وَإِذۡ أَخَذۡنَا مِيثَٰقَكُمۡ وَرَفَعۡنَا فَوۡقَكُمُ ٱلطُّورَ خُذُواْ مَآ ءَاتَيۡنَٰكُم بِقُوَّةٖ وَٱذۡكُرُواْ مَا فِيهِ لَعَلَّكُمۡ تَتَّقُونَ

ওয়া ইযআখাযনা-মীছা-কাকুম ওয়া রফা‘না-ফাওকাকুমুত্তূর; খুযূমাআ-তাইনা-কুম বিকুওওয়াতিওঁ ওয়াযকুরূমা-ফীহি লা‘আল্লাকুম তাত্তাকূন।উচ্চারণ

স্মরণ করো সেই সময়ের কথা যখন আমরা ‘তূর’কে তোমাদের ওপর উঠিয়ে তোমাদের থেকে পাকাপোক্ত অঙ্গীকার নিয়েছিলাম এবং বলেছিলামঃ ৮১ “যে কিতাব আমরা তোমাদেরকে দিচ্ছি তাকে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরো এবং তার মধ্যে যে সমস্ত নির্দেশ ও বিধান রয়েছে সেগুলো স্মরণ রেখো। এভাবেই আশা করা যেতে পারে যে, তোমরা তাকওয়ার পথে চলতে পারবে।” তাফহীমুল কুরআন

এবং (সেই সময়ের কথাও স্মরণ কর) যখন আমি তোমাদের থেকে (তাওরাতের অনুসরণ সম্পর্কে) প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলাম এবং তূর পাহাড়কে তোমাদের উপর উত্তোলন করে ধরেছিলাম (আর বলেছিলাম যে,) আমি তোমাদেরকে যা (যে কিতাব) দিয়েছি, তা শক্ত করে ধর #%৫৪%# এবং তাতে যা (লেখা) আছে তা স্মরণ রাখ, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার।মুফতী তাকী উসমানী

এবং যখন আমি তোমাদের অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলাম এবং তোমাদের উপর তূর পর্বত সমুচ্চ করেছিলাম যে, আমি তোমাদেরকে যা দিয়েছি তা দৃঢ় রূপে ধারণ কর এবং এতে যা আছে তা স্মরণ কর - সম্ভবতঃ তোমরা নিস্কৃতি পাবে।মুজিবুর রহমান

আর আমি যখন তোমাদের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিয়েছিলাম এবং তুর পর্বতকে তোমাদের মাথার উপর তুলে ধরেছিলাম এই বলে যে, তোমাদিগকে যে কিতাব দেয়া হয়েছে তাকে ধর সুদৃঢ়ভাবে এবং এতে যা কিছু রয়েছে তা মনে রেখো যাতে তোমরা ভয় কর।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

স্মরণ কর, যখন তোমাদের অঙ্গীকার নিয়েছিলাম এবং ‘ত‚র’কে তোমাদের ঊর্ধ্বে উত্তোলন করেছিলাম; বলেছিলাম, ‘আমি যা দিলাম দৃঢ়তার সঙ্গে গ্রহণ কর আর তাতে যা আছে তা স্মরণ রাখ, যাতে তোমরা সাবধান হয়ে চলতে পার।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর স্মরণ কর, যখন আমি তোমাদের অঙ্গীকার গ্রহণ করলাম এবং তূর পাহাড়কে তোমাদের উপর উঠালাম আমি (বললাম) ‘তোমাদেরকে যা দিয়েছি, তা শক্তভাবে ধর এবং তাতে যা রয়েছে তা স্মরণ কর, যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পার’।আল-বায়ান

স্মরণ কর, যখন তোমাদের শপথ নিয়েছিলাম এবং তূর পর্বতকে তোমাদের উপর তুলে ধরেছিলাম, বলেছিলাম, 'আমি যা দিলাম দৃঢ়তার সাথে গ্রহণ কর এবং তাতে যা আছে তা স্মরণ রেখ, যেন তোমরা সাবধান হয়ে চলতে পার'।তাইসিরুল

আর স্মরণ করো! আমরা তোমাদের অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলাম ও তোমাদের উপরে পর্বত উত্তোলন করেছিলাম। “তোমাদের আমরা যা দিয়েছি তা দৃঢ়ভাবে গ্রহণ করো, আর এতে যা আছে তা স্মরণ রাখো, যাতে তোমরা ধর্মপরায়ণতা অবলন্বন করতে পার।”মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৮১

এ ঘটনাটিকে কুরআনের বিভিন্ন স্থানে যেভাবে বর্ণনা করা হয়েছে তা থেকে সহজেই বুঝা যায় যে, এটি বনী ইসরাঈলদের মধ্যে একটি সুবিখ্যাত ও সর্বজনবিদিত ঘটনা ছিল। কিন্তু বর্তমানে এর বিস্তারিত অবস্থা জানা কঠিন। তবে সংক্ষেপে এতটুকু বুঝে নেয়া উচিত যে, পাহাড়ের পাদদেশে অঙ্গীকার নেয়ার সময় এমন ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি করে দেয়া হয়েছিল যার ফলে তারা মনে করছিল পাহাড় তাদের ওপর আপতিত হবে। সূরা আ’রাফের ১৭১ আয়াতে কিছুটা এ ধরনেরই একটি ছবি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। (সূরা আ’রাফের ১৩২ নম্বর টীকাটি দেখুন)।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

