ওয়া লাকাদ ‘আলিমতুমুল্লাযীনা‘তাদাও মিনকুম ফিছছাবতি ফাকুলনা-লাহুম কূনূকিরদাতান খা-ছিঈন।উচ্চারণ
নিজেদের জাতির সেইসব লোকের ঘটনা তো তোমাদের জানাই আছে যারা শনিবারের ৮২ বিধান ভেঙেছিল। আমরা তাদের বলে দিলামঃ বানর হয়ে যাও এবং এমনভাবে অবস্থান করো যাতে তোমাদের সবদিক থেকে লাঞ্ছনা গঞ্জনা সইতে হয়। ৮৩ তাফহীমুল কুরআন
এবং তোমরা নিজেদের সেই সকল লোককে ভাল করেই জান, যারা শনিবার বিষয়ে সীমালংঘন করেছিল। ফলে আমি তাদেরকে বলেছিলাম, তোমরা ধিকৃত বানরে পরিণত হও। #%৫৫%#মুফতী তাকী উসমানী
এবং অবশ্যই তোমরা অবগত আছ যে, তোমাদের মধ্যে যারা শনিবারের ব্যাপারে সীমা লংঘন করেছিল। আমি তাদেরকে বলেছিলাম যে, তোমরা অধম বানর হয়ে যাও।মুজিবুর রহমান
তোমরা তাদেরকে ভালরূপে জেনেছ, যারা শনিবারের ব্যাপারে সীমা লঙ্ঘণ করেছিল। আমি বলেছিলামঃ তোমরা লাঞ্ছিত বানর হয়ে যাও।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
তোমাদের মধ্যে যারা শনিবার সম্পর্কে সীমালংঘন করেছিল তাদেরকে তোমরা নিশ্চিতভাবে জান। আমি তাদের বলেছিলাম, ‘তোমরা ঘৃণিত বানর হও।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর তোমাদের মধ্যে যারা শনিবারের ব্যাপারে সীমালঙ্ঘন করেছিল, তাদেরকে অবশ্যই তোমরা জান। অতঃপর আমি তাদেরকে বললাম, ‘তোমরা নিকৃষ্ট বানর হয়ে যাও’।আল-বায়ান
তোমাদের মধ্যে যারা শনিবার সম্পর্কে সীমালঙ্ঘন করেছিল, তাদেরকে তোমরা অবশ্যই জান, আমি তাদেরকে বলেছিলাম, ‘তোমরা ঘৃণিত বানরে পরিণত হও’।তাইসিরুল
তদুপরি তোমাদের মধ্যে যারা সাব্বাথের নিয়ম লঙঘন করেছিল তাদের কথা নিশ্চয়ই জানা আছে, তাই আমরা তাদের বলেছিলাম -- “তোমরা ঘৃণ্য বানর হয়ে যাও।”মাওলানা জহুরুল হক
৮২
বনী ইসরাঈলদের জন্য শনিবারের বিধান তৈরি করা হয়েছিল। অর্থাৎ আইনের মাধ্যমে শনিবার দিনটি তাদের বিশ্রাম ও ইবাদাত করার জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছিল। এদিনে তারা পার্থিব কোন কাজ এমন কি রান্না-বান্নার কাজ নিজেরা করতে পারবে না এবং চাকর-বাকরদের দ্বারাও এ কাজ করাতে পারবে না। এ প্রসঙ্গে কড়া নির্দেশ জারী করে বলা হয়েছিল, যে ব্যক্তি এই পবিত্র দিনের নির্দেশ অমান্য করবে তাকে হত্যা করা অবশ্য কর্তব্য হয়ে পড়বে। (যাত্রা পুস্তক, ৩১ অধ্যায়, ১২-১৭ শ্লোক)।
কিন্তু বনী ইসরাঈলরা নৈতিক ও ধর্মীয় পতনের শিকার হবার পর প্রকাশ্যে শনিবারের বিধানের অবমাননা করতে থাকে। এমনকি তাদের শহরগুলোতে প্রকাশ্যে শনিবার ব্যবসা-বানিজ্য, কাজ-কারবার চলতে থাকে।
৮৩
সূরা আ’রাফের ২১ রুকু’তে এ ঘটনাটির বিস্তারিত বিবরণ এসেছে। তাদেরকে বানরে পরিণত করার ধরন সম্পর্কে মতবিরোধ রয়েছে। অনেকে মনে করেন, তাদের দৈহিক কাঠামো পরিবর্তন করে বানরে রূপান্তরিত করে দেয়া হয়েছিল। আবার অনেকে এর অর্থ এই গ্রহণ করে থাকে যে, তাদের মধ্যে বানরের স্বভাব ও বানরের গুণাবলী সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু কুরআনের শব্দাবলী ও বর্ণনাভংগী থেকে মনে হয়, তাদের মধ্যে নৈতিক নয়, দৈহিক বিকৃতি ঘটেছিল। আমার মতে, তাদের মস্তিষ্ক ও চিন্তাশক্তিকে পূর্ববৎ অবিকৃত রেখে শারীরিক বিকৃতি ঘটিয়ে বানরে রূপান্তরিত করা হয়েছিল এটিই যুক্তিসঙ্গত বলে মনে হয়।
