লাকাদ কাফারল্লাযীনা ক-লূইন্নাল্লা-হা ছা-লিছু ছালা-ছাহ । ওয়ামা-মিন ইলাহিন ইল্লাইলা-হুওঁ ওয়া-হিদুওঁ ওয়া ইল্লাম ইয়ানতাহূ‘আম্মা-ইয়াকূ লূনা লাইয়ামাছছান্নাল্লাযীনা কাফারূমিনহুম ‘আযা-বুন আলীম।উচ্চারণ
নিঃসন্দেহে তারা কুফরী করেছে যারা বলেছে, আল্লাহ তিন জনের মধ্যে একজন। অথচ এক ইলাহ্ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই, যদি তারা নিজেদের এই সব কথা থেকে বিরত না হয়, তাহলে তাদের মধ্য থেকে যারা কুফরী করেছে তাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দেয়া হবে। তাফহীমুল কুরআন
এবং তারাও নিশ্চয় কাফির হয়ে গিয়েছে, যারা বলে, ‘আল্লাহ তিনজনের মধ্যে তৃতীয় জন।’ #%৫৬%# অথচ এক ইলাহ ব্যতীত কোনও ইলাহ নেই। তারা যদি তাদের এ কথা থেকে বিরত না হয়, তবে তাদের মধ্যে যারা কুফরীতে লিপ্ত হয়েছে, তাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি স্পর্শ করবে।মুফতী তাকী উসমানী
নিঃসন্দেহে তারাও কাফির যারা বলেঃ ‘আল্লাহ তিনের (অর্থাৎ তিন মা‘বূদের) এক’, অথচ ইবাদাত পাবার যোগ্য এক আল্লাহ ছাড়া অন্য কেহই নেই; আর যদি তারা স্বীয় উক্তিসমূহ হতে নিবৃত্ত না হয় তাহলে তাদের মধ্যে যারা কুফরীতে অটল থাকবে তাদের উপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি পতিত হবে।মুজিবুর রহমান
নিশ্চয় তারা কাফের, যারা বলেঃ আল্লাহ তিনের এক; অথচ এক উপাস্য ছাড়া কোন উপাস্য নেই। যদি তারা স্বীয় উক্তি থেকে নিবৃত্ত না হয়, তবে তাদের মধ্যে যারা কুফরে অটল থাকবে, তাদের উপর যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি পতিত হবে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
যারা বলে, ‘আল্লাহ্ তো তিনের মধ্যে একজন, তারা তো কুফরী করেছেই-যদিও এক ইলাহ্ ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ্ নেই। তারা যা বলে তা হতে নিবৃত্ত না হলে তাদের মধ্যে যারা কুফরী করেছে, তাদের ওপর অবশ্যই মর্মন্তুদ শাস্তি আপতিত হবেই। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
অবশ্যই তারা কুফরী করেছে, যারা বলে, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তিন জনের তৃতীয়জন’। যদিও এক ইলাহ ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই। আর যদি তারা যা বলছে, তা থেকে বিরত না হয়, তবে অবশ্যই তাদের মধ্য থেকে কাফিরদেরকে যন্ত্রণাদায়ক আযাব স্পর্শ করবে।আল-বায়ান
তারা অবশ্যই কুফরী করেছে যারা বলে আল্লাহ তিন জনের মধ্যে একজন, কারণ এক ইলাহ ছাড়া আর কোন সত্যিকার ইলাহ নেই। তারা যা বলছে তা থেকে তারা যদি নিবৃত্ত না হয়, তাহলে তাদের মধ্যে যারা কুফরী করেছে তাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক আযাব গ্রাস করবেই।তাইসিরুল
তারা নিশ্চয়ই অবিশ্বাস পোষণ করে যারা বলে -- "নিঃসন্দেহ আল্লাহ্ হচ্ছেন তিনজনের তৃতীয়জন।" বস্তুতঃ একক খোদা ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই। আর যা তারা বলছে তা থেকে যদি তারা না থামে, তবে তাদের মধ্যের যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তাদের পাকড়াবে ব্যথাদায়ক শাস্তি।মাওলানা জহুরুল হক
