ফাতারল্লাযীনা ফী কুলূবিহিম মারদুইঁ ইউছা-রি‘ঊনা ফীহিম ইয়াকূলূনা নাখশাআন তুসীবানা-দাইরতুন ফা‘আছাল্লা-হু আইঁ ইয়া‘তিয়া বিল ফাতহিআও আমরিম মিন ‘ইনদিহী ফাইউসবিহু‘আলা-মাআছাররূফীআনফুছিহিম না-দিমীন।উচ্চারণ
তুমি দেখতে পাচ্ছো, যাদের অন্তরে মোনাফেকীর রোগ আছে তারা তাদের মধ্যেই তৎপর থাকে। তারা বলে, আমাদের ভয় হয়, আমরা কোন বিপদের কবলে না পড়ে যাই। ৮৪ কিন্তু অচিরেই আল্লাহ যখন তোমাদের চূড়ান্ত বিজয় দান করবেন অথবা নিজের পক্ষ থেকে অন্য কোন কথা প্রকাশ করবেন। ৮৫ তখন তারা নিজেদের অন্তরে লুকিয়ে রাখা এ মোনাফেকীর জন্য লজ্জিত হবে। তাফহীমুল কুরআন
সুতরাং যাদের অন্তরে (মুনাফেকীর) ব্যাধি আছে, তুমি তাদেরকে দেখতে পাচ্ছ যে, তারা অতি দ্রুত তাদের মধ্যে ঢুকে পড়ছে। তারা বলছে, আমাদের আশঙ্কা হয়, আমরা কোনও মুসিবতের পাকে পড়ে যাব। #%৪৮%# (কিন্তু) এটা দূরে নয় যে, আল্লাহ (মুসলিমদেরকে) বিজয় দান করবেন অথবা নিজের পক্ষ হতে অন্য কিছু ঘটাবেন, #%৪৯%# ফলে তখন তারা নিজেদের অন্তরে যা গোপন রেখেছিল, তজ্জন্য অনুতপ্ত হবে।মুফতী তাকী উসমানী
এ কারণেই যাদের অন্তরে পীড়া রয়েছে তাদেরকে তোমরা দেখেছ যে, তারা দৌড়ে দৌড়ে তাদের (কাফিরদের) মধ্যে প্রবেশ করছে, এবং তারা বলেঃ আমাদের ভয় হচ্ছে যে, আমাদের উপর কোন বিপদ এসে পড়ে না কি! অতএব আশা করা যায় যে, অচিরেই আল্লাহ (মুসলিমদের) পূর্ণ বিজয় দান করবেন অথবা অন্য কোন বিষয় বিশেষভাবে নিজ পক্ষ হতে (প্রকাশ করবেন), অনন্তর তারা নিজেদের অন্তরে লুকায়িত মনোভাবের কারণে লজ্জিত হবে।মুজিবুর রহমান
বস্তুতঃ যাদের অন্তরে রোগ রয়েছে, তাদেরকে আপনি দেখবেন, দৌড়ে গিয়ে তাদেরই মধ্যে প্রবেশ করে। তারা বলেঃ আমরা আশঙ্কা করি, পাছে না আমরা কোন দুর্ঘটনায় পতিত হই। অতএব, সেদিন দুরে নয়, যেদিন আল্লাহ তা’আলা বিজয় প্রকাশ করবেন অথবা নিজের পক্ষ থেকে কোন নির্দেশ দেবেন-ফলে তারা স্বীয় গোপন মনোভাবের জন্যে অনুতপ্ত হবে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
আর যাদের অন্তঃকরণে ব্যাধি আছে তুমি তাদেরকে সত্বর তাদের সঙ্গে মিলিত হতে দেখবে এই বলে, ‘আমাদের আশংকা হয় আমাদের ভাগ্য বিপর্যয় ঘটবে।’ হয়তো আল্লাহ্ বিজয় বা তাঁর নিকট হতে এমন কিছু দিবেন যাতে তারা তাদের অন্তরে যা গোপন রেখেছিল সে জন্য অনুতপ্ত হবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