আরবী ও হিব্রু ভাষায় শনিবারকে ‘সাবত’ বলে। ইয়াহুদীদের জন্য ‘সাবত’কে পবিত্র ও মর্যাদাপূর্ণ দিন সাব্যস্ত করা হয়েছিল। এ দিন তাদের জন্য আয়-রোজগারমূলক তৎপরতা নিষিদ্ধ ছিল। এস্থলে যে ইয়াহুদীদের কথা বলা হচ্ছে তারা (খুব সম্ভব হযরত দাঊদ আলাইহিস সালামের আমলে) কোনও সাগর উপকূলে বাস করত ও মৎস্য শিকার দ্বারা জীবিকা নির্বাহ করত। তাদের জন্য শনিবার দিন মাছ ধরা নিষেধ ছিল। কিন্তু প্রথম দিকে তারা কিছুটা ছল-চাতুরির আশ্রয় নিয়ে এ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করতে চাইল এবং পরের দিকে তারা প্রকাশ্যেই মাছ ধরা শুরু করে দিল। কিছু সংখ্যক নেককার লোক তাদেরকে বোঝানোর চেষ্টা করল, কিন্তু তাতে তারা নিবৃত্ত হল না। পরিশেষে তাদের উপর আযাব আসল এবং তাদের আকৃতি বিকৃত করে বানর বানিয়ে দেওয়া হল। এ ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ সূরা আরাফে আসছে। (৭ : ১৬৩-১৬৬)
৬৫. আর তোমাদের মধ্যে যারা শনিবার সীমালংঘন করেছিল তাদেরকে তোমরা নিশ্চিতভাবে জেনেছিলে(১)। ফলে আমরা তাদেরকে বলেছিলাম, তোমরা ঘৃণিত বানরে পরিণত হও।
১. আয়াতে বর্ণিত এ ঘটনাটি দাউদ আলাইহিস সালাম-এর আমলেই সংঘটিত হয়। ইসরাঈল-বংশধরদের জন্য শনিবার ছিল পবিত্র এবং সাপ্তাহিক উপাসনার জন্য নির্ধারিত দিন। এ দিন মৎস শিকার নিষিদ্ধ ছিল। তারা সমুদ্রোপকূলের অধিবাসী ছিল বলে মৎস শিকার ছিল তাদের প্রিয় কাজ। তারা প্রথম প্রথম কলা-কৌশলের অন্তরালে এবং পরে সাধারণ পদ্ধতিতে ব্যাপকভাবে মৎস শিকার করতে থাকে। এতে তারা দুই দলে বিভক্ত হয়ে যায়। একদল ছিল সৎ ও বিজ্ঞ লোকদের। তারা এ অপকর্মে বাধা দিলেন। কিন্তু প্রতিপক্ষ বিরত হলো না। অবশেষে তারা এদের সাথে যাবতীয় সম্পর্ক ছিন্ন করে পৃথক হয়ে গেলেন। এমনকি বাসস্থানও দুই ভাগে ভাগ করে নিলেন। একভাগে অবাধ্যরা বসবাস করতো আর অপর ভাগে সৎ ও বিজ্ঞজনেরা বাস করতেন। একদিন তারা অবাধ্যদের বস্তিতে অস্বাভাবিক নীরবতা লক্ষ্য করলেন।
অতঃপর সেখানে পৌছে দেখলেন যে, সবাই বিকৃত হয়ে বানরে রূপান্তরিত হয়ে গেছে। কাতাদাহ বলেন, তাদের যুবকরা বানরে এবং বৃদ্ধরা শুকরে পরিণত হয়ে গিয়েছিল। রূপান্তরিত বানররা নিজ নিজ আত্মীয় স্বজনকে চিনতো এবং তাদের কাছে এসে অঝোরে অশ্রু বিসর্জন করতো। হাদীসে এসেছে, জনৈক সাহাবী একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদের যুগের বানর ও শুকরগুলো কি সেই রূপান্তরিত ইয়াহুদী সম্প্রদায়? তিনি বললেন, আল্লাহ্ তা'আলা যখন কোন সম্প্রদায়কে ধ্বংস করেন অথবা তাদেরকে শাস্তি দিয়ে থাকেন তখন তিনি তাদের অবশিষ্ট বংশধর রাখেন না। বস্তুতঃ বানর ও শূকর পৃথিবীতে তাদের পূর্বেও ছিল। (মুসলিমঃ ২৬৬৩) সুতরাং বর্তমান বানরদের সাথে রূপান্তরিত বানর ও শূকরের কোন সম্পর্ক নেই। দেখুন, (আত-তাফসীরুস সহীহ) যেমনিভাবে এ ধারণা করারও কোন সুযোগ নেই যে, মানুষ কোন এক সময় বানরের বংশধর ছিল।
৬৫। তোমাদের মধ্যে যারা শনিবারে (1) (বিশ্রামের দিনে) সীমালংঘন করেছিল, তাদেরকে তোমরা নিশ্চিতভাবে জান। আমি তাদেরকে বলেছিলাম, ‘তোমরা ঘৃণিত বানর হয়ে যাও।’
(1) শনিবারের দিন ইয়াহুদীদেরকে মাছ ধরতে এবং অন্যান্য যে কোনও পার্থিব কাজ করতে নিষেধ করা হয়েছিল। কিন্তু তারা একটি বাহানা বানিয়ে আল্লাহর নির্দেশকে লঙ্ঘন করল। শনিবারের দিন (পরীক্ষা স্বরূপ) মাছ সংখ্যায় অনেক বেশী আসত। তারা খাল কেটে নিল, তাতে মাছগুলো আটকা পড়ে যেত এবং পরদিন রবিবারে সেগুলো ধরে নিত।