কুল হাল উনাব্বিউকুম বিশাররিম মিন যা-লিকা মাছূবাতান ইনদাল্লা-হি মাল্লা‘আনাহুল্লাহু ওয়া গাদিবা ‘আলাইহি ওয়াজা‘আলা মিনহুমুল কিরদাতা ওয়াল খানা-ঝীর ওয়া ‘আবাদাততা-গূতা উলাইকা শাররুম মাক-নাওঁ ওয়া আদাল্লু‘আন ছাওয়াইছছাবীল।উচ্চারণ
তাহলে বলো, আমি কি তাদেরকে চিহ্নিত করবো। যাদের পরিণাম আল্লাহর কাছে এ ফাসেকের চাইতেও খারাপ? বস্তুত যাদের ওপর আল্লাহ লানত বর্ষণ করেছেন, যাদের প্রতি তিনি ক্রোধান্বিত, যাদের মধ্য থেকে কতককে বানর ও শুয়োর বানানো হয়েছে এবং যারা তাগুতের বন্দেগী করেছে, তারা আরো নিকৃষ্ট এবং তারা সাওয়া-উস-সাবীল- (সরল সঠিক পথ) থেকে বিচ্যুত হয়ে অনেক দূরে সরে গেছে। ৯১ তাফহীমুল কুরআন
(হে নবী! তাদেরকে) বল, আমি কি তোমাদেরকে জানিয়ে দেব, (তোমরা যে বিষয়কে খারাপ মনে করছ) আল্লাহর কাছে তার চেয়ে মন্দ পরিণাম কার হবে? (তারা) ওই সকল লোক, যাদের প্রতি আল্লাহ অভিসম্পাত করেছেন, যাদের প্রতি ক্রোধ বর্ষণ করেছেন, যাদের মধ্যে কতককে বানর ও শূকর বানিয়ে দিয়েছেন এবং যারা শয়তানের পূজা করেছে। তারাই নিকৃষ্ট ঠিকানার অধিকারী এবং তারা সরল পথ থেকে অত্যধিক বিচ্যুত।মুফতী তাকী উসমানী
তুমি বলে দাওঃ আমি কি তোমাদেরকে এরূপ পন্থা হিসাবে ওটা হতেও (যাকে তোমরা মন্দ বলে জান) এরূপ সংবাদ দিব যা আল্লাহর কাছে অধিক নিকৃষ্ট? ওটা ঐ সব লোকের পন্থা, যাদেরকে আল্লাহ অভিসম্পাত করেছেন এবং যাদের প্রতি গযব নাযিল করেছেন ও যাদেরকে বানর ও শুকরে রূপান্তরিত করেছেন এবং যারা তাগুতের ইবাদাত করছে তারা মর্যাদার দিক দিয়ে নিকৃষ্টতর এবং সরল পথ হতে সর্বাধিক বিচ্যুত ।মুজিবুর রহমান
বলুনঃ আমি তোমাদেরকে বলি, তাদের মধ্যে কার মন্দ প্রতিফল রয়েছে আল্লাহর কাছে? যাদের প্রতি আল্লাহ অভিসম্পাত করেছেন, যাদের প্রতি তিনি ক্রোধাম্বিত হয়েছেন, যাদের কতককে বানর ও শুকরে রূপান্তরিত করে দিয়েছেন এবং যারা শয়তানের আরাধনা করেছে, তারাই মর্যাদার দিক দিয়ে নিকৃষ্টতর এবং সত্যপথ থেকেও অনেক দূরে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
বল, ‘আমি কি তোমাদেরকে এটা অপেক্ষা নিকৃষ্ট পরিণামের সংবাদ দিব যা আল্লাহ্ র নিকট আছে ? যাকে আল্লাহ্ লা‘নত করেছেন, যার ওপর তিনি ক্রোধান্বিত, যাদের কতককে তিনি বানর ও কতককে শূকর করেছেন আর যারা তাগূতের ‘ইবাদত করে, মর্যাদায় তারাই নিকৃষ্ট ও সরল পথ হতে সর্বাধিক বিচ্যুত।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
বল, ‘আমি কি তোমাদেরকে আল্লাহর নিকট পরিণতির বিচারে এর চেয়ে মন্দ কিছুর সংবাদ দেব? যাকে আল্লাহ লা‘নত দিয়েছেন এবং যার উপর তিনি ক্রোধান্বিত হয়েছেন? আর যাদের মধ্য থেকে বাঁদর ও শূকর বানিয়েছেন এবং তারা তাগূতের উপাসনা করেছে। তারাই অবস্থানে মন্দ এবং সোজা পথ থেকে সর্বাধিক বিচ্যুত’।আল-বায়ান
বল, আমি তোমাদেরকে কি এর চেয়ে খারাপ কিছুর সংবাদ দেব যা আল্লাহর নিকট প্রতিদান হিসেবে আছে? (আর তা হল) যাকে আল্লাহ লা‘নাত করেছেন, যার উপর তিনি ক্রোধান্বিত হয়েছেন, যাদের কতককে তিনি বানর ও শুকরে পরিণত করেছেন আর যারা তাগুতের ‘ইবাদাত করেছে তারাই সবচেয়ে নিকৃষ্ট মানের লোক এবং সরল সত্য পথ হতে সবচেয়ে বিচ্যুত।তাইসিরুল