সুতরাং তুমি দেখতে পাবে, যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে, তারা কাফিরদের মধ্যে (বন্ধুত্বের জন্য) ছুটছে। তারা বলে, ‘আমরা আশঙ্কা করছি যে, কোন বিপদ আমাদেরকে আক্রান্ত করবে’। অতঃপর হতে পারে আল্লাহ দান করবেন বিজয় কিংবা তাঁর পক্ষ থেকে এমন কিছু, যার ফলে তারা তাদের অন্তরে যা লুকিয়ে রেখেছে, তাতে লজ্জিত হবে।আল-বায়ান
যাদের অন্তরে ব্যাধি আছে তুমি তাদেরকে দেখবে তারা তাদের (অর্থাৎ ইয়াহূদী, নাসারা মুশরিকদের) দৌড়ে গিয়ে বলবে, আমাদের ভয় হয় আমরা বিপদের চক্করে পড়ে না যাই। হয়তো আল্লাহ বিজয় দান করবেন কিংবা নিজের পক্ষ হতে এমন কিছু দিবেন যাতে তারা তাদের অন্তরে যা লুকিয়ে রেখেছিল তার কারণে লজ্জিত হবে।তাইসিরুল
কাজেই যাদের অন্তরে ব্যারাম রয়েছে তাদের তুমি দেখতে পাবে তাদের দিকে ছুটে যেতে এই বলে -- "আমরা আশঙ্কা করছি কোনো দুর্যোগ আমাদের উপরে ঘটে যায়।" কিন্তু হতে পারে যে আল্লাহ্ এনে দেবেন বিজয় অথবা তাঁর কাছ থেকে চুড়ান্ত নিস্পত্তি, তাই তাদের অন্তরে তারা যা পোষণ করছিল তার জন্য পরমুহূর্তেই তারা হলো অনুতাপী।মাওলানা জহুরুল হক
৮৪
তখনো পর্যন্ত আরবে কুফর ও ইসলামের দ্বন্দ্বের কোন মীমাংসা হয়নি। যদিও নিজের আনসারীদের কর্মতৎপরতা, সাধনা ও আত্মত্যাগের কারণে ইসলাম একটি শক্তিতে পরিণত হয়েছিল তবুও বিরুদ্ধ শক্তিগুলোও ছিল প্রবল পরাক্রান্ত। ইসলামের বিজয়ের সম্ভাবনা যেমন ছিল তেমনি কুফরের বিজয়ের সম্ভাবনাও ছিল। তাই মুসলমানদের মধ্যে যেসব মোনাফেক বিদ্যমান ছিল তারা ইসলামী দলের মধ্যে থেকেও ইহুদী ও খৃস্টানদের সাথেও সম্পর্ক রাখতে চাইতো। তারা ভাবতো, ইসলাম ও কুফরের এ দ্বন্দ্বে যদি ইসলামের পরাজয় ঘটে যায় তাহলে তাদের জন্য যেন কোন একটা আশ্রয় স্থল অবশিষ্ট থাকে। এছাড়াও সে সময় আরবে খৃস্টান ও ইহুদীদের অর্থবল ছিল সবচেয়ে বেশী। মহাজনী ব্যবসায়ের বেশীর ভাগ ছিল তাদের হাতে। আরবের সবচেয়ে উর্বর ও শস্য শ্যামল ভূখণ্ড ছিল তাদের অধিকারে। তাদের সুদখোরীর জাল চারদিকে ছড়িয়ে ছিল। কাজেই অর্থনৈতিক কারণেও এ মোনাফেকরা তাদের সাথে নিজেদের আগের সম্পর্ক অটুট রাখতে চাইতো। তাদের ধারণা ছিল, ইসলাম ও কুফরের এ সংঘর্ষে পুরোপুরি জড়িয়ে পড়ে আমরা যদি ইসলামের সাথে বর্তমানে বিরোধে ও যুদ্ধে লিপ্ত সম্প্রদায়গুলোর সাথে নিজেদের সম্পর্ক ছিন্ন করি, তাহলে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উভয় দিক দিয়েই এটা হবে আমাদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর ও বিপজ্জনক।
৮৫
