ওয়াজাল্লালনা-‘আলাইকুমুল গামা-মা ওয়া আনঝালনা-‘আলাইকুমুল মান্না ওয়াছছালওয়া- কুলূমিন তাইয়িবা-তি মা-রঝাকনা-কুম ওয়ামা-জালামূনা- ওয়ালা-কিন কানূআনফুছাহুম ইয়াজলিমূন।উচ্চারণ
আমরা তোমাদের ওপর মেঘমালার ছায়া দান করলাম, ৭২ তোমাদের জন্য সরবরাহ করলাম মান্না ও সালওয়ার খাদ্য ৭৩ এবং তোমাদের বললাম, যে পবিত্র দ্রব্য-সামগ্রী আমরা তোমাদের দিয়েছি তা থেকে খাও। কিন্তু তোমাদের পূর্বপুরুষরা যা কিছু করেছে তা আমাদের ওপর যুলুম ছিল না বরং তারা নিজেরাই নিজেদের ওপর যুলুম করেছে। তাফহীমুল কুরআন
এবং আমি তোমাদেরকে মেঘের ছায়া দিলাম এবং তোমাদের প্রতি মান্ন্ ও সালওয়া অবতীর্ণ করলাম (ও বললাম), যে পবিত্র রিযক আমি তোমাদেরকে দান করলাম, তা (আগ্রহভরে) খাও। #%৪৯%# আর তারা (এসব নাফরমানী করে) আমার কিছু ক্ষতি করেনি; বরং তারা নিজেদের সত্তার উপরই জুলুম করতে থাকে। মুফতী তাকী উসমানী
এবং আমি তোমাদের উপর মেঘমালার ছায়া দান করেছিলাম এবং তোমাদের প্রতি ‘মান্না’ ও ‘সালওয়া’ অবতীর্ণ করেছিলাম; আমি তোমাদেরকে যে উপজীবিকা দান করেছি সেই পবিত্র জিনিস হতে আহার কর; এবং তারা আমার কোন অনিষ্ট করেনি, বরং তারা নিজেদের অনিষ্ট করেছিল।মুজিবুর রহমান
আর আমি তোমাদের উপর ছায়া দান করেছি মেঘমালার দ্বারা এবং তোমাদের জন্য খাবার পাঠিয়েছি ’মান্না’ ও সালওয়া’। সেসব পবিত্র বস্তু তোমরা ভক্ষন কর, যা আমি তোমাদেরকে দান করেছি। বস্তুতঃ তারা আমার কোন ক্ষতি করতে পারেনি, বরং নিজেদেরই ক্ষতি সাধন করেছে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
আমি মেঘ দিয়ে তোমাদের ওপর ছায়া বিস্তার করলাম আর তোমাদের নিকট মান্না ও সাল্ওয়া প্রেরণ করলাম। বলেছিলাম, ‘তোমাদেরকে যে উত্তম জীবিকা দান করেছি তা হতে আহার কর।’ তারা ‘আমার প্রতি কোন জুলুম করে নাই, বরং তারা তাদের প্রতিই জুলুম করেছিল।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর আমি তোমাদের উপর মেঘের ছায়া দিলাম এবং তোমাদের প্রতি নাযিল করলাম ‘মান্না’* ও ‘সালওয়া’**। তোমরা সে পবিত্র বস্ত্ত থেকে আহার কর, যা আমি তোমাদেরকে রিয্ক দিয়েছি। আর তারা আমার প্রতি যুলম করেনি, বরং তারা নিজদেরকেই যুলম করত।আল-বায়ান
আমি মেঘ দ্বারা তোমাদের উপর ছায়া বিস্তার করলাম, তোমাদের কাছে মান্না ও সালওয়া প্রেরণ করলাম, (আর বললাম)তোমাদেরকে যা দান করেছি তাথেকে বৈধ বস্তুগুলো খাও, আর মূলত তারা আমার প্রতি কোন যুলম করেনি, বরং তারা নিজেদের প্রতিই যুলম করেছিল।তাইসিরুল
আর তোমাদের উপরে আমরা মেঘ দিয়ে আচ্ছাদন করেছিলাম, আর তোমাদের কাছে পাঠিয়েছিলাম 'মান্না’ ও 'সালওয়া’। “তোমাদের যে-সব ভাল ভাল রিযেক দিয়েছি তা খেয়ে যাও।” কিন্তু তারা আমাদের কোনো অনিষ্ট করে নি, বরং তারা নিজেদেরই প্রতি অনিষ্ট করছিল।মাওলানা জহুরুল হক
