিত্র ও অপবিত্র সমান নয়, অপবিত্রের আধিক্য তোমাদের যতই চমৎকৃত করুক না কেন। ১১৫ কাজেই হে বুদ্ধিমানেরা! আল্লাহর নাফরমানী করা থেকে দূরে থাকো আশা করা যায়, তোমরা সফলকাম হবে। তাফহীমুল কুরআন
(হে রাসূল! মানুষকে) বলে দাও, অপবিত্র ও পবিত্র বস্তু সমান হয় না, যদিও অপবিত্র বস্তুর আধিক্য তোমাকে মুগ্ধ করে। #%৭৫%# সুতরাং হে বোধসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গ, আল্লাহকে ভয় করে চলো, যাতে তোমরা সফলকাম হও।মুফতী তাকী উসমানী
তুমি বলে দাওঃ পবিত্র ও অপবিত্র সমান নয়, যদিও অপবিত্রের আধিক্য তোমাকে চমৎকৃত করে। অতএব হে জ্ঞানীগণ! আল্লাহকে ভয় করতে থাক যেন তোমরা (পূর্ণ) সফলকাম হতে পার।মুজিবুর রহমান
বলে দিনঃ অপবিত্র ও পবিত্র সমান নয়, যদিও অপবিত্রের প্রাচুর্য তোমাকে বিস্মিত করে। অতএব, হে বুদ্ধিমানগণ, আল্লাহকে ভয় কর-যাতে তোমরা মুক্তি পাও।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
বল, ‘মন্দ ও ভাল এক নয়; যদিও মন্দের আধিক্য তোমাকে চমৎকৃত করে। সুতরাং হে বোধশক্তিসম্পন্নেরা! আল্লাহ্কে ভয় কর-যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।’ইসলামিক ফাউন্ডেশন
বল, ‘অপবিত্র ও পবিত্র সমান নয়, যদিও অপবিত্রের আধিক্য তোমাকে মুগ্ধ করে। অতএব হে বুদ্ধিমান ব্যক্তিরা, আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর। যাতে তোমরা সফলকাম হও’।আল-বায়ান
বল, অপবিত্র আর পবিত্র সমান নয়, যদিও অপবিত্র বস্তুর প্রাচুর্য তোমাকে আকৃষ্ট করে। কাজেই হে জ্ঞানী সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।তাইসিরুল
বলো -- "মন্দ আর ভালো সমতুল্য নয়", যদিও মন্দের প্রাচুর্য তোমাকে তাজ্জব বানিয়ে দেয়। কাজেই আল্লাহ্কে ভয়শ্রদ্ধা করো, হে বিজ্ঞ ব্যক্তিগণ! যেন তোমরা সফলকাম হতে পারো।মাওলানা জহুরুল হক
১১৫
এ আয়াতটি মূল্যবোধ ও মূল্যমানের এমন একটি মানদণ্ড পেশ করে, যা স্থুলদর্শী মানুষের মানদণ্ড থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। স্থুলদর্শীর দৃষ্টিতে পাঁচ টাকার তুলনায় একশ টাকার দাম অবশ্যি অনেক বেশী। কারণ একদিকে পাঁচ টাকা আর একদিকেএকশ টাকা। কিন্তু এ আয়াতটি বলছে, যদি আল্লাহর নাফরমানী করে একশ টাকা লাভ করা হয় তাহলে তা নাপাক ও অপবিত্র। অন্যদিকে আল্লাহর হুকুম পালনের আওতায় যদি পাঁচ টাকা লাভ করা হয় তাহলে তা পাক ও পবিত্র। আর অপবিত্রের পরিমাণ যত বেশীই হোক না কেন তা কোন দিন পবিত্রের সমান হতে পারবে না। আবর্জনার একটি স্তূপের তুলনায় এক ফোঁটা আতরের মূল্য ও মর্যাদা অনেক বেশী। এক পুকুর ভর্তি পেশাবের চাইতে সামান্য পরিমাণের পাক পবিত্র পানির মূল্য বেশী। কাজেই একজন যথার্থ বুদ্ধিমান ব্যক্তির অবশ্যি হালাল জিনিস নিয়ে সন্তুষ্ট থাকা উচিত, আপাত দৃষ্টিতে তার পরিমাণ যতই সামান্য হোক না কেন এবং হারামের দিকে কোন অবস্থাতেই হাত বাড়ানো উচিত নয়, বাহ্যত তা যতই বিপুল পরিমাণ ও যতই আড়ম্বরপূর্ণ হোক না কেন।
এ আয়াত জানাচ্ছে, পৃথিবীতে অনেক সময় কোনও কোন নাপাক বা হারাম বস্তু এতটা ব্যাপকভাবে চালু হয়ে যায় যে, সেটা সময়ের ফ্যাশনরূপে গণ্য হয় এবং ফ্যাশন-পূজারী মানুষের কাছে তার কদর হয়ে যায়। মুসলিমদেরকে সতর্ক করা হয়েছে, কেবল সাধারণ রেওয়াজের কারণে যেন তারা কোনও জিনিস গ্রহণ না করে; বরং আল্লাহ ও রাসূলের নির্দেশনা অনুসারে সে জিনিস পবিত্র ও বৈধ কি না, আগে যেন সেটা যাচাই করে দেখে।