অর্থাৎ চূড়ান্ত বিজয়ের চাইতে কম পর্যায়ের এমন কোন জিনিস যার মাধ্যমে লোকদের মনে বিশ্বাস জন্মে যে, জয় পরাজয়ের চূড়ান্ত ফয়সালা ইসলামের পক্ষেই হবে।
‘অন্য কিছু ঘটানো’ দ্বারা সম্ভবত ওহী দ্বারা তাদের গোমর ফাঁক করে দেওয়া এবং পরিণামে সর্বসমক্ষে তাদের লাঞ্ছিত হওয়াকে বোঝানো হয়েছে।
৫২. সুতরাং যাদের অন্তরে অসুখ রয়েছে আপনি তাদেরকে খুব তাড়াতাড়ি ওদের সাথে মিলিত হতে দেখবেন এ বলে, আমরা আশংকা করছি যে, কোন বিপদ আমাদের আক্রান্ত করবে।(১) অতঃপর হয়ত আল্লাহ বিজয় বা তার কাছ থেকে এমন কিছু দেবেন যাতে তারা তাদের অন্তরে যা গোপন রেখেছিল সে জন্য লজ্জিত হবে।(২)
(১) মুজাহিদ বলেন, এখানে যাদের অন্তরে অসুখ রয়েছে বলে মুনাফিকদের বুঝানো হয়েছে। তারা ইয়াহুদীদের সাথে গোপন শলা-পরামর্শ ও তাদের খাতির করে কথা বলতে সাচ্ছন্দ বোধ করে। অনুরূপভাবে তারা তাদের সন্তানদের দুধ পান করাতেও অভ্যস্ত। এমতাবস্থায় তাদের আন্তরিক সম্পর্ক ইয়াহুদীদের সাথেই থাকবে এটাই স্বাভাবিক। তাই তারা সবসময় ভাবে যে, ইয়াহুদীদেরই বিজয় হবে। আর তখন তাদের কাছ থেকে তারা বাড়তি সুবিধা পাবে। (তাবারী)
(২) মুসলিমরা সে বিজয় দেখেছিল। সুদ্দী বলেন, সে বিজয় হচ্ছে, মক্কা বিজয়। (তাবারী) কাতাদা বলেন, এখানে বিজয় বলে আল্লাহর ফয়সালা বুঝানো হয়েছে। (তাবারী) কাতাদা আরও বলেন, মুনাফিকরা তখন ইয়াহুদীদের সাথে তাদের যে গোপন আতাত, ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও তাদের বিরুদ্ধাচারণ ও এতদসংক্রান্ত যাবতীয় কার্যকলাপের জন্য লজ্জিত হবে। (তাবারী)
(৫২) যাদের অন্তঃকরণে ব্যাধি রয়েছে(1) তুমি তাদেরকে সত্বর এ বলে তাদের সাথে মিলিত হতে দেখবে যে, আমাদের আশংকা হয় আমাদের ভাগ্য-বিপর্যয় ঘটবে।(2) হয়তো আল্লাহ বিজয়(3) অথবা তাঁর নিকট হতে এমন কিছু দেবেন(4) যাতে তারা তাদের অন্তরে যা গোপন রেখেছিল তার জন্য অনুতপ্ত হবে।
(1) উদ্দেশ্য মুনাফেকী বা কপটতা রয়েছে। অর্থাৎ মুনাফিকরা ইয়াহুদীদের সাথে ভালোবাসা ও বন্ধুত্ব করার ব্যাপারে তড়িঘড়ি করে।
(2) অর্থাৎ, মুসলিমরা পরাজিত হলে তার ফলে হয়তো আমাদেরকেও ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে। কিন্তু যদি ইয়াহুদীদের সাথে মিত্রতা-বন্ধুত্ব থাকে, তাহলে সেই সময়ে আমাদের বড়ই উপকার হবে।
(3) অর্থাৎ, মুসলমানদেরকে।
(4) ইয়াহুদ ও নাসারাদের উপর জিযিয়া-কর নির্ধারণ করবেন। এ আয়াত বানু কুরাইযাকে হত্যা ও তাদের সন্তানদেরকে বন্দী এবং বানু নাযীরকে নির্বাসিত করার প্রতি ইঙ্গিত বহন করে; যা তা অদূর ভবিষ্যতেই সংঘটিত হয়েছিল।