۞لَتَجِدَنَّ أَشَدَّ ٱلنَّاسِ عَدَٰوَةٗ لِّلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱلۡيَهُودَ وَٱلَّذِينَ أَشۡرَكُواْۖ وَلَتَجِدَنَّ أَقۡرَبَهُم مَّوَدَّةٗ لِّلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱلَّذِينَ قَالُوٓاْ إِنَّا نَصَٰرَىٰۚ ذَٰلِكَ بِأَنَّ مِنۡهُمۡ قِسِّيسِينَ وَرُهۡبَانٗا وَأَنَّهُمۡ لَا يَسۡتَكۡبِرُونَ

লাতাজিদান্না আশাদ্দান্না-ছি ‘আদা-ওয়াতাল লিলল্লাযীনা আ-মানুল ইয়াহূদাওয়াল্লাযীনা আশরকূ ওয়ালাতাজিদান্না আকরবাহুম মাওয়াদ্দাতাল লিলল্লাযীনা আ-মানুল্লাযীনা কালূইন্না-নাসা-র- যা-লিকা বিআন্না মিনহুম কিছছীছীনা ওয়া রুহবা-নাওঁ ওয়া আন্নাহুম লা-ইয়াছতাকবিরূনা।উচ্চারণ

ঈমানদারদের সাথে শত্রুতার ক্ষেত্রে তুমি ইহুদী ও মুশরিকদের পাবে সবচেয়ে বেশী উগ্র। আর ঈমানদারদের সাথে বন্ধুত্বের ব্যাপারে নিকটতম পাবে তাদেরকে যারা বলেছিল আমরা আল্লাহর সাহায্যকারী। এর কারণ হচ্ছে, তাদের মধ্যে ইবাদাতকারী আলেম, সংসার বিরাগী দরবেশ পাওয়া যায়, আর তাদের মধ্যে আত্মগরিমা নেই। তাফহীমুল কুরআন

তুমি অবশ্যই মুসলিমদের প্রতি শত্রুতায় মানুষের মধ্যে সর্বাপেক্ষা কঠোর পাবে ইয়াহূদীদেরকে এবং সেই সমস্ত লোককে, যারা (প্রকাশ্যে) শিরক করে এবং তুমি মানুষের মধ্যে মুসলিমদের সাথে বন্ধুত্বে সর্বাপেক্ষা নিকটবর্তী পাবে তাদেরকে, যারা নিজেদেরকে নাসারা বলে। এর কারণ এই যে, তাদের মধ্যে অনেক ইলম-অনুরাগী এবং সংসার-বিরাগী দরবেশ রয়েছে। #%৬৩%# আরও এক কারণ হল যে, তারা অহংকার করে না।মুফতী তাকী উসমানী

তুমি মানবমন্ডলীর মধ্যে ইয়াহুদী ও মুশরিকদেরকে মুসলিমদের সাথে অধিক শক্রতা পোষণকারী পাবে, আর তন্মধ্যে মুসলিমদের সাথে বন্ধুত্ব রাখার অধিকতর নিকটবর্তী ঐ সব লোককে পাবে যারা নিজেদেরকে নাসারাহ্ (খৃষ্টান) বলে; এটা এ কারণে যে, তাদের মধ্যে বহু আলিম এবং বহু দরবেশ রয়েছে; আর এ কারণে যে, তারা অহংকারী নয়।মুজিবুর রহমান

আপনি সব মানুষের চাইতে মুসলমানদের অধিক শত্রু ইহুদী ও মুশরেকদেরকে পাবেন এবং আপনি সবার চাইতে মুসলমানদের সাথে বন্ধুত্বে অধিক নিকটবর্তী তাদেরকে পাবেন, যারা নিজেদেরকে খ্রীষ্টান বলে। এর কারণ এই যে, খ্রীষ্টানদের মধ্যে আলেম রয়েছে, দরবেশ রয়েছে এবং তারা অহঙ্কার করে না।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

অবশ্য মু’মিনদের প্রতি শত্রুতায় মানুষের মধ্যে ইয়াহ‚দী ও মুশরিকদেরকেই তুমি সর্বাধিক উগ্র দেখবে এবং যারা বলে ‘আমরা খ্রিস্টান’ মানুষের মধ্যে তাদেরকেই তুমি মু’মিনদের নিকটতর বন্ধুত্বে দেখবে; কারণ তাদের মধ্যে অনেক পণ্ডিত ও সংসার-বিরাগী আছে, আর তারা অহংকারও করে না। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তুমি অবশ্যই মুমিনদের জন্য মানুষের মধ্যে শত্রুতায় অধিক কঠোর পাবে ইয়াহূদীদেরকে এবং যারা শিরক করেছে তাদেরকে। আর মুমিনদের জন্য বন্ধুত্বে তাদের মধ্যে নিকটতর পাবে তাদেরকে, যারা বলে, ‘আমরা নাসারা’। তা এই কারণে যে, তাদের মধ্যে অনেক পন্ডিত ও সংসারবিরাগী আছে এবং তারা নিশ্চয় অহঙ্কার করে না।আল-বায়ান

