إِنَّمَا وَلِيُّكُمُ ٱللَّهُ وَرَسُولُهُۥ وَٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱلَّذِينَ يُقِيمُونَ ٱلصَّلَوٰةَ وَيُؤۡتُونَ ٱلزَّكَوٰةَ وَهُمۡ رَٰكِعُونَ

ইন্নামা-ওয়ালিইইয়ুকুমুল্লা-হুওয়ারছূলুহূওয়াল্লাযীনা আ-মানূল্লাযীনা ইউকীমূনাসসালাতা ওয়া ইউ’তূনাঝঝাক-তা ওয়া হুম র-কি‘ঊন।উচ্চারণ

আসলে তোমাদের বন্ধু হচ্ছেন একমাত্র আল্লাহ, তাঁর রসূল এবং সেই ঈমানদাররা যারা নামায কায়েম করে, যাকাত দেয় এবং আল্লাহর সামনে বিনত হয়। তাফহীমুল কুরআন

(হে মুসলিমগণ!) তোমাদের বন্ধু তো কেবল আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও মুমিনগণ, যারা (আল্লাহর সামনে) বিনীত হয়ে সালাত আদায় করে ও যাকাত দেয়।মুফতী তাকী উসমানী

তোমাদের বন্ধুতো আল্লাহ ও তাঁর রাসূল এবং মু’মিনগণ - যারা সালাত সুপ্রতিষ্ঠিত করে, যাকাত প্রদান করে এবং বিনম্র।মুজিবুর রহমান

তোমাদের বন্ধু তো আল্লাহ তাঁর রসূল এবং মুমিনবৃন্দ-যারা নামায কায়েম করে, যাকাত দেয় এবং বিনম্র।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তোমাদের বন্ধু তো আল্লাহ্, তাঁর রাসূল ও মু’মিনগণ-যারা বিনত হয়ে সালাত কায়েম করে ও যাকাত দেয়। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমাদের বন্ধু কেবল আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও মুমিনগণ, যারা সালাত কায়েম করে এবং যাকাত প্রদান করে বিনীত হয়ে।আল-বায়ান

তোমাদের বন্ধু কেবল আল্লাহ, তাঁর রসূল ও মু’মিনগণ যারা নামায কায়িম করে, যাকাত আদায় করে এবং আল্লাহর কাছে অবনত হয়।তাইসিরুল

নিঃসন্দেহ তোমাদের ওলী হচ্ছেন কেবলমাত্র আল্লাহ্ এবং তাঁর রসূল, আর যারা ঈমান এনেছে, আর যারা নামায কায়েম করে, আর যাকাত আদায় করে, আর তারা রুকুকারী।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

তাফসীরে জাকারিয়া

৫৫. তোমাদের বন্ধু(১) তো কেবল আল্লাহ, তার রাসূল(২) ও মুমিনগণ- যারা সালাত কায়েম করে, যাকাত দেয় এবং তারা বিনীত।(৩)

(১) এ আয়াতে মুসলিমদের গভীর বন্ধুত্ব ও বিশেষ বন্ধুত্ব যাদের সাথে হতে পারে, তাদের গুণাগুণ বর্ণনা করা হচ্ছে। বলা হয়েছে, প্রথমতঃ তারা পূর্ণ আদব ও শর্তাদিসহ নিয়মিত সালাত আদায় করে। দ্বিতীয়তঃ স্বীয় অর্থ-সম্পদ থেকে যাকাত প্রদান করে। তৃতীয়তঃ তারা বিনম্র ও বিনয়ী স্বীয় সৎকর্মের জন্য গর্বিত নয়, তারা মানুষের সাথে সদ্ব্যবহার করে। (সা'দী)

(২) ফাইরোয আদ-দাইলামী বলেন, তার সম্প্রদায় ইসলাম গ্রহণ করার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে তাদের প্রতিনিধি পাঠালেন। তারা এসে বললঃ হে আল্লাহর রাসূল, আমরা তো ঈমান এনেছি, এখন আমার বন্ধু-অভিভাবক কে? তিনি বললেন, আল্লাহ ও তার রাসূল। তারা বললঃ আমাদের জন্য এটাই যথেষ্ট এবং আমরা সন্তুষ্ট। (মুসনাদে আহমাদঃ ৪/২৩২)

(৩) আয়াতে উল্লেখিত (وَهُمْ رَاكِعُونَ) এ ركوع শব্দের কয়েকটি অর্থ হতে পারে। কোন কোন তাফসীরবিদ বলেনঃ এখানে রুকূ’ অর্থ পারিভাষিক রুকূ’, যা সালাতের একটি রুকন। অর্থাৎ আর তারা রুকুকারী। (ফাতহুল কাদীর) এটা যেমন ফরয সালাতের সাধারণ রুকু উদ্দেশ্য হতে পারে, তেমনিভাবে নফল সালাত আদায়কারী অর্থেও হতে পারে। (বাগভী, জালালাইন) পক্ষান্তরে অধিকাংশ মুফাসসিরের মতে, এখানে রুকু বলে বিনম্র ও খুশু-খুযু সম্পন্ন হওয়া বোঝানো হয়েছে। (ইবন কাসীর, সা’দী) প্রথম অর্থের ক্ষেত্রে واو টি عطف এর জন্য। আর দ্বিতীয় অর্থের ক্ষেত্রে واو টি حال বা অবস্থা নির্দেশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। ইবন কাসীর এ অর্থটি গৌন বিবেচনা করেছেন।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৫৫) নিশ্চয় তোমাদের বন্ধু তো আল্লাহ তাঁর রসূল ও বিশ্বাসীগণ;(1) যারা বিনত হয়ে নামায পড়ে ও যাকাত আদায় করে।

(1) যখন ইয়াহুদ ও নাসারদের সাথে বন্ধুত্ব নিষেধ করা হয়েছে, তখন কাদের সাথে বন্ধুত্ব করা যাবে? এই প্রশ্নের উত্তরে বলা হচ্ছে, ঈমানদারগণের বন্ধু সর্বপ্রথম আল্লাহ ও তাঁর রসূল, অতঃপর যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের একান্ত অনুগত। পরবর্তীতে তাদের আরো গুণাবলী উল্লেখ করা হচ্ছে।