১০০. বলুন, মন্দ ও ভাল এক নয়(১) যদিও মন্দের আধিক্য তোমাকে(২) চমৎকৃত করে(৩)। কাজেই হে বোধশক্তিসম্পন্ন লোকেরা! তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।
(১) (الْخَبِيثُ وَالطَّيِّبُ) আরবী ভাষায় দুটি বিপরীত শব্দ। প্রত্যেক উৎকৃষ্ট বস্তুকে الطَّيِّب এবং প্রত্যেক নিকৃষ্ট বস্তুকে الْخَبِيث বলা হয়। অর্থাৎ কোন প্রকার خَبِيْث এর সাথেই কোন প্রকার طَيِّب এর তুলনা চলে না। আয়াতে خَبِيْث শব্দ দ্বারা হারাম ও অপবিত্র এবং طَيِّب শব্দ দ্বারা হালাল ও পবিত্র বস্তুকে বোঝানো হয়েছে। অতএব, আয়াতের অর্থ এই যে, আল্লাহ্ তা'আলার দৃষ্টিতে, এমনকি প্রত্যেক সুস্থ্য বুদ্ধিমান লোকের দৃষ্টিতে, পবিত্র ও অপবিত্র এবং হালাল ও হারাম সমান হতে পারে না। এ ক্ষেত্রে (الْخَبِيثُ وَالطَّيِّبُ) শব্দ দুটি স্বীয় ব্যাপকতার দিক দিয়ে হালাল ও হারাম অর্থ-সম্পদ, উত্তম ও অধম মানুষ এবং ভাল ও মন্দ কাজ-কর্ম ও চরিত্রকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। তাই কোন বিচারেই সৎ ও অসৎ এবং ভাল ও মন্দ সমান নয়। এ স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী আল্লাহ তা'আলার কাছ থেকে হালাল ও হারাম কিংবা পবিত্র ও অপবিত্র বস্তু সমান নয়। ঈমান ও কুফর সমান নয়। জান্নাত ও জাহান্নাম সমান নয়। আনুগত্য ও অবাধ্যতা সমান নয়। সুন্নাতের অনুসারী ও বিদাআতের অনুসারী সমান নয়। (ইবন কাসীর, সা’দী, মুয়াসাসার)
(২) অর্থাৎ হে মানুষ যদিও খারাপ বস্তু তোমাকে চমৎকৃত করে তবুও খারাপ বস্তু ও ভালো বস্তু কখনও সমান হতে পারে না। এখানে সাধারণভাবে সকল মানুষকে উদ্দেশ্য নেয়া হয়েছে। (ইবন কাসীর)
(৩) অর্থাৎ যদিও মাঝে মাঝে মন্দ ও অনুৎকৃষ্ট বস্তুর প্রাচুর্য দর্শকদের বিস্মিত করে দেয় এবং আশ-পাশে মন্দ ও অপবিত্র বস্তুর ব্যাপক প্রসারের কারণে সেগুলোকেই ভাল মনে করতে থাকে, কিন্তু আসলে এটি মানুষের অবচেতন মনের একটি রোগ এবং অনুভূতির ক্রটি বিশেষ। মন্দ বস্তু কখনও ভাল হতে পারে না। সুতরাং উপকারী হালাল বস্তু স্বল্প হলেও তা অপকারী হারাম বস্তু বেশী হওয়ার চেয়ে উত্তম। (ফাতহুল কাদীর) হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, অল্প ও প্রয়োজনের পক্ষে যথেষ্ট জিনিস সেই অধিক জিনিস হতে উত্তম যা মানুষকে আল্লাহর স্মরণ হতে গাফেল ও উদাসীন রাখে। (মুসনাদে আহমাদ ৫/১৯৭)
(১০০) বল, ‘অপবিত্র ও পবিত্র সমান নয়; যদিও অপবিত্রের আধিক্য তোমাকে চমৎকৃত করে।(1) সুতরাং হে বুদ্ধিশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।’
(1) خبيث (অপবিত্র) এর ভাবার্থ হচ্ছে, হারাম অথবা কাফের অথবা পাপী অথবা খারাপ। طيب (পবিত্র) এর ভাবার্থ হচ্ছে, হালাল অথবা মু’মিন অথবা আনুগত্যশীল অথবা ভালো জিনিস; এ সবগুলি অর্থই উদ্দিষ্ট হতে পারে। উদ্দেশ্য এই যে, যার মধ্যে অপবিত্রতা থাকবে, তা কুফরী হোক অথবা পাপাচার অথবা অপকর্ম, তা কোন বস্তু হোক অথবা উক্তি; তা (সংখ্যা বা পরিমাণে) অধিক হওয়া সত্ত্বেও তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে না, যার মধ্যে পবিত্রতা আছে। আর (খারাপ ও ভালো) এ দুই কখনও সমান হতে পারে না (যদিও খারাপ সংখ্যাগরিষ্ঠ)। কেননা অপবিত্রতা ও খারাবীর কারণে সেই জিনিসের উপকারিতা ও বরকত শেষ হয়ে যায়। পক্ষান্তরে যে জিনিসের মধ্যে পবিত্রতা ও কল্যাণ আছে তার উপকারিতা ও বরকত বৃদ্ধি পায়।