যারা ঈমান এনেছে তাদের প্রতি মানুষের মধ্যে ইয়াহূদ ও মুশরিকদেরকে তুমি অবশ্যই সবচেয়ে বেশি শত্রুতাপরায়ণ দেখতে পাবে, আর যারা বলে ‘‘আমরা নাসারা’’ তাদেরকে তুমি যারা ঈমান এনেছে তাদের জন্য বন্ধুত্বে নিকটতর দেখতে পাবে, কেননা তাদের মধ্যে ‘ইবাদাতকারী ‘আলিম ও সংসার বিরাগী আছে আর তারা অহংকারও করে না।তাইসিরুল

তুমি নিশ্চয়ই দেখতে পাবে যে যারা ঈমান এনেছে তাদের সাথে শত্রুতায় সব চাইতে কঠোর লোক হচ্ছে ইহুদীরা ও যারা শরীক করে, আর নিশ্চয়ই তুমি আবিস্কার করবে যে যারা ঈমান এনেছে তাদের সাথে বন্ধুত্বে সব চাইতে তাদের ঘনিষ্ঠ হচ্ছে ওরা যারা বলে -- "নিঃসন্দেহ আমরা খ্রীষ্টান।" এটি এই জন্য যে তাদের মধ্যে রয়েছে পাদরীরা ও সাধুসন্ন্যাসীরা, আর যেহেতু তারা অহঙ্কার করে না।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

অর্থাৎ খ্রিস্টানদের মধ্যে বহু লোক দুনিয়ার মোহ থেকে মুক্ত। তাই তাদের অন্তরে সত্য গ্রহণের মানসিকতা বেশি। অন্ততপক্ষে মুসলিমদের প্রতি তাদের শত্রুতা অতটা উগ্র পর্যায়ের নয়। কারণ দুনিয়ার মোহ এমনই এক জিনিস, যা মানুষকে সত্য গ্রহণ থেকে বিরত রাখে। এর বিপরীতে ইয়াহুদী ও মুশরিকদের ভেতর দুনিয়ার মোহ বড় বেশি। তাই তারা প্রকৃত সত্যসন্ধানীর কর্মপন্থা অবলম্বন করে না। কুরআন মাজীদ খ্রিস্টানদের অপেক্ষাকৃত কোমলমনা হওয়ার আরও একটি কারণ বলেছে এই যে, তারা অহংকার করে না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে মানুষের অহংবোধও সত্য গ্রহণের পথে বাধা হয়ে থাকে। খ্রিস্টানগণকে যে বন্ধুত্বে মুসলিমদের নিকটবর্তী বলা হয়েছে, তারই একটা ফল ছিল এই যে, মক্কার মুশরিকদের সর্বাত্মক জুলুমে যখন মুসলিমদের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে, তখন বহু মুসলিম হাবশায় চলে যায় এবং বাদশাহ নাজাশীর আশ্রয় গ্রহণ করে। নাজাশী তো বটেই, হাবশার জনগণও তখন তাদের সাথে অত্যন্ত সম্মানজনক ও সহানুভূতিপূর্ণ আচরণ করেছিল। মক্কার মুশরিকগণ নাজাশীর কাছে একটি প্রতিনিধিদল পাঠিয়ে আবেদন জানিয়েছিল, তিনি যেন তাঁর দেশ থেকে মুসলিম শরণার্থীদেরকে বের করে দেন ও তাদেরকে মক্কা মুকাররমায় ফেরত পাঠান, যাতে মুশরিকগণ তাদের উপর আরও নির্যাতন চালাতে পারে। নাজাশী তখন মুসলিমদেরকে ডেকে তাদের বক্তব্য শুনেছিলেন। তাতে তাঁর কাছে ইসলামের সত্যতা পরিষ্কার হয়ে যায়। ফলে তিনি যে মুশরিকদের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছিলেন তাই নয়; বরং তারা যে উপহার-উপঢৌকন পেশ করেছিল, তাও ফেরত দিয়েছিলেন। প্রকাশ থাকে যে, এ স্থলে কেবল সেই সকল খ্রিস্টানদেরকেই মুসলিমদের বন্ধুমনস্ক বলা হয়েছে, যারা নিজ ধর্মের প্রকৃত অনুসারী এবং সেমতে দুনিয়ার মোহ থেকে দূরে থাকে আর অহংকার-অহমিকা থেকে অন্তরকে মুক্ত রাখে। বলাবাহুল্য, এর অর্থ এ নয় যে, সব যুগের খ্রিস্টানরাই এ রকম হবে। সুতরাং ইতিহাসে এ রকম বহু উদাহরণ রয়েছে, যাতে খ্রিস্টান জাতি মুসলিম উম্মাহর সাথে নিকৃষ্টতম আচরণ করেছে।