হযরত মূসা আলাইহিস সালাম তাওরাত নিয়ে আসলে বনী ইসরাঈল লক্ষ্য করে দেখল তার কোনও কোনও বিধান বেশ কঠিন। তাই তারা তা থেকে বাঁচার অজুহাত খুঁজতে শুরু করল। প্রথমে তারা বলল, আল্লাহ তাআলা স্বয়ং আমাদের বলে দিন যে, তাওরাত মানা আমাদের জন্য অপরিহার্য। তাদের এ দাবী যদিও অযৌক্তিক ছিল, তথাপি প্রমাণ চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে এটা মেনে নেওয়া হল। সুতরাং তাদের মধ্য থেকে সত্তর জন লোককে বাছাই করে হযরত মূসা আলাইহিস সালামের সাথে তূর পাহাড়ে পাঠানো হল (যেমন সূরা আরাফের (৭ : ১৫৫) নং আয়াতে বর্ণিত হয়েছে)। আল্লাহ তাআলা সরাসরি তাদেরকে তাওরাত মেনে চলার হুকুম দিলেন। অতঃপর তারা যখন ফিরে আসল, তখন নিজ সম্প্রদায়ের সামনে আল্লাহ তাআলার সে হুকুমের কথা তো স্বীকার করল, কিন্তু নিজেদের পক্ষ থেকে একটা কথা যোগ করে দিল। তারা বলল, আল্লাহ তাআলা বলেছেন যে, তোমাদের পক্ষে যতটুকু সম্ভব ততটুকু মেনে চলবে; যা পারবে না আমি তা ক্ষমা করে দেব। সুতরাং তাওরাতের যে নির্দেশই তাদের দৃষ্টিতে কিছুটা কঠিন মনে হত, তারা বাহানা তৈরি করে বলত, এটাও সেই ছাড় দেওয়া নির্দেশসমূহের অন্তর্ভুক্ত। এ পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ তাআলা তূর পাহাড়কে তাদের মাথার উপর তুলে ধরে বললেন, তাওরাতের সমুদয় বিধান মেনে নাও। তাদের যখন আশংকা হল, পাহাড়টিকে তাদের উপর ছেড়ে দেওয়া হতে পারে, তখন তারা তাওরাত মানার ও সে অনুযায়ী আমল করার প্রতিশ্রুতি দিল। এ আয়াতে সে ঘটনার প্রতিই ইশারা করা হয়েছে। তূর পাহাড়কে তাদের মাথার উপর তুলে ধরাটা প্রকৃত ও বাচ্যার্থেও সম্ভব। অর্থাৎ পাহাড়টিকে তার স্থান থেকে উৎপাটিত করে তাদের মাথার উপরে ঝুলিয়ে ধরা হয়েছিল। হাফেজ ইবনে জারীর (রহ.) বহু তাবিঈ হতে এরূপ বর্ণনা করেছেন। বলাবাহুল্য, আল্লাহ তাআলার অসীম ক্ষমতা হিসেবে এটা কিছু কঠিন কাজ নয়। আবার এমনও হতে পারে যে, এমন কোনও পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছিল, যদ্দরুণ তাদের মনে হয়েছিল পাহাড়টি বুঝি তাদের উপর পতিত হবে, যেমন হয়ত তখন প্রচণ্ড ভূমিকম্প দেখা দিয়েছিল। ফলে তাদের ধারণা হয়েছিল পাহাড়টি উৎপাটিত হয়ে তাদের উপর পড়বে। সুতরাং এ ঘটনা সম্পর্কে সূরা আরাফে বর্ণিত হয়েছে, وَإِذْ نَتَقْنَا الْجَبَلَ فَوْقَهُمْ كَأَنَّهُ ظُلَّةٌ وَظَنُّوْا أَنَّهُ وَاقِعٌ بِهِمْ আরাফ (৭ : ১৭১)। এতে نتق শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। যার এক অর্থ সজোরে নাড়ানো (দেখুন আল-কামূস ও মুফরাদাতুল কুরআন)। সুতরাং আয়াতটির এরূপ অর্থও করা যেতে পারে যে, ‘যখন আমি পাহাড়কে তাদের উপর সজোরে এমনভাবে নাড়াতে থাকি যে, তাদের মনে হচ্ছিল সেটি তাদের উপর পতিত হবে। প্রকাশ থাকে যে, কাউকে চাপ সৃষ্টি করে ঈমান আনতে বাধ্য করা যায় না বটে, কিন্তু কেউ যদি ঈমান আনার পর নাফরমানী করে, তবে সেজন্য তাকে শাস্তি দেওয়া এবং হুমকি-ধমকি দিয়ে হুকুম মানতে প্রস্তুত করা মোটেই অসঙ্গত নয়। বনী ইসরাঈল যেহেতু আগেই ঈমান এনেছিল, তাই আল্লাহর আযাবের ভয় দেখিয়ে তাদেরকে আনুগত্য করতে বাধ্য করা হয়েছিল।

