আফা হুকমাল জা-হিলিইয়াতি ইয়াবগূনা ওয়া মান আহছানূমিনাল্লা-হি হুকমাল লিকাওমিইঁ ইঊকিনূন।উচ্চারণ
(যদি এরা আল্লাহর আইন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়) তাহলে কি এরা আবার সেই জাহেলিয়াতের ৮৩ ফায়সালা চায়? অথচ যারা আল্লাহর প্রতি দৃঢ় প্রত্যয়ের অধিকারী তাদের দৃষ্টিতে আল্লাহর চাইতে ভাল ফায়সালাকারী আর কেউ নেই। তাফহীমুল কুরআন
তবে কি তারা জাহেলী যুগের ফায়সালা চায়? যারা নিশ্চিত বিশ্বাস রাখে, তাদের জন্য আল্লাহ অপেক্ষা উত্তম ফায়সালা দানকারী কে হতে পারে?মুফতী তাকী উসমানী
তাহলে কি তারা অজ্ঞতা যুগের মীমাংসা কামনা করে? আর দৃঢ় বিশ্বাসীদের কাছে মীমাংসা কার্যে আল্লাহর চেয়ে কে উত্তম ফাইসালাকারী?মুজিবুর রহমান
তারা কি জাহেলিয়াত আমলের ফয়সালা কামনা করে? আল্লাহ অপেক্ষা বিশ্বাসীদের জন্যে উত্তম ফয়সালাকারী কে?মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
তবে কি তারা জাহিলী যুগের বিধি-বিধান কামনা করে? নিশ্চিত বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্যে বিধানদানে আল্লাহ্ অপেক্ষা কে শ্রেষ্ঠতর ?ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তারা কি তবে জাহিলিয়্যাতের বিধান চায়? আর নিশ্চিত বিশ্বাসী কওমের জন্য বিধান প্রদানে আল্লাহর চেয়ে কে অধিক উত্তম?আল-বায়ান
তারা কি জাহিলী যুগের আইন বিধান চায়? দৃঢ় বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য আইন-বিধান প্রদানে আল্লাহ হতে কে বেশী শ্রেষ্ঠ?তাইসিরুল
তবে কি তারা অজ্ঞতার যুগের বিচার ব্যবস্থা চায়? আর আল্লাহ্র চাইতে কে বেশি ভালো বিচার ব্যবস্থায় সেই সম্প্রদায়ের জন্যে যারা সুনিশ্চিত?মাওলানা জহুরুল হক
৮৩
জাহেলিয়াত শব্দটি ইসলামের বিপরীত শব্দ হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ইসলাম হচ্ছে পুরোপুরি জ্ঞানের পথ। কারণ ইসলামের পথ দেখিয়েছেন আল্লাহ নিজেই। আর আল্লাহ সমস্ত বিষয়ের পরিপূর্ণ জ্ঞান রাখেন। অপরদিকে ইসলাম থেকে ভিন্নধর্মী যেকোন পথই জাহেলিয়াতের পথ। আরবের ইসলাম পূর্ব যুগকে জাহেলিয়াতের যুগ বলার কারণ হচ্ছে এই যে, সে যুগে জ্ঞান ছাড়াই নিছক ধারণা, কল্পনা, আন্দাজ, অনুমান বা মানসিক কামনা বাসনার ভিত্তিতে মানুষেরা নিজেদের জন্য জীবনের পথ তৈরী করে নিয়েছিল। যেখানেই যে যুগেই মানুষেরা এ কর্মপদ্ধতি অবলম্বন করবে তাকে অবশ্যি জাহেলিয়াতের কর্মপদ্ধতি বলা হবে। মাদরাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে যা কিছু পড়ানো হয় তা নিছক আংশিক জ্ঞান। মানুষকে পথ দেখাবার জন্য এ জ্ঞান কোনক্রমেই যথেষ্ট নয়। কাজেই আল্লাহ প্রদত্ত জ্ঞানকে বাদ দিয়ে এ আংশিক জ্ঞানের মাধ্যমে আন্দাজ, অনুমান, কল্পনা ও লালসা-কামনার মিশ্রণে যে জীবন বিধান তৈরী করা হয়েছে তাও ঠিক প্রাচীন জাহেলী পদ্ধতির মতো জাহেলিয়াতের সংজ্ঞার আওতাভুক্ত হয়।
৫০. তবে কি তারা জাহেলিয়াতের বিধি-বিধান কামনা করে?(১) আর দৃঢ় বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য বিধান প্রদানে আল্লাহর চেয়ে আর কে শ্রেষ্ঠতর?