৭২
অর্থাৎ প্রখর রৌদ্র থেকে বাঁচার জন্য যেখানে সিনাই উপদ্বীপে তোমাদের জন্য কোন আশ্রয়স্থল ছিল না সেখানে আমরা মেঘমালার ছায়া দান করে তোমাদের বাঁচার উপায় করে দিয়েছি। এ প্রসঙ্গে মনে রাখতে হবে, লক্ষ লক্ষ বনী ইসরাঈর মিসর থেকে বের হয়ে এসেছিল। আর সিনাই উপত্যকায় গৃহ তো দূরের কথা সামান্য একটু মাথা গোঁজার মতো তাঁবুও তাদের কাছে ছিল না। সে সময় যদি আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি বিশেষ সময়ের জন্য আকাশকে মেঘাবৃত করে রাখা না হতো, তাহলে খর-রৌদ্র –তাপে বনী ইসরাঈলী জাতি সেখানেই ধ্বংস হয়ে যেতো।
৭৩
মান্না ও সালওয়া ছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রদত্ত এক প্রকার প্রাকৃতিক খাদ্য। বনী ইসরাঈররা তাদের বাস্তুহারা জীবনের সুদীর্ঘ চল্লিশ বছর পর্যন্ত অবিচ্ছিন্নভাবে এই খাদ্য লাভ করতে থেকেছে। মান্না ছিল ধনিয়ার ধানার মতো ক্ষুদ্রাকৃতির এক ধরনের খাদ্য। সেগুলোর বর্ষণ হতো কুয়াসার মতো। জমিতে পড়ার পর জমে যেতো। আর সালওয়া ছিল ক্ষুদ্রাকৃতির কবুতরের মতো এক প্রকার পাখি। আল্লাহর অসীম অনুগ্রহে এই খাদ্যের বিপুল প্রাচুর্য ছিল। বিপুল জনসংখ্যার অধিকারী একটি জাতি দীর্ঘকাল পর্যন্ত এই খাদ্যের ওপর জীবন নির্বাহ করেছে। তাদের কাউকে কোনদিন অনাহারে থাকতে হয়নি। অথচ আজকের উন্নত বিশ্বের কোন দেশে যদি হঠাৎ কয়েক লাখ শরণার্থী প্রবেশ করে তাহলে তাদের খাদ্যের ব্যবস্থা করা একটি প্রাণান্তকর সমস্যায় পরিণত হয়। (মান্না ও সালওয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে বাইবেলের নির্গমন পুস্তকঃ ১৬ অনুচ্ছেদ, গণনাঃ ১১ অনুচ্ছেদ, ৭-৯ ও ৩১-৩৬ শ্লোক এবং ঈশুঃ ৫ অনুচ্ছেদ, ১২ শ্লোক)
সূরা আলে-ইমরানে আসবে যে, বনী ইসরাঈল জিহাদের একটি আদেশ অমান্য করেছিল, যার শাস্তিস্বরূপ তাদেরকে সিনাই মরুভূমিতে আটকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাদের এই শাস্তিকালীন সময়েও আল্লাহ তাআলা তাদের প্রতি নানা রকম নিয়ামত বর্ষণ করেছিলেন। এ স্থলে তা বিবৃত হচ্ছে। মরুভূমিতে যেহেতু তাদের মাথার উপর কোনও ছাদ ছিল না, প্রচণ্ড খরতাপে তাদের খুব কষ্ট হচ্ছিল, তা থেকে বাঁচানোর জন্য আল্লাহ তাআলা তাদের উপর একখণ্ড মেঘ নিয়োজিত করে দেন, যা তাদেরকে নিরবচ্ছিন্ন ছায়া দিয়ে যাচ্ছিল। এ মরুভূমিতে কোনও খাদ্যদ্রব্যও ছিল না। আল্লাহ তাআলা গায়ব থেকে তাদের জন্য মান্ন ও সালওয়ারূপে উৎকৃষ্ট খাদ্যের ব্যবস্থা করেন। কোনও বর্ণনা অনুযায়ী ‘মান্ন্’ হল তুরান্জ (প্রাকৃতিক চিনি বিশেষ, যা শিশিরের মত পড়ে তৃণাদির উপর জমাট বেঁধে যায়)। সেই এলাকায় এটা প্রচুর পরিমাণে নাযিল করা হত। আর ‘সালওয়া’ হল বটের (তিতির জাতীয় পাখি)। বনী ইসরাঈল যেসব জায়গায় অবস্থান করত, তার আশেপাশে এ পাখি ঝাঁকে ঝাঁকে এসে পড়ত এবং কেউ ধরতে চাইলে তারা মোটেই আত্মরক্ষার চেষ্টা করত না। বনী ইসরাঈল এসব নিয়ামতের চরম অসম্মান করল এবং এভাবে তারা নিজ সত্তার উপরই জুলুম করল।