তাফসীরে জাকারিয়া

৬৩. আর স্মরণ কর, যখন আমরা তোমাদের অঙ্গীকার নিয়েছিলাম(১) এবং তোমাদের উপর উত্তোলন করেছিলাম তুর পর্বত; (বলেছিলাম,) আমরা যা দিলাম দৃঢ়তার সাথে(২) তা গ্রহণ কর এবং তাতে যা আছে তা স্মরণ রাখ, যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পার।(৩)

১. আবুল আলীয়াহ বলেন, এ অঙ্গীকার ছিল, নিষ্ঠাসহকারে একমাত্র আল্লাহ্ ইবাদত করা। আর কারও ইবাদত না করা। (আত-তাফসীরুস সহীহ) তবে অন্যান্য তাফসীরকারগণ বলেন, এর সাথে সাথে অঙ্গীকারের অন্যান্য বিষয়াবলী আয়াতের শেষেই বর্ণিত হয়েছে।

২. আয়াতে বর্ণিত بِقُوَّةٍ এর তাফসীর কেউ করেছেন, দৃঢ়তার সাথে। কাতাদাহ করেছেন, গুরুত্বের সাথে আবুল আলীয়াহ বলেছেন, আনুগত্যের সাথে। আর মুজাহিদ বলেছেন, এর উপর আমল করার স্বীকারোক্তির সাথে। (আত-তাফসীরুস সহীহ)

৩. যখন মূসা আলাইহিস সালাম-কে তুর পর্বতে তাওরাত প্রদান করা হল, তখন তিনি ফিরে এসে তা ইসরাঈল-বংশধরকে দেখাতে ও শোনাতে আরম্ভ করলেন। এতে হুকুমগুলো কিছুটা কঠোর ছিল - কিন্তু তাদের অবস্থানুযায়ীই ছিল। এ সম্পর্কে প্রথম তারা এ কথাই বলেছিল যে, যখন স্বয়ং আল্লাহ্ তা'আলা আমাদেরকে বলে দেবেন। যে, এটা আমার কিতাব' তখনই আমরা মেনে নেবো। (যে বর্ণনা উপরে চলে গেছে) মোটকথা যে সত্তরজন লোক মূসা আলাইহিস সালাম-এর সাথে গিয়েছিল, তারাও ফিরে এসে সাক্ষী দিল। কিন্তু ইসরাঈল-বংশধররা পরিস্কারভাবে বলে দিল, আমাদের দ্বারা এ গ্রন্থের উপর আমল করা সম্ভব হবে না। ফলে আল্লাহ্ তাআলা ফেরেশতাদেরকে হুকুম করলেন, তুর পর্বতের একটি অংশ তুলে নিয়ে তাদের মাথার উপর ঝুলিয়ে দাও এবং বল, হয় কিতাব মেনে নাও, নইলে এক্ষুণি মাথার উপর পড়লো। অবশেষে নিরুপায় হয়ে তা মেনে নিতে হলো। এ আয়াতে বর্ণিত তুর পাহাড় উঠানোর তাফসীর আল্লাহ্ তা'আলা অন্য আয়াতে করে দিয়েছেন। যেখানে বলা হয়েছে, “স্মরণ করুন, আমরা পর্বতকে তাদের উপরে উঠাই, আর তা ছিল যেন এক শামিয়ানা। তারা মনে করল যে, ওটা তাদের উপর পড়ে যাবে। বললাম, আমি যা দিলাম তা দৃঢ়ভাবে ধারণ কর এবং ওটাতে যা আছে তা স্মরণ কর” (সূরা আল-আ’রাফ: ১৭১)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

৬৩। (স্মরণ কর) যখন তোমাদের নিকট থেকে অঙ্গীকার নিয়েছিলাম এবং তোমাদের ঊর্ধ্বে ‘ত্বুর’ পর্বতকে উত্তোলন করেছিলাম, (1) (বলেছিলাম,) ‘আমি যা (গ্রন্থ) দিলাম (সেই গ্রন্থে যে নির্দেশ আছে) দৃঢ়তার সাথে তোমরা তা গ্রহণ কর এবং তাতে যা আছে তা স্মরণ রাখ, যাতে তোমরা সাবধান হয়ে চলতে পার।’

(1) যখন তাওরাতের বিধানের ব্যাপারে ইয়াহুদীরা অবাধ্যতামূলক আচরণ প্রকাশ করে বলল যে, এই বিধানগুলোর উপর আমল করা আমাদের দ্বারা সম্ভব নয়, তখন মহান আল্লাহ ত্বূর পাহাড়কে তাদের মাথার উপর ছায়ামন্ডপের মত তুলে ধরলেন। ফলে ভয়ে তারা আমল করার অঙ্গীকার করল।