(১) জাহেলিয়াত শব্দটি ইসলামের বিপরীত শব্দ হিসাবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ইসলাম হচ্ছে পুরোপুরি জ্ঞানের পথ। কারণ, ইসলামের পথ দেখিয়েছেন আল্লাহ নিজেই। আর আল্লাহ সমস্ত বিষয়ের পরিপূর্ণ জ্ঞান রাখেন। অপরদিকে ইসলামের বাইরের যে কোন পথই জাহেলিয়াতের পথ। আরবের ইসলামপূর্ব যুগকে জাহেলিয়াতের যুগ বলার কারণ হচ্ছে এই যে, সে যুগে জ্ঞান ছাড়াই নিছক ধারণা, কল্পনা, আন্দাজ, অনুমান বা মানসিক কামনা-বাসনার ভিত্তিতে মানুষেরা নিজেদের জন্য জীবনের পথ তৈরী করে নিয়েছিল। যেখানেই যে যুগেই মানুষেরা এ কর্মপদ্ধতি অবলম্বন করবে, তাকে অবশ্যই জাহেলিয়াতের কর্মপদ্ধতি বলা হবে।
মোটকথা: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তার বিপরীত বিধান প্রদান করাই জাহিলিয়াত। (সা’দী) হাদীসে এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহর কাছে সবচেয়ে ঘৃণিত ব্যক্তি হচ্ছে তিনজন। যে ব্যক্তি হারাম শরীফের মধ্যে অন্যায় কাজ করে, যে ব্যক্তি মুসলিম হওয়া সত্বেও জাহেলী যুগের রীতি-নীতি অনুসন্ধান করে এবং যে ব্যক্তি কোন অধিকার ব্যতীত কারো রক্তপাত দাবী করে। (বুখারীঃ ৬৮৮২) হাসান বসরী বলেন, যে কেউ আল্লাহর দেয়া বিধানের বিপরীত বিধান প্রদান করল সে জাহিলিয়াতের বিধান দিল। (ইবন আবি হাতিম, ইবন কাসীর)
(৫০) তবে কি তারা প্রাগ-ইসলামী (জাহেলী) যুগের বিচার-ব্যবস্থা পেতে চায়?(1) খাঁটি বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য বিচারে আল্লাহ অপেক্ষা কে শ্রেষ্ঠতর? (2)
(1) কুরআন ও ইসলাম ব্যতীত সবই জাহেলিয়াত বা অন্ধকার। এরা কি ইসলামের আলো ও হিদায়াতকে ছেড়ে এখনও জাহেলিয়াত অনুসন্ধান করে? এখানে প্রশ্ন অস্বীকৃতি এবং ধমকের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। আর (ف) অব্যয়টি একটি ঊহ্য বাক্যের সাথে সংযোজকরূপে ব্যবহার হয়েছে; আসলে বাক্য হচ্ছে; أيعرضون عن حكمك بما أنزل الله عليك ويتولون عنه ويبتغون حكم الجاهلية অর্থাৎ, আল্লাহ তোমার উপর যা অবতীর্ণ করেছেন তার দ্বারা তোমার বিচার হতে তারা কি বিমুখ হতে চায় এবং পৃষ্ঠ-প্রদর্শন করে, আর জাহেলী যুগের বিচার-পদ্ধতি অনুসন্ধান করে? (ফাতহুল ক্বাদীর)
(2) হাদীস শরীফে এসেছে, আল্লাহর রসূল (সাঃ) বলেছেন; তিন ব্যক্তি আল্লাহর নিকট সবচেয়ে বেশী অপছন্দনীয়; যে (মক্কার) হারামে পাপাচার করে, যে ইসলামে জাহেলী (অজ্ঞতা) যুগের চাল-চলন ও নিয়ম-কানুন অনুসন্ধান করে এবং যে অকারণে কারো নিকট থেকে খুনের দাবী করে। (বুখারী, দিয়াত অধ্যায় )