এর দ্বারা খ্রিস্টানদের ত্রিত্ববাদে বিশ্বাসের প্রতি ইশারা করা হয়েছে। ‘ত্রিত্ববাদ’-এর অর্থ হচ্ছে, আল্লাহ তিন সত্তা (Persons) অর্থাৎ পিতা, পুত্র (মাসীহ) ও পবিত্র আত্মা (রূহুল কুদস)-এর সমষ্টির নাম। তাদের এক দলের মতে তৃতীয়জন হলেন মারয়াম আলাইহাস সালাম। তাদের বক্তব্য হল, এই তিনজন মিলে একজন। তিনের সমষ্টি ‘এক’ কিভাবে? এই হেঁয়ালীর কোনও যুক্তিসঙ্গত উত্তর কারও কাছে নেই। তাদের ধর্মতত্ত্ববিদগণ (Theologians) বিষয়টাকে বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন। কেউ বলেছেন, হযরত মাসীহ আলাইহিস সালাম কেবল ঈশ্বর ছিলেন, মানুষ ছিলেন না। ৭২নং আয়াতে তাদের এ বিশ্বাসকে কুফুর সাব্যস্ত করা হয়েছে। কেউ বলেছেন, ঈশ্বর যেই তিন সত্তার সমষ্টি তার একজন হলেন পিতা অর্থাৎ আল্লাহ, আর দ্বিতীয়জন পুত্র, যিনি মূলত আল্লাহ তা‘আলারই একটি গুণ, যা মানব অস্তিত্বে মিশে গিয়ে হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের আকৃতিতে আত্মপ্রকাশ করেছে। সুতরাং তিনি যেমন মানুষ ছিলেন, তেমনি মৌলিকত্বের দিক থেকে ঈশ্বরও ছিলেন। ৭৩ নং আয়াতে এ বিশ্বাসকে খণ্ডন করা হয়েছে। খ্রিস্টানদের এসব ‘আকীদা-বিশ্বাসের ব্যাখ্যা এবং তার রদ ও জবাব সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য এই লেখক (আল্লামা তাকী উসমানী)এর রচিত ‘ঈসাইয়্যাত কিয়া হ্যায়’ শীর্ষক গ্রন্থখানি পড়া যেতে পারে। (যা বাংলায়, খৃস্টধর্মের স্বরূপ, নামে অনূদিত ও প্রকাশিত হয়েছে)।
৭৩. তারা অবশ্যই কুফরী করেছে- যারা বলে, আল্লাহ তো তিনের মধ্যে তৃতীয়(১), অথচ এক ইলাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই। আর তারা যা বলে তা থেকে বিরত না হলে তাদের মধ্যে যারা কুফরী করেছে, তাদের উপর অবশ্যই কষ্টদায়ক শাস্তি আপতিত হবে।
(১) অর্থাৎ ঈসা মসীহ আলাইহিস সালাম, রূহুল কুদ্স ও আল্লাহ, কিংবা মসীহ, মারইয়াম ও আল্লাহ -সবাই আল্লাহ। তাদের মধ্যে একজন অংশীদার হলেন আল্লাহ। এরপর তারা তিনজনই এক এবং একজনই তিন। এ হচ্ছে নাসারাদের সাধারণ বিশ্বাস। নাসারাদের মালেকিয়া, ইয়াকুবিয়্যা ও নাসতুরিয়্যা এ তিনটি দলই উপরোক্ত বিশ্বাস পোষণ করে। (ইবন কাসীর) এ যুক্তিবিরোধী ধর্মবিশ্বাসকে তারা জটিল ও দ্ব্যর্থবোধক ভাষায় ব্যক্ত করে। অতঃপর বিষয়টি যখন কারো বোধগম্য হয় না, তখন একে ‘বুদ্ধি বহির্ভূত সত্য বলে আখ্যা দিয়ে ক্ষান্ত হয়। সুদ্দি বলেন, এখানে তিনের এক ইলাহ বলা হয়েছে। তিনজন বলতে, ঈসা, তার মা মারইয়াম এবং আল্লাহকে বোঝানো হয়েছে। কারণ, অন্য আয়াতে কোন কোন নাসারাদের দ্বারা ঈসা ও তার মাকে ইলাহ হিসেবে গণ্য করার কথা উল্লেখ করে তা খণ্ডন করা হয়েছে। (আল-মায়েদাহ: ১১৬) ইবন কাসীর বলেন, এ মতটি অধিক প্রাধান্যপ্রাপ্ত। (ইবন কাসীর)
(৭৩) তারা নিশ্চয় অবিশ্বাসী (কাফের), যারা বলে, ‘আল্লাহ তো তিনের মধ্যে একজন।’(1) অথচ এক উপাস্য ভিন্ন অন্য কোন উপাস্য নেই। তারা যা বলে তা হতে নিবৃত্ত না হলে তাদের মধ্যে যারা অবিশ্বাস করেছে, তাদের উপর অবশ্যই মর্মন্তুদ শাস্তি আপতিত হবে।
(1) এ হল খ্রিষ্টানদের দ্বিতীয় ফির্কা, যারা তিন ঈশ্বরের দাবীদার ছিল। যেটাকে তারা (One God in Three Person) বলে। আর এর ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণে যদিও খোদ তাদের মধ্যেই মতবিরোধ বিদ্যমান, তবুও সঠিক কথা এই যে, তারা ঈসা (আঃ) ও তাঁর মা মারয়্যাম (‘আলাইহাস্ সালাম)-কেও আল্লাহর সাথে (সমকক্ষ ভেবে) মাবূদ বা উপাস্যরূপে গণ্য করতো; যেরূপ কুরআন সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছে। আল্লাহ কিয়ামতের দিন ঈসা (আঃ)-কে জিজ্ঞাসা করবেন, {أأنتَ قُلتَ لِلنَّاسِ اتَّخِذُونِي وَأُمِّيَ إِلَهَيْنِ مِن دُونِ اللّه} অর্থাৎ, তুমি কি লোকদেরকে বলেছিলে যে, তোমরা আল্লাহ ছাড়া আমাকে ও আমার আম্মাকে মা’বূদ (উপাস্য) বানিয়ে নাও? (সূরা মাইদাহ ১১৬) এখান থেকে এ কথা স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, খ্রিষ্টানরা ঈসা (আঃ) ও তাঁর মাতা মারয়্যাম (‘আলাইহিস্ সালাম)-কে উপাস্য হিসাবে গণ্য করে। আর আল্লাহ তৃতীয় উপাস্য বা মা’বুদ। যাকে তারা ‘তিনের তৃতীয়’ বলে আখ্যায়ন করে। তাদের প্রথম বিশ্বাসের মতই আল্লাহ এ বিশ্বাসকেও কুফরী বলে মন্তব্য করেছেন।