বলো -- "তোমাদের কি জানাবো এর চেয়েও খারাপদের কথা, আল্লাহ্র কাছে প্রতিফল পাওয়া সন্বন্ধে? যাকে আল্লাহ্ ধিক্কার দিয়েছেন, আর যার উপরে তিনি ক্রোধ বর্ষণ করেছেন, আর তাদের মধ্যের কাউকে তিনি বানালেন বানর, আর শূকর, আর যে উপাসনা করত তাগুতকে। এরা আছে অতি মন্দ অবস্থায়, আর সরল পথ থেকে সুদূর পথভ্রষ্ট।মাওলানা জহুরুল হক
৯১
এখানে স্বয়ং ইহুদীদের দিকে সূক্ষ্ম ইঙ্গিত করা হয়েছে। তাদের ইতিহাস বলছে, বারবার আল্লাহর গযব ও লানতের শিকার হয়েছে। শনিবারের আইন ভাঙার কারণে তাদের কওমের বহু লোকের চেহারা বিকৃত হয়ে গেছে। এমনকি তারা অধঃপতনের এমন নিম্নতম পর্যায়ে নেমে গেছে যে, তাদেরকে তাগুত তথা আল্লাহর বিদ্রোহী শক্তির দাসত্ব পর্যন্ত করতে হয়েছে। সার কথা হচ্ছে এই যে, তোমাদের নির্লজ্জতা ও অপরাধমূলক কার্যক্রমের কি কোন শেষ আছে? তোমরা নিজেরা ফাসেকী, শরীয়াত বিরোধী কার্যকলাপ ও চরম নৈতিক অধঃপতনের মধ্যে নিমজ্জিত আছো আর যদি অন্য কোন দল আল্লাহর ওপর ঈমান এনে সাচ্চা দ্বীনদারীর পথ অবলম্বন করে তাহলে তোমরা তার বিরোধিতায় উঠে পড়ে লেগে যাও।
৬০. বলুন, 'আমি কি তোমাদেরকে এর নিকৃষ্ট পরিণামের সংবাদ দেব যা আল্লাহ্র কাছে আছে? যাকে আল্লাহ্ লা'নত করেছেন এবং যার উপর তিনি ক্রোধাম্বিত হয়েছেন। আর যাদের কাউকে তিনি বানর ও কাউকে শূকর করেছেন(১) এবং (তাদের কেউ) তাগূতের ইবাদাত করেছে। তারাই অবস্থানের দিক থেকে নিকৃষ্ট এবং সরল পথ থেকে সবচেয়ে বেশী বিচ্যুত।
(১) হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “নিশ্চয় আল্লাহ কোন বিকৃতদের বংশ বা উত্তরাধিকার রাখেন নি। এর আগেও বানর ও শূকর ছিল।” (মুসলিম: ২৬৬৩) সুতরাং বনী ইসরাঈলের মধ্যে যারা এভাবে বানর ও শূকরে রুপান্তরিত হয়েছিল তাদের বংশবৃদ্ধি ঘটে নি। বানর ও শুকর এ ঘটনার আগেও ছিল, বর্তমানেও আছে। বর্তমান বানর ও শূকরের সাথে বিকৃতদের কোন সম্পর্ক নেই।
(৬০) বল, ‘আমি কি তোমাদেরকে এ অপেক্ষা নিকৃষ্ট পরিণামের সংবাদ দেব, যা আল্লাহর নিকট আছে? যাকে আল্লাহ অভিসম্পাত করেছেন, যার উপর তিনি ক্রোধান্বিত, যাদের কতককে তিনি বানর ও কতককে শূকর বানিয়েছেন এবং যারা তাগূত (গায়রুল্লাহ)র উপাসনা করে, মর্যাদায় তারাই নিকৃষ্ট এবং সরল পথ হতে সর্বাধিক বিচ্যুত।’(1)
(1) অর্থাৎ, হে আহলে কিতাব! তোমরা আমাদের প্রতি যে বৈরীভাব পোষণ করছো তার কারণ তো এটা ছাড়া আর কিছুই নয় যে, আমরা আল্লাহর উপর, কুরআনের উপর এবং কুরআনের পূর্বে অবতীর্ণ সমুদয় কিতাবের উপর ঈমান এনেছি। এটাও কি কোন দোষের কথা? অর্থাৎ, এটা কোন দোষ ও নিন্দার কারণ হতে পারে না; যেমনটি তোমাদের মনে হয়েছে। এখানে استثناء منقطع হয়েছে। অবশ্য আমরা তোমাদেরকে বলে দিই, (আল্লাহর নিকট) অধিক নিকৃষ্ট ও পথভ্রষ্ট এবং ঘৃণার পাত্র ও তিরস্কারযোগ্য লোক কারা? এরা তারাই, যাদের প্রতি আল্লাহ অভিসম্পাত করেছেন, যাদের উপর তিনি রাগান্বিত হয়েছেন, আর তাদের মধ্যে কিছু সংখ্যককে বানর ও শূকরে পরিণত করেছেন এবং যারা তাগূত (গায়রুল্লাহ)এর পূজা করেছে। সুতরাং এই আয়নায় তোমরা নিজেদের চেহারা দেখে নাও। আর বল যে, যাদের ইতিহাস এই, তারা কারা? তারা কি তোমরাই নও?