তাফসীরে জাকারিয়া

৮২. অবশ্যই মুমিনদের মধ্যে শক্রতায় মানুষের মধ্যে ইয়াহুদী ও মুশরিকদেরকেই আপনি সবচেয়ে উগ্র দেখবেন। আর যারা বলে ‘আমরা নাসারা’ মানুষের মধ্যে তাদেরকেই আপনি মুমিনদের কাছাকাছি বন্ধুত্বে দেখবেন, তা এই কারণে যে, তাদের মধ্যে অনেক পণ্ডিত ও সংসারবিরাগী রয়েছে। আর এজন্যেও যে, তারা অহংকার করে না।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৮২) অবশ্যই বিশ্বাসীদের প্রতি শত্রুতায় মানুষের মধ্যে ইয়াহুদী ও অংশীবাদীদেরকেই তুমি সর্বাধিক উগ্র দেখবে(1) এবং মানুষের মধ্যে যারা বলে, ‘আমরা খ্রিষ্টান’, তাদেরকেই তুমি সম্প্রীতির ব্যাপারে বিশ্বাসীদের নিকটতর দেখবে। কারণ, তাদের মধ্যে অনেক পন্ডিত ও সংসার-বিরাগী আছে। আর তারা অহংকারও করে না। (2)

(1) এই জন্য যে, ইয়াহুদীদের মধ্যে একগুঁয়েমি, হঠকারিতা, হক থেকে বিমুখতা, দাম্ভিকতা ও গর্ব এবং জ্ঞানী ও ঈমানদারদের অবজ্ঞা করার প্রবণতা ব্যাপক প্রচলিত। আর এ জন্যেই নবীগণকে হত্যা ও তাঁদেরকে মিথ্যাজ্ঞান করা তাদের অভ্যাসে পরিণত হয়। এমনকি কয়েক বার তারা মহানবী (সাঃ)-কে হত্যা করার কুচক্রান্ত করে। তাঁকে যাদু করে এবং বিভিন্নভাবে ক্ষতি সাধন করার মত জঘন্য অপচেষ্টাও করে। অনুরূপ কুকীর্তি মুশরিকদেরও।

(2) رهبان এর ভাবার্থ; সৎ, আবেদ, সংসার-বিরাগী বা নির্জনবাসী আর قسيسين এর ভাবার্থ; পন্ডিত। অর্থাৎ, এই খ্রিষ্টানদের মধ্যে জ্ঞান ও বিনয় আছে। আর এই জন্যই ইয়াহুদীদের মত তাদের হঠকারিতা ও দাম্ভিকতা ছিল না। এছাড়া খ্রিষ্টান ধর্মে নম্রতা, উদারতা ও ক্ষমাশীলতার শিক্ষার বৈশিষ্ট্যপূর্ণ মান আছে। এমন কি তাদের ধর্মগ্রন্থে লিপিবদ্ধ আছে যে, কেউ যদি তোমার ডান গালে চড় মারে, তাহলে তার সামনে বাম গাল বাড়িয়ে দাও। অর্থাৎ ঝগড়া-বিবাদ করবে না। এই কারণে ইয়াহুদীদের তুলনায় খ্রিষ্টানরা মুসলিমদের নিকটতর। খ্রিষ্টানদের এই প্রশংসা ইয়াহুদীদের মোকাবেলায় করা হয়েছে। নচেৎ ইসলাম-বিদ্বেষের অভ্যাস কম-বেশী তাদের মধ্যেও আছে। যেমন এ কথা ক্রুস ও ক্রিসেণ্টের বহু শতাব্দী-ব্যাপী যুদ্ধ-বিগ্রহ থেকে স্পষ্ট এবং যা অদ্যাবধি চলে আসছে। আর বর্তমানে ইয়াহুদী-খ্রিষ্টান উভয়ের মিলিত প্রচেষ্টা ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে সরগরম। এই কারণেই কুরআনে উভয় সম্প্রদায়ের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করতে নিষেধ করা হয়েছে।