৫৭. আর আমরা মেঘ দ্বারা তোমাদের উপর ছায়া বিস্তার করলাম এবং তোমাদের নিকট মান্না’ ও ‘সাল্ওয়া(১) প্রেরণ করলাম। (বলেছিলাম), আহার কর উত্তম জীবিকা, যা আমরা তোমাদেরকে দান করেছি। আর তারা আমাদের প্রতি যুলুম করেনি, বরং তারা নিজেদের প্রতিই যুলুম করেছিল।
১. ইসরাঈল-বংশধরদের জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামীন-এর প্রেরিত আসমানী খাবার। যা গাছের উপরে কুয়াশার ন্যায় জমা হয়ে থাকত। এ সম্পর্কে সায়ীদ ইবনে যায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদীসে এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ “আল-কামআ” (এক প্রকার উদ্ভিদ, যা অনেকটা মাশরুমের মত) মান্না এর অন্তর্ভুক্ত। আর এর পানি চোখের আরোগ্য। (বুখারীঃ ৪৪৭৮) আর সালওয়া হলো এক প্রকার পাখি, যা চড়ুই পাখি থেকে আকারে একটু বড়।
৫৭। আমি মেঘ দ্বারা তোমাদের উপর ছায়া বিস্তার করলাম, তোমাদের নিকট ‘মান্ন্’ ও ‘সাল্ওয়া’ প্রেরণ করলাম। (1) (আর বললাম,) যে সকল ভাল জিনিস তোমাদের জন্য দিলাম তা থেকে আহার কর। তারা (নির্দেশ না মেনে) আমার প্রতি কোন অন্যায় করেনি, বরং তারা নিজেদেরই প্রতি অন্যায় করেছিল।
(1) অধিকাংশ মুফাসসিরগণের মতে এটা মিসর ও সিরিয়ার মধ্যবর্তী তীহ্ প্রান্তরের ঘটনা। যখন তারা আল্লাহর আদেশে আমালিকাদের জনপদে প্রবেশ করতে অস্বীকার করেছিল এবং তারই শাস্তি স্বরূপ বানী-ইস্রাঈল চল্লিশ বছর পর্যন্ত তীহ্ প্রান্তরে পড়েছিল। কারো কারো নিকট এই নির্দিষ্টীকরণও সঠিক নয়। সীনা (সিনাই) মরুভূমিতে অবতরণের পর যখন সর্বপ্রথম পানি ও খাদ্যের সমস্যা দেখা দিল, তখন এই ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
অনেকের মতে 'মান্ন্' আল্লাহর অবতীর্ণ এক প্রকার ক্বুদরতী চিনি যা পাথর, গাছের পাতা ও ঘাসের উপর শিশির-বিন্দুর মত জমা হত; যা মধুর মত মিষ্টি হত এবং শুকিয়ে আঠার মত জমে যেত। আবার কেউ বলেছেন, এটা মধু বা মিষ্টি পানি। বুখারী ও মুসলিম ইত্যাদির বর্ণনায় এসেছে যে, ছত্রাক (ব্যাঙের ছাতা) মূসা (আঃ)-এর উপর নাযিল হওয়া এক প্রকার 'মান্ন্' এর অর্থ হল, যেভাবে বানী-ইস্রাঈলরা বিনা পরিশ্রমে 'মান্ন্' খাদ্য লাভ করেছিল, অনুরূপ ছত্রাক আপনা আপনিই হয়, কাউকে তা লাগাতে হয় না। (তাফসীর আহসানুত্ তাফাসীর) আর 'সালওয়া' এক প্রকার পাখী যাকে জবাই করে তারা ভক্ষণ করত। (ফাতহুল ক